মেধার যথাযথ বিকাশে প্রয়োজন মানসম্মত শিক্ষা কাঠামো বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম আহসানুল হক মিলন।
শনিবার (১১ জুলাই) সাভারের গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পিএইচএ মিলনায়তনে আয়োজিত গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের (গবি) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা খাত আজ বিশ্বব্যাপী একটি বৃহৎ বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে এবং মেধার যথাযথ বিকাশও অনেক ক্ষেত্রে বাণিজ্যিকীকরণের কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাই জাতীয় পর্যায়ে একটি শুদ্ধ, মানবিক ও মানসম্মত শিক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করতে হবে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, একসময় বিদেশি শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশে পড়তে এলেও বর্তমানে অনেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশমুখী হচ্ছে। এই প্রবণতা কমাতে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা, গবেষণা এবং কারিগরি শিক্ষার আরও প্রসার ঘটাতে হবে।
তিনি বলেন, একজন শিক্ষার্থীর জীবনে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হলো শিক্ষা। স্বাধীন ও অলাভজনক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। সরকার এসব প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়িয়ে একটি উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন শিক্ষার্থীর পেছনে সরকার যে ব্যয় বহন করে, তা অনেক শিক্ষার্থী উপলব্ধি করে না। কিন্তু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিজেরাই শিক্ষা ব্যয় বহন করে। তাই সরকারি ও বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রেই শিক্ষার মান আরও উন্নত করতে হবে, যা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীরও স্বপ্ন ছিল।
গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশংসা করে তিনি উল্লেখ করেন, গণমানুষের জন্য প্রতিষ্ঠিত একটি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গণ বিশ্ববিদ্যালয় দেশের উচ্চশিক্ষায় একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ। সত্যিকার অর্থেই গণমানুষের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কি না, সেটি দেখতেই আমি এখানে এসেছি।
মন্ত্রী বলেন, গণ বিশ্ববিদ্যালয় তুলনামূলক কম খরচে মানসম্মত শিক্ষা প্রদান করে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, তা দেশের অন্যান্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্যও অনুসরণীয়। তবে এই বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও আধুনিক, গবেষণামুখী ও প্রতিযোগিতামূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে উন্নয়নের যেসব ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করতেই এ সফর।
তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সুশিক্ষা নিশ্চিত করতে আরও আন্তরিক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীদের মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করতে হবে এবং শিক্ষকদের আরও শিক্ষার্থীবান্ধব হতে হবে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) যুগে সৃজনশীল ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, শিক্ষা যেন কখনো বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত না হয়; বরং মানবসম্পদ উন্নয়নের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিশেষ অতিথি ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু, ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মো. তমিজ উদ্দিন এবং কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ান।
আরটিভি/টিআর




