জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক শিক্ষার্থীকে আটকে রেখে নির্যাতন ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে মুক্তিপণ আদায়ের পাশাপাশি ‘শেখ হাসিনা সঠিক ছিল’, ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতেও বাধ্য করা হয়।
বুধবার (১০ জুন) নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার চেমুনি বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মো. শরিফ হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়েল নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের ৫৪তম আবর্তনের শিক্ষার্থী। তবে প্রাথমিকভাবে অভিযুক্তদের পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, অভিযুক্তরা নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা সঠিক ছিলেন, ছাত্রদের পক্ষ নেওয়া ভুল ছিল এবং ‘জয় বাংলা’, ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতে বাধ্য করে শরীফকে।
ভুক্তভোগীর পরিবার জানান, এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়েরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা বলেন, গত ১০ জুন নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার চেমুনি বাজার এলাকায় অবস্থানকালে শরিফকে দুই যুবক জোরপূর্বক একটি মাঠে নিয়ে যায়। পরে সেখানে আরও একজন যোগ দেন। এ সময় তারা তার কাছে ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন।
পরিবারের আর্থিক অক্ষমতার কথা জানালে অভিযুক্তরা টাকার পরিমাণ কমিয়ে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে স্থানীয় এক বিকাশ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা এবং নিজের বিকাশ অ্যাকাউন্টে থাকা আরও ২ হাজার টাকা মিলিয়ে মোট ১২ হাজার টাকা তাদের দেওয়া হয়। এছাড়া শরিফের মোবাইল ফোনও নিয়ে রাখা হয়। অর্থ দেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে নেত্রকোনার পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দিদারুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলটি সদর থানার আওতাভুক্ত নাকি পূর্বধলা থানার আওতাভুক্ত, তা নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি রয়েছে। পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় ভুক্তভোগীকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এখন পর্যন্ত তিনি থানায় আসেননি। তবে গত রাতে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, আমি নেত্রকোনার পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলেছি এবং শরিফের পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ হয়েছে। তারা থানায় অভিযোগ দায়ের করবেন বলে জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। অভিযোগ পাওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরটিভি/ এসকেডি




