ইবি ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতির বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ

ইবি সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬ , ০৭:০৯ পিএম


ইবি ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতির বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ
ছবি: আরটিভি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতির বিরুদ্ধে ‘সাধারণ শিক্ষার্থীকে রাজনৈতিক পরিচয়ের অভিযোগ তুলে ব্যক্তিগতভাবে হয়রানি, মানহানি এবং নবগঠিত কমিটিতে দায়িত্ব থেকে বঞ্চিত করা’সহ নানা অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (১২ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের লালন শাহ হল ডিবেটিং সোসাইটির কার্যনির্বাহী সদস্য মিশুক শাহরিয়ার সংগঠনের মডারেটর বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগপত্রে তিনি দাবি করেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির (আইইউডিএস) নির্বাচন, হল ডিবেটিং সোসাইটির কমিটি গঠন এবং বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রমে ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার কারণে তাকে ধারাবাহিকভাবে বঞ্চিত ও হয়রানি করা হয়েছে। বিশেষ করে লালন শাহ হল ডিবেটিং সোসাইটির সেক্রেটারি ও বর্তমান আইইউডিএস সভাপতি ইয়াছিন আলীর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন তিনি।

লিখিত অভিযোগে মিশুক শাহরিয়ার বলেন, আইইউডিএস নির্বাচনে অংশগ্রহণের সময় যথাযথভাবে হল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলেও নির্বাচনের দিন তাকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়। একাধিকবার তাকে ‘রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত’ আখ্যা দিয়ে কমিটিতে না রাখার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি কোথায় যান, কার সঙ্গে চলাফেরা করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কী পোস্ট করেন- এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। তার সম্পর্কে জুনিয়র সদস্যদের কাছে ভুল তথ্য উপস্থাপন ও হল প্রভোস্টের কাছে অসত্য তথ্য দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, একটি বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে দল নিবন্ধনের পর দলের এক সদস্যকে ফোন করে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকতে চাপ দেওয়া হয়। আয়োজকদের কাছে তার নিবন্ধিত দল বাতিলের অনুরোধ করা হয়েছিল।

এ ছাড়া আইইউডিএসের ২০২৬-২৭ কার্যবর্ষের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে নির্বাচনকালীন উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করা হয়নি। তিনি সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও কমিটিতে কোনো দায়িত্ব দেওয়া হয়নি, অথচ হল কমিটির আনুষ্ঠানিক সদস্য নন- এমন একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এসব ঘটনার বিচার চেয়ে তিনি চার দফা দাবি জানিয়েছেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা ও স্বার্থসিদ্ধির কারণে তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার তদন্ত ও বিচার, ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ ও মানহানির অভিযোগের সুরাহা, নির্বাচনকালীন উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আইইউডিএসের কমিটি পুনর্গঠন এবং ভিন্ন মতাদর্শের ব্যক্তিদের সংগঠন থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ খতিয়ে দেখা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আইইউডিএস সভাপতি ইয়াছিন আলী বলেন, সংগঠনের প্রতিটি সিদ্ধান্ত সবার মতামতের ভিত্তিতে নেওয়া হয়। কাউকে রাজনৈতিক ট্যাগিং দিইনি। মিশুক শাহরিয়ারের অভিযোগ ভিত্তিহীন। তার চেয়ে সম্ভাবনাময় ও যোগ্য সদস্য থাকায় তাকে কমিটিতে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। এখানে কারও ব্যক্তিগত ইচ্ছা বা আক্রোশ থেকে পদবঞ্চিত করা হয়নি। তাছাড়া সংগঠনের সিদ্ধান্ত আমার একার ওপর নির্ভর করে না, সবার মতামতের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক পরিচয় থাকার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে যিনি বিতর্কের মাধ্যমে নিজেকে উপস্থাপন করবেন, তিনিই এখানে জায়গা পাবেন। রাজনীতি সম্পর্কে আমাদের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা নেই, তবে কেউ রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত করতে পারবেন না।

অভিযোগের বিষয়ে সংগঠনটির মডারেটর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান বলেন, পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করার আগেই মিশুক নামের সদস্য অভিযোগ করেছিল। সংশ্লিষ্টদের ডেকে কথা বলেছি এবং মিশুক তখন পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে সম্মতি জানায়। এরপরও সে কয়েক দিন সময় চেয়েছে। আমি এক সপ্তাহ সময় দিয়েছিলাম। সে আর কোনো আপডেট জানায়নি। পূর্ণাঙ্গ কমিটি হওয়ার পর সে আবার নতুনভাবে অভিযোগপত্র দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বসে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ভোটের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচন হয়েছিল। এতে কোনো সমস্যা নেই। যেহেতু বেশ কিছু অভিযোগ নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে, সেগুলো আলোচনা করে দেখতে হবে।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission