ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

‘বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় গড়তে গবেষণার বিকল্প নেই’

ডিআইইউ সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৯:২৭ পিএম
ছবি: আরটিভি

গবেষণা, অ্যাকাডেমিক উৎকর্ষ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির মাধ্যমে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিকে (ডিআইইউ) আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে কাজ করছে বর্তমান প্রশাসন। এমনটাই বলেছেন ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) ৮ম উপাচার্য অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলাম।

দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি গবেষণা সম্প্রসারণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, অ্যাকাডেমিক পরিকল্পনার আধুনিকায়ন এবং শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তোলাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর তিনি ভারতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। দীর্ঘদিন শিক্ষকতা ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি ডিআইইউর কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

সম্প্রতি আরটিভিকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, গবেষণা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, করপোরেট সংযোগ, সমাবর্তন এবং শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা নিয়ে কথা বলেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আরটিভির ডিআইইউ সংবাদদাতা নুর ইসলাম।

আরটিভি: উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার এক বছরের বেশি সময় পেরিয়েছে। এই সময়ে আপনার প্রধান লক্ষ্য কী ছিল? আগামী দিনে বিশ্ববিদ্যালয়কে কোথায় দেখতে চান?

উপাচার্য: সরকার আমাকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে। এর আগে আমি এখানে শিক্ষকতা করেছি এবং কোষাধ্যক্ষ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছি। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্ষমতা, সম্ভাবনা এবং শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা সম্পর্কে আমার সুস্পষ্ট ধারণা রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোতে কিছু দুর্বলতা রয়েছে। তবে সেগুলো কাটিয়ে উঠতে চেষ্টা করছি। আমার লক্ষ্য, শিক্ষা ও গবেষণায় ডিআইইউ যেন শুধু দেশে নয়, আন্তর্জাতিক পরিসরেও একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারে। তবে এটি আমার একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রশাসন, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।

আরটিভি: বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নে বর্তমানে কী কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে? এগুলো শিক্ষার মান উন্নয়নে কীভাবে ভূমিকা রাখবে?

উপাচার্য: অবকাঠামোগত উন্নয়ন আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার। ইতোমধ্যে আটতলা একটি নতুন অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং রাজউকের প্রয়োজনীয় অনুমোদনও পাওয়া গেছে। কিছু প্রক্রিয়াগত কারণে কাজ শুরু হতে বিলম্ব হলেও খুব শিগ্‌গিরই নির্মাণকাজ শুরু হবে।

এ ছাড়া বিদ্যমান ভবনেও শ্রেণিকক্ষের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। নতুন ভবনটি চালু হলে শ্রেণিকক্ষের সংকট অনেকটাই দূর হবে। পাশাপাশি ডাটা সায়েন্সসহ নতুন দুটি বিভাগ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় আরও সক্ষম করে তুলতে বিদেশি ভাষার স্বল্পমেয়াদি কোর্সও চালু করা হয়েছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকসংকট নেই এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে আমরা ধারাবাহিকভাবে কাজ করছি।

আরটিভি: গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে আপনার প্রশাসন কী কী উদ্যোগ নিয়েছে?

উপাচার্য: বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। তাই গবেষণাকে আমরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছি। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউজিসির আওতাধীন বিভিন্ন গবেষণা প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের গবেষণায় আরও সম্পৃক্ত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গবেষণা প্রকাশনা বৃদ্ধি, গবেষণা প্রশিক্ষণ, আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশনা এবং গবেষণা সহযোগিতা সম্প্রসারণের দিকেও আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি।

আরটিভি: দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে অ্যাকাডেমিক ও গবেষণাভিত্তিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে?

উপাচার্য: আমরা দেশি-বিদেশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে অ্যাকাডেমিক ও গবেষণাভিত্তিক সহযোগিতা আরও জোরদার করছি। যৌথ গবেষণা, সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় কর্মসূচি এবং আন্তর্জাতিক সেমিনার ও সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে বৈশ্বিক পরিসরে আরও এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

আমাদের বিশ্বাস, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা শিক্ষার মান উন্নয়ন, নতুন গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি এবং শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক দক্ষতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আরটিভি: সরকারি, বেসরকারি ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশীদারিত্ব জোরদারে কী পরিকল্পনা রয়েছে?

উপাচার্য: সরকারি, বেসরকারি এবং করপোরেট খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতোমধ্যে সুসম্পর্ক রয়েছে। বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা সফরে অংশ নিচ্ছে। বিষয়ভিত্তিক ইন্টার্নশিপ, গবেষণা সহযোগিতা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে করপোরেট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমাদের সমন্বয় আরও জোরদার করা হচ্ছে।

আরটিভি: বিশ্ববিদ্যালয়ের নবম সমাবর্তন আয়োজনের প্রস্তুতি কতদূর? শিক্ষার্থীরা কবে নাগাদ সমাবর্তনের আশা করতে পারেন?

উপাচার্য: আমরা চলতি বছরের মধ্যেই সমাবর্তন আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। সম্ভাব্য সময় হিসেবে ডিসেম্বরকে সামনে রেখে প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে। ইতোমধ্যে গ্র্যাজুয়েটদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেই সমাবর্তনের তারিখ ঘোষণা করা হবে।

আরও পড়ুন

আরটিভি: উপাচার্য হিসেবে শিক্ষার্থীদের প্রতি আপনার প্রত্যাশা কী?

উপাচার্য: শিক্ষার্থীরাই একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি। আমি চাই, তারা শুধু ডিগ্রি অর্জনের মধ্যেই নিজেদের সীমাবদ্ধ না রেখে জ্ঞান, দক্ষতা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠুক।

গবেষণামনস্কতা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তাকে ধারণ করে তারা যেন দেশ ও সমাজের উন্নয়নে নেতৃত্ব দিতে পারে। আমি শিক্ষার্থীদের বলব— নিজেদের স্বপ্নকে বড় করে দেখো, কঠোর পরিশ্রম করো এবং সততা ও দক্ষতার মাধ্যমে নিজেদের এমনভাবে গড়ে তোলো, যাতে বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশ তোমাদের নিয়ে গর্ব করতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সবসময় শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবে। একটি আধুনিক, নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং গবেষণাবান্ধব শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
পশু জবাই নিয়ে নিষেধাজ্ঞার বিজ্ঞপ্তির বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ জবি প্রশাসনের
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে পশু জবাই থেকে বিরত থাকার আহ্বানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ভুল-বোঝাবুঝির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে পশু জবাইসহ যেকোনো অনুষ্ঠান উদ্‌যাপনের অধিকার সবার রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তরের এক বক্তব্যে প্রশাসনের এ অবস্থান জানানো হয়। বক্তব্যে বলা হয়, গত ১২ অক্টোবর রাতে ক্যাম্পাসে খিচুড়ি রান্নাকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে ভুল-বোঝাবুঝি দেখা দিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের উদ্যোগে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলেই বিষয়টির সমাধান করা হয়। পরদিন পারস্পরিক আলোচনা ও বক্তব্যের মাধ্যমে বিষয়টি আরও সন্তোষজনকভাবে সমাধান করা হয়। এদিকে বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে। এ অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের মাধ্যমে প্রশাসনের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়। প্রশাসনের বক্তব্যে আরও বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১৫ অক্টোবর ক্যাম্পাসে পশু জবাইয়ের সম্ভাব্য কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ বিবেচনায় নতুন করে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি বা ধর্মীয় সম্প্রীতি বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা এড়াতে সবাইকে এ ধরনের কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান প্রক্টর। তবে তাঁর এ আহ্বানকে কেন্দ্র করে ভুল-বোঝাবুঝির সৃষ্টি হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছে প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, ক্যাম্পাসে পশু জবাইসহ যেকোনো অনুষ্ঠান উদ্‌যাপনের অধিকার সবার রয়েছে। তবে একটি উদ্‌যাপন যেন অন্য কোনো উদ্‌যাপনের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। ক্যাম্পাসে শান্তি, শৃঙ্খলা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা ও সহযোগিতা কামনা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আরটিভি/টিআর
পশু জবাই নিয়ে নিষেধাজ্ঞার বিজ্ঞপ্তির বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ জবি প্রশাসনের
গরু জবাই নিষিদ্ধের প্রতিবাদে জবিতে বিক্ষোভ, চলছে গরুভোজের প্রস্তুতি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে যেকোনো ধরনের পশু জবাই থেকে বিরত থাকার নির্দেশনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন একদল শিক্ষার্থী। এ সময় তাঁরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। একই সঙ্গে প্রথমে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ক্যাম্পাসে গরুভোজের কর্মসূচি দিলেও পরে তা এগিয়ে আগামীকাল করার ঘোষণা করেছেন তারা। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত এ বিক্ষোভে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) প্রতিনিধিদের পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন।  বিক্ষোভকারীদের ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার’, ‘হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসন রুখে দাও’, ‘তোমার আমার অধিকার, রুখে দেওয়ার সাধ্য কার’ এবং ‘বিজেপির দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। এদিকে, প্রশাসনের নির্দেশনার প্রতিবাদে প্রথমে শুক্রবার হলেও পরে একদিন এগিয়ে বৃহস্পতিবার গরুভোজ কর্মসূচি আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। এ জন্য ইতিমধ্যে অর্থ সংগ্রহ শুরু হয়েছে। আয়োজকদের দাবি, এ পর্যন্ত প্রায় এক লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। কর্মসূচিতে অংশ নিতে জনপ্রতি ৭০ টাকা নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত ১২ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চের সামনে গরুর মাংসের খিচুড়ি রান্নাকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের আয়োজনে রান্নার সময় মন্দিরের ইট ব্যবহারের অভিযোগ তোলেন সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা।  তবে আয়োজকদের দাবি, ইটগুলো মন্দিরের বলে জানার পর তাঁরা সেগুলোর ব্যবহার বন্ধ করেন এবং রান্নার স্থান পরিবর্তন করেন। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আজম খানের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ক্যাম্পাসে যেকোনো ধরনের পশু জবাই থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়।  বিজ্ঞপ্তিতে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়। আরটিভি/এসআর    
গরু জবাই নিষিদ্ধের প্রতিবাদে জবিতে বিক্ষোভ, চলছে গরুভোজের প্রস্তুতি
খুবিতে রিসার্চ অ্যাক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড পেলেন ৭ বিজ্ঞান শিক্ষক
গবেষণা ক্ষেত্রে অবদান ও কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘রিসার্চ অ্যাক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড-২০২৫’ পেলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীব বিজ্ঞান স্কুলভুক্ত ৭টি ডিসিপ্লিনের ৭ জন শিক্ষক। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত গবেষণাকর্মের মূল্যায়নের ভিত্তিতে জীব বিজ্ঞান স্কুলের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো এ অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হলো।
খুবিতে রিসার্চ অ্যাক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড পেলেন ৭ বিজ্ঞান শিক্ষক
চীন সফরে চবির ভিসি ও দুই প্রোভিসি
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান ও দুই উপ-উপাচার্যসহ পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল চীন সফরে গেছেন।
চীন সফরে চবির ভিসি ও দুই প্রোভিসি
খুবিতে জলবায়ু সাংবাদিকতা ও এআইয়ের নৈতিক ব্যবহারবিষয়ক ফেলোশিপের সমাপনী
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের ১৫ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে জলবায়ু সাংবাদিকতা ও সংবাদকক্ষে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) নৈতিক ব্যবহারবিষয়ক ছয় মাসের ফেলোশিপ সম্পন্ন হয়েছে।  দৃক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্লাইমেট জার্নালিজম অ্যান্ড এথিক্যাল এআই ইন নিউজরুম ফেলোশিপ-২০২৬’-এর সমাপনী ও প্রকল্প প্রদর্শনী বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও উদ্ভাবন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, পদ্মার এপারে বিশাল জনবসতি থাকলেও এ অঞ্চল বরাবরই অবহেলিত। জলবায়ু পরিবর্তন ও লবণাক্ততার কারণে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মানুষ নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে এবং মিঠাপানির প্রবাহও কমে গেছে। খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নে সাংবাদিকদের জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান উপাচার্য। শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে সাংবাদিকতা শেখার সুযোগ তৈরি করায় দৃক ফাউন্ডেশনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধন্যবাদ জানান তিনি। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হারুনুর রশীদ খান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের কারণে অনেক ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে। সাংবাদিকতা একটি সম্মানজনক ও চ্যালেঞ্জিং পেশা। এ পেশার মাধ্যমে মানুষের জীবনের নানা গল্প উঠে আসে। তথ্যপ্রযুক্তির এ যুগে সংবাদের বিশ্বাসযোগ্যতা ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে সাংবাদিকতা নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। তাই এআইয়ের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি পেশাগত নীতি-নৈতিকতা বজায় রাখতে হবে। দৃকের প্রতিষ্ঠাতা, আলোকচিত্রী ও মানবাধিকারকর্মী ড. শহিদুল আলম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আজকের খুলনা আগের তুলনায় ভিন্ন রূপ ধারণ করেছে। ফেলোরা সাংবাদিকতার প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে মানুষের গল্প তুলে ধরেছেন। তাঁদের কাজে মানুষের স্বপ্ন, আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা একটি ভিন্ন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন। সেই বাংলাদেশ গড়তে সৎ ও সাহসী সাংবাদিক প্রয়োজন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের মনের বিকল্প হতে পারে না এ বিষয়টি উপলব্ধি করতে হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের প্রধান মো. মাজিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ডিসিপ্লিনের সহকারী অধ্যাপক মো. শামীম হোসেন। ফেলোদের পক্ষে বক্তব্য দেন চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী নওরিন হক। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সহযোগী অধ্যাপক সারা মনামী হোসেন। অনুষ্ঠানে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের পক্ষ থেকে দৃকের প্রতিষ্ঠাতা ড. শহিদুল আলমকে সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অদম্য বাংলা চত্বরে পরিবেশ ও জলবায়ু সাংবাদিকতাবিষয়ক প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। এ সময় সংশ্লিষ্ট ডিসিপ্লিনের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ফেলো এবং দৃক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আরটিভি/এসআর  
খুবিতে জলবায়ু সাংবাদিকতা ও এআইয়ের নৈতিক ব্যবহারবিষয়ক ফেলোশিপের সমাপনী
আরও পড়ুন
উপাচার্য ক্যাম্পাসে ফিরলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি চুয়েট শিক্ষার্থীদের
মুখ খুললেন চুয়েট উপাচার্য
‘ভবিষ্যতে কখনও চুয়েটে আসবো না’ এমন বিবৃতি দেইনি: চুয়েট উপাচার্য 
অবরুদ্ধ চুয়েট উপাচার্যের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ