ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

‘বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় গড়তে গবেষণার বিকল্প নেই’

ডিআইইউ সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৯:২৭ পিএম
ছবি: আরটিভি

গবেষণা, অ্যাকাডেমিক উৎকর্ষ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির মাধ্যমে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিকে (ডিআইইউ) আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে কাজ করছে বর্তমান প্রশাসন। এমনটাই বলেছেন ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) ৮ম উপাচার্য অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলাম।

দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি গবেষণা সম্প্রসারণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, অ্যাকাডেমিক পরিকল্পনার আধুনিকায়ন এবং শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তোলাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর তিনি ভারতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। দীর্ঘদিন শিক্ষকতা ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি ডিআইইউর কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

সম্প্রতি আরটিভিকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, গবেষণা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, করপোরেট সংযোগ, সমাবর্তন এবং শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা নিয়ে কথা বলেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আরটিভির ডিআইইউ সংবাদদাতা নুর ইসলাম

আরটিভি: উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার এক বছরের বেশি সময় পেরিয়েছে। এই সময়ে আপনার প্রধান লক্ষ্য কী ছিল? আগামী দিনে বিশ্ববিদ্যালয়কে কোথায় দেখতে চান?

উপাচার্য: সরকার আমাকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে। এর আগে আমি এখানে শিক্ষকতা করেছি এবং কোষাধ্যক্ষ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছি। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্ষমতা, সম্ভাবনা এবং শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা সম্পর্কে আমার সুস্পষ্ট ধারণা রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোতে কিছু দুর্বলতা রয়েছে। তবে সেগুলো কাটিয়ে উঠতে চেষ্টা করছি। আমার লক্ষ্য, শিক্ষা ও গবেষণায় ডিআইইউ যেন শুধু দেশে নয়, আন্তর্জাতিক পরিসরেও একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারে। তবে এটি আমার একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রশাসন, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।

আরটিভি: বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নে বর্তমানে কী কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে? এগুলো শিক্ষার মান উন্নয়নে কীভাবে ভূমিকা রাখবে?

উপাচার্য: অবকাঠামোগত উন্নয়ন আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার। ইতোমধ্যে আটতলা একটি নতুন অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং রাজউকের প্রয়োজনীয় অনুমোদনও পাওয়া গেছে। কিছু প্রক্রিয়াগত কারণে কাজ শুরু হতে বিলম্ব হলেও খুব শিগ্‌গিরই নির্মাণকাজ শুরু হবে।

এ ছাড়া বিদ্যমান ভবনেও শ্রেণিকক্ষের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। নতুন ভবনটি চালু হলে শ্রেণিকক্ষের সংকট অনেকটাই দূর হবে। পাশাপাশি ডাটা সায়েন্সসহ নতুন দুটি বিভাগ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় আরও সক্ষম করে তুলতে বিদেশি ভাষার স্বল্পমেয়াদি কোর্সও চালু করা হয়েছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকসংকট নেই এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে আমরা ধারাবাহিকভাবে কাজ করছি।

আরটিভি: গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে আপনার প্রশাসন কী কী উদ্যোগ নিয়েছে?

উপাচার্য: বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। তাই গবেষণাকে আমরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছি। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউজিসির আওতাধীন বিভিন্ন গবেষণা প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের গবেষণায় আরও সম্পৃক্ত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গবেষণা প্রকাশনা বৃদ্ধি, গবেষণা প্রশিক্ষণ, আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশনা এবং গবেষণা সহযোগিতা সম্প্রসারণের দিকেও আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি।

আরটিভি: দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে অ্যাকাডেমিক ও গবেষণাভিত্তিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে?

উপাচার্য: আমরা দেশি-বিদেশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে অ্যাকাডেমিক ও গবেষণাভিত্তিক সহযোগিতা আরও জোরদার করছি। যৌথ গবেষণা, সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় কর্মসূচি এবং আন্তর্জাতিক সেমিনার ও সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে বৈশ্বিক পরিসরে আরও এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

আমাদের বিশ্বাস, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা শিক্ষার মান উন্নয়ন, নতুন গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি এবং শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক দক্ষতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আরটিভি: সরকারি, বেসরকারি ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশীদারিত্ব জোরদারে কী পরিকল্পনা রয়েছে?

উপাচার্য: সরকারি, বেসরকারি এবং করপোরেট খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতোমধ্যে সুসম্পর্ক রয়েছে। বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা সফরে অংশ নিচ্ছে। বিষয়ভিত্তিক ইন্টার্নশিপ, গবেষণা সহযোগিতা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে করপোরেট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমাদের সমন্বয় আরও জোরদার করা হচ্ছে।

আরটিভি: বিশ্ববিদ্যালয়ের নবম সমাবর্তন আয়োজনের প্রস্তুতি কতদূর? শিক্ষার্থীরা কবে নাগাদ সমাবর্তনের আশা করতে পারেন?

উপাচার্য: আমরা চলতি বছরের মধ্যেই সমাবর্তন আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। সম্ভাব্য সময় হিসেবে ডিসেম্বরকে সামনে রেখে প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে। ইতোমধ্যে গ্র্যাজুয়েটদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেই সমাবর্তনের তারিখ ঘোষণা করা হবে।

আরও পড়ুন

আরটিভি: উপাচার্য হিসেবে শিক্ষার্থীদের প্রতি আপনার প্রত্যাশা কী?

উপাচার্য: শিক্ষার্থীরাই একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি। আমি চাই, তারা শুধু ডিগ্রি অর্জনের মধ্যেই নিজেদের সীমাবদ্ধ না রেখে জ্ঞান, দক্ষতা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠুক।

গবেষণামনস্কতা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তাকে ধারণ করে তারা যেন দেশ ও সমাজের উন্নয়নে নেতৃত্ব দিতে পারে। আমি শিক্ষার্থীদের বলব— নিজেদের স্বপ্নকে বড় করে দেখো, কঠোর পরিশ্রম করো এবং সততা ও দক্ষতার মাধ্যমে নিজেদের এমনভাবে গড়ে তোলো, যাতে বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশ তোমাদের নিয়ে গর্ব করতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সবসময় শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবে। একটি আধুনিক, নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং গবেষণাবান্ধব শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ইবির একই কক্ষের ৩ বন্ধু এখন বিচারক
ক্যাম্পাস জীবনে একই ছাদের নিচে একই কক্ষে পড়াশোনা করতেন তিন বন্ধু। নিয়মিত গ্রুপ স্টাডি করতেন তারা। ১৬তম বিজেএস-এ একজন সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পর দুইবার ব্যর্থ হলেও হাল ছাড়েননি অপর দুই বন্ধু। এবার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আইন বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের তিন শিক্ষার্থী ও সাদ্দাম হোসেন হলের একই কক্ষের তিন বন্ধুই এখন সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তারা হলেন—১৬তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় সুপারিশপ্রাপ্ত আরিফ হোসাইন এবং সর্বশেষ প্রকাশিত ১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় সুপারিশপ্রাপ্ত মো. আনোয়ার হোসেন ও শাকির আলম। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদ্দাম হোসেন হলের ৪২২ নম্বর কক্ষে একসূত্রে বাঁধা পড়েছিল এই তিন সহপাঠীর স্বপ্ন ও সংগ্রামের পথচলা। ১৬তম বিজেএস পরীক্ষায় আরিফ হোসাইন প্রথম জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে বাকি দুই বন্ধুর জন্য অনুপ্রেরণার দুয়ার খুলে দেন। তিনি বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, মহান রবের প্রতি কৃতজ্ঞতা, যিনি আমাদের তিন বন্ধুকে এমন সম্মান দিয়েছেন। সকলের জন্য শুভকামনা ও ভালোবাসা। সর্বশেষ প্রকাশিত ১৮তম বিজেএস-এ সুপারিশপ্রাপ্ত শাকির আলম বলেন, প্রথমেই মহান আল্লাহ তাআলার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা, যিনি আমাকে এই জায়গায় নিয়ে এসেছেন। টানা দুইবার ব্যর্থ হওয়ার পরও হাল ছাড়িনি। তৃতীয়বারের চেষ্টায় উত্তীর্ণ হয়েছি। কুরআনের সেই আয়াত মনে পড়ে যায় যে, শিগগিরই তোমার রব তোমাকে এত বেশি দেবেন যে তুমি খুশি হয়ে যাবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর থেকেই আমার ইচ্ছে ছিল যে একদিন বিচারক হয়ে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করব। পরিবার ও সমাজের এ ব্যাপারে উৎসাহিত করতে অবদান আছে। পাশাপাশি উৎসাহিত হয়েছি বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ভাই-আপুদের সুপারিশপ্রাপ্ত হতে দেখে। আমার সবচেয়ে বড় ভালো লাগা, সাদ্দাম হোসেন হলের ৪২২ নম্বর কক্ষ থেকে আমরা তিনজনই জজ হয়েছি। তারা জানান, ক্যাম্পাস জীবনে সাদ্দাম হোসেন হলের ৪২২ নম্বর কক্ষটি ছিল তাদের পড়াশোনা ও একে অপরকে সহযোগিতা করার মূল কেন্দ্র। গভীর রাতের দীর্ঘ পড়াশোনা, গ্রুপ ডিসকাশন এবং লক্ষ্যপূরণের অদম্য ইচ্ছা তাদের এই যৌথ সাফল্যের পেছনের মূল শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। আইন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হালিমা খাতুন বলেন, আমাদের বিভাগ প্রতিবছরই জুডিশিয়ারিতে ভালো করে থাকে। এবার আরও ভালো করেছে। এই ধারা অব্যাহত থাকবে, আশা করি। যারা জুডিশিয়ারিকে প্রফেশন হিসেবে নিতে চান, তাদের গাইডলাইন দেওয়া থেকে শুরু করে তাদের বেজলাইন দৃঢ় করতে আমরা কাজ করব। জুডিশিয়ারি একটি মহৎ পেশা। আমাদের বিভাগের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি। অন্যদিকে তিন রুমমেট বন্ধু জজ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। তারা ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে। তারা আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। উল্লেখ্য, বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ১৮তম জুডিশিয়াল সার্ভিসের (বিজেএস) চূড়ান্ত ফল প্রকাশিত হয়। ফলাফল অনুযায়ী, সর্বশেষ তথ্য অনুসারে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে ১৪ জন, আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগ থেকে ৪ জন এবং আল-ফিকহ অ্যান্ড ল’ থেকে ১ জন সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। আরটিভি/টিআর
ইবির একই কক্ষের ৩ বন্ধু এখন বিচারক
শেষ ছয় জজ নিয়োগ পরীক্ষার পাঁচটিতেই প্রথম রাবির শিক্ষার্থীরা
বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রেখেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা। সর্বশেষ ছয়টি বিজেএস পরীক্ষার মধ্যে পাঁচটিতেই মেধাতালিকায় প্রথম স্থান অর্জন করেছেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় প্রকাশিত ১৮তম বিজেএস পরীক্ষার ফলাফলে দেশসেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আরিফুল করিম সিয়াম। এর আগে ১৩তম থেকে ১৬তম বিজেএস পরীক্ষায় টানা চারবার প্রথম হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র ও ফলাফল বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, ১৩তম থেকে ১৮তম—সর্বশেষ ছয়টি বিজেএস পরীক্ষার মধ্যে পাঁচটিতেই প্রথম হয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ সময় ১৩তম, ১৪তম, ১৫তম ও ১৬তম পরীক্ষায় টানা চারবার রাবির শিক্ষার্থীরা প্রথম হওয়ার পর ১৭তম পরীক্ষায় অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শীর্ষস্থান অর্জন করেন। ১৮তম পরীক্ষায় সিয়ামের সাফল্যের মাধ্যমে আবারও মেধাতালিকার শীর্ষে রাবি। ১৩তম বিজেএস পরীক্ষায় প্রথম হন শিউলী নাহার। ১৪তম বিজেএস পরীক্ষায় প্রথম হন সুমাইয়া নাসরিন। ১৫তম বিজেএসে প্রথম স্থান অর্জন করেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আশিক-উজ-জামান। ১৬তম বিজেএস পরীক্ষায়ও শীর্ষস্থান ধরে রাখেন রাবির শিক্ষার্থী নুসরাত জেরিন জেনি। তবে ১৭তম বিজেএস পরীক্ষায় এ ধারাবাহিকতার অবসান ঘটে। ওই পরীক্ষায় প্রথম হন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হালিমাতুস সাদিয়া। এর ফলে রাবির শিক্ষার্থীদের টানা চারবার প্রথম হওয়ার ধারাটি থেমে যায়। পরবর্তী ১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় আরিফুল করিম সিয়ামের প্রথম হওয়ার মাধ্যমে আবারও শীর্ষস্থান ফিরে আসে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১৮তম বিজেএসে প্রথম হওয়া আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফুল করিম সিয়াম তার সাফল্যের বিষয়ে বলেন, আমার যতটুকু সামর্থ্য ছিল, তা দিয়ে ভালো করার চেষ্টা করেছি। বাকিটা মহান আল্লাহর দান। অনেকেই হয়তো আমার চেয়েও বেশি যোগ্য ছিলেন, কিন্তু দিন শেষে সৃষ্টিকর্তা যাকে ইচ্ছা কবুল করেন। ভবিষ্যতে এ পরীক্ষায় অংশ নিতে আগ্রহীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এই দীর্ঘ যাত্রায় যেন কেউ ধৈর্য না হারায়। প্রস্তুতি নিতে গিয়ে প্রতিদিন সমান সাফল্য আসবে না, কখনো ঘাটতি থাকবে, কখনো ভালো হবে। কিন্তু পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং নিয়মিত পরীক্ষার মাধ্যমে নিজেকে একটু একটু করে ঝালিয়ে নেওয়া খুবই জরুরি। সাফল্যের বিষয়ে অনুভূতি প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. সাঈদা আনজু বলেন, খুবই ভালো লাগছে শুনে। রাবির আইন বিভাগ থেকে আবারও দেশসেরা হয়েছে—এটা অবশ্যই আমার জন্য, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গর্বের। সিয়ামসহ ১৮তম বিজেএসে যে ২০০ জন উত্তীর্ণ হয়েছে, তাদের সবাইকে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানাচ্ছি। আরটিভি/টিআর  
শেষ ছয় জজ নিয়োগ পরীক্ষার পাঁচটিতেই প্রথম রাবির শিক্ষার্থীরা
১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত খুবির ৬ শিক্ষার্থী
১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় সিভিল জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) আইন ডিসিপ্লিনের ছয় শিক্ষার্থী। বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের অধীনে অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষার বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে তারা সিভিল জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। ২৩ সেপ্টেম্বর (বুধবার) ১৮তম বিজেএস পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এ তথ্য জানা যায়। সুপারিশপ্রাপ্তরা হলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ ব্যাচের মাহবুবা সুলতানা এবং ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী নাসিম বিল্লাহ, হাফসা বিনতে আইয়ুব, সজল আহমেদ বাপ্পী, কামরুজ্জামান বাদশা ও ২০ ব্যাচের নাজমুল ইসলাম সিয়াম। মেধাতালিকায় হাফসা বিনতে আইয়ুব ৭ম, সজল আহমেদ বাপ্পী ৮ম, নাজমুল ইসলাম সিয়াম ৩০তম, কামরুজ্জামান বাদশা ৫৭তম এবং নাসিম বিল্লাহ ৬৫তম স্থান অর্জন করেছেন। বিজেএস পরীক্ষায় সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে নাসিম বিল্লাহ বলেন, “সর্বপ্রথম সৃষ্টিকর্তার নিকট অশেষ শুকরিয়া। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর আমরা ছিলাম তৃতীয় ব্যাচ। আমাদের সিনিয়র ব্যাচ যখন জুডিশিয়ারির পরীক্ষা দিতেন, আমরা খুবই আগ্রহ নিয়ে তাদের সাফল্যের খবর শোনার জন্য অপেক্ষা করতাম। অনেক পরিশ্রমের পরও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে এ সাফল্য ধরা দিচ্ছিল না। কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ, ১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় আমাদের ছয়জন সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছি।” তিনি আরও বলেন, আমাকে এই দিনে নিয়ে আসার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান আমাদের শিক্ষকদের, আমাদের সিনিয়রদের, আমার জুনিয়রদের, আমার খাজা হলের সকল মানুষের এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি মানুষের। অনেক অনেক ধন্যবাদ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়। সকলের নিকট দোয়া চাই, যেন বিচারক হিসেবে ন্যায় ও সুষ্ঠু বিচার প্রতিষ্ঠিত করতে পারি। এছাড়াও সজল আহমেদ বাপ্পী বলেন, আইন ডিসিপ্লিন তথা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অনন্য ইতিহাসের সাক্ষী হতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে করছি। আমার সকল শুভাকাঙ্ক্ষীর কাছে দোয়া চাই, যাতে সারাজীবন ন্যায়ের পথে থাকতে পারি এবং মানুষের জন্য সবসময় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারি। এ বিষয়ে আইন ডিসিপ্লিনের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক পুনাম চক্রবর্তী বলেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এবারই প্রথমবারের মতো বিচারক হিসেবে কয়েকজন শিক্ষার্থী সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। আইন ডিসিপ্লিন প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই প্রথম ১৪ জন ভাইভায় অংশগ্রহণ করে তাদের মধ্যে ছয়জন জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। এটি শুধু আইন ডিসিপ্লিনের জন্য নয়, পুরো খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যও অত্যন্ত গর্বের বিষয়। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতেও এই সাফল্যের ধারা অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি বর্তমান শিক্ষার্থীরাও যেন এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ভালো করতে পারে, সে জন্য আইন ডিসিপ্লিনের শিক্ষকরা তাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা দিয়ে যাবেন। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন দেশের অধস্তন আদালতের বিচারক নিয়োগের জন্য বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষা আয়োজন করে। প্রাথমিক, লিখিত ও মৌখিকসহ বিভিন্ন ধাপের পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীদের বাছাই করা হয়। আরটিভি/টিআর  
১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত খুবির ৬ শিক্ষার্থী
ছাত্রীকে ডাকাডাকি করেও মেলেনি সাড়া, দরজা ভাঙতেই সামনে ‘অপ্রত্যাশিত দৃশ্য’
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি) সংলগ্ন একটি ছাত্রীনিবাস থেকে এক ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। জানা গেছে, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন বিসিএস গলির শেষপ্রান্তে অবস্থিত ফজিলা ছাত্রীনিবাসের তৃতীয় তলার ৩০১ নম্বর কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে মেসে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ওই ছাত্রীকে সর্বশেষ দেখা যায়। এরপর থেকে তাকে আর বাইরে দেখা যায়নি। বুধবার সন্ধ্যায় বারবার ডাকাডাকি করেও তার কোনো সাড়া না পাওয়ায় মেসের মালিক ও কয়েকজন ছাত্রী হাতুড়ি দিয়ে দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা তাকে জানালার সঙ্গে কাপড় দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তিনি প্রায় ৮-৯ মাস ধরে ওই ছাত্রীনিবাসে অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে। এর আগে তিনি দিনাজপুর শহরের অন্য একটি মেসে থাকতেন। খবর পেয়ে দিনাজপুর সদর কোতোয়ালি থানা পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ছাত্রীর পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। আইনগতভাবে পরিবারের সম্মতিতে বাকি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। পুলিশের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। দিনাজপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল হালিম বলেন, প্রাথমিক লক্ষণগুলো দেখে আমাদের কাছে আত্মহত্যা বলে মনে হয়েছে। তবে পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পাওয়ার আগে আমরা নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছি না। তার মধ্যে আত্মহত্যার কিছু প্রাথমিক লক্ষণ ছিল। পোস্টমর্টেমের পর এসব বিষয় নিশ্চিত করে বলা যাবে। ছাত্রীর পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। তারা এলে বাকি প্রক্রিয়া শুরু হবে। আরটিভি/টিআর
ছাত্রীকে ডাকাডাকি করেও মেলেনি সাড়া, দরজা ভাঙতেই সামনে ‘অপ্রত্যাশিত দৃশ্য’
১৬তম বিজেএস পরীক্ষায় স্বামী, এবার জজ হলেন স্ত্রী
বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের (বিজেএস) ১৮তম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বিচারক হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী চৈতি বিশ্বাস। এর আগে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া তার স্বামী উদাস গোস্বামী একই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কর্মজীবনে আছেন। এবার স্ত্রীর সাফল্যে পরিবারে যোগ হয়েছে নতুন আনন্দ। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন সচিবালয়ের ওয়েবসাইটে ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। ১৮তম বিজেএস পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর জানা গেছে, চৈতি বিশ্বাস পরীক্ষায় সফল হয়ে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসে যোগ দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তার স্বামীও এর আগে একই পরীক্ষার মাধ্যমে বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। দুজনের এই সাফল্যের গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ও আইন অঙ্গনে প্রশংসা কুড়াচ্ছে। একই পরিবারের স্বামী-স্ত্রী দুজনের বিচার বিভাগে যুক্ত হওয়াকে অনেকে অনুপ্রেরণাদায়ক ঘটনা হিসেবে দেখছেন। স্ত্রীর সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট উদাস গোস্বামী লিখেছেন, জজ-ম্যাজিস্ট্রেট দেখার প্রতি ছোটবেলা থেকেই খুব আগ্রহ ছিল। এখন ঘুম থেকে উঠেই একজন জজ দেখার সৌভাগ্য হবে। স্রষ্টার অশেষ কৃপায় তোমার (তার স্ত্রী) পরিশ্রম তোমাকে সম্মানিত করেছে। স্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি লিখেছেন, ১৮তম জুডিশিয়ারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ায় তোমাকে অভিনন্দন, প্রিয়তমা সহধর্মিণী চৈতি বিশ্বাস। বাবা তার এত প্রিয় বউমার এই সাফল্য অল্প সময়ের ব্যবধানে দেখতে পারলেন না—এটাই আফসোস। যাহোক, আবারও অভিনন্দন, জজ সাহেবা। আরটিভি/টিআর
১৬তম বিজেএস পরীক্ষায় স্বামী, এবার জজ হলেন স্ত্রী
আরও পড়ুন
হলে সিট না পেয়ে থাকতে হচ্ছে বাইরে, দিতে হচ্ছে ‘বড় মাশুল’
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বাত্মক শাটডাউন 
জাফর ইকবাল ও মাকসুদ কামালসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে আইইউসানসের শুভেচ্ছা