প্রশিক্ষকহীন কুবির জরাজীর্ণ ব্যায়ামাগার, ছাত্রীদের নেই সুযোগ

কুবি প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ , ০৮:২৯ পিএম


প্রশিক্ষকহীন কুবির জরাজীর্ণ ব্যায়ামাগার, ছাত্রীদের নেই সুযোগ
ছবি : সংগৃহীত

প্রতিষ্ঠার প্রায় দুই দশক পেরিয়ে গেলেও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীরা এখনো আধুনিক ও কার্যকর ব্যায়ামাগারের সুবিধা থেকে বঞ্চিত। প্রায় সাত হাজার শিক্ষার্থীর জন্য থাকা একমাত্র জিমনেসিয়ামটি প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সংকট, দীর্ঘদিন ধরে বিকল যন্ত্রপাতি, সংকীর্ণ পরিসর, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, মশার উপদ্রব এবং প্রশিক্ষকের অভাবে কার্যকারিতা হারাচ্ছে। এর পাশাপাশি নারী শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক বা উপযোগী কোনো ব্যবস্থা না থাকায় তারাও নিয়মিত শরীরচর্চার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, ব্যায়ামাগারে ট্রেডমিল, চেস্ট প্রেস মেশিন, স্মিথ মেশিন, মাল্টি-জিম, এক্সারসাইজ সাইকেল, ওয়েট বেঞ্চ, বারবেল, ডাম্বেল, ওয়েট প্লেট ও ওয়াটার কুলারের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে মাল্টি-জিম ও এক্সারসাইজ সাইকেল আংশিকভাবে ব্যবহারযোগ্য হলেও ট্রেডমিল এবং চেস্ট প্রেস মেশিন দীর্ঘদিন ধরে সম্পূর্ণ বিকল অবস্থায় পড়ে আছে।

শিক্ষার্থীরা জানান, ব্যায়ামাগারটি নিচু স্থানে হওয়ায় বৃষ্টির সময় পানি জমে যায়। পাশাপাশি আশপাশের পরিবেশ অপরিচ্ছন্ন থাকায় মশার উৎপাতও বেশি। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, এখানে কোনো প্রশিক্ষক নেই। ফলে অনেকেই সঠিক নির্দেশনা ছাড়াই ব্যায়াম করছেন, যা ভুল কৌশলের কারণে পেশিতে আঘাতসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে।

আইন বিভাগের শিক্ষার্থী দিলোয়ার হোসেন বলেন, 'আমাদের শিক্ষার্থীর তুলনায় জিমনেসিয়াম অনেক ছোট। পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি তো না-ই যা আছে তার অধিকাংশই ঠিকমতো কাজ করে না। বিশেষ করে ট্রেডমিল অনেকদিন ধরেই নষ্ট, চেস্ট প্রেস মেশিনও অচল। পাশাপাশি আরও অনেক যন্ত্রপাতিও পুরোপুরি সচল নয়। এর সঙ্গে রয়েছে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও মশার উপদ্রব।'

এছাড়া নারী শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যায়ামাগারে আলাদা কোনো ব্যবস্থা না থাকায় তারা নিয়মিত শরীর চর্চা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। 

গণিত বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইখতার জাহান ইথিলা বলেন, 'শরীর সুস্থ ও ফিট রাখতে নিয়মিত ব্যায়াম অপরিহার্য। কিন্তু আমাদের জিমনেশিয়ামটি এতটাই ছোট যে একসঙ্গে কয়েকজনের বেশি ব্যায়াম করা সম্ভব হয় না। ছাত্রদের ভিড়ের মধ্যে ব্যায়াম করতে অনেক সময় অস্বস্তি লাগে, বিশেষ করে ছাত্রীদের জন্য। পাশাপাশি ব্যায়ামের পরিবেশও সন্তোষজনক নয়। শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি রয়েছে, আর মেয়েদের জন্য তো কার্যত কোনো ব্যবস্থাই নেই।'

আরও পড়ুন

তিনি আরও বলেন, 'ছাত্রীদের জন্য পৃথক জিমনেশিয়াম বা নির্ধারিত সময়সূচির ব্যবস্থা না থাকায় আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও অনেকেই নিয়মিত ব্যায়াম করতে পারছেন না। পর্যাপ্ত সরঞ্জাম না থাকায় অনেকেই জানেন না যে জিমনেশিয়ামটি সব শিক্ষার্থীর জন্য উন্মুক্ত। এছাড়া কোনো প্রশিক্ষক না থাকায় সঠিকভাবে ব্যায়াম করার সুযোগও সীমিত। তাই ছাত্রীদের জন্য আলাদা জিমনেশিয়াম, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম এবং প্রশিক্ষকের ব্যবস্থা করা জরুরি।'

জানা যায়, বর্তমানে ব্যায়ামাগারটি প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা থাকে। তবে ক্লাসের ব্যস্ত সূচির কারণে এই সময়ের মধ্যে অনেক শিক্ষার্থীর পক্ষে ব্যায়াম করা সম্ভব হয় না। তাই তারা জিমের কার্যক্রমের সময় আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।

আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আতিকুর রহমান রায়হান বলেন, দিনের বেলায় ক্লাস ও পরীক্ষার কারণে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর পক্ষে জিমনেসিয়ামে ব্যায়াম করার সুযোগ হয় না। তাই জিমনেসিয়ামটি সকালে আরও আগে খোলা বা সন্ধ্যার পর পরিচালনার সময় বাড়ানো প্রয়োজন। এতে শিক্ষার্থীরা তাদের সুবিধাজনক সময়ে নিয়মিত ব্যায়াম করতে পারবেন।'

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা বিভাগের উপ-পরিচালক মনিরুল আলম বলেন, 'ট্রেডমিলটি ক্যাফেটেরিয়ায় থাকা সময় থেকেই অচল। ট্রেডমিল ও চেস্ট প্রেস মেশিন মেরামতের আর সুযোগ নেই, নতুন করে কিনতে হবে। বর্তমান জিমনেসিয়ামটি খুবই ছোট। বৃষ্টি হলেই সেখানে পানি উঠে যায়। তাই নতুন জিমনেসিয়াম নির্মাণের আগে নতুন যন্ত্রপাতি কেনা হলে সেটি কার্যত অর্থের অপচয় হবে।'

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম বলেন, 'শারীরিক শিক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত আবেদন বা সমস্যার বিস্তারিত আমাদের কাছে আসেনি। লিখিতভাবে জানানো হলে বিষয়টি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission