ইবির সমাজকল্যাণ বিভাগে শূন্য শিক্ষক নিয়ে শুরু হচ্ছে নবীনবরণ

ইবি সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬ , ১১:৫৭ পিএম


ইবির সমাজকল্যাণ বিভাগে শূন্য শিক্ষক নিয়ে শুরু হচ্ছে নবীনবরণ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: আরটিভি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা নিজ কক্ষে নৃশংসভাবে হত্যার শিকার হন। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ফজলুসহ এক কর্মকর্তা ও দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করেন নিহতের স্বামী। মামলার আসামি দুই শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বরখাস্ত হওয়ায় বিভাগে বর্তমানে কোনো শিক্ষক নেই। ফলে বিভাগের নতুন শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা বিভাগের নিজস্ব শিক্ষকের পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। শিক্ষকসংকটের কারণে বিভাগের মূল (কোর) কোর্স পরিচালনায় ব্যাঘাত ঘটছে বলে জানা গেছে।

বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষকশূন্যতার চলমান সংকট নিরসনে বিগত প্রশাসন বিশেষ বিবেচনায় খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নিয়ে প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। নিহত শিক্ষিকা রুনা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী হওয়ায় এবং বিভাগের অভাবনীয় ক্ষতি ও শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে একাডেমিক কার্যক্রমে দায়িত্ব নিতে সম্মত হন রাবির সমাজকর্ম বিভাগের চার শিক্ষক। পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হলে তারা বিভাগ পরিদর্শন এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎও করেন।

এদিকে, শিক্ষকসংকট নিরসনে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও প্রার্থীরা শর্ত পূরণ করতে না পারায় নিয়োগ বোর্ড বাতিল হয়। তবে ফোকলোর অ্যান্ড সোশ্যাল স্টাডিজ বিভাগের একজন শিক্ষক সমাজকল্যাণ বিভাগের মূল কোর্সগুলো পরিচালনা করছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া অন্যান্য বিভাগের শিক্ষকদের মাধ্যমে বিভাগের একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে সমাজকল্যাণ বিভাগে ছয়টি শিক্ষাবর্ষের কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং ১৫ জুলাই থেকে নতুন শিক্ষাবর্ষের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। মামলার আসামি দুই শিক্ষক ছাড়াও বিভাগের অবশিষ্ট শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক মমতা মোস্তারী বর্তমানে শিক্ষা ছুটিতে রয়েছেন।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এর আগে এ বিভাগে দুটি সহযোগী অধ্যাপক পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলেও প্রার্থীরা শর্ত পূরণ করতে না পারায় নিয়োগ বোর্ড স্থগিত হয়। এতে বিভাগটি আরও শিক্ষকসংকটে পড়ে। বর্তমানে বিভাগটি শিক্ষকশূন্য অবস্থায় রয়েছে।

বিভাগের একাধিক শিক্ষার্থী জানান, ভর্তি হওয়ার পর থেকেই বিভাগে শিক্ষকসংকট ছিল। সম্প্রতি সাদিয়া ম্যাম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন এবং বাকি শিক্ষকরা মামলার আসামি। ফলে বিভাগ এখন শিক্ষকশূন্য। আমাদের বিভাগ অন্য বিভাগের শিক্ষকদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। আমরা দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানাই।

বর্তমান সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. রোকসানা বেগম মিলির বরাতে জানা যায়, সংকটময় পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছিল বিগত প্রশাসন। এ প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি হয়েছে এবং কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক রয়েছেন, যিনি সমাজকর্ম বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। তার মাধ্যমে আপাতত বিভাগের মূল কোর্সগুলো পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি বিভাগের সংকট ও শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে কোর্সগুলো নিচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, আমি সব ব্যাচের কোর্স ডিস্ট্রিবিউশন, ক্লাস, পরীক্ষা—এক কথায় একাডেমিক কার্যক্রম সচল রাখতে সব ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করছি। উপাচার্যের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করেছেন, অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে শিক্ষক নিয়োগ হবে।

খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে যুক্ত হওয়ার কথা ছিল রাবির সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক ড. হুমায়ন কিবরিয়ারের। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোরবানির ঈদের আগে বিগত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কোন কোন কোর্স নেব এবং ক্লাস পরিচালনাসহ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে কথা হয়েছিল। আনুষ্ঠানিকভাবে প্রক্রিয়াও চলমান ছিল। তবে পরে আমরা আর কোনো চিঠি পাইনি। তাই বিষয়টির আর কোনো অগ্রগতি হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান বলেন, এটি অবশ্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ ব্যাপারে আমি স্বল্প সময়ের মধ্যেই উদ্যোগ নিয়েছিলাম। বিভাগের বর্তমান সভাপতি জানিয়েছেন, আপাতত কোর্স পরিচালনায় কোনো সমস্যা নেই। যদিও আগের নিয়োগ বোর্ড স্থগিত করা হয়েছে, তবে তিনি বলেছেন, পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমি নতুন শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে লিখেছি। আশা করি দ্রুত অনুমোদন পাওয়া যাবে।

খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে খণ্ডকালীন শিক্ষক আনার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। নতুন শিক্ষক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত এ ব্যবস্থা চলমান থাকবে।

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission