ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাজিদ হত্যার বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিহতের পরিবার। রবিবার (১৯ জুলাই) দুপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিসি’র শিক্ষক লাউঞ্জে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সাজিদের বাবা আহসান হাবিবুল্লাহ দেলোয়ার, চাচা সাইফুল ইসলাম, সাজিদের দুলাভাই মিজানুর রহমান-সহ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। এসময় সাজিদ হত্যার বিচার, সাজিদের নামে বিশ্ববিদ্যালয়ে হলের নামকরণ ও পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানান তারা। এছাড়া এসব দাবি বাস্তবায়নে প্রশাসনের প্রতি আস্থা রাখতে চায় নিহতের পরিবার।
সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্তব্যরত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে সাজিদ আব্দুল্লাহ’র বাবা আহসান হাবিবুল্লাহ বলেন, এক বছর পার হলেও একমাত্র সন্তান সাজিদ আব্দুল্লাহর হত্যার বিচার পাইনি। পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আরও আন্তরিক ও সক্রিয় হয়ে দ্রুত খুনিদের চিহ্নিত ও বিচার করতে হবে। আন্দোলনের সময় প্রশাসন সাজিদের নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলের নামকরণ এবং শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার যে ওয়াদা করেছিল, তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। বুয়েটের আবরারের নামে হল করা হয়েছে, কিন্তু ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাজিদের নামে কেন হল করা হলো না বোধগম্য নয়।
তিনি আরও বলেন, সাজিদ আব্দুল্লাহ জুলাই আন্দোলনে স্বৈরাচার তাড়াতে ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে লড়েছেন। একজন 'জুলাই যোদ্ধা' হিসেবে তাকে যথাযথ মূল্যায়ন করা উচিত। এছাড়া ক্যাম্পাসে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন-সহ শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান তিনি।
এসব দাবি আদায়ে নতুন প্রশাসনের পদক্ষেপে সন্তোষজনক কিনা সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, আমরা আশাবাদী প্রশাসন আন্তরিকতার সাথে কাজ করবেন। তবে দীর্ঘদিন আমাদের সাথে ভিসি কোনো যোগাযোগ করেননি। আজ ভিসির সাথে এসব নিয়ে আলোচনা করেছি। এতে আর্থিক ক্ষতিপূরণের বিষয়ে আমাদেরকে লিখিত আবেদনের জন্য বলেছেন। আমরা সেই অনুযায়ী কাজ করবো। আমরা আশাবাদী প্রশাসন আমাদের দাবিগুলো বাস্তবায়ন করবেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৭ জুলাই বিকেলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হল সংলগ্ন পুকুর থেকে সাজিদ আব্দুল্লাহর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ৩ আগস্ট প্রকাশিত ভিসেরা প্রতিবেদনে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। তবে হত্যার এক বছর পেরিয়ে গেলেও রহস্য উন্মোচন করা যায়নি।
আরটিভি/ এসকেডি




