বাংলা ব্যান্ড সংগীতের কিংবন্তিতুল্য শিল্পী আইয়ুব বাচ্চু মৃত্যুর সাত বছর পর পেলেন রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। এবারের একুশে পদকে ভূষিত করা হয়েছে রুপালি গিটার খ্যাত এ তারকাকে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) প্রয়াত ব্যান্ড শিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর ভক্ত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান; বাচ্চু এবং তার সৃষ্টির প্রতি সরকার প্রধান এই পছন্দের কথা জানিয়েছেন গায়কের স্ত্রী ফেরদৌস আক্তার চন্দনাকে।
আনুষ্ঠানিকভাবে পদক তুলে দেওয়া হয় তার স্ত্রী ফেরদৌস আক্তার চন্দনার হাতে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজ হাতে এই সম্মাননা প্রদান করেন।
পদক গ্রহণের পর আবেগাপ্লুত চন্দনা জানান, এই মুহূর্তে মনে হয়েছে-আইয়ুব বাচ্চু বেঁচে থাকলে আজ অনেক বেশি খুশি হতেন। পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপেও উঠে আসে অতীতের স্মৃতি। চন্দনা বলেন, “জীবদ্দশায় আইয়ুব বাচ্চু বিভিন্ন রাজনৈতিক আয়োজনে গান গেয়েছেন এবং সেই সূত্রে তারেক রহমানের সঙ্গে তার পরিচয় ছিল।
আমি বললাম, আইয়ুব বাচ্চু আপনাকে পছন্দ করতেন। তখন প্রধানমন্ত্রী বললেন- ‘আমিও তার ভক্ত’। তাকে ভালোবেসে শুনতেন তার গান।”
পদকপ্রাপ্তির পর ‘এলআরবি’র অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত বার্তায় বলা হয়, এই সম্মান শুধু আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি নয়-এটি আইয়ুব বাচ্চুর আজীবন সংগীতসাধনার প্রতি জাতির গভীর শ্রদ্ধার প্রতিফলন।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বাংলা রক সংগীতে তার সাহসী, সৃজনশীল ও নতুনত্বপূর্ণ অবদান দেশের সাংস্কৃতিক পরিচিতিকে সমৃদ্ধ করেছে এবং আন্তর্জাতিক পরিসরেও স্বাতন্ত্র্য এনে দিয়েছে। রাষ্ট্র যখন একজন শিল্পীর অবদানকে স্বীকৃতি দেয়, তখন তা শুধু ব্যক্তিকে নয়, পুরো সংগীতাঙ্গনকে সম্মানিত করে। একই সঙ্গে এটি নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে।
ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়, আইয়ুব বাচ্চুর সৃষ্টিশীলতা, দেশপ্রেম ও সাংস্কৃতিক প্রভাবের স্বীকৃতিস্বরূপ একদিন স্বাধীনতা পদকের মতো সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মানেও তার নাম যুক্ত হবে।
বাংলা ব্যান্ড সংগীতপ্রেমীদের কাছে আইয়ুব বাচ্চু কেবল একজন শিল্পী নন, তিনি একটি যুগের নাম। রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির এই পদক সেই অবদানের এক আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি হয়ে রইল।
আরটিভি/এমএ




