ঢাকা শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

ব্যক্তিগত চ্যাট প্রকাশ করে তিথির হুঁশিয়ারি

বিনোদন ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৫ মার্চ ২০২৬, ০৬:৫১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ ইকরার রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শোবিজ অঙ্গনে চলছে চরম উত্তেজনা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইকরার মৃত্যুর পর থেকেই অভিযোগের আঙুল উঠেছে আলভী এবং তার সহকর্মী ইফফাত আরা তিথির দিকে।

এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও আলভী-তিথিকে বয়কটের দাবিতে গতকাল রাজধানীর বিএফডিসি গেটের সামনে ‘জাস্টিস ফর ইকরা’ ব্যানারে এক মানববন্ধন কর্মসূচিও পালিত হয়। তীব্র এই বিতর্কের মুখেই নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইকরার সঙ্গে হওয়া ব্যক্তিগত আলাপচারিতার ৪৪টি স্ক্রিনশট প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী তিথি।

ইকরার পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, জাহের আলভীর সঙ্গে ইফফাত আরা তিথির পরকীয়া সম্পর্কের জেরে ইকরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। এই মনস্তাত্ত্বিক চাপ সহ্য করতে না পেরেই তিনি আত্মহননের পথ বেছে নেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ঘটনায় ইকরার বাবা কবির হায়াত খান ইতিমধ্যে রাজধানীর পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। সম্প্রতি নেপালে একটি নাটকের শুটিংয়ে আলভী ও তিথির একসঙ্গে যাওয়া এবং সেখানে তিথির জন্মদিন উদযাপন নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা তুঙ্গে ওঠে। ২৮ ফেব্রুয়ারি নেপাল থেকে ফেরার দিনই ইকরার মৃত্যু সংবাদ প্রকাশ্যে এলে গুঞ্জন আরও ঘনীভূত হয়।

বিতর্কের ঝড়ে বিদ্ধ ইফফাত আরা তিথি তার দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে দাবি করেছেন, তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ভেবেছিলাম প্রশাসনের প্রয়োজনে এই প্রমাণগুলো দিব, সবার সম্মান রক্ষার্থে পাবলিকলি কিছু বলব না। কিন্তু যেভাবে আমাকে অপপ্রচার ও হ্যারাসমেন্ট করা হচ্ছে, তাতে আর চুপ থাকা গেল না।

তিথি ইকরার সঙ্গে তার ৪৪টি স্ক্রিনশট প্রকাশ করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন যে, তাদের মধ্যে সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ। সেখানে ইকরা নিজের পারিবারিক অশান্তি, ব্যক্তিগত হতাশা এবং ডিপ্রেশন নিয়ে তিথির সাথে মন খুলে কথা বলতেন।

আরও পড়ুন

তিথি তার পোস্টে আরও বলেন, ইকরার সংসার ভাঙার কোনো ইচ্ছা তার কখনোই ছিল না। বরং তিনি সবসময় ইকরাকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে এবং কাজে সক্রিয় হতে উৎসাহ দিয়েছেন।

একটি চ্যাটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি লেখেন, আমি কখনো বলিনি তুমি ডিভোর্স দাও, আমি আলভীকে বিয়ে করব। বরং বলেছি, তুমি তার কুইন বা রানি। আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে তিনি আরও বলেন, ওকে নিজের জীবন নিয়ে নেওয়ার জন্য আমি কেমন করে উস্কানি দিব? আমি তো তাকে সবসময় আগলে রাখার পরামর্শ দিয়েছি।

তিথির ফেসবুক পোস্টে ইকরার পরিবারের সঙ্গে তার দূরত্বের বিষয়টিও উঠে এসেছে। তিথির দাবি অনুযায়ী, ইকরা ২০১৮ সালে তার বাবার কাছে বিদেশ যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও পরিবার থেকে কোনো সাপোর্ট পাননি, যা থেকে তার মনে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ জমা ছিল। তিথি লেখেন, একটা মেয়ে যত যা-ই হোক নিজের বাবা-মাকে নিয়ে মিথ্যা বলবে না। ওর মনে ওর পরিবার নিয়েও অনেক কষ্ট ছিল। ও ফিল করত যে ওর পরিবার ওকে নিজের হালে ছেড়ে দিয়েছে।

পোস্টের শেষে তিথি সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোকে অনুরোধ করেছেন, যদি তার নিজের কোনো ক্ষতি হয় তবে যেন তারা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে।

আরটিভি/এআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মন্ত্রীর মর্যাদা পেলেন পর্দার ‘মিনিস্টার ফাটাকেষ্ট’
সিনেমার পর্দায় তিনি ছিলেন ‘মিনিস্টার ফাটাকেষ্ট’। ২০০৭ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। প্রতিবাদী ও দাপুটে চরিত্রে মিঠুন চক্রবর্তীকে ভালোবাসায় ভাসিয়েছিলেন দুই বাংলার দর্শক।
মন্ত্রীর মর্যাদা পেলেন পর্দার ‘মিনিস্টার ফাটাকেষ্ট’
নীলের আবেশে জয়া আহসানের নতুন ছবি
বয়সের কাঁটা এগিয়ে চললেও চেহারায় তার ছাপ যেন একেবারেই নেই। বরং সময়ের সঙ্গে যেন আরও তরুণী হয়ে উঠছেন অভিনেত্রী জয়া আহসান।
নীলের আবেশে জয়া আহসানের নতুন ছবি
পূজায় আসছে মৌ খানের ‘স্নেহের বন্ধন’
নব্বইয়ের দশকের তুমুল জনপ্রিয় ও কালজয়ী সিনেমা ‘হঠাৎ বৃষ্টি’র নতুন সংস্করণ ‘আবার হঠাৎ বৃষ্টি’তে অভিনয়ের পর চলতি মাসেই প্রেক্ষাগৃহে আসছে চিত্রনায়িকা মৌ খানের আরও একটি সিনেমা।
পূজায় আসছে মৌ খানের ‘স্নেহের বন্ধন’
কৃষকের দুঃখে পাশে দাঁড়ানো নানার অজানা মানবিক গল্প
বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকার আর নেই। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভারতের গোয়ার ডোনা পাওলায় নিজের বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন জনপ্রিয় এই অভিনেতা। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।
কৃষকের দুঃখে পাশে দাঁড়ানো নানার অজানা মানবিক গল্প
সিনেমাকেও হার মানায় নানার জীবন, ৩৫ রুপি থেকে ৮০ কোটির মালিক
বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকারের জীবন যেন সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায়। দারিদ্র্য, অনিশ্চয়তা ও কঠিন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে পথচলা শুরু করে অভিনয়জগতে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন এই অভিনেতা। একসময় মাসে মাত্র ৩৫ রুপি আয় করা নানা পাটেকার পরবর্তী সময়ে কোটি কোটি রুপির সম্পদের মালিক হয়েছেন। শৈশব থেকেই আর্থিক সংকটের সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে নানা পাটেকারকে। পরিবারের আর্থিক অবস্থার অবনতি হলে মাত্র ১৩ বছর বয়সেই কাজ শুরু করেন তিনি। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় স্কুল শেষে প্রায় আট কিলোমিটার হেঁটে মুম্বাইয়ের চুনাভাট্টিতে যেতেন সিনেমার পোস্টার আঁকতে। সেই কাজের বিনিময়ে মাসে পেতেন মাত্র ৩৫ রুপি। এর সঙ্গে মিলত দিনে এক বেলার খাবার। কঠিন সেই সময়ই তাকে জীবনের বাস্তবতা ও অর্থের মূল্য বুঝতে শেখায়। পরবর্তী সময়ে অভিনয়কে পেশা হিসেবে বেছে নেন নানা। ১৯৭৮ সালে ‘গমন’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় তার। এরপর ধীরে ধীরে অভিনয় প্রতিভা দিয়ে দর্শকদের মনে আলাদা জায়গা করে নেন তিনি। ‘পরিন্দা’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘অগ্নিসাক্ষী’, ‘আব তক ছাপ্পন’, ‘নটসম্রাট’ ও ‘ওয়েলকাম’-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান নানা পাটেকর। হিন্দির পাশাপাশি মারাঠি চলচ্চিত্রেও নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন তিনি। অভিনয় ক্যারিয়ারের সাফল্যের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে তার আয়-সম্পদও। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে নানা পাটেকারের মোট সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ৬০ থেকে ৮০ কোটি রুপি বলে দাবি করা হয়েছে। ক্যারিয়ারের একপর্যায়ে একটি সিনেমায় অভিনয়ের জন্য তিনি প্রায় ২ থেকে ৩ কোটি রুপি পারিশ্রমিক নিতেন বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েও বিলাসী জীবনযাপনের জন্য পরিচিত নন নানা পাটেকার। মুম্বাইয়ের আন্ধেরিতে দীর্ঘদিন প্রায় ৭৫০ বর্গফুটের একটি এক শয়নকক্ষের অ্যাপার্টমেন্টে বসবাস করেছেন তিনি। কয়েক দশক আগে প্রায় ১ দশমিক ১ লাখ রুপিতে কেনা সেই ফ্ল্যাটটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি রুপি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মুম্বাইয়ের পাশাপাশি গোয়াতেও তার একটি বাড়ি রয়েছে। পুনের খাডাকওয়াসলার কাছে প্রায় ২৭ একর জমির একটি ফার্মহাউসের সঙ্গেও তার নাম জড়িত। সেখানে গম ও ধানের মতো বিভিন্ন ফসল চাষ করা হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। বলিউডের অনেক তারকার মতো বিলাসবহুল গাড়ির বড় সংগ্রহও নেই নানা পাটেকারের। তার ব্যবহৃত গাড়ির তালিকায় রয়েছে মাহিন্দ্রা জিপ সিজে৪, মাহিন্দ্রা স্করপিও ও অডি কিউ৭। এমনকি প্রায় দেড় কোটি রুপি দামের একটি বিলাসবহুল গাড়ি কেনার সুযোগ থাকলেও তিনি সেটি নিতে চাননি বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। বরং সেই অর্থ কৃষকদের সহায়তায় ব্যয় করাই তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে জানা যায়। নানা পাটেকারের জীবন তাই শুধু একজন সফল অভিনেতার গল্প নয়, বরং কঠিন বাস্তবতা থেকে উঠে আসার অনুপ্রেরণার গল্পও। একসময় যে মানুষটি এক বেলার খাবার ও সামান্য পারিশ্রমিকের জন্য সিনেমার পোস্টার আঁকতেন, তিনিই পরবর্তী সময়ে ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম পরিচিত ও সম্মানিত অভিনেতায় পরিণত হন। কোটি কোটি রুপির সম্পদের মালিক হয়েও সাধারণ জীবনযাপন, কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং অর্থের প্রতি সংযত মনোভাব নানা পাটেকারকে বলিউডের অনেক তারকার চেয়ে আলাদা করে তুলেছে। আরটিভি/এসকে
সিনেমাকেও হার মানায় নানার জীবন, ৩৫ রুপি থেকে ৮০ কোটির মালিক
আরও পড়ুন
অভিনেতা জাহের আলভী দুই দিনের রিমান্ডে
দুই দিনের রিমান্ডে অভিনেতা জাহের আলভী
ইকরার মৃত্যু, আত্মসমর্পণ করলেন অভিনেতা জাহের আলভী
আলভীর স্ত্রী ইকরার আত্মহত্যা: তদন্তের দায়িত্ব পেল ডিবি