ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে লন্ডনে চিকিৎসাধীন আছেন দেশের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক এবং ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা)-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন। ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট মাসে যুক্তরাজ্যের উইলিংটন হাসপাতালে অধ্যাপক ডিমিট্রিয়াসের নেতৃত্বে অভিনেতার মাথায় অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপর বেশ কয়েক মাস কেটে গেলেও ভক্ত-অনুরাগীদের মনে এখনও একটাই প্রশ্ন— কেমন আছেন তাদের প্রিয় নায়ক?
ইলিয়াস কাঞ্চনের ঘনিষ্ঠজন ও ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা) সংগঠনের ভাইস চেয়ারম্যান লিটন এরশাদ জানিয়েছেন, আশানুরূপ কোনো উন্নতি এখনো দেখা যায়নি অভিনেতার শরীরে।
তিনি বলেন, কাঞ্চন ভাইয়ের অবস্থা মোটামুটি আগের মতোই রয়েছে। কয়েক দফা থেরাপি নিয়েছেন, এখন আরেক ধাপের থেরাপি চলছে। এটি ৩০ জুলাই পর্যন্ত চলবে। এরপর চিকিৎসকরা পরবর্তী অবস্থা মূল্যায়ন করবেন।
লিটন আরও বলেন, কাঞ্চন ভাই এখন টুকটাক কথা বলতে পারলেও মুখে অনেক জড়তা রয়েছে। বর্তমানে লন্ডনে মেয়ের বাসায় অবস্থান করছেন। সেখান থেকে কিছু পারিবারিক মুহূর্তের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় এসেছে। সেগুলো দেখে অনেকে ভাবছেন, অভিনেতা বুঝি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠেছেন।
বাংলা চলচ্চিত্রে আশির ও নব্বইয়ের দশকে দাপুটে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নেন ইলিয়াস কাঞ্চন। অসংখ্য ব্যবসাসফল সিনেমায় অভিনয় করে তিনি হয়ে ওঠেন জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা এক তারকা। রোমান্টিক, অ্যাকশন কিংবা সামাজিক—সব ধরনের চরিত্রেই তিনি ছিলেন সাবলীল।
তবে শুধু অভিনেতা হিসেবেই নয়, একজন সচেতন নাগরিক হিসেবেও ইলিয়াস কাঞ্চনের পরিচিতি ব্যাপক। ১৯৯৩ সালে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চনকে হারানোর পর তার জীবনের মোড় ঘুরে যায়। সেই শোককে শক্তিতে পরিণত করে তিনি গড়ে তোলেন নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন।
দীর্ঘদিন ধরে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। দেশজুড়ে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সচেতনতা তৈরিতে তার ভূমিকা ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। বিভিন্ন সময় সরকার ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে কাজ করে তিনি এই আন্দোলনকে আরও বেগবান করেছেন।
আরটিভি/এমএম



