ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

চলে গেলেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী মলয় কুমার গাঙ্গুলী

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:১৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

বরেণ্য সংগীতশিল্পী, সুরকার ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সংগীতশিল্পী শব্দসৈনিক মলয় কুমার গাঙ্গুলী আর নেই। সোমবার (১২) রাতে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। শিল্পীর মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন ‘ভাওয়াইয়া অঙ্গন’র প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক এবং বাংলাদেশ বেতারের সাবেক সংগীত প্রযোজন সংগীতশিল্পী একেএম মোস্তাফিজুর রহমান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।

জানা গেছে, তার মরদেহ বর্তমানে মিরপুরে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে রাখা রয়েছে। শিল্পীর একমাত্র মেয়ে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন। তিনি দেশে ফিরলে শেষকৃত্য নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বরেণ্য এই শিল্পীর প্রয়াণে সংগীতাঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ‘ভাওইয়া অঙ্গন’র প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক এবং বাংলাদেশ বেতারের সাবেক সংগীত প্রযোজন শিল্পী একেএম মোস্তাফিজুর রহমান এক ফেসবুক পোস্টে শোক জানিয়ে লিখেছেন, ‘আমার প্রিয় মলয় দা (মলয় কুমার গাঙ্গুলী) নীরবে নিশব্দে অনন্তকালের পথে চলে গেলেন। তিনি দেশবরেণ্য লোকসংগীত শিল্পী। তিনি বাংলাদেশ বেতারের সুরকার ও সংগীত প্রযোজক, নিজস্ব শিল্পীদের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর এবং স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের বীর মুক্তিযোদ্ধা (কণ্ঠযোদ্ধা) ছিলেন। তার গাওয়া বিখ্যাত গান “আমার মন তো বসে না গৃহ কাজে সজনী গো, অন্তরে বৈরাগীর লাউয়া বাজে”’।

তার মৃত্যুতে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এবং বাংলাদেশ বেতারের শিল্পী, কর্মচারী এবং কর্মকর্তাদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। আমি তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও তার আত্মার চির শান্তি কামনা করি। তার মৃত্যুতে আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি।

তিনি আরও লেখেন, সরকারি গণগ্রন্থাগারে আমার জীবনের প্রথম চাকরি হওয়ার ক্ষেত্রে তার বিশেষ অবদান ছিলো।

১৯৪৪ সালে নেত্রকোণার কেন্দুয়ার মোজাফফরপুর গ্রামে জন্ম নেওয়া মলয় কুমার গাঙ্গুলীর জীবনজুড়ে ছিল দেশপ্রেম ও সুরের সাধনা। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে কণ্ঠকে অস্ত্র করে লড়াই করেছিলেন তিনি। সে সময় বাড়ি ছেড়ে কলকাতায় গিয়ে যোগ দেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে। বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডে বসে নিয়মিত গান লেখা, সুরারোপ ও কণ্ঠে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন এই শিল্পী।

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে ‘পুত্রবধূ’ সিনেমায় গাওয়া তার জনপ্রিয় গান ‘গুরু উপায় বলো না’ তুমুল আলোড়ন তোলে। সেই গানে ঠোঁট মিলিয়েছিলেন প্রয়াত অভিনেতা প্রবীর মিত্র। এছাড়া ‘আমার মনতো বসে না গৃহ কাজে সজনী গো’, ‘অন্তরে বৈরাগীর লাউয়া বাজে’সহ বহু কালজয়ী গানে আজও মানুষ তাকে স্মরণ করে।

মলয় কুমার গাঙ্গুলীর ক্যারিয়ারের অন্যতম মাইলফলক ১৯৯০ সালে আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনের জন্য তৈরি করা ঐতিহাসিক গান ‘যদি রাত পোহালে শোনা যেত, বঙ্গবন্ধু মরে নাই’। ওই গানে সুর দিয়েছিলেন তিনি। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের সময় ‘জনতার নৌকা’ অ্যালবামে গানটি অন্তর্ভুক্ত হলে দেশজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাবিনা ইয়াসমীনের কণ্ঠে গানটি পুনরায় রেকর্ড করান। পরে ২০২০ সালে আওয়ামী লীগ সরকার তাকে ২০ লাখ টাকা অনুদানও দেয়।

উল্লেখ্য, জীবদ্দশায় মলয় কুমার গাঙ্গুলী জানিয়ে গিয়েছিলেন, মৃত্যুর পর কোনো আনুষ্ঠানিক সম্মান বা স্বীকৃতির জন্য তিনি কোনো আবেদন রাখতে চান না।

আরটিভি/এএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মাহবুবুল খালিদের কথা-সুরে গাইলেন আসিফ আকবর
গীতিকবি ও সুরকার মাহবুবুল খালিদের লেখা গানে এবার কণ্ঠ দিলেন বাংলা গানের ‘যুবরাজ’খ্যাত সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর। ‘সখি তুই কি তেল মাখিস চুলে’ শিরোনামের গানটির কথা ও সুর করেছেন মাহবুবুল খালিদ।
মাহবুবুল খালিদের কথা-সুরে গাইলেন আসিফ আকবর
যুক্তরাষ্ট্রে গান গাইতে গিয়ে চরম হেনস্তার শিকার সংগীতশিল্পী ইমন
ভারতের জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত সংগীতশিল্পী ইমন চক্রবর্তী ও তার দলের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে বিমানবন্দরে হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দুর্গাপূজার অনুষ্ঠানে যোগ দিতে নিউ জার্সি যাওয়ার পথে ডালাস বিমানবন্দরে আমেরিকান এয়ারলাইনসের কর্মীরা তাদের বিমানে উঠতে বাধা দেন বলে অভিযোগ করেছেন ইমন। এ সময় তাদের ধাক্কা দিয়ে বোর্ডিং গেট থেকে সরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বাদ্যযন্ত্র ভাঙার দায়ও নিতে অস্বীকৃতি জানানো হয় বলে দাবি তার।
যুক্তরাষ্ট্রে গান গাইতে গিয়ে চরম হেনস্তার শিকার সংগীতশিল্পী ইমন
মৃত্যুদিনে ‘রূপালী গিটারের জাদুকর’কে যেভাবে স্মরণ করবে চট্টগ্রামবাসী
রূপালী গিটারের জাদুকর আইয়ুব বাচ্চুর চলে যাবার দিন আগামীকাল রোববার। আট বছর আগে এইদিনে কোটি কোটি ভক্তকে কাঁদিয়ে আকস্মিক চিরপ্রস্থান ঘটেছিল বাংলা ব্যান্ড সংগীত জগতের এ কিংবদন্তী শিল্পীর।
মৃত্যুদিনে ‘রূপালী গিটারের জাদুকর’কে যেভাবে স্মরণ করবে চট্টগ্রামবাসী
মারা গেছেন নীলফামারীর কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী ফারুক ভূঁইয়া
উত্তরবঙ্গের সংগীতজগতের অন্যতম প্রাণপুরুষ, সুরসাধক ও সংগঠক ফারুক ভূঁইয়া (৫৯) হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও দুই কন্যাসন্তান রেখে গেছেন। বুধবার (১৪ অক্টোবর) ভোর ৬টায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। এর আগে মঙ্গলবার রাতে নীলফামারী সদর উপজেলার কলেজ স্টেশন হারোয়া এলাকার নিজ বাড়িতে হঠাৎ হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হন তিনি। পরে স্বজনেরা তাকে দ্রুত নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। নিজ উদ্যোগে কিংবদন্তি শিল্পী প্রয়াত ফিরোজ সাঁই ও পিলু মমতাজ স্মৃতি সংসদ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ফারুক ভূঁইয়া। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে এ সংগঠনের মাধ্যমে তিনি দেশের বিভিন্ন গুণী শিল্পীকে সম্মাননা দিয়ে আসছিলেন। চলতি বছরের ২৯ আগস্ট নীলফামারী শহীদ মিনারে স্মৃতি সংসদের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন তিনি। সংগীতের প্রতি তার আজীবন নিবেদন ছিল অতুলনীয়। গত ৬ অক্টোবর ২০২৬ সন্ধ্যায় রাজধানীর রেডিসন ব্লু হোটেলে আয়োজিত একটি কালজয়ী গানের অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন তিনি। সহকর্মীদের তথ্য অনুযায়ী, এটিই ছিল তার জীবনের শেষ মঞ্চ পরিবেশনা। নীলফামারী ও এ অঞ্চলের মানুষের প্রতি ফারুক ভূঁইয়ার টান ছিল অকৃত্রিম। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শ্রাদ্ধ’ কবিতায় নীলফামারী বাজারের ঐতিহ্যবাহী বেগুনের উল্লেখ রয়েছে। বিষয়টি তিনি তার গানের সুরেও ফুটিয়ে তুলেছিলেন। তার প্রয়াণে উত্তরবঙ্গের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হলো। পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ ১৪ অক্টোবর বাদ মাগরিব নীলফামারী কলেজ স্টেশন আদর্শ হাইস্কুল মাঠে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। পরে নীলফামারী কেন্দ্রীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করার কথা রয়েছে। তার মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের আহ্বায়ক, নীলফামারী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও নীলফামারী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান চৌধুরী, নীলসাগর গ্রুপের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আহসান হাবীব লেলিন, সাবেক সংসদ সদস্য এনকে আলম চৌধুরী, সাবেক জেলা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জহুরুল আলম, নীলফামারী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুব-উর রহমান, সহসভাপতি আকতার হোসেন স্বপন, নীলফামারী প্রেসক্লাবের সভাপতি মঞ্জুরুল আলম সিয়াম, যুগ্ম সভাপতি হাসান রাব্বি প্রধান ও সাধারণ সম্পাদক মিলাদুর রহমান মামুনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। আরটিভি/টিআর
মারা গেছেন নীলফামারীর কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী ফারুক ভূঁইয়া
লালন সাঁইকে স্মরণে দেশজুড়ে আয়োজন, ঢাকায় বিশেষ অনুষ্ঠান
মরমি সাধক লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান (মৃত্যুবার্ষিকী) দিবস উপলক্ষে কুষ্টিয়া, ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
লালন সাঁইকে স্মরণে দেশজুড়ে আয়োজন, ঢাকায় বিশেষ অনুষ্ঠান