দক্ষিণ আমেরিকার একেবারে দক্ষিণ প্রান্ত থেকে ইংল্যান্ড- শুনলে অসম্ভব মনে হয়। কিন্তু ব্রিটিশ অভিযাত্রী কার্ল বুশবি সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করেছেন প্রায় তিন দশক ধরে পায়ে হেঁটে। খবর ওয়াশিংটন পোস্টের।
মাত্র বিশের কোঠায় থাকা তরুণ বুশবির মনে একদিন আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল একটাই চ্যালেঞ্জ- হেঁটে বাড়ি ফিরব, কোনো পরিবহন নয়।
১৯৯৮ সালে চিলির পুন্তা আরেনাস থেকে যাত্রা শুরু। হিসাব ছিল- ৩১ হাজার মাইল পথ পাড়ি দিতে সময় লাগবে ১২ বছর। কিন্তু বাস্তবটা হলো আজ ২৭ বছর পরও তিনি হাঁটছেন। বয়স এখন ৫৬।
এই দুঃসাহসিক অভিযানের নাম তিনি দিয়েছেন গোলায়াথ এক্সপেডিশন-নামেই বোঝা যায় এর ব্যাপকতা। তার পথ কখনো মরুভূমি, কখনো বরফের স্তর; কখনো যুদ্ধক্ষেত্র, আবার কখনো নিঃসঙ্গ পর্বতচূড়া। পেরিয়েছেন প্যাটাগোনিয়া, আন্দিজ, সেন্ট্রাল আমেরিকা, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, মঙ্গোলিয়া-আরও অসংখ্য বিপদসংকুল অঞ্চল।
জিপিএসও ছিল না তখন। হাতে আঁকা মানচিত্র, একটা পেন্সিল আর ক্যালকুলেটরই ছিল তার সবচেয়ে বড় অস্ত্র।
মাত্র ৫০০ ডলার নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন। প্রথম দিকে রাস্তার ধারে পড়ে থাকা খাবার কুড়িয়ে খেতে হয়েছে। পরে পরিবার, অচেনা পথচারী আর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমর্থন তাকে এগিয়ে নিয়েছে।
২০০৬ সালে বরফের ওপর দিয়ে রাশিয়ায় প্রবেশের পথে ৫৭ দিন আটক ছিলেন। এরপর ২০১৩ সালে রাশিয়া তাকে পাঁচ বছরের নিষেধাজ্ঞা দেয়—এটিও তিনি পরে কূটনৈতিকভাবে তুলে নিতে সক্ষম হন।
২০২৪ সালে তিনি অতিক্রম করেন তার জীবনের দ্বিতীয় বড় জলপথ-ক্যাস্পিয়ান সাগর। ইরান বা রাশিয়া হয়ে যাওয়া অসম্ভব হওয়ায় সাগরটিকে তাকে ৩১ দিন সাঁতরে পার হতে হয়েছে!
এখন তিনি ইউরোপে হাঙ্গেরির পথে। সামনে বাকি মাত্র ৯০০ মাইল।
ঘন বন, বরফ, যুদ্ধ, মহামারিসহ সব বাধা কাটিয়ে যখন তিনি পথ চলেছেন, তার সবচেয়ে বড় শিক্ষা একটাই- মানুষ আসলে অসাধারণ।
অচেনা মানুষ তাকে ঘর দিয়েছে, চিকিৎসা করেছে, খাবার দিয়েছে। বুশবির ভাষায়, মানুষের অবিশ্বাস্য সৌজন্য আমাকে বারবার অবাক করেছে।
একাকিত্ব তাকে প্রায় গ্রাস করেছে। সম্পর্ক ভেঙেছে। কিন্তু তার বিশ্বাস- এই যাত্রা ছিল মূলত মানসিক শক্তির পরীক্ষা।
বুশবি বলতে চান, এ কেবল যাত্রার শেষ নয়, নতুন শুরুর শুরু। তিনি ভবিষ্যতে বিজ্ঞান শিক্ষা নিয়ে কাজ করতে চান।
আর মানুষের জন্য তার বার্তা, দুনিয়াকে নিজের চোখে দেখুন। মানুষের সঙ্গে কথা বলুন। এটাই সেরা শিক্ষা।
আরটিভি/কেআই



