ট্রাভেল পাস কী, কেন দেওয়া হয়

আরটিভি নিউজ

শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ , ১২:১৪ পিএম


ট্রাভেল পাস কী, কেন দেওয়া হয়
ট্রাভেল পাস কী, কেন দেওয়া হয়। ছবি: সংগৃহীত

বিশেষ পরিস্থিতিতে ভ্রমণের অনুমতি দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত একটি অস্থায়ী দলিল হলো ট্রাভেল পাস। এটি সরকার, দূতাবাস কিংবা জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থা ইস্যু করে থাকে। পাসপোর্টের মতোই এটি ভ্রমণ দলিল হিসেবে ব্যবহৃত হলেও এর বৈধতা, উদ্দেশ্য ও ব্যবহার সীমিত।

সাধারণত শরণার্থী, রাষ্ট্রহীন ব্যক্তি কিংবা যাদের পাসপোর্ট নেই, হারিয়ে গেছে বা মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে- তাদের জরুরি প্রয়োজনে ট্রাভেল পাস দেওয়া হয়। এটি মূলত একবারের ভ্রমণের জন্য বৈধ এবং নির্দিষ্ট সময় ও গন্তব্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।

পাসপোর্ট ও ট্রাভেল পাসের পার্থক্য

পাসপোর্ট ও ট্রাভেল পাস উভয়ই আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হলেও এ দুটির মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।

পাসপোর্ট একটি দেশের নাগরিকত্বের স্বীকৃত দলিল এবং দীর্ঘমেয়াদি আন্তর্জাতিক ভ্রমণের জন্য অপরিহার্য। সাধারণত এর মেয়াদ থাকে ৫ থেকে ১০ বছর। বিপরীতে, ট্রাভেল পাস একটি অস্থায়ী দলিল, যা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে জরুরি ভ্রমণ বা নিজ দেশে ফেরার অনুমতির জন্য দেওয়া হয়। এর মেয়াদ সাধারণত ৩ মাস থেকে ১ বছরের মধ্যে সীমিত।

পাসপোর্ট কেবল সংশ্লিষ্ট দেশের সরকার ইস্যু করতে পারে। তবে ট্রাভেল পাস সরকার ছাড়াও কনস্যুলেট বা ইউএনএইচসিআরের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থা ইস্যু করতে পারে। পাসপোর্টে ভিসা ও ইমিগ্রেশন স্ট্যাম্পের জন্য আলাদা পৃষ্ঠা থাকে, কিন্তু ট্রাভেল পাসে সাধারণত ভিসা পেজ থাকে না।

কোন পরিস্থিতিতে ট্রাভেল পাস ইস্যু করা হয়

সাধারণত তিনটি প্রধান পরিস্থিতিতে ট্রাভেল পাস ইস্যু করা হয়।

প্রথমত, কারও পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে, মেয়াদ শেষ হলে বা কোনো কারণে পাসপোর্ট না থাকলেও যদি নিজ দেশে ফেরার প্রয়োজন হয়, সে ক্ষেত্রে কনস্যুলেট বা ইমিগ্রেশন অফিস থেকে ট্রাভেল পাস দেওয়া হয়। সাধারণত এক থেকে তিন কার্যদিবসের মধ্যেই এটি ইস্যু করা হয়।

দ্বিতীয়ত, শরণার্থী বা রাষ্ট্রহীন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) কনভেনশন ট্রাভেল ডকুমেন্ট (সিটিডি) প্রদান করে, যা আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে স্বীকৃত একটি বিশেষ ধরনের ট্রাভেল পাস।

তৃতীয়ত, বিশেষ বৈশ্বিক পরিস্থিতিতেও ট্রাভেল পাস ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন-করোনা মহামারির সময় ভ্রমণকারীদের ভ্যাকসিন ও কোভিড পরীক্ষার তথ্য যাচাইয়ের জন্য আইএটিএ ট্রাভেল পাস চালু করা হয়েছিল।

ঐতিহাসিকভাবে যুদ্ধকালীন সময়ে নির্দিষ্ট এলাকায় চলাচলের জন্য ‘লেসে-পাসে’ নামের ট্রাভেল পাস ব্যবহৃত হয়েছে, যার অর্থ ভ্রমণের অনুমতিপত্র। আবার কিছু দেশে ট্রাভেল পাস দেশত্যাগের অনুমতিপত্র হিসেবেও ব্যবহৃত হয়-যেমন চীন ও রাশিয়ায়।

আরও পড়ুন

বাংলাদেশে ট্রাভেল পাসের ব্যবহার

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বাংলাদেশি নাগরিক এবং পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের বাসিন্দাদের জন্য ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ স্পেশাল পাসপোর্ট ইস্যু করা হতো, যা এক ধরনের ট্রাভেল পাস ছিল। এটি কেবল ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ভ্রমণের জন্য বৈধ ছিল। তবে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইসিএও) নিয়ম পরিবর্তন করায় ২০১৪ সাল থেকে এই ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়।

বর্তমানে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের কনস্যুলেটগুলো জরুরি পরিস্থিতিতে ট্রাভেল পারমিট (টিপি) ইস্যু করে থাকে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, বৈধ পাসপোর্ট না থাকলেও কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের দেশে ফেরার প্রয়োজন হলে এই ট্রাভেল পারমিট দেওয়া হয়।

আরটিভি/কেআই

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission