ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের বর্ষসেরা ছবির নেপথ্য গল্প

আরটিভি নিউজ

শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ , ১১:৩৫ এএম


ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের বর্ষসেরা ছবির নেপথ্য গল্প
ছবি: সংগৃহীত

ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের বর্ষসেরা ছবির তালিকায় জায়গা করে নেওয়া একটি বিরল ও বিস্ময়কর দৃশ্যের পেছনের গল্প উঠে এসেছে সম্প্রতি। মেরু অঞ্চলের ভাঙা বরফখণ্ডের মাঝে ভাসমান একটি বিশাল মৃত স্পার্ম তিমি ও তার ওপর ক্ষুধার্ত এক মেয়ে মেরু ভালুক এই দৃশ্যটি ধারণ করেন আলোকচিত্রী রোই গ্যালিটজ।

নরওয়ের স্বালবার্ড দ্বীপপুঞ্জের কাছে একটি আলোকচিত্র অভিযানের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন গ্যালিটজ। অভিযানের সময় দিগন্তে ভাসমান একটি কালচে ছোপ তাঁর নজরে আসে। বরফ ভেঙে তাঁদের জাহাজটি কাছে যেতেই বোঝা যায়, সেটি একটি বিশাল পচে যাওয়া মৃত স্পার্ম তিমি। তীব্র দুর্গন্ধে চারপাশ ভারী হয়ে ওঠে। গ্যালিটজের ভাষায়, গন্ধটি ছিল বিষাক্ত গ্যাসের নিশ্বাসের মতো।

ড্রোন দিয়ে দৃশ্যটি ধারণ করার পর ছবিটি দেখে তিনি স্তব্ধ হয়ে যান। প্রথম নজরে তিমিটির শরীরের ওপর থাকা মেরু ভালুকটিকে তিনি বুঝতেই পারেননি। পরে দেখা যায়, এটি একটি ক্ষুধার্ত মেয়ে মেরু ভালুক, যে তিমিটির শক্ত ও পুরু চামড়া ছিঁড়ে খাবারের চেষ্টা করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আর্কটিক অঞ্চলে স্পার্ম তিমির উপস্থিতি অত্যন্ত বিরল। সাধারণত এ প্রজাতির তিমি উষ্ণ ও নাতিশীতোষ্ণ সাগরে বাস করে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আর্কটিকের পানি উষ্ণ হয়ে ওঠায় কিছু তিমি নিজেদের স্বাভাবিক এলাকা ছেড়ে আরও উত্তরের দিকে চলে আসছে। প্রবল স্রোত ও বাতাসও তিমিটিকে এই অঞ্চলে ঠেলে আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই অপ্রত্যাশিত উপস্থিতি আলোকচিত্রীদের জন্য যেমন চমক ছিল, তেমনি মেরু ভালুকটির জন্যও ছিল এক বিরল সুযোগ। তবে ছবিতে দেখা যায়, তিমিটির ভেতরে প্রবেশ করে খাবার সংগ্রহ করতে ভালুকটিকে বেশ পরিশ্রম করতে হচ্ছিল। তিমিটির চামড়া এতটাই পুরু যে সহজে ভেদ করা যাচ্ছিল না।

তিমিটির মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত নন বিজ্ঞানীরা। বয়সজনিত কারণে মৃত্যু হতে পারে, আবার কোনো জাহাজের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হয়ে মারা যাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। গ্যালিটজের মতে, স্পষ্ট প্রমাণ ছাড়া মৃত্যুর কারণ নির্ধারণ করা অসম্ভব।

পরবর্তী সপ্তাহে আরেকটি অভিযানে গ্যালিটজ আবার সেখানে ফিরে যান। তবে ততক্ষণে তিমিটির দেহ আর সেখানে ছিল না।

মেরু অঞ্চলের অনিশ্চয়তা প্রসঙ্গে গ্যালিটজ বলেন, এখানে আবহাওয়ার মতোই সবকিছু ক্ষণস্থায়ী। আজ যা দেখা যায়, কাল তা নাও থাকতে পারে।

সূত্র: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক

আরটিভি/এসকে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission