ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

মারা যাচ্ছে ‘মৃত সাগর’

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৯ মে ২০২৬, ০৮:১০ পিএম
ডেড সি : ছবি সংগৃহীত

প্রাকৃতিক বিস্ময় ডেড সি (মৃত সাগর) শুকিয়ে ও সংকুচিত হয়ে মারা যাচ্ছে। সাগররের তীর থেকে দূরে পানির মধ্যে একটি কালচে দাগ দেখা যাচ্ছে। সেখানে পানির নিচে তৈরি হয়েছে নতুন একটি সিংকহোল। কয়েক বছর আগেও জায়গাটি ছিল স্বাভাবিক জলরাশি। এখন এমন অদ্ভুত পরিবর্তন প্রতিদিনের বাস্তবতা। পৃথিবীর সবচেয়ে নিচু ভূমিতে অবস্থিত এ বিখ্যাত জলাধার দ্রুত মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কীভাবে তাকে বাঁচানো যায়, তা নিয়ে এখনো একমত হতে পারেনি সংশ্লিষ্ট দেশগুলো।

জর্ডান, ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েল ভূখণ্ডের সংযোগস্থলে অবস্থিত ডেড সি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১ হাজার ৪০০ ফুট নিচে অবস্থিত। এর জলাধার পৃথিবীর সবচেয়ে নিচু স্থলভাগ হিসেবে পরিচিত। এর পানিতে লবণের পরিমাণ সাধারণ সাগরের চেয়ে প্রায় ১০ গুণ বেশি। এত বেশি ঘনত্বের কারণে মানুষ খুব সহজেই পানির ওপর ভেসে থাকতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর মৃত সাগরের পানির স্তর প্রায় ৩ থেকে ৪ ফুট পর্যন্ত নিচে নেমে যাচ্ছে। গত ৫০ বছরে এর আয়তন কমেছে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। পানি সরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তৈরি হচ্ছে বিশাল বিশাল সিংকহোল। গবেষকরা বলছেন, এটি শুধু একটি পরিবেশগত সংকট নয়; বরং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বড় মানবসৃষ্ট প্রাকৃতিক বিপর্যয়।

একসময় তার পর্যটন ব্যবসা পরিচালিত হতো মিনারেল বিচ নামের একটি জনপ্রিয় সৈকত থেকে। কিন্তু ২০১৫ সালে হঠাৎ সিংকহোল তৈরি হওয়ায় সেটি বন্ধ হয়ে যায়। এখন এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পর্যটক নিয়ে যেতে ভয় কাজ করে। প্রতিদিন সকালে সৈকতে এসে যে কেউ প্রথমে খুঁজে দেখেন নতুন কোনো গর্ত তৈরি হয়েছে কি না। কারণ একটি সিংকহোলই মুহূর্তে এখানকার মাঝিদের পুরো নৌকো ব্যবসা ধ্বংস করে দিতে পারে।

এ সংকটের পেছনে প্রধান কারণ মানবসৃষ্ট। মৃত সাগর আসলে একটি বিশাল লবণাক্ত হ্রদ। এর প্রধান পানির উৎস জর্ডান নদী। সিরিয়া-লেবানন সীমান্ত থেকে উৎপন্ন হয়ে নদীটি গ্যালিলি সাগর পেরিয়ে দক্ষিণে মৃত সাগরে গিয়ে মিশেছে। কিন্তু কয়েক দশক ধরে ইসরায়েল, সিরিয়া ও জর্ডান নদীটির পানি বাঁধ ও খাল নির্মাণের মাধ্যমে নিজেদের কৃষি, নগরায়ন ও পশুপালনের জন্য ব্যবহার করছে। ফলে মৃত সাগরে পৌঁছানো পানির পরিমাণ ভয়াবহভাবে কমে গেছে। একসময় বছরে প্রায় ১৩০ কোটি ঘনমিটার পানি মৃত সাগরে প্রবাহিত হতো। এখন তা নেমে এসেছে প্রায় ১০ কোটি ঘনমিটারে।

আরও পড়ুন

আরও একটি বড় কারণ খনিজ উত্তোলন শিল্প। ১৯৭০-এর দশকের শেষদিকে মৃত সাগর দুটি অংশে বিভক্ত হয়ে যায়। উত্তর অংশটি প্রাকৃতিক জলাধার হিসেবে টিকে থাকলেও দক্ষিণ অংশকে শিল্পাঞ্চলে রূপান্তর করা হয়েছে। ইসরায়েলের ডেড সি ওয়ার্কস ও জর্ডানের আরব পটাশ কোম্পানি মৃত সাগরের পানি পাম্প করে বাষ্পীভবন পুকুরে নিয়ে যায়। সেখানে সূর্যের তাপে পানি শুকিয়ে গেলে অবশিষ্ট লবণাক্ত খনিজ থেকে পটাশ, ম্যাগনেশিয়ামসহ বিভিন্ন শিল্প উপাদান সংগ্রহ করা হয়। এ শিল্প মৃত সাগরের পানির স্তর দ্রুত কমিয়ে দিচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তন পরিস্থিতিকে আরো ভয়াবহ করে তুলেছে। খরা দীর্ঘ হচ্ছে, বৃষ্টিপাত কমে যাচ্ছে, তাপমাত্রা বাড়ছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, শুধু জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেও মৃত সাগর ধীরে ধীরে ছোট হয়ে যেত, তবে মানুষের হস্তক্ষেপ সেই প্রক্রিয়াকে বহুগুণ দ্রুত করেছে।

গবেষকদের ভাষায়, পানিতে লবণের ঘনত্ব এত বেড়ে গেছে যে তা আর সম্পূর্ণ দ্রবীভূত অবস্থায় থাকতে পারছে না। ফলে সাগরের তলদেশে সাদা স্ফটিকের মতো লবণের স্তর জমছে। কোথাও তা চিমনির মতো, কোথাও মাশরুমের মতো আকৃতি নিচ্ছে। এগুলো দেখতে আকর্ষণীয় হলেও বিজ্ঞানীরা বলছেন, এগুলো মূলত একটি মৃত্যুপথযাত্রী জলাধারের লক্ষণ।

একসময় ওপরের মাটি ধসে বিশাল গর্ত তৈরি হয়। এসব সিংকহোল হঠাৎ করেই সৃষ্টি হয় এবং আগে থেকে বোঝার সুযোগ প্রায় নেই। বর্তমানে মৃত সাগরের চারপাশে ৬ হাজারের বেশি সিংকহোল তৈরি হয়েছে। এগুলো পর্যটন, ব্যবসা, রাস্তা ও বসতিকে হুমকির মুখে ফেলছে।

২০১৩ সালে জর্ডান, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এ নিয়ে একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরও করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, জর্ডানের উপকূলে একটি বিশাল লবণমুক্তকরণ কারখানা নির্মাণ করে সেখান থেকে উৎপন্ন অতিরিক্ত লবণাক্ত পানি পাইপলাইনের মাধ্যমে মৃত সাগরে আনা হতো।

এ পরিকল্পনা ঘিরে অনেক পরিবেশবিদ আশঙ্কা করছেন, ভিন্ন রাসায়নিক গঠনের পানি মৃত সাগরে প্রবেশ করলে শৈবাল বৃদ্ধি, পানির রং পরিবর্তন বা সাদা জিপসাম স্ফটিক তৈরি হতে পারে। আবার প্রকল্পটির ব্যয় কয়েক বিলিয়ন ডলার হওয়ায় এবং মধ্যপ্রাচ্যের জটিল রাজনৈতিক সম্পর্কের কারণে সেটি এখন কার্যত স্থবির হয়ে আছে।

দ্বিতীয় প্রস্তাব হলো জর্ডান নদীকে পুনরুজ্জীবিত করা। নদীতে আরো বেশি পানি প্রবাহ নিশ্চিত করলে মৃত সাগরও কিছুটা পুনরুদ্ধার হতে পারে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এ শুষ্ক অঞ্চলে পানি এত মূল্যবান যে মানুষকে বিকল্প না দিয়ে নদীর জন্য পানি ছেড়ে দেয়া প্রায় অসম্ভব।

আরও পড়ুন

জর্ডানের সাবেক পানিমন্ত্রী হাজিম এল-নাসের বলেন, মানুষের প্রয়োজন মেটানোর বিকল্প না থাকলে এ ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা কঠিন।

সরাসরি শিল্পকারখানাগুলোর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন কিছু পরিবেশবিদ। তাদের মতে, খনিজ উত্তোলনের জন্য মৃত সাগরের পানি ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। তবে অন্যরা বলছেন, পুরো শিল্প বন্ধ করা সম্ভব নয়, কারণ এটি হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান ও রাষ্ট্রীয় আয়ের সঙ্গে জড়িত। তাই অন্তত পানির ব্যবহার কমানো উচিত।

ডেড সি ওয়ার্কস পরিচালনাকারী আইসিএল গ্রুপ জানিয়েছে, তারা বছরে প্রায় ১৬ কোটি ঘনমিটার পানি ব্যবহার করে এবং টেকসই পানি ব্যবস্থাপনার নতুন পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছে। তবে সমালোচকরা বলছেন, বাস্তবে এখনো কার্যকর কোনো বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় সমস্যা হলো রাজনৈতিক জরুরিতার অভাব। সবাই জানে মৃত সাগর ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে, কিন্তু তা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক ঐকমত্য, অর্থায়ন ও সমন্বয় এখনো তৈরি হয়নি। এখন লক্ষ্য হওয়া উচিত এর পতন অন্তত স্থিতিশীল করা।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
পানির বাইরে ডাঙায়ও বেঁচে থাকে যেসব মাছ
সাধারণত মাছের বেঁচে থাকার জন্য পানি অপরিহার্য। তবে প্রকৃতিতে এমন কিছু মাছ রয়েছে, যারা পানির বাইরে ডাঙায় উঠে চলাফেরা করতে পারে
পানির বাইরে ডাঙায়ও বেঁচে থাকে যেসব মাছ
ট্রাকের পেছনে কেন লেখা থাকে ‘হর্ন ওকে প্লিজ’
সড়কে চলাচলকারী বিভিন্ন যানবাহনের পেছনে নানা ধরনের স্লোগান, উপদেশ ও মজার কথা লেখা দেখা যায়। কোথাও লেখা থাকে ‘মায়ের দোয়া’, কোথাও ‘ধাক্কা দিবেন না, আমি ছোট আমাকে মারবেন না’।
ট্রাকের পেছনে কেন লেখা থাকে ‘হর্ন ওকে প্লিজ’
অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে বিরল হ্যামারহেড হাঙরের দল, ড্রোনে মিলল নতুন তথ্য
অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূলের জনপ্রিয় সৈকতগুলোর অগভীর পানিতে একসঙ্গে দেখা মিলেছে ডজন ডজন বিরল স্ক্যালপড হ্যামারহেড হাঙরের।
অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে বিরল হ্যামারহেড হাঙরের দল, ড্রোনে মিলল নতুন তথ্য
আজকের দিনটি ব্যর্থদের জন্য
সব সময়তো শুনেছেন বা পত্রিকায় লেখা পড়েছেন ‘সফলতাকে উৎযাপন’ করার কথা।
আজকের দিনটি ব্যর্থদের জন্য
সমকামী পুরুষদের মধ্যে এইচআইভির ঝুঁকি বেশি কেন?
পায়ুপথে যৌনসম্পর্কের জৈবিক ঝুঁকি, কনডমের অনিয়মিত ব্যবহার ও সামাজিক বৈষম্য অন্যতম কারণ; প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা রয়েছে এইচআইভি বা হিউম্যান ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেয়। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে সংক্রমণ গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছে এইডস হতে পারে। তবে আধুনিক চিকিৎসায় এইচআইভি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। নিয়মিত চিকিৎসা নিয়ে সংক্রমিত ব্যক্তিরাও দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনযাপন করতে পারেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পুরুষের সঙ্গে যৌনসম্পর্ক স্থাপনকারী পুরুষদের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের হার তুলনামূলক বেশি। এর পেছনে রয়েছে কিছু জৈবিক কারণের পাশাপাশি সামাজিক বৈষম্য, যৌনস্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতার অভাব এবং স্বাস্থ্যসেবা পেতে নানা বাধা। তবে সমকামী হওয়া মানেই এইচআইভিতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি নিশ্চিতভাবে বেশি, এমন নয়। যৌন অভিমুখিতা নিজে সংক্রমণ ঘটায় না। বরং যৌনসম্পর্কের ধরন, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, সঙ্গীর এইচআইভি সংক্রমণের অবস্থা এবং চিকিৎসা গ্রহণের মতো বিষয়গুলো ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। পায়ুপথে যৌনসম্পর্কে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি সমকামী পুরুষদের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হওয়ার অন্যতম কারণ পায়ুপথে যৌনসম্পর্ক। পায়ুপথের ভেতরের আবরণ সংবেদনশীল হওয়ায় যৌনসম্পর্কের সময় সেখানে ক্ষুদ্র ক্ষত তৈরি হতে পারে। এর ফলে সংক্রমিত সঙ্গীর বীর্য বা মলদ্বারের তরলের মাধ্যমে ভাইরাস শরীরে প্রবেশের সুযোগ পায়। বিশেষ করে পায়ুপথে প্রবেশকারী যৌনাঙ্গ গ্রহণকারী সঙ্গীর সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। তবে অন্য সঙ্গীরও সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পায়ুপথে যৌনসম্পর্ক শুধু সমকামী পুরুষদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; নারী-পুরুষের মধ্যেও এমন যৌনসম্পর্ক হতে পারে। সঙ্গীর সংক্রমণ সম্পর্কে অজ্ঞতা কোনো ব্যক্তির চেহারা বা শারীরিক অবস্থা দেখে তিনি এইচআইভিতে আক্রান্ত কি না, তা বোঝার উপায় নেই। অনেকের ক্ষেত্রে সংক্রমণের প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো লক্ষণও দেখা যায় না। ফলে পরীক্ষা না করালে একজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন নিজের সংক্রমণ সম্পর্কে জানতে নাও পারেন। যে জনগোষ্ঠীতে এইচআইভির বিস্তার তুলনামূলক বেশি, সেখানে সংক্রমিত সঙ্গীর সংস্পর্শে আসার সম্ভাবনাও বাড়তে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে ওই জনগোষ্ঠীর প্রত্যেক সদস্যের সংক্রমণের ঝুঁকি সমান। নিয়মিত এইচআইভি পরীক্ষা, সঙ্গীর সঙ্গে যৌনস্বাস্থ্য নিয়ে খোলামেলা আলোচনা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। কনডম ব্যবহার না করা যৌনসম্পর্কের সময় কনডম ব্যবহার না করলে এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে পায়ুপথে যৌনসম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রতিবার সঠিকভাবে কনডম ব্যবহার করা জরুরি। প্রতিবার নতুন কনডম ব্যবহার করতে হবে। পাশাপাশি কনডমের মেয়াদ ও প্যাকেটের অখণ্ডতা পরীক্ষা করা প্রয়োজন। কনডম ছিঁড়ে গেলে বা সরে গিয়ে সম্ভাব্য সংক্রমণের আশঙ্কা তৈরি হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কনডম এইচআইভি ও অন্যান্য যৌনবাহিত সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। তবে ঝুঁকি আরও কমাতে পরিস্থিতি অনুযায়ী অন্যান্য প্রতিরোধব্যবস্থাও গ্রহণ করা যেতে পারে। একাধিক যৌনসঙ্গী ও অন্যান্য যৌনবাহিত সংক্রমণ একাধিক যৌনসঙ্গী থাকলেই এইচআইভি সংক্রমণ হবে, এমন নয়। তবে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ছাড়া একাধিক সঙ্গীর সঙ্গে যৌনসম্পর্ক হলে সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার সম্ভাবনা বাড়তে পারে। এ ছাড়া সিফিলিস, গনোরিয়া, ক্ল্যামাইডিয়া ও হারপিসের মতো যৌনবাহিত সংক্রমণ যৌনাঙ্গ বা আশপাশের টিস্যুতে প্রদাহ ও ক্ষত তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ক্ষত বা প্রদাহের কারণে কিছু পরিস্থিতিতে এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই যৌনস্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন থাকা, প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা করানো এবং সংক্রমণ শনাক্ত হলে চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। সামাজিক বৈষম্যও বাড়াতে পারে ঝুঁকি এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকির পেছনে সামাজিক কারণও গুরুত্বপূর্ণ। অনেক দেশে সমকামী ও উভকামী পুরুষেরা যৌন অভিমুখিতার কারণে বৈষম্য, অপমান ও হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কা করেন। এ কারণে কেউ কেউ চিকিৎসকের সঙ্গে যৌনস্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলতে চান না। কেউ এইচআইভি পরীক্ষা করাতে দেরি করেন, আবার কেউ সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পরও চিকিৎসা শুরু করা বা নিয়মিত চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাধার মুখে পড়েন। ফলে সংক্রমণ শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে দেরি হতে পারে। তাই গোপনীয়তা রক্ষা করে বৈষম্যহীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এইচআইভি প্রতিরোধের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এইচআইভি প্রতিরোধে কী করবেন? এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে কয়েকটি কার্যকর ব্যবস্থা রয়েছে। কনডম ব্যবহার: প্রতিবার যৌনসম্পর্কে সঠিকভাবে কনডম ব্যবহার করলে সংক্রমণের ঝুঁকি কমে। নিয়মিত পরীক্ষা: যৌনসম্পর্কের ধরন ও সম্ভাব্য ঝুঁকি অনুযায়ী এইচআইভি পরীক্ষা করানো উচিত। সম্ভাব্য সংক্রমণের পরপরই পরীক্ষা করলে সব ক্ষেত্রে সংক্রমণ শনাক্ত নাও হতে পারে। তাই পরীক্ষার উপযুক্ত সময় সম্পর্কে স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ নিতে হবে। PrEP গ্রহণ: প্রি-এক্সপোজার প্রফিল্যাক্সিস বা PrEP হলো এইচআইভি সংক্রমণের আগে ঝুঁকি কমানোর জন্য ব্যবহৃত ওষুধ। এইচআইভি নেই, এমন ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিরা চিকিৎসকের পরামর্শে এটি গ্রহণ করতে পারেন। PEP গ্রহণ: সম্ভাব্য সংক্রমণের ঝুঁকিপূর্ণ সংস্পর্শের পর পোস্ট-এক্সপোজার প্রফিল্যাক্সিস বা PEP প্রয়োজন হতে পারে। এটি যত দ্রুত সম্ভব শুরু করতে হয়, সাধারণত ৭২ ঘণ্টার মধ্যে। চিকিৎসকের পরামর্শে নির্ধারিত কোর্স সম্পন্ন করা জরুরি। নিয়মিত চিকিৎসা: এইচআইভি শনাক্ত হলে অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি বা ART নিয়মিত গ্রহণের মাধ্যমে ভাইরাসের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। চিকিৎসায় ভাইরাসের মাত্রা ধারাবাহিকভাবে শনাক্তকরণের সীমার নিচে থাকলে যৌনসম্পর্কের মাধ্যমে এইচআইভি ছড়ায় না। এটি ‘আনডিটেক্টেবল ইকুয়ালস আনট্রান্সমিটেবল’ বা U=U নামে পরিচিত। সাধারণ স্পর্শে কি এইচআইভি ছড়ায়? না। হাত মেলানো, আলিঙ্গন করা, একই টেবিলে খাওয়া, একই টয়লেট ব্যবহার করা কিংবা পাশাপাশি বসার মাধ্যমে এইচআইভি ছড়ায় না। সাধারণ চুম্বন, লালা, ঘাম বা মশার কামড়ের মাধ্যমেও ভাইরাসটি ছড়ায় না। সাধারণত সংক্রমিত রক্ত, বীর্য, মলদ্বারের তরল, যোনির তরল ও বুকের দুধের মাধ্যমে এইচআইভি ছড়াতে পারে। তবে সংক্রমণের ঝুঁকি নির্ভর করে এসব তরলের সংস্পর্শের ধরন ও পরিস্থিতির ওপর। তাই এইচআইভিতে আক্রান্ত ব্যক্তির প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ না করে তাঁর চিকিৎসা, গোপনীয়তা ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা জরুরি। সচেতনতাই প্রতিরোধের অন্যতম উপায় সমকামী পুরুষদের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের তুলনামূলক বেশি ঝুঁকির পেছনে পায়ুপথে যৌনসম্পর্কের জৈবিক ঝুঁকি, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে ঘাটতি, সংক্রমণ সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং সামাজিক বৈষম্যের মতো একাধিক কারণ কাজ করতে পারে। তবে যৌন অভিমুখিতা দিয়ে কারও সংক্রমণের অবস্থা নির্ধারণ করা যায় না। নিয়মিত পরীক্ষা, কনডম ব্যবহার, প্রয়োজন অনুযায়ী PrEP বা PEP গ্রহণ এবং সংক্রমণ শনাক্ত হলে নিয়মিত চিকিৎসার মাধ্যমে এইচআইভির ঝুঁকি কমানো ও ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। সূত্র: ভেরি ওয়েল হেল্থ আরটিভি/এসকে
সমকামী পুরুষদের মধ্যে এইচআইভির ঝুঁকি বেশি কেন?
আরও পড়ুন
বঙ্গোপসাগরে নতুন লঘুচাপের আভাস, আগামী ৫ দিন যেমন থাকবে আবহাওয়া
১০ মাসের বেশি সমুদ্রে, ঘরে ফিরল মার্কিন রণতরির নাবিকেরা
ভূমধ্যসাগরে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই, উদ্ধার হওয়া ১১১ বাংলাদেশি এখন মিশরে
ছয় আরোহীসহ নিখোঁজ বিমানের ধ্বংসাবশেষ মিলল আটলান্টিকে