বর্ষাকালে কৈ মাছ ডাঙায় উঠে আসে এমন কথা গ্রামবাংলায় বহুদিন ধরেই প্রচলিত। কেউ কেউ একে লোককথা মনে করলেও এর পেছনে রয়েছে বাস্তব জীববৈজ্ঞানিক কারণ।
কৈ মাছ সাধারণ মাছের মতো নয়। এদের শরীরে থাকে বিশেষ শ্বাসযন্ত্র ল্যাবিরিন্থ অর্গান, যার মাধ্যমে তারা পানির বাইরে থেকেও বাতাসের অক্সিজেন গ্রহণ করতে পারে। এই বিশেষ ক্ষমতার কারণেই কৈ মাছ অল্প সময়ের জন্য ভেজা স্থলভাগে চলাচল করতে সক্ষম।
কোন পরিস্থিতিতে কৈ মাছ ডাঙায় উঠে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, সব বৃষ্টিতে কৈ মাছ ডাঙায় ওঠে না। কিছু নির্দিষ্ট পরিবেশ এই আচরণকে প্রভাবিত করে-
১. টানা ভারী বর্ষণ ও বন্যা পরিস্থিতি
ভারী বৃষ্টিতে পুকুর, ডোবা ও খাল একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়। তখন কৈ মাছ নতুন জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়ার জন্য ভেজা কাদা ও পানির ওপর দিয়ে চলাচল করে।
২. প্লাবিত এলাকা
বন্যার সময় রাস্তা-ঘাট, মাঠ এমনকি উঠান পর্যন্ত পানিতে ডুবে যায়। অগভীর পানির স্তরে কৈ মাছ সহজেই চলাফেরা করতে পারে এবং নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে এগিয়ে যায়।

৩. বৃষ্টির পর ভেজা পরিবেশ
বৃষ্টি থেমে গেলেও মাটি ভেজা ও বাতাস আর্দ্র থাকলে কৈ মাছ কিছু সময় ডাঙায় নড়াচড়া করতে পারে। এতে তাদের শরীর শুকিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কম থাকে।
৪. পানিতে অক্সিজেন কমে যাওয়া
গরম বা স্থির পানিতে অক্সিজেনের ঘাটতি হলে কৈ মাছ বিকল্প পরিবেশ খুঁজতে বাধ্য হয়। এ অবস্থায় তারা ডাঙার দিকে অগ্রসর হতে পারে।
সব বৃষ্টিতে কি কৈ মাছ ওঠে?
না। হালকা বা স্বল্পস্থায়ী বৃষ্টিতে সাধারণত জলাশয়ের পরিবেশ পরিবর্তন হয় না। তাই তখন কৈ মাছ ডাঙায় ওঠে না। মূলত পরিবেশগত পরিবর্তনই তাদের আচরণ নির্ধারণ করে।
কৈ মাছ কি বৃষ্টি টের পায়?
বিজ্ঞানীরা মনে করেন, অনেক জলজ প্রাণী বায়ুচাপ, আর্দ্রতা ও পানির কম্পনের পরিবর্তন অনুভব করতে পারে। কৈ মাছও এসব সূক্ষ্ম পরিবর্তনে সাড়া দেয়, যার কারণে বৃষ্টি শুরুর আগেই বা চলাকালীন তাদের নড়াচড়া বাড়তে দেখা যায়।
কৈ মাছের ডাঙায় ওঠা কোনো রহস্য নয়, বরং পরিবেশগত অভিযোজনের ফল। টানা বৃষ্টি, বন্যা বা অক্সিজেন সংকট এই সব পরিস্থিতিই তাদের অস্থায়ীভাবে পানির বাইরে চলাচল করতে বাধ্য করে।
লোককথার ভাষায় যাকে বলা হয় “কৈ মাছ ওঠার বৃষ্টি”, বিজ্ঞান সেটাকেই ব্যাখ্যা করে বেঁচে থাকার কৌশল হিসেবে।
আরটিভি/এসকে




