ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

ডাইনোসর যুগের মাছ এখনও বেঁচে আছে বাংলাদেশে 

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৯ মে ২০২৬, ১১:০৫ এএম
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলের কোনো এক নদীর ধারে দাঁড়ালে প্রথমে যা চোখে পড়ে তা হলো—স্বচ্ছ পানি, তলদেশে ছড়িয়ে থাকা পাথর, আর নিস্তব্ধ এক প্রকৃতি। কিন্তু এই শান্ত পানির নিচেই কি লুকিয়ে থাকতে পারে প্রাগৈতিহাসিক সময়ের কোনো জীবন্ত গল্প?

শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও, এমন এক মাছ আছে যার গল্প বহু পুরোনো ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। নাম তার মহাশোল।

প্রাচীন বংশের এক শক্তিশালী মাছ

মহাশোলকে বিজ্ঞানীরা বলেন মাহসির (Mahseer)। এটি কার্প গোত্রের (Cyprinidae) মাছ। এই পরিবারের মাছ পৃথিবীতে বহু মিলিয়ন বছর ধরে টিকে আছে। তবে ভুল বোঝার সুযোগ নেই, মহাশোল সরাসরি ডাইনোসরের সময়ের মাছ নয়। তবে এটি এমন এক প্রাচীন বংশধারার অংশ, যারা পৃথিবীর বহু যুগ, বরফ যুগ আর পরিবেশগত পরিবর্তন পেরিয়ে আজও টিকে আছে। দেখতে বিশাল, শক্তিশালী শরীর, বড় আঁশ আর লম্বা গঠন। সব মিলিয়ে একে নদীর ভেতরের এক প্রাচীন যোদ্ধা বললেও ভুল হয় না।

নদীর রাজা, লড়াকু এক প্রাণী

মহাশোল সাধারণ মাছ নয়। বড় হলে এর ওজন ২০ থেকে ৩০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে, কখনো তারও বেশি। এই কারণেই একে অনেক জায়গায় নদীর রাজা বলা হয়। পাহাড়ি নদীতে একে ধরা সহজ কাজ নয়। শক্তিশালী এই মাছ হুক লাগলে সহজে ধরা দেয় না, বরং জেলের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই করে। তাই এটি গেম ফিশ হিসেবেও পরিচিত।

বাংলাদেশে মহাশোলের উপস্থিতি

একসময় বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম ও উত্তরাঞ্চলের কিছু নদীতে মহাশোল ছিল স্বাভাবিক দৃশ্য। বিশেষ করে নেত্রকোনার বিরিশিরি অঞ্চলের পাহাড়ি ঝরনা ও স্বচ্ছ নদীতে এখনো মাঝে মধ্যে এই মাছ দেখা যায়। এই অঞ্চল থেকে ধরা মহাশোল কখনো কখনো ঢাকার কিছু বিশেষ বাজারেও পৌঁছে যায়। সেখানে এটি লাল পাখনা মহাশোল নামেও পরিচিত। কারণ এর পাখনায় লালচে আভা থাকে। তবে এখন এই মাছ দেখা পাওয়া খুবই বিরল হয়ে গেছে।

কেন হারিয়ে যাচ্ছে এই প্রাচীন মাছ?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মহাশোল হারিয়ে যাওয়ার পেছনে কয়েকটি বড় কারণ রয়েছে—

১. নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ পরিবর্তন ও বাঁধ নির্মাণ
২. পানি দূষণ ও শিল্প বর্জ্য
৩. অতিরিক্ত মাছ ধরা
৪. প্রজননের সময় উজানে যেতে না পারা

এই কারণে নতুন প্রজন্মের মহাশোল জন্ম নেওয়ার সুযোগও কমে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন

অন্য দেশে সংরক্ষণের চেষ্টা

ভারত ও নেপালের মতো দেশে মহাশোল রক্ষায় নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিছু নদীতে এটি সংরক্ষিত মাছ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, আবার কোথাও স্থানীয় মানুষ নিজেরাই মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। ফলাফলও মিলেছে, কিছু এলাকায় মহাশোল আবার বাড়তে শুরু করেছে।

সত্যিই কি ডাইনোসরের যুগের মাছ?

পুরোপুরি না। তবে মহাশোল এমন এক প্রাচীন বংশের অংশ, যারা পৃথিবীর বহু পরিবর্তনের সাক্ষী। এই অর্থে বলা যায়—এটি ডাইনোসরের সময়ের নয়, কিন্তু পৃথিবীর সেই দীর্ঘ ইতিহাসেরই এক জীবন্ত উত্তরাধিকার।

যদি আবার ফিরে আসে

ভাবুন তো, আবার কোনো পাহাড়ি নদীতে মহাশোল দেখা যাচ্ছে। আবার ঢাকার বাজারে এসেছে লাল পাখনা মহাশোল। তখন এটি শুধু একটি মাছের ফিরে আসা হবে না। বরং তা হবে নদীর সুস্থ হয়ে ওঠার একটি বড় ইঙ্গিত।

মহাশোল তাই শুধু একটি মাছ নয়—এটি ইতিহাসের স্মৃতি, প্রকৃতির সতর্কবার্তা, আর এক টুকরো আশা। যদি নদী বাঁচে, তাহলে হয়তো এই প্রাচীন যোদ্ধাও আবার ফিরে আসবে বাংলাদেশের পানিতে।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
পোষা বেড়াল ভেবে এক বছর লালন-পালন, পরে মিলল নতুন প্রজাতির সন্ধান
রাস্তার ধারে পড়ে থাকা ছোট্ট বেড়ালছানা ভেবে বাড়িতে নিয়ে এসেছিলেন এক ব্যক্তি। প্রায় এক বছর ধরে সাধারণ পোষা বেড়াল হিসেবেই সেটিকে লালন-পালন করেন তিনি।
পোষা বেড়াল ভেবে এক বছর লালন-পালন, পরে মিলল নতুন প্রজাতির সন্ধান
অবিবাহিতদের যেসব কথা রাগিয়ে দেয়
বন্ধুমহলে বিয়ের ধুম, কেউ আবার গুছিয়ে নিয়েছেন সংসার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দেখা যায় যুগল ছবি। এমন পরিস্থিতিতে যারা এখনও অবিবাহিত, তাদের প্রায়ই শুনতে হয় নানা প্রশ্ন ও মন্তব্য।
অবিবাহিতদের যেসব কথা রাগিয়ে দেয়
সন্তান হারানোর শোক অন্য প্রাণীদেরও সমান কষ্ট দেয়, সাক্ষী অতল সমুদ্র
সন্তান হারানোর বেদনা শুধু মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, অন্য প্রাণীরাও কি প্রিয়জনের বিচ্ছেদে শোক অনুভব করে? অস্ট্রেলিয়ার গোল্ড কোস্টের কাছে সদ্যোজাত শাবককে হারিয়ে এক মা হাম্পব্যাক তিমির আচরণ নতুন করে সামনে এনেছে এই প্রশ্ন।
সন্তান হারানোর শোক অন্য প্রাণীদেরও সমান কষ্ট দেয়, সাক্ষী অতল সমুদ্র
হোম অফিসের কথা বলে সিঙ্গাপুরে, ধরা পড়ে হারালেন চাকরি
হোম অফিসের অনুমতি নিয়ে বাড়ির বদলে সিঙ্গাপুরে বসে কাজ করার অভিযোগে চাকরি হারিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার এক মুদ্রা ব্যবসায়ী।
হোম অফিসের কথা বলে সিঙ্গাপুরে, ধরা পড়ে হারালেন চাকরি
নোবেল পুরস্কারের ফেসবুক পেজে রবীন্দ্রনাথ ও রাসেলের ১১৪ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক চিঠি
নোবেল পুরস্কারের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বিশ্বখ্যাত ব্রিটিশ দার্শনিক ও যুক্তিবিদ বার্ট্রান্ড রাসেলের মধ্যকার ১১৪ বছরের পুরনো একটি অত্যন্ত বিরল ও ঐতিহাসিক চিঠি প্রকাশ করা হয়েছে।
নোবেল পুরস্কারের ফেসবুক পেজে রবীন্দ্রনাথ ও রাসেলের ১১৪ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক চিঠি