ভ্রমণ করতে ভালো লাগে না—এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া সত্যিই কঠিন। আর ২০২৬ সালে এসে মানুষের বিদেশ ভ্রমণের আগ্রহ যেন আরও বেড়েছে। নতুন বছর শুরু হলেই অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, এবার কোথায় ঘুরতে যাওয়া যায়?
কেউ অনেক আগে থেকেই পরিকল্পনা করেন, আবার কেউ হঠাৎ করেই ভ্রমণের সিদ্ধান্ত নেন। তবে ভিসা, বাজেট আর সময়—সবকিছু মিলিয়ে গন্তব্য ঠিক করাটাই সবচেয়ে কঠিন হয়ে পড়ে। তাই আজকের আয়োজনে থাকছে এমন ৫টি দেশের কথা, যেগুলো ২০২৬ সালে ভ্রমণের জন্য হতে পারে দারুণ পছন্দ।
পৃথিবীতে অসংখ্য সুন্দর ভ্রমণ গন্তব্য রয়েছে। ছবি বা ভিডিও দেখলে মনে হয়, সব জায়গাতেই একবার করে ঘুরে আসি। তবে বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া ও খরচের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। সেই দিক বিবেচনায় ২০২৬ সাল বিদেশ ভ্রমণের জন্য বেশ সুবিধাজনক সময়। বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রক্রিয়া কিছুটা সহজ হয়েছে, পাশাপাশি অনেক রুটে বিমানভাড়াও আগের তুলনায় কমেছে।
জাপান
ভ্রমণপ্রেমীদের তালিকায় জাপান সবসময়ই বিশেষ জায়গা দখল করে থাকে। আধুনিক প্রযুক্তি আর শত বছরের ঐতিহ্যের মিশেলে গড়া দেশটি যেন এক অন্য জগৎ।
২০২৬ সালে জাপানে পর্যটকের সংখ্যা নতুন রেকর্ড ছুঁয়েছে। বিশেষ করে চেরি ফুলের মৌসুমে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে যান সেখানে। টোকিও, কিয়োটো, ওসাকার পাশাপাশি কানাজাওয়া, তাকায়ামা ও হোক্কাইডোর মতো জায়গাগুলোও এখন পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

জাপানের খাবারও বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। রামেন, সুশি, তেম্পুরাসহ নানা ধরনের খাবারের স্বাদ নিতে ভিড় করেন পর্যটকেরা। এছাড়া দেশটির গণপরিবহন ব্যবস্থা অত্যন্ত নিয়মতান্ত্রিক। দ্রুতগতির ট্রেনে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এক শহর থেকে আরেক শহরে পৌঁছে যাওয়া যায়।
বাংলাদেশিদের জন্য জাপানে ভ্রমণে ভিসা প্রয়োজন। ঢাকায় জাপান দূতাবাসের মাধ্যমে আবেদন করা যায়। ব্যাংক বিবরণী, হোটেল বুকিং ও ভ্রমণ পরিকল্পনা থাকলে ভিসা পাওয়া তুলনামূলক সহজ হয়।
যে স্থানগুলো ঘুরে দেখবেন
টোকিওর সিবুয়া ক্রসিং, অ্যাসাকুসা মন্দির, কিয়োটোর ফুশিমি ইনারি মন্দির, নারার হরিণ পার্ক, ওসাকার দোতোনবোরি।
ভ্রমণের সেরা সময়
মার্চ থেকে মে এবং অক্টোবর থেকে নভেম্বর।
ভিয়েতনাম
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় ভ্রমণ গন্তব্য এখন ভিয়েতনাম। পাহাড়, নদী, সমুদ্র আর ইতিহাসে ভরপুর দেশটি কম বাজেটে ভ্রমণের জন্য আদর্শ।
হ্যানয়ের পুরোনো শহর, হ্যালং বের নীল পানি, হোই আনের ঐতিহাসিক স্থাপনা কিংবা হো চি মিন শহরের ব্যস্ত জীবন—সব মিলিয়ে ভিয়েতনাম যেন এক পূর্ণাঙ্গ ভ্রমণ অভিজ্ঞতা।

থাকা, খাওয়া ও যাতায়াত—সব ক্ষেত্রেই খরচ তুলনামূলক কম। রাস্তার পাশের ছোট দোকানেও মিলবে দারুণ সব খাবার।
বাংলাদেশিরা অনলাইনের মাধ্যমে সহজেই ই-ভিসার আবেদন করতে পারেন। ৯০ দিনের একাধিকবার প্রবেশের সুযোগও রয়েছে।
যে স্থানগুলো ঘুরে দেখবেন
হ্যালং বে, হোই আন, মু কাং চাই, ফু কুক দ্বীপ, হো চি মিন শহর।
ভ্রমণের সেরা সময়
ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল এবং নভেম্বর থেকে জানুয়ারি।
শ্রীলঙ্কা
বাংলাদেশের কাছাকাছি দেশগুলোর মধ্যে শ্রীলঙ্কা এখন বেশ জনপ্রিয়। ছোট্ট এই দ্বীপদেশে রয়েছে পাহাড়, সমুদ্র, জঙ্গল, চা-বাগান আর ঐতিহাসিক নিদর্শনের অনন্য সমন্বয়।
কলম্বো থেকে ক্যান্ডি পর্যন্ত ট্রেনযাত্রাকে বিশ্বের অন্যতম সুন্দর রেলপথ ধরা হয়। পাহাড়ের গায়ে গায়ে চা-বাগান আর মেঘের দৃশ্য ভ্রমণকে আরও স্মরণীয় করে তোলে।

এছাড়া সিগিরিয়ার পাথরের দুর্গ, এলা, মিরিসা সমুদ্রসৈকত ও ইয়ালা জাতীয় উদ্যান পর্যটকদের কাছে দারুণ আকর্ষণীয়।
বাংলাদেশিদের জন্য শ্রীলঙ্কার অনলাইন ভ্রমণ অনুমতি পাওয়া তুলনামূলক সহজ।
যে স্থানগুলো ঘুরে দেখবেন
সিগিরিয়া, ক্যান্ডি, ইয়ালা জাতীয় উদ্যান, এলা, মিরিসা সমুদ্রসৈকত।
ভ্রমণের সেরা সময়
ডিসেম্বর থেকে মার্চ।
ওমান
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে ওমান একেবারেই আলাদা। মরুভূমি, পাহাড়, সমুদ্র আর ঐতিহ্যের অনন্য মিশেল রয়েছে এখানে।
রাজধানী মাসকাট পরিচ্ছন্ন ও শান্ত শহর হিসেবে পরিচিত। সুলতান কাবুস গ্র্যান্ড মসজিদের সৌন্দর্য চোখে পড়ার মতো। এছাড়া ওয়াদি শাব ও ওয়াদি বানি খালিদের স্বচ্ছ নীল পানি আর পাহাড়ি গিরিখাত ভ্রমণকে অন্য মাত্রা দেয়।

ওমানের মানুষ অত্যন্ত অতিথিপরায়ণ। দেশটির সংস্কৃতি ও পরিবেশ বাংলাদেশিদের কাছেও অনেকটা পরিচিত মনে হবে।
বাংলাদেশি পর্যটকেরা অনলাইনে সহজেই ওমানের ই-ভিসার আবেদন করতে পারেন।
যে স্থানগুলো ঘুরে দেখবেন
সুলতান কাবুস গ্র্যান্ড মসজিদ, নিজওয়া দুর্গ, ওয়াদি শাব, ওয়াদি বানি খালিদ, রুব আল খালি মরুভূমি।
ভ্রমণের সেরা সময়
অক্টোবর থেকে এপ্রিল।
মালয়েশিয়া
বাংলাদেশিদের কাছে বহুদিন ধরেই জনপ্রিয় ভ্রমণ গন্তব্য মালয়েশিয়া। তবে শুধু কুয়ালালামপুর দেখেই এই দেশকে শেষ করা যায় না।
পেনাংয়ের জর্জ টাউন, মালাক্কার ঐতিহাসিক শহর, ক্যামেরন হাইল্যান্ডস কিংবা বোর্নিও দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সত্যিই মুগ্ধ করার মতো।

খাবারের দিক থেকেও মালয়েশিয়া অসাধারণ। মালয়, চীনা ও ভারতীয় খাবারের মিশেলে দেশটির খাবার সংস্কৃতি বেশ বৈচিত্র্যময়।
বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার ভিসা পাওয়া তুলনামূলক সহজ। ঢাকা থেকে সরাসরি ফ্লাইটও রয়েছে।
যে স্থানগুলো ঘুরে দেখবেন
পেট্রোনাস টাওয়ার, জর্জ টাউন, মালাক্কা, ক্যামেরন হাইল্যান্ডস, সাবাহ।
ভ্রমণের সেরা সময়
মে থেকে জুলাই এবং ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি।
ভ্রমণের আগে যা মনে রাখবেন
প্রতিটি দেশের সৌন্দর্য আলাদা। কোথাও আধুনিক প্রযুক্তি, কোথাও পাহাড়-সমুদ্র, কোথাও আবার মরুভূমির রহস্যময় সৌন্দর্য অপেক্ষা করছে ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য।
ভ্রমণের আগে অবশ্যই ভিসা সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্য যাচাই করে নিন। দূতাবাস বা সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি ওয়েবসাইট থেকে তথ্য নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। পাশাপাশি পাসপোর্টের মেয়াদ কমপক্ষে ছয় মাস থাকতে হবে।
সঠিক পরিকল্পনা আর প্রস্তুতি থাকলে ২০২৬ সালের ভ্রমণ হতে পারে জীবনের সবচেয়ে সুন্দর অভিজ্ঞতাগুলোর একটি।
আরটিভি/জেএমএ




