ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

অজগরের রোমহর্ষক জীবন ও তাদের বিচিত্র সব রূপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৩ জুন ২০২৬, ১০:০৫ পিএম
প্রাকৃতিক পরিবেশের পানির ধারে পাথুরে মাটিতে একটি অজগর শান্তভাবে বিচরণ করছে। বন্যপ্রাণীর এমন দৃশ্য সবসময়ই বেশ রোমাঞ্চকর। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে সাপের রাজ্যে এক অন্যতম আকর্ষণীয় ও পরিচিত নাম পাইথন বা অজগর। সাধারণত এরা বিষহীন এবং শিকারকে পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে মারার অভ্যাসের জন্য পরিচিত। বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবীতে ‘পাইথনিডি’ পরিবারের অধীনে বর্তমানে প্রায় ৪০টি জীবিত প্রজাতির অজগর রয়েছে। এই প্রজাতিগুলো প্রায় ১১টি আলাদা গণে (জেনাস) বিভক্ত।

তবে আমরা সচরাচর যাদের ‘আসল অজগর’ বা ‘ট্রু পাইথন’ বলে থাকি, তারা মূলত ‘পাইথন’ গণের অন্তর্ভুক্ত। এই গণে বর্তমানে ১০টি প্রজাতি রয়েছে, যাদের মূল আবাসস্থল এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশে। ২০১৪ সালে একটি শ্রেণিবিন্যাসগত পরিবর্তনের কারণে বিখ্যাত ‘রেটিকুলেটেড পাইথন’ (জালি অজগর) এবং ‘তিমুর পাইথন’—এই দুটিকে আসল অজগরের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে ‘ম্যালায়োপাইথন’ নামক একটি আলাদা গণে স্থানান্তর করা হয়। অবশিষ্ট প্রজাতিগুলো অস্ট্রেলিয়া, নিউগিনি এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ছড়িয়ে রয়েছে।

চলুন জেনে নেই আসল অজগর বা ‘ট্রু পাইথন’ প্রজাতির খুঁটিনাটি

আফ্রিকান রক পাইথন: একসময় এটিকে একটি একক প্রজাতি ধরা হলেও বর্তমানে এটি দুটি আলাদা প্রজাতি হিসেবে স্বীকৃত। একটি হলো ‘সেন্ট্রাল আফ্রিকান রক পাইথন’ এবং অন্যটি ‘সাউদার্ন আফ্রিকান রক পাইথন’। এরা ১৫ থেকে ২০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। মূলত বন ও তৃণভূমি এলাকায় পানির কাছাকাছি এরা বাস করে এবং হরিণ বা ছোট কুমিরও গিলে খেতে পারে।

অ্যাঙ্গোলান পাইথন: আফ্রিকার আসল অজগরগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে দুর্লভ। সাধারণত নামিবিয়া ও অ্যাঙ্গোলায় এদের দেখা মেলে। এরা লম্বায় প্রায় ৬ ফুট হয় এবং এদের শরীরে লালচে-বাদামি বা কালচে রঙের ওপর চমৎকার ক্রিম বা সাদা রঙের ছোপ থাকে।

বল পাইথন: আফ্রিকার অজগরগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে ছোট, যা লম্বায় সাধারণত ৩ থেকে ৫ ফুট হয়। কোনো বিপদের আভাস পেলে এরা নিজেদের শরীরকে গোল বলের মতো গুটিয়ে ফেলে, যার কারণে এদের এই নাম। শান্ত স্বভাবের কারণে আন্তর্জাতিক পোষা প্রাণীর বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

ব্লাড পাইথন: এটি মূলত মালয় উপদ্বীপ, সুমাত্রা এবং দক্ষিণ থাইল্যান্ডের ক্রান্তীয় জলাভূমিতে বাস করে। এদের শরীরে গভীর লাল বা কমলা রঙের ছোপ থাকে এবং এরা বেশ ভারী গড়নের ছোট লেজের সাপ।

বোর্নিও পাইথন: বোর্নিও দ্বীপের জলাভূমি ও পিট ফরেস্টে এদের বাস। এরা প্রায় ৭ ফুট দীর্ঘ এবং বেশ স্থূলকায় ও ভারী শরীরের অজগর।

বার্মিজ ও ইন্ডিয়ান পাইথন: বার্মিজ পাইথন বিশ্বের বৃহত্তম পাঁচ সাপের একটি, যা ১৮ ফুটেরও বেশি লম্বা হতে পারে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এদের মূল আবাস হলেও যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার এভারগ্লেডসে এরা বর্তমানে একটি বড় আক্রমণাত্মক প্রজাতি হিসেবে ছড়িয়ে পড়েছে। অন্যদিকে ভারতীয় উপমহাদেশে পাওয়া যায় ‘ইন্ডিয়ান পাইথন’ বা এশীয় রক পাইথন, যা বার্মিজ পাইথনের চেয়ে কিছুটা হালকা রঙের হয়।

বার্মিজ পাইথন
ইন্ডিয়ান পাইথন

মিয়ানমার শর্ট-টেইলড পাইথন: ২০১১ সালে মিয়ানমারের বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে এই নতুন প্রজাতিটি আবিষ্কৃত হয়। এদের শরীরে অন্যান্য ছোট লেজের অজগরের তুলনায় বেশি স্কেল বা আঁশ থাকে।

সুমাত্রান শর্ট-টেইলড পাইথন: সুমাত্রার স্থানীয় এই প্রজাতিটি বেইজ বা ধূসর-বাদামি রঙের হয় এবং শরীরে ইটের মতো লাল ছোপ থাকে। এদের চামড়ার জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপকহারে শিকার করা হয়।


আলোচিত সাবেক দুই পাইথন

২০১৪ সালের পর থেকে ‘রেটিকুলেটেড পাইথন’ ও ‘তিমুর পাইথন’ এখন আর আসল পাইথন গণের অংশ নয়। এর মধ্যে রেটিকুলেটেড পাইথন বা জালি অজগর বিশ্বের দীর্ঘতম সাপের প্রজাতি, যা ২১ ফুটেরও বেশি লম্বা হতে পারে। এরা খুব ভালো সাঁতার কাটতে পারে। অন্যদিকে তিমুর পাইথন আকারে বেশ ছোট (প্রায় ৭ ফুট) এবং অত্যন্ত চটপটে ও রক্ষণাত্মক স্বভাবের হয়ে থাকে।

রেটিকুলেটেড পাইথন
তিমুর পাইথন

অস্ট্রেলিয়া ও নিউগিনির অন্যান্য প্রজাতি

আসল পাইথন ও মালেয়োপাইথনের বাইরে পাইথন পরিবারের বাকি ৯টি গণের প্রায় সবগুলোরই কেন্দ্রবিন্দু হলো অস্ট্রেলিয়া এবং নিউগিনি অঞ্চল। এর মধ্যে রয়েছে মাত্র ৪ ফুট দৈর্ঘ্যের ‘চিলড্রেনস পাইথন’। আরও রয়েছে ‘উমা পাইথন’ ও ‘ব্ল্যাক-হেডেড পাইথন’, যাদের শরীরে অন্য পাইথনের মতো তাপ-সংবেদী গর্ত বা হিট-সেন্সিং পিট থাকে না। এ ছাড়া রয়েছে সেমি-অ্যাকুয়াটিক বা আধা-জলচর ‘ওয়াটার পাইথন’, ‘কার্পেট পাইথন’ এবং চমৎকার সবুজ রঙের ‘গ্রিন ট্রি পাইথন’। হোয়াইট-লিপড বা সাদা ঠোঁটের পাইথন এবং ওনপেলির মতো দুর্লভ অজগরও এই পরিবারের অন্তর্ভুক্ত।

আরটিভি/এআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
প্রয়াত আত্মাদের স্মরণে আজ ‘অল সোলস ডে’
মৃত্যুর পরও প্রিয়জনের স্মৃতি বেঁচে থাকে হৃদয়ে। তাদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত, ভালোবাসা ও জীবনের নানা গল্প স্মরণ করেই দিন কাটে স্বজনদের।
প্রয়াত আত্মাদের স্মরণে আজ ‘অল সোলস ডে’
জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস আজ
জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস আগামীকাল। প্রতিবছর ২ নভেম্বর জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস পালিত হয়।
জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস আজ
ইতিহাসে আজকের এই দিনে
সোমবার (২ নভেম্বর) এক নজরে দেখে নেওয়া যাক তেমনই কিছু ঘটনা।
ইতিহাসে আজকের এই দিনে
প্রাণের মাঝে আয়
নস্টালজিয়া খুব খারাপ জিনিস। না চাইতেও এমন সব স্মৃতি মনে পড়ে, যা কখনও আমাদের হাসায়, আবার কখনও বা কাঁদায়। মনে হচ্ছে এইতো সেদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডিতে পা রাখলাম। প্রথম ক্লাসে অনেকের দেখেছি দাড়ি-গোঁফ ওঠেনি। আবার কেউতো পরিচিতি পর্বে নিজের নাম বলতেও থরথর করে কাঁপছিল। এরপর কতশত দিন একসঙ্গে। কত স্মৃতি বুকের সঞ্চয়ী হিসাবে জমা।
প্রাণের মাঝে আয়
কাজহীন দিবস আজ
সারাদিন কাজের ব্যস্ততা, একের পর এক দায়িত্ব, আর হাতে লম্বা কাজের তালিকা। এই ব্যস্ততার মাঝেই নিজের জন্য একটু সময় বের করার কথা মনে করিয়ে দেয় ‘জিরো টাস্কিং ডে’ বা কাজহীন দিবস। প্রতি বছর নভেম্বর মাসের প্রথম রোববার পালিত হয় দিনটি। এ বছর ১ নভেম্বর এই বিশেষ দিন। দিনটির মূল ভাবনা খুব সহজ- অন্তত একটি দিন নিজের উপর কাজের চাপ না রেখে বিশ্রাম নেওয়া, পছন্দের কাজ করা কিংবা একেবারেই কিছু না করা। বিশেষ করে যেসব দেশে ডে-লাইট সেভিং টাইম বা দিবালোক সাশ্রয়ী সময়ের নিয়ম চালু রয়েছে, সেখানে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়ার ফলে পাওয়া অতিরিক্ত সময়টিকে নিজের জন্য কাজে লাগানোর ধারণা থেকেই এই দিনের প্রচলন। ‘জিরো টাস্কিং ডে’-র ধারণাটি সামনে আনেন লেখক ও জীবনযাপনবিষয়ক পরামর্শদাতা ন্যান্সি ক্রিস্টি। তার উদ্দেশ্য ছিল, মানুষ যেন কাজের তালিকা থেকে একের পর এক দায়িত্ব মেটানোর বাইরে নিজের সঙ্গে সময় কাটানোর গুরুত্বও বোঝে। মানসিক সুস্থতার বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে মেন্টাল হেলথ আমেরিকাও দিনটির প্রচারে ভূমিকা রেখেছে। বর্তমান সময়ে একসঙ্গে একাধিক কাজ সামলানো যেন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কাজের চাপ, সময়ের অভাব এবং প্রতিনিয়ত উৎপাদনশীল থাকার তাগিদে অনেকেই বিশ্রাম নিতে অপরাধবোধ করেন। অথচ প্রয়োজনীয় বিরতি মানসিক চাপ কমাতে, সৃজনশীলতা বাড়াতে এবং কাজে মনোযোগ ফেরাতে সাহায্য করতে পারে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম শরীর ও মনকে নতুন করে চাঙা করে। দিনটি পালনের জন্য বিশেষ কোনও আয়োজনের প্রয়োজন নেই। সকালে একটু দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা, পছন্দের বই পড়া, নিরিবিলি হাঁটতে বেরোনো কিংবা কিছুক্ষণ ধ্যান করাসহ যা ভালো লাগে, তা-ই করতে পারেন।  চাইলে বারান্দায় বসে আকাশ দেখতে পারেন, মনের মতো কোনও রান্না করতে পারেন, ছবি আঁকতে পারেন অথবা দুপুরে একটু ঘুমিয়ে নিতে পারেন। এমনকি ফোন ও কাজের বার্তা থেকে দূরে থেকে নিজের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোও হতে পারে উদ্‌যাপনের অংশ। ‘জিরো টাস্কিং ডে’-র আসল শিক্ষা অবশ্য সারাদিন অলসভাবে কাটানো নয়। বরং প্রতিদিনের দায়িত্বের পাশাপাশি বিশ্রাম ও নিজের যত্নের জন্যও সময় রাখা জরুরি সেই কথাই মনে করিয়ে দেয় দিনটি। কারণ, সব সময় কাজের মধ্যে ডুবে থাকাই জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হতে পারে না। কখনও কখনও কিছু না করাও নিজের জন্য প্রয়োজনীয়। আরটিভি/এসআর
কাজহীন দিবস আজ
আরও পড়ুন
পুকুরে মিলল ১২ ফুটের অজগর, ওজন ৩০ কেজি
এক ঘণ্টার অভিযানে প্রাণে বাঁচল হাইল হাওরের ‘বন্দি’ সাপ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৪ ফুটের বার্মিজ অজগর উদ্ধার
মিরসরাইয়ে পৃথক স্থান থেকে দুই অজগর উদ্ধার