ঢাকা বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩

ডাইনোসরের যুগের সাপের জীবাশ্মে মিলল বিবর্তনের নতুন তথ্য

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৫ পিএম
ছবি: রয়টার্স

ডাইনোসরের যুগে বসবাস করা একটি প্রাচীন সাপের প্রায় সম্পূর্ণ জীবাশ্ম খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তাদের মতে, এই আবিষ্কার সাপের বিবর্তন ও কিভাবে তারা আজকের রূপে এসেছে, সে সম্পর্কে নতুন তথ্য দেবে।

বুধবার (২৩ জুলাই) প্রকাশিত এক গবেষণার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

ব্রাজিলের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে পাওয়া জীবাশ্মটি টামেতারা মিরিম নামে একটি সাপের। প্রায় ৭ কোটি ৫০ লাখ থেকে ৮ কোটি ৫০ লাখ বছর আগে, অর্থাৎ ক্রিটেশিয়াস যুগে এটি বাস করত। সাপটির দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ৪২ সেন্টিমিটার।

গবেষকদের মতে, এটি প্রাচীন সাপের সবচেয়ে ভালোভাবে সংরক্ষিত জীবাশ্মগুলোর একটি। জীবাশ্মটির খুলির বড় একটি অংশ অক্ষত থাকায় বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো এর মস্তিষ্কের গঠন পুনর্নির্মাণ করতে পেরেছেন।

আরও পড়ুন

গবেষণায় দেখা গেছে, টামেতারা মিরিম মাটির নিচে গর্ত করে বসবাস করত। বর্তমানে প্রবাল সাপসহ (কোরাল স্নেক) কিছু সাপও একই ধরনের জীবনযাপন করে।

বিজ্ঞানীরা জানান, সাপের পূর্বপুরুষ ছিল টিকটিকি-জাতীয় প্রাণী। ধারণা করা হয়, প্রায় ১৭ কোটি বছর আগে জুরাসিক যুগে সাপের আবির্ভাব হয়েছিল। তবে সেই সময়ের জীবাশ্ম খুব কম পাওয়া যাওয়ায় তাদের বিবর্তনের ইতিহাস এত দিন পুরোপুরি জানা যায়নি।

গবেষণার প্রধান লেখক ও প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবর্তন জীববিজ্ঞানের অধ্যাপক তিয়াগো সিমোয়েস বলেন, এই জীবাশ্ম থেকে বোঝা যায়, প্রাচীন সাপের বিবর্তন সরল ছিল না। তারা ধীরে ধীরে বিভিন্ন পরিবেশে খাপ খাইয়ে নেয় এবং তাদের স্নায়ুতন্ত্রও সময়ের সঙ্গে নানা ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়।

গবেষকদের ধারণা, টামেতারা মিরিম মূলত পোকামাকড় খেয়ে বেঁচে থাকত। তবে জীবাশ্মে দাঁত না থাকায় এটি বিষধর ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিজ্ঞানীদের মতে, এই আবিষ্কার শুধু সাপের নয়, বরং মেরুদণ্ডী প্রাণীর বিবর্তন বোঝার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বাংলাদেশে যে ১০ সাপ বেশি দেখা যায়
সাপ দেখলেই সেটি বিষধর এমন ধারণা অনেকের মধ্যেই রয়েছে। বাড়ির উঠান, ঝোপঝাড়, কৃষিজমি কিংবা জলাশয়ের পাশে সাপ দেখা গেলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন অনেকে। সাপটি চেনার আগেই সেটিকে মেরে ফেলার ঘটনাও ঘটে। তবে বাংলাদেশে নিয়মিত দেখা যায় এমন সাপের বড় একটি অংশই বিষধর নয়।
বাংলাদেশে যে ১০ সাপ বেশি দেখা যায়
কী ঘটেছিল ইতিহাসে আজকের দিনে
ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে চলি। সে জন্য আমাদের অতীতের উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলি জানা দরকার।
কী ঘটেছিল ইতিহাসে আজকের দিনে
আজ আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস
আজ ১৫ সেপ্টেম্বর, আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস।
আজ আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস
বিশ্বে সর্বোচ্চ সরকারি ছুটির দেশ মিয়ানমার, দ্বিতীয় বাংলাদেশ
বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে সরকারি ছুটির সংখ্যায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। শীর্ষে আছে মিয়ানমার। আর তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার আরেক দেশ শ্রীলঙ্কা।
বিশ্বে সর্বোচ্চ সরকারি ছুটির দেশ মিয়ানমার, দ্বিতীয় বাংলাদেশ
টিপস নিচ্ছে রোবট, টাকা যাচ্ছে কার পকেটে?
রেস্তোরাঁয় খাবার শেষে ভালো সেবার জন্য ওয়েটারকে টিপস দেওয়া বহুদিনের প্রচলিত রীতি। কিন্তু সেই টিপসের জায়গা যদি নেয় রোবট? মানুষের বদলে রোবট সেবা দিচ্ছে এটা প্রযুক্তির অগ্রগতির স্বাভাবিক অংশ হয়ে উঠলেও, রোবটের সামনে ডিজিটালভাবে টিপস দেওয়ার অনুরোধ অনেক গ্রাহকের কাছেই তৈরি করছে নতুন প্রশ্ন টাকাটা শেষ পর্যন্ত যাচ্ছে কার পকেটে? যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁ ও কফিশপে ইতোমধ্যে রোবট ব্যবহার শুরু হয়েছে। কোথাও রোবট পানীয় তৈরি করছে, কোথাও খাবার পরিবেশন করছে, আবার কোথাও স্বয়ংক্রিয় মেশিনই গ্রাহকের কাছ থেকে টিপস চেয়ে বসছে। বিবিসির কলাম লেখক থমাস জারমেইন এমনই এক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। লাস ভেগাসের ভেনেশিয়ান হোটেলের ‘দ্য টিপসি রোবট’ বারে গিয়ে তিনি দেখেন, দুটি রোবটিক বাহু স্বয়ংক্রিয়ভাবে ককটেল তৈরি করছে। ১৭ ডলারের একটি মার্গারিটা অর্ডার করার পর তিনি বিলের সঙ্গে ১০ শতাংশ সার্ভিস ফি দেখতে পান। এর পরও রোবটের পক্ষ থেকে চাওয়া হয় টিপস। জারমেইনের এমন অভিজ্ঞতা অবশ্য নতুন নয়। নিউইয়র্কের আর্টলি কফিতেও রোবট বারিস্তা তাকে টিপস দেওয়ার অনুরোধ করেছিল। এমনকি নিউইয়র্কের লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি স্বয়ংক্রিয় চেকআউট মেশিনে পানির বোতল কেনার সময়ও টিপসের অপশন সামনে এসেছিল। মানুষের সেবার ক্ষেত্রে টিপস দেওয়াকে স্বাভাবিক মনে হলেও রোবটের ক্ষেত্রে বিষয়টি নিয়ে দ্বিধায় পড়ছেন অনেকেই। কারণ টিপস দেওয়ার প্রচলিত যুক্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে ভালো সেবার পুরস্কার দেওয়া কিংবা তুলনামূলক কম মজুরির কর্মীদের আর্থিকভাবে সহায়তা করা। রোবটের ক্ষেত্রে সেই যুক্তিগুলো কতটা প্রযোজ্য সেটিই বড় প্রশ্ন। দ্য টিপসি রোবট ও আর্টলি কফির প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, তাদের প্রতিষ্ঠানে পাওয়া টিপস মানব কর্মীদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয় এবং কোম্পানি এর কোনো অংশ নেয় না। তবে সব প্রতিষ্ঠানে একই নিয়ম আছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্রের লিহাই ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক ও ‘গ্র্যাচুইটি’ বইয়ের সহলেখক হোলোনা ওকস মনে করেন, কিছু অসাধু নিয়োগকর্তা রোবটের জন্য দেওয়া টিপস নিজেদের কাছে রেখে দিতে পারেন।  তার মতে, বড় প্রশ্ন হলো এই টিপস থেকে কে লাভবান হচ্ছে এবং এর মূল্য কে দিচ্ছে? যুক্তরাষ্ট্রে কর্মীদের দেওয়া টিপস থেকে মালিক বা ব্যবস্থাপনার অংশ নেওয়ার ওপর আইনগত বিধিনিষেধ রয়েছে। কিন্তু টিপস যদি সরাসরি কোনো যন্ত্র বা রোবটকে দেওয়া হয়, সেখানে আইনের প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। রোবটের জন্য দেওয়া টিপসের প্রকৃত মালিক কে এ বিষয়ে এখনো স্পষ্ট আইনি মানদণ্ড প্রতিষ্ঠিত হয়নি। করোনাভাইরাস মহামারির পর যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন ধরনের সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে টিপস চাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। বিশেষ করে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় বিল পরিশোধের সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে টিপসের অপশন সামনে চলে আসে। অনেক ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত টিপসের হারও বাড়ছে। ফলে গ্রাহকদের একাংশ এটিকে এক ধরনের ‘আবেগগত চাপ’ হিসেবে দেখছেন। এই পরিস্থিতিতে রোবটের জন্য টিপস চাওয়ার বিষয়টি বিতর্ককে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কারণ রোবটকে টিপস দেওয়ার ক্ষেত্রে ভালো সেবা, সামাজিক চাপ কিংবা কর্মীর আর্থিক সহায়তার মতো প্রচলিত কারণগুলো অনেকটাই অনুপস্থিত। তবে রোবটের ব্যবহার মানেই যে মানুষের চাকরি চলে যাবে এমনটা মনে করছেন না সংশ্লিষ্ট সবাই। আর্টলি কফির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রোবট ব্যবহারের উদ্দেশ্য মানুষকে কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া নয়। বরং শ্রমিক সংকটের সময় মানুষের কাজকে সহজ করতে প্রযুক্তি সহায়তা করতে পারে। প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকদের অভিযোগের পর রোবটের মাধ্যমে টিপস চাওয়ার ব্যবস্থা বন্ধ করেছে এবং কর্মীদের বেতনও বাড়িয়েছে। এখন সেখানে কিছু জায়গায় সরাসরি টিপস রাখার জার রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, টিপসের পুরো অর্থই মানব কর্মীদের কাছে যায়। অন্যদিকে মিসিসিপি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ক্যাটেরিনা বেরেজিনার মতে, রোবট বা প্রযুক্তির জন্য নেওয়া সার্ভিস চার্জ কিংবা টিপসের অর্থ রোবট পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও হালনাগাদের মতো কাজেও ব্যয় হতে পারে। তাই এটিকে সব সময় শুধু অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কৌশল হিসেবে দেখা ঠিক নয়। তবে ‘ওয়ান ফেয়ার ওয়েজ’-এর মতো অধিকারভিত্তিক সংগঠনগুলোর অভিযোগ, রোবটের ব্যবহার অনেক ক্ষেত্রে কম মজুরির ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখার কৌশল হতে পারে। তাদের মতে, কম মজুরিই রেস্তোরাঁ খাতে শ্রমিক সংকটের অন্যতম কারণ। কর্নেল ইউনিভার্সিটির ইমেরিটাস অধ্যাপক ও ‘দ্য সাইকোলজি অব টিপিং’ বইয়ের লেখক মাইকেল লিন মনে করেন, রোবটকে টিপস দেওয়ার যৌক্তিকতা খুবই কম। তার মতে, মানুষ সাধারণত ভালো সেবার পুরস্কার হিসেবে, কর্মীর কম মজুরি কিছুটা পূরণ করতে কিংবা সামাজিক চাপ ও স্বীকৃতির কারণে টিপস দেন। এসব কারণ রোবটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। এক গবেষণায় অংশ নেওয়া মানুষের মাত্র প্রায় ১১ শতাংশ জানিয়েছিলেন, তারা রোবট বারটেন্ডারকে টিপস দিতে আগ্রহী। তবে রোবটের মাধ্যমে দেওয়া টিপস যদি মানব কর্মীদের কাছে পৌঁছায়, তখন প্রায় ৪২ শতাংশ অংশগ্রহণকারী তাঁদের মত পরিবর্তন করেন। অর্থাৎ, রোবটকে নয় মানুষকে টিপস দেওয়া হবে কি না, সেটিই এখনো গ্রাহকদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোবট হয়তো আরও বেশি জায়গায় মানুষের হয়ে সেবা দেবে। কিন্তু রোবটের হাতে ডিজিটাল টিপসের অপশন দেখলেই গ্রাহকের মনে যে প্রশ্নটি উঠছে, সেটি আপাতত থেকেই যাচ্ছে। আরটিভি/এসকে
টিপস নিচ্ছে রোবট, টাকা যাচ্ছে কার পকেটে?
আরও পড়ুন
বাংলাদেশে যে ১০ সাপ বেশি দেখা যায়
সাপের কামড়ের চিকিৎসায় যুগান্তকারী নতুন অ্যান্টিভেনম
পদ্মায় কমেছে পানি, বেড়েছে সাপ আতঙ্ক
বিরল ভাইপার সাপের লেজে মাকড়সা, এক্স-রে স্ক্যানে মিলল চমকপ্রদ তথ্য