ঢাকা সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

আদিবাসী নারীদের হাতে তৈরি মহুয়া, এখন আন্তর্জাতিক লাক্সারি ব্র্যান্ড

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০২৬, ১১:১৭ এএম
মহুয়া। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের গভীর জঙ্গলে আদিবাসী নারীদের হাতে তৈরি ঐতিহ্যবাহী পানীয় মহুয়া এখন আর শুধু স্থানীয় বা 'দেশি মদ' হিসেবে পরিচিত নয়। শতাব্দী প্রাচীন এই পানীয় ধীরে ধীরে জায়গা করে নিচ্ছে আন্তর্জাতিক লাক্সারি স্পিরিটসের বাজারে। আদিবাসী সংস্কৃতি, নারীদের শ্রম এবং আধুনিক বিপণনের সমন্বয়ে মহুয়া আজ বিশ্বজুড়ে নতুন পরিচয় পাচ্ছে।

পৃথিবীতে ফুল থেকে তৈরি অ্যালকোহলযুক্ত পানীয়ের সংখ্যা খুবই কম। তার মধ্যে মহুয়া অন্যতম। কোনো শস্য বা ফল নয়, বরং মহুয়া গাছের ঝরে পড়া ফুল সংগ্রহ করে তা থেকে তৈরি হয় এই বিশেষ পানীয়।

মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড ও মহারাষ্ট্রসহ ভারতের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর কাছে মহুয়া গাছ 'জীবনদায়ী গাছ' হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছর মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে ফুল ঝরার মৌসুমে ভোরের আগে নারী ও শিশুরা জঙ্গলে গিয়ে ফুল সংগ্রহ করেন। ফুল শুকানো, সংরক্ষণ, বাজারজাতকরণ এবং পাতন প্রক্রিয়াসহ পুরো উৎপাদন ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতেই থাকেন আদিবাসী নারীরা।

তবে মহুয়ার ইতিহাস সবসময় ইতিবাচক ছিল না। ব্রিটিশ শাসনামলে এই পানীয়ের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। স্থানীয় মদের বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং বিদেশি মদের ব্যবসা সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে মহুয়াকে 'বিপজ্জনক মাদক' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। ফলে দীর্ঘদিন গোপনে মহুয়া উৎপাদন চলতে থাকে এবং নিম্নমানের উৎপাদনের কারণে এর সুনামও ক্ষুণ্ন হয়। স্বাধীনতার পরও সরকারি নীতিতে এটি মূলত 'দেশি মদ' হিসেবেই বিবেচিত হয়েছে।

বর্তমানে মহুয়া প্রধানত দুই ধরনের পদ্ধতিতে তৈরি হয়। সনাতনী পদ্ধতিতে একবার পাতনের মাধ্যমে তৈরি পানীয়তে অ্যালকোহলের পরিমাণ প্রায় ১৫ শতাংশ থাকে এবং এর স্বাদ-গন্ধ বেশ তীব্র। অন্যদিকে আধুনিক ডাবল-ডিস্টিলড মহুয়ায় অ্যালকোহলের পরিমাণ প্রায় ৪০ শতাংশ। এটি দেখতে স্বচ্ছ এবং স্বাদে আন্তর্জাতিক মানের গ্রাপ্পা বা অ্যাগ্রিকোল রামের সঙ্গে তুলনা করা হয়।

DesmondJi_DJ_All_Products

২০২১ সালে মধ্যপ্রদেশ সরকার মহুয়াকে 'হেরিটেজ লিকার' হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর এর বাণিজ্যিক সম্ভাবনা আরও বিস্তৃত হয়। বর্তমানে DesmondJi, Six Brothers Mahura, Mond, Mohulo এবং MAH Spirit-এর মতো প্রিমিয়াম ব্র্যান্ড দেশ-বিদেশের বাজারে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। এর মধ্যে কিছু ব্র্যান্ড যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে।

Mohulo_-_2nd

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের সিঙ্গেল মল্ট হুইস্কি ও জিন যেমন আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে, মহুয়াও সেই পথেই এগোচ্ছে। তবে এখনও ছোট আদিবাসী নারী সমবায়গুলোর সামনে বাজার সম্প্রসারণ, সময়মতো অর্থপ্রাপ্তি এবং বিভিন্ন রাজ্যের ভিন্ন আবগারি আইনের মতো চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

তবুও সব প্রতিকূলতা অতিক্রম করে মহুয়া আজ আদিবাসী সমাজের ঐতিহ্য থেকে আন্তর্জাতিক লাক্সারি ব্র্যান্ডে পরিণত হওয়ার পথে। এটি শুধু একটি পানীয় নয়, বরং ভারতের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি, নারীর ক্ষমতায়ন এবং প্রকৃতিনির্ভর জীবনযাত্রার এক অনন্য প্রতীক।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
প্রয়াত আত্মাদের স্মরণে আজ ‘অল সোলস ডে’
মৃত্যুর পরও প্রিয়জনের স্মৃতি বেঁচে থাকে হৃদয়ে। তাদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত, ভালোবাসা ও জীবনের নানা গল্প স্মরণ করেই দিন কাটে স্বজনদের।
প্রয়াত আত্মাদের স্মরণে আজ ‘অল সোলস ডে’
জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস আজ
জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস আগামীকাল। প্রতিবছর ২ নভেম্বর জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস পালিত হয়।
জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস আজ
ইতিহাসে আজকের এই দিনে
সোমবার (২ নভেম্বর) এক নজরে দেখে নেওয়া যাক তেমনই কিছু ঘটনা।
ইতিহাসে আজকের এই দিনে
প্রাণের মাঝে আয়
নস্টালজিয়া খুব খারাপ জিনিস। না চাইতেও এমন সব স্মৃতি মনে পড়ে, যা কখনও আমাদের হাসায়, আবার কখনও বা কাঁদায়। মনে হচ্ছে এইতো সেদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডিতে পা রাখলাম। প্রথম ক্লাসে অনেকের দেখেছি দাড়ি-গোঁফ ওঠেনি। আবার কেউতো পরিচিতি পর্বে নিজের নাম বলতেও থরথর করে কাঁপছিল। এরপর কতশত দিন একসঙ্গে। কত স্মৃতি বুকের সঞ্চয়ী হিসাবে জমা।
প্রাণের মাঝে আয়
কাজহীন দিবস আজ
সারাদিন কাজের ব্যস্ততা, একের পর এক দায়িত্ব, আর হাতে লম্বা কাজের তালিকা। এই ব্যস্ততার মাঝেই নিজের জন্য একটু সময় বের করার কথা মনে করিয়ে দেয় ‘জিরো টাস্কিং ডে’ বা কাজহীন দিবস। প্রতি বছর নভেম্বর মাসের প্রথম রোববার পালিত হয় দিনটি। এ বছর ১ নভেম্বর এই বিশেষ দিন। দিনটির মূল ভাবনা খুব সহজ- অন্তত একটি দিন নিজের উপর কাজের চাপ না রেখে বিশ্রাম নেওয়া, পছন্দের কাজ করা কিংবা একেবারেই কিছু না করা। বিশেষ করে যেসব দেশে ডে-লাইট সেভিং টাইম বা দিবালোক সাশ্রয়ী সময়ের নিয়ম চালু রয়েছে, সেখানে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়ার ফলে পাওয়া অতিরিক্ত সময়টিকে নিজের জন্য কাজে লাগানোর ধারণা থেকেই এই দিনের প্রচলন। ‘জিরো টাস্কিং ডে’-র ধারণাটি সামনে আনেন লেখক ও জীবনযাপনবিষয়ক পরামর্শদাতা ন্যান্সি ক্রিস্টি। তার উদ্দেশ্য ছিল, মানুষ যেন কাজের তালিকা থেকে একের পর এক দায়িত্ব মেটানোর বাইরে নিজের সঙ্গে সময় কাটানোর গুরুত্বও বোঝে। মানসিক সুস্থতার বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে মেন্টাল হেলথ আমেরিকাও দিনটির প্রচারে ভূমিকা রেখেছে। বর্তমান সময়ে একসঙ্গে একাধিক কাজ সামলানো যেন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কাজের চাপ, সময়ের অভাব এবং প্রতিনিয়ত উৎপাদনশীল থাকার তাগিদে অনেকেই বিশ্রাম নিতে অপরাধবোধ করেন। অথচ প্রয়োজনীয় বিরতি মানসিক চাপ কমাতে, সৃজনশীলতা বাড়াতে এবং কাজে মনোযোগ ফেরাতে সাহায্য করতে পারে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম শরীর ও মনকে নতুন করে চাঙা করে। দিনটি পালনের জন্য বিশেষ কোনও আয়োজনের প্রয়োজন নেই। সকালে একটু দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা, পছন্দের বই পড়া, নিরিবিলি হাঁটতে বেরোনো কিংবা কিছুক্ষণ ধ্যান করাসহ যা ভালো লাগে, তা-ই করতে পারেন।  চাইলে বারান্দায় বসে আকাশ দেখতে পারেন, মনের মতো কোনও রান্না করতে পারেন, ছবি আঁকতে পারেন অথবা দুপুরে একটু ঘুমিয়ে নিতে পারেন। এমনকি ফোন ও কাজের বার্তা থেকে দূরে থেকে নিজের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোও হতে পারে উদ্‌যাপনের অংশ। ‘জিরো টাস্কিং ডে’-র আসল শিক্ষা অবশ্য সারাদিন অলসভাবে কাটানো নয়। বরং প্রতিদিনের দায়িত্বের পাশাপাশি বিশ্রাম ও নিজের যত্নের জন্যও সময় রাখা জরুরি সেই কথাই মনে করিয়ে দেয় দিনটি। কারণ, সব সময় কাজের মধ্যে ডুবে থাকাই জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হতে পারে না। কখনও কখনও কিছু না করাও নিজের জন্য প্রয়োজনীয়। আরটিভি/এসআর
কাজহীন দিবস আজ