বাংলাদেশ আজ স্বাধীনতার অর্ধশতক পেরিয়ে এসেছে। কিন্তু এই দীর্ঘ যাত্রাপথে বারবার দেখা গেছে—প্রতিরোধ ও প্রতিশোধের রাজনীতি, রাজনৈতিক সহিংসতা, নির্বাচন কেন্দ্রিক অবিশ্বাস ও ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় যে রাষ্ট্রটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও অংশগ্রহণমূলক হওয়ার কথা ছিল, তা ক্রমে পরিণত হয়েছে সংঘাত ও দমননীতির শিকার এক রাষ্ট্রে। ক্ষমতা দখল, দলীয়করণ, বিচারহীনতা, দুর্নীতি ও আস্থাহীনতা এই রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রধান বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়েছে।
এই সংকট কেবল রাজনৈতিক নয়; অর্থনৈতিক বৈষম্য, সামাজিক বৈচিত্র্যের অস্বীকৃতি ও মানবসম্পদ উন্নয়নের ঘাটতি একে আরও জটিল করে তুলেছে। বাংলাদেশে আজ ধনী-গরিবের বৈষম্য ক্রমশ বাড়ছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশের গিনি সূচক ০.৩২–০.৩৪, যা আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে উদ্বেগজনক। শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ মাত্র ৩৮%, যা ভিয়েতনামের ৪৮% বা চীনের ৪৬% থেকে অনেক কম।
অন্যদিকে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এমন পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে যেখানে নির্বাচন মানেই সংঘাত, আস্থাহীনতা ও বিতর্ক। নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর আস্থা ভেঙে পড়েছে, বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয় প্রভাবে প্রায় অচল হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে প্রয়োজন একটি নতুন দিকনির্দেশনা, যা প্রতিহিংসার রাজনীতি বদলে সম্প্রীতিমূলক রাষ্ট্রসত্ত্বা গড়ে তুলবে; যেখানে রাজনৈতিক দল, সামাজিক গোষ্ঠী, সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সবাই সমান মর্যাদায় অংশ নেবে রাষ্ট্রগঠনে। বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচি ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাজনৈতিক দর্শন সেই নতুন দিগন্তের পথনির্দেশ দিয়েছে।
বিএনপি’র ৩১ দফায় প্রস্তাব করেছে একটি নতুন রাষ্ট্রধারা, যার মূল বৈশিষ্ট্য—সম্প্রীতিমূলক রাষ্ট্রসত্তা বা Rainbow Nation। এর মূলে রয়েছে এক অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক কাঠামো যেখানে প্রতিশোধ নয়, বরং ঐকমত্য, সংলাপ ও সমন্বয় হবে মূল চালিকাশক্তি। জাতীয় সমন্বয় কমিশন (National Reconciliation Commission) গঠনের মাধ্যমে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক গোষ্ঠী ও মতাদর্শকে এক মঞ্চে আনার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এই কমিশনের কাজ হবে—
=> পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরি করা।
=> বিরোধ নিরসনে মধ্যস্থতা করা।
=> সামাজিক চুক্তির ভিত্তিতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা গড়ে তোলা।
এর মাধ্যমে বাংলাদেশে নতুন এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য ধরা হয়েছে—যেখানে বিরোধিতা থাকবে, কিন্তু সহিংসতা বা প্রতিশোধের রাজনীতি থাকবে না। এই প্রস্তাব কেবল একটি আদর্শ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রগঠনের কৌশল। সংবিধান সংস্কার কমিশন, নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা, ক্ষমতার ভারসাম্য ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের পুনর্গঠন—এসব দফার সঙ্গে এই ধারণাটি ওতপ্রোতভাবে যুক্ত।
রেইনবো নেশন ধারণার ইতিহাস
দক্ষিণ আফ্রিকা: ১৯৯৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবৈষম্যের অবসান ঘটে। আর্চবিশপ ডেসমন্ড টুটু প্রথম ‘Rainbow Nation’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করেন, পরে নেলসন ম্যান্ডেলা এটিকে জনপ্রিয় করে তোলেন। উদ্দেশ্য ছিল—বর্ণ, ধর্ম, সংস্কৃতি ও ভাষার বিভাজন অতিক্রম করে একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠন।
দক্ষিণ আফ্রিকা একটি বহুত্ববাদী সংবিধান গ্রহণ করে এবং Truth and Reconciliation Commission (TRC) গঠন করে। এটি রাজনৈতিক সহিংসতা ও বর্ণবাদী নিপীড়নের শিকারদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কাজ করে।
তবে এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে—রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি সফল হলেও দক্ষিণ আফ্রিকা এখনও অর্থনৈতিক বৈষম্যের শীর্ষে। বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, তাদের গিনি সূচক ০.৬৩। অর্থাৎ রাজনৈতিক সম্প্রীতির পাশাপাশি অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।
কানাডা: ১৯৮৮ সালের Multiculturalism Act এর মাধ্যমে বহুসাংস্কৃতিক নীতি আইনগতভাবে স্বীকৃতি পায়। ফলে অভিবাসী, সংখ্যালঘু ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সমান মর্যাদা নিশ্চিত হয় এবং কানাডা একটি শক্তিশালী, অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলে।
সিঙ্গাপুর: চার জাতিগোষ্ঠীর সমন্বয়ে গঠিত সিঙ্গাপুর আজ বিশ্বের অন্যতম সফল রাষ্ট্র। এখানে দক্ষ নেতৃত্ব, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান ও meritocracy নীতি অনুসরণ করে বহুত্ববাদকে রাষ্ট্রীয় শক্তিতে পরিণত করা হয়েছে।
মালয়েশিয়া: Bumiputera নীতি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সুবিধা রেখে সামাজিক বৈষম্য হ্রাসের চেষ্টা করেছে। যদিও সমালোচনা রয়েছে, তবে এটি অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের একটি দৃষ্টান্ত।
বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট: সংকট ও সম্ভাবনা
বাংলাদেশের বাস্তবতা দক্ষিণ আফ্রিকা, সিঙ্গাপুর বা কানাডার থেকে ভিন্ন। আমাদের দেশে প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো হলো—
=> নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থাহীনতা।
=> বিচার বিভাগের স্বাধীনতার অভাব।
=> রাজনৈতিক সহিংসতা ও দমননীতি।
=> ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক বৈষম্য।
=> নারী ও সংখ্যালঘুর সীমিত অংশগ্রহণ।
কিন্তু একই সাথে সম্ভাবনাও প্রবল। বাংলাদেশ বর্তমানে একটি উচ্চ প্রবৃদ্ধির দেশ। ২০২৩ সালে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ৫.৮%। জনসংখ্যার ৬৫% যুবক, যাদের দক্ষতা উন্নত করা গেলে বিশাল মানবসম্পদে রূপান্তরিত হতে পারে। ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার বাণিজ্য ও বিনিয়োগের কেন্দ্র হতে পারে।
এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে দরকার অন্তর্ভুক্তিমূলক, বৈষম্যহীন ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা, যা তারেক রহমানের ৩১ দফা প্রস্তাবে বিস্তারিতভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
তারেক রহমানের ৩১ দফা: অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ফর্মুলা
১. রাজনৈতিক সংস্কার
=> স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন।
=> বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও জবাবদিহিতা।
=> সংসদকে কার্যকর করা ও উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠা।
এর মাধ্যমে গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা নিশ্চিত হবে, রাজনৈতিক আস্থা দৃঢ় হবে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি উন্নত হবে।
২. অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার
=> ক্ষুদ্র-মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ ঋণ।
=> কৃষি আধুনিকায়ন ও আঞ্চলিক বৈষম্য হ্রাস।
=> নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) ২০২২ সালের হিসাবে দেশে দারিদ্র্যের হার দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৮.৭ শতাংশ। পরিকল্পিত উদ্যোগ, টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কার্যকর সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এ হার ১০ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা সম্ভব।
৩. সামাজিক অন্তর্ভুক্তি
=> নারী, সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
=> শিক্ষায় বহুত্ববাদ ও মানবিক মূল্যবোধ অন্তর্ভুক্ত করা।
বর্তমানে দেশের নারী শ্রমশক্তি অংশগ্রহণের হার দাঁড়িয়েছে ৩৮ শতাংশে। নারীর ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে এই হারকে ৫০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা সম্ভব। এটি অর্জিত হলে শুধু শ্রমবাজারে নারীর অবস্থানই মজবুত হবে না, বরং জাতীয় আয়ের প্রবৃদ্ধি, পরিবারিক সচ্ছলতা ও সামগ্রিক উন্নয়ন প্রক্রিয়াতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
৪. মানবসম্পদ উন্নয়ন
=> শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির অন্তত ৬% বিনিয়োগ।
=> ডিজিটাল দক্ষতা ও গবেষণায় বিনিয়োগ।
=> যুব উদ্যোক্তা তৈরির কর্মসূচি।
বাংলাদেশের মানব উন্নয়ন সূচক (HDI) বর্তমানে ০.৬৬১ (UNDP, ২০২৩)। তবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আয়ের ক্ষেত্রে কার্যকর সংস্কার বাস্তবায়িত হলে এ সূচক ০.৭৫-এর বেশি পর্যায়ে উন্নীত হতে পারে, যা বাংলাদেশকে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশের মানদণ্ডে পৌঁছে দেবে।
সম্ভাব্য সুফল
একটি শক্তিশালী, সুশাসিত ও উন্নত সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য প্রস্তাবিত নীতিমালার বাস্তবায়ন নিম্নলিখিত সুফল নিশ্চিত করবে:
১. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সহিংসতা হ্রাস: সুষ্ঠু ও সমন্বিত নীতি কার্যকর হলে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। এটি সামাজিক শান্তি ও দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
২. স্বচ্ছ নির্বাচন ও গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা: জনগণের ভোটাধিকার সুরক্ষা, নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরায় শক্তিশালী হবে।
৩. টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি: অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বার্ষিক ৭% বা তার বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হবে, যা কর্মসংস্থান, উৎপাদন ও জাতীয় সমৃদ্ধি বৃদ্ধি করবে।
৪. দারিদ্র্য ও বৈষম্য হ্রাস: দারিদ্র্য নিরসন এবং আয় ও সুযোগের বৈষম্য কমিয়ে দেশের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠা হবে।
৫. বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি: স্থিতিশীল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশে বৈদেশিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি পাবে, ফলে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি প্রবাহ ত্বরান্বিত হবে।
৬. নারী ও সংখ্যালঘুর ক্ষমতায়ন: নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে, যা সামাজিক উন্নয়ন ও ন্যায়বিচারের শক্ত ভিত্তি গড়ে তুলবে।
৭. শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে সবার জন্য সমান সুযোগ: মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় সমান প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হবে, যা সামাজিক অগ্রগতি ও মানব উন্নয়নের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
চ্যালেঞ্জ ও সমালোচনা
১. সব রাজনৈতিক শক্তির অংশগ্রহণ: গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে কার্যকর করতে হলে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। কিন্তু বাস্তবে এটি একটি কঠিন কাজ, কারণ ভিন্ন ভিন্ন স্বার্থ ও অবস্থান প্রায়শই অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।
২. কমিশনের স্বাধীনতা ও ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন: কোনো কমিশন বা সংস্থা গঠন করা হলেও তার স্বাধীনতা ও কার্যকর ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করাই এখানে বড় চ্যালেঞ্জ।
৩. আইনগত ও সাংবিধানিক বাধা: কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে হলে বিদ্যমান আইন ও সাংবিধানিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে হবে। এসব জটিলতা অতিক্রম করা একটি সময়সাপেক্ষ ও কঠিন প্রক্রিয়া।
৪. দক্ষ ও নিরপেক্ষ প্রশাসন গঠন: স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি দক্ষ, জবাবদিহিমূলক এবং নিরপেক্ষ প্রশাসনিক কাঠামো গঠন অপরিহার্য। বাস্তবে এ ধরনের প্রশাসন গঠন করাই অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।
৫. স্লোগান ও বাস্তবতার ফাঁক পূরণ: কেবল রাজনৈতিক স্লোগান বা প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনগণের আস্থা অর্জন সম্ভব নয়। বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে না পারলে আস্থা সংকট সৃষ্টি হয়।
৩১ দফার পূর্ণ বাস্তবায়ন শুধু একটি রাজনৈতিক ঘোষণার সফলতা নয়, বরং বাংলাদেশের জন্য এক নতুন জাতীয় জাগরণের সূচনা হবে। তখন বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম প্রকৃত অর্থে একটি ‘রেইনবো নেশন’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে—
রাজনৈতিকভাবে স্বচ্ছ– গণতান্ত্রিক চর্চা হবে প্রাতিষ্ঠানিক, নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য, আর রাষ্ট্র পরিচালনা হবে জবাবদিহিমূলক কাঠামোর মধ্যে।
অর্থনৈতিকভাবে ন্যায়ভিত্তিক– সম্পদ ও সুযোগের ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত হবে, দুর্নীতি ও বৈষম্য হ্রাস পাবে, আর উন্নয়নের সুফল পৌঁছাবে সর্বস্তরের মানুষের কাছে।
সামাজিকভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক– ধর্ম, জাতি, ভাষা, লিঙ্গ ও ভৌগোলিক বৈষম্যের ঊর্ধ্বে উঠে গড়ে উঠবে এক মানবিক সমাজব্যবস্থা, যেখানে প্রত্যেক নাগরিক সমান মর্যাদা ও সুযোগ ভোগ করবে।
এভাবেই ৩১ দফা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ কেবল একটি রাষ্ট্র নয়, বরং এক সাম্য, সচ্ছতা ও সহাবস্থানের আদর্শ মডেল হিসেবে দক্ষিণ এশিয়ার সামনে উদাহরণ স্থাপন করবে।
এমন একটি রাষ্ট্র মডেল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে যেমন ত্বরান্বিত করবে, তেমনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বিস্তৃত প্রভাব ফেলবে। ইতিহাস সাক্ষী, দক্ষিণ আফ্রিকা একসময় বৈশ্বিক পরিবর্তনের মানদণ্ডে পরিণত হয়েছিল; বাংলাদেশও আজ সেই সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ইতিহাসে দক্ষিণ আফ্রিকাকে যেমন ‘রেইনবো নেশন’ হিসেবে মনে রাখা হয়, তেমনি বাংলাদেশ যদি তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়ন করে তবে তাকে স্মরণ করা হবে বাংলাদেশের রেইনবো নেশন প্রতিষ্ঠার জনক হিসেবে।
তারেক রহমান তখন শুধু একটি রাজনৈতিক দলের নেতা নন, বরং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রদর্শনের স্থপতি হিসেবে বিশ্ব ইতিহাসে স্থান করে নেবেন—ডেসমন্ড টুটু ও নেলসন ম্যান্ডেলার পাশে।
বাংলাদেশের অর্ধশত বছরের ঘাটতি পূরণ করে একটি নতুন দিগন্তে পৌঁছানোর এই স্বপ্নই হলো বিএনপির সম্প্রীতিমূলক রাষ্ট্রসত্তা ও জাতীয় সমন্বয় কমিশন—একবিংশ শতকের আধুনিক রাষ্ট্রগঠনের রেইনবো নেশন ফর্মুলা।
লেখক: রাজনৈতিক ও উন্নয়ন কৌশলবিদ; প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, ভূঁইয়া গ্লোবাল ফাউন্ডেশন।





