ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

দেশের ভাগ্য নিয়ে খেলায় পুরনো শকুনেরা কি আবার সক্রিয়?

জিয়া আহমদ

প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩৫ পিএম
প্রতীকী ছবি

গত ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিশাল বিজয়ের পর বিএনপি সরকার গঠন করে। দীর্ঘ ২০ বছর পর একটি সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে দেশের মানুষের স্বাভাবিক প্রত্যাশা ছিল যে নবনির্বাচিত সরকার শান্তিপূর্ণভাবে দেশ পরিচালনার মাধ্যমে গত ২০ বছরে সংঘটিত নানা অনিয়ম দূর করতে পারবে এবং দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের যে অবিরাম সংগ্রাম, তা অন্তত কিছুটা হলেও অভীষ্ট লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাবে। কিন্তু দুর্ভাগ্য এ দেশের এবং দেশের মানুষের! নির্বাচনে জিতে সরকার গঠনের একদিনের মধ্যেই বিরোধী রাজনৈতিক নেতাসহ তাদের কর্মীরা এই সরকারকে উৎখাতের হুমকি দেওয়া শুরু করে; ঠিক যেমনভাবে আজ থেকে ৩৫ বছর আগে, ১৯৯১ সালে বিএনপির নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা হুমকি দিয়ে বলেছিলেন যে তিনি সরকারকে একদিনও শান্তিতে থাকতে দেবেন না। শেখ হাসিনা তার কথা রেখেছিলেন। তিনি বিএনপি সরকারের পাঁচ বছরে ১৭৩ দিন হরতাল, হাজার হাজার গাড়ি ভাঙচুর, জ্বালাও-পোড়াও ইত্যাদির মাধ্যমে দেশের মানুষের নাভিশ্বাস উঠিয়ে ছেড়েছিলেন। সে সময়ের নবীন রাজনৈতিক দল— বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের অধিকাংশ নেতার সংসদীয় পদ্ধতিতে সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার অভাবের কারণে তারা অনেক কিছু মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিলেন। আজ কিন্তু পরিস্থিতি আর সেরকম নেই।

Untitled-2
জিয়া আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

বস্তুত, শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে এমনভাবে বিভাজিত করে ফেলেছিলেন যে এখানে রাজনৈতিক বিরোধী মানেই শত্রু হিসেবে বিবেচিত হতো। সে কারণে দেশের রাজনৈতিক কর্মীরা তো বটেই, সাধারণ মানুষও তাদের রাজনৈতিক পছন্দ গোপন রাখতে সচেষ্ট থেকেছে। আর বাস্তবে রাজনীতির বিলুপ্তি ঘটিয়ে কোনো স্বীকৃত পদ্ধতিতে সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনাকে নির্মূল করে ফেলার কারণে ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান অনিবার্য হয়ে উঠেছিল। সে কারণেই সরকারি চাকরিতে ‘কোটা ব্যবস্থার’ সংস্কারের দাবিতে ছাত্রদের গড়ে ওঠা আন্দোলনে শহীদ আবু সাইদ, ওয়াসিম আকরাম ও মীর মুগ্ধের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তা শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এর আগে ২০১৬ ও ২০১৮ সালের ‘নিরাপদ সড়ক আন্দোলন’ এবং সরকারি চাকরিতে কোটা-বিরোধী আন্দোলন গড়ে উঠলেও তা সরকার পতনের আন্দোলনে রূপান্তরিত হতে পারেনি। বস্তুত, ঢাকা শহরের ‘এলিট’ শ্রেণির আন্দোলন কখনোই দেশের আপামর জনগণের সমর্থন পায়নি—বাংলাদেশের অতীতের আন্দোলনের ইতিহাস তাই বলে। ২০২৪-এর আন্দোলনের সময় শহীদ আবু সাইদের আত্মদান সারা দেশের মানুষকে এমনভাবে আলোড়িত করেছিল যে, এরপর আর ঘরে বসে থাকা সম্ভব ছিল না। দেশের সাধারণ মানুষ যখন ঘর থেকে বের হয়েছে, তখন তারা শেখ হাসিনার পতন ঘটানোর পরই ঘরে ফিরে গেছে।

ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে—Success has many fathers, failure is an orphan! আমাদের ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান সফল হওয়ার পর এর নানা ‘মাস্টারমাইন্ড’ ও সম্মুখযোদ্ধা বের হয়ে এলেন। কিন্তু সমস্যা হলো, এই মানুষগুলোর আন্দোলনে অংশগ্রহণের কোনো চিহ্ন সে সময়ে তোলা বা প্রচারিত ছবি কিংবা ভিডিওতে পাওয়া যায় না। সেই সময়ের ছবিগুলোতে যাদের দেখা যায়, তারা অভ্যুত্থান শেষে তাদের কাজে বা পড়াশোনায় ফিরে গেছে। গণ-অভ্যুত্থানের সামনের সারিতে যারা ছিলেন—অর্থাৎ কোটা-বিরোধী আন্দোলনের সংগঠকরা—তারা নানা পুলিশি হয়রানির কারণে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারেননি। তবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ডাক ও দিকনির্দেশনা তাদের কাছ থেকেই এসেছে—এ কথা অনস্বীকার্য।

গণ-অভ্যুত্থান সফল হওয়ার পর সামনের সারির কিছু যুবক সংগঠিতভাবে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, নিয়োগ-বদলি বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়ে। তারা সচিবালয়সহ দেশের বিভিন্ন সরকারি অফিস নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় অবৈধ আয়ের উৎস হিসেবে। একটি গ্রুপ নিজেদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ নাম দিয়ে সারা দেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের চেষ্টা শুরু করে। কিন্তু জুলাই ২০২৪-এ কোনো যুদ্ধ হয়নি; হয়েছিল একটি গণ-অভ্যুত্থান। মূলত ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানকে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সমান্তরালে দাঁড় করানোর অপচেষ্টার ফল এই ‘জুলাই যোদ্ধা’ নামকরণ। সে সময় সুবিধাভোগীরা সরকারে টিকে থাকার জন্য শহীদ ও আহতদের তালিকা তৈরি করে ভাতা প্রদান শুরু করে—স্বাধীনতা যুদ্ধের অনুকরণে। পরবর্তীতে দেখা যায়, তালিকাভুক্ত অনেকেই ওই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। ফলে একাধিকবার তালিকা সংশোধন করতে হয়েছে। কিন্তু কাজটি দ্রুততার সঙ্গে এবং যথেষ্ট যাচাই-বাছাই ছাড়া করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন

বর্তমানে সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলেও জুলাই অভ্যুত্থান স্বাধীনতা যুদ্ধের সমতুল্য নয়—এ বিষয়ে ইতোমধ্যেই অনেকেই একমত। দেশে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত একটি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর তথাকথিত জুলাই যোদ্ধা ও ধর্মান্ধ সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর আয়ের পথ সংকুচিত হয়েছে, যা তারা মেনে নিতে পারছে না। তাই শুরু হয়েছে নতুন ষড়যন্ত্র।

আওয়ামী লীগের গত সাড়ে সতেরো বছরের শাসনামলের আগে যে তিনটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল, তাতে দেশে দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে রাজনীতির একটি ধারা প্রতিষ্ঠিত হচ্ছিল। অন্যান্য রাজনৈতিক দল এই দুই দলের ছত্রছায়ায় রাজনীতিতে অভ্যস্ত হয়ে উঠছিল। কিন্তু শেখ হাসিনার ক্ষমতালিপ্সার কারণে সেই স্থিতাবস্থা ভেঙে পড়ে। তার শাসনামলে দমন-পীড়নের কারণে বিএনপি ও জামায়াত ছাড়া অন্য দলগুলোর প্রস্তুতি দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে সর্বশেষ নির্বাচনে বিএনপি আশানুরূপ ফল লাভ করলেও আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে জামায়াতও উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করে। ১৯৪১ সালে প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথমবারের মতো তারা এত বেশি আসন পায়।

এই প্রেক্ষাপটে কিছু গোষ্ঠী দেশের রাজনীতিকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে নানা অপতৎপরতা শুরু করেছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। প্রথমত, তারা রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে। দ্বিতীয়ত, ‘ডিপ স্টেট’ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করার চেষ্টা করছে। তৃতীয়ত, সামরিক বাহিনীর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে তাদের উত্ত্যক্ত করার চেষ্টা চলছে। চতুর্থত, ধর্মীয় বিষয়কে উস্কে দিয়ে সমাজে উগ্রতা ছড়ানোর অপচেষ্টা দেখা যাচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘বট বাহিনী’ ব্যবহার করে অপপ্রচার, ভুয়া তথ্য ছড়ানো এবং ব্যক্তিগত চরিত্রহনন এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই অপতৎপরতা শুধু ব্যক্তি নয়, রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার জন্যও হুমকি। এই ধরনের সংগঠিত প্রচারণার পেছনে অর্থের উৎস খুঁজে বের করা জরুরি।

বাংলাদেশের মানুষ বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাসী। সরকারের কাজের সমালোচনা অবশ্যই থাকা উচিত—কিন্তু তা হতে হবে তথ্যভিত্তিক ও বস্তুনিষ্ঠ। মিথ্যা প্রচার ও চরিত্রহনন কোনোভাবেই বাকস্বাধীনতার অংশ হতে পারে না। একই সঙ্গে সরকারের উচিত অপ্রয়োজনীয় কঠোরতা পরিহার করে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা।

দেশের জনগণ যেমন সুশাসন চায়, তেমনি একটি শক্তিশালী ও স্থিতিশীল সরকারও প্রত্যাশা করে। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অপপ্রচার যদি নিয়ন্ত্রণে আনা না যায়, তবে তা সরকারের দুর্বলতা হিসেবে প্রতীয়মান হবে। আর রাজনীতিতে জনমতের ধারণা বা ‘পার্সেপশন’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—এটি নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।

গণতন্ত্র ও সুশাসনের বিরোধিতাকারী এই কুচক্রী শক্তিকে প্রতিহত করা না গেলে দেশ আবারও অস্থিতিশীলতার দিকে ধাবিত হতে পারে। তাই এখনই সতর্ক হওয়া জরুরি।

লেখক: জিয়া আহমদ, নিরাপত্তা ও রাজনীতি বিশ্লেষক

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সন্ধিক্ষণ...
মহালয়া আসলে কোনো নির্দিষ্ট দিনের নাম নয়, মানুষের অস্তিত্বের ভেতরে বারবার ফিরে আসা এক সন্ধিক্ষণের নাম।
সন্ধিক্ষণ...
মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের শঙ্কায় ট্রাম্প
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শঙ্কায় আছেন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয় ও নিয়ন্ত্রণ হারানোর। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের চার বছর মেয়াদী কার্যকালের দুই বছর পর ঠিক মাঝপথে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে বলা হয় মধ্যবর্তী নির্বাচন।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের শঙ্কায় ট্রাম্প
শিক্ষক থেকে পথপ্রদর্শক: যাদের কাছে ঋণী আমি
আজ মহান শিক্ষক দিবস। জীবনের এই বিশেষ দিনে সবার আগে গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই আমার জীবনের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ শিক্ষক—আমার আম্মুকে। আমার জীবনের প্রতিটি ভালো অর্জনের পেছনে তার অবদান সবচেয়ে বেশি। তার ভালোবাসা, শাসন, ত্যাগ ও নিরন্তর অনুপ্রেরণাই আমাকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। তার কাছে আমার কৃতজ্ঞতার কোনো শেষ নেই। এরপর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি আমার স্কুলজীবনের প্রিয় ও শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের—প্রধান শিক্ষক দীন ইসলাম স্যার, ফরিদা ইয়াসমিন (আমার চাচি), নিপা মেম, হেলানা মেম ও ফাতেমা মেমকে। তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা ও স্নেহেই চতুর্থ শ্রেণিতে আমার জীবনের মোড় ঘুরতে শুরু করেছিল। তাদের শেখানো অনেক কথাই আজও আমার পথচলার অনুপ্রেরণা। প্রাথমিকের গণ্ডি পেরিয়ে যখন মাধ্যমিক জীবনে পা রাখলাম, তখন নতুন করে কিছু মানুষ আমার সামনে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন। তাদের স্নেহ, শাসন ও অনুপ্রেরণায় পেয়েছি নতুন পথের সন্ধান। তাদের মধ্যে প্রধান শিক্ষক রেহানা মেম, শিলা মেম, তানিয়া মেম, দোলা মেম, হুজুর স্যার ও রাসেল স্যার অন্যতম। তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকেই পেয়েছি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা, যা শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ ছিল না। এরপর এলো কলেজজীবন। জীবনের এই অধ্যায়েও কিছু মানুষ আমার স্বপ্নকে আরও বড় করে তুলেছেন। রাবেয়া মেম, দীপ্তি মেম, শামীম স্যার, দেলোয়ার স্যার ও আবুবকর স্যার—তাদের নাম আমি কখনোই ভুলতে পারব না। তারা আমাকে শুধু পড়াননি; বরং স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছেন, সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস দিয়েছেন এবং বিশ্বাস করিয়েছেন—‘আমি পারব।’ তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা, উৎসাহ ও অনুপ্রেরণার ফলেই আজ আমি দেশের অন্যতম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের একজন শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে তাদের অনুপ্রেরণায়ই ঢাবিতে (কলা অনুষদের নরমাল সাবজেক্টে), রাবি ও চবিতে ভর্তির সুযোগ হয়েছিল। আমার জীবনের সেই সময়ে তাদের উৎসাহ ও বিশ্বাস আমাকে ভীষণভাবে প্রভাবিত করেছিল। বর্তমানে আমার বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের পথচলায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের অবদানও আমি কখনো ভুলব না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়েও শিক্ষার্থীদের প্রতি তাদের যে স্নেহ, আন্তরিকতা ও ভালোবাসা—তা সত্যিই ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তাদের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত শুধু একাডেমিক শিক্ষা নয়, বরং জীবনকে কীভাবে আরও সুন্দরভাবে এগিয়ে নিতে হয়, সেটিও শেখার সুযোগ পাচ্ছি। শিক্ষাজীবনের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষকদের বাইরেও আমার জীবনে শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে আমার চাচাতো বড় বোন মিম আপুর। ছোটবেলা থেকেই তিনি আমাকে অনেক অঙ্ক অনুশীলন করিয়েছেন। তার সেই পরিশ্রম ও সময় দেওয়ার সুফল আমি আজও পাচ্ছি। অনেক সময় একজন শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে থাকেন না, কিন্তু তার শেখানোটা সারাজীবন আমাদের সঙ্গে থেকে যায়—মিম আপু আমার জন্য তেমনই একজন। এর পাশাপাশি ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা আমার শেখার জগৎকে আরও বিস্তৃত করেছে। সাংবাদিকতা করার সুবাদে আরটিভির অনলাইন ইনচার্জ আজাদ ভাই এবং শিফট ইনচার্জ ইমতিয়াজ ভাইয়ের কাছ থেকেও প্রতিনিয়ত অনেক কিছু শেখার সুযোগ পাচ্ছি। সংবাদকে কীভাবে দেখতে হয়, তথ্য যাচাই, দায়িত্বশীলতা, পেশাদারিত্ব এবং কাজের প্রতি আন্তরিকতা— এসব বিষয়ে তাদের কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষা আমার ভবিষ্যৎ পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাদের প্রতিও রইল আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আজ পেছনে ফিরে তাকালে বুঝতে পারি, আমার জীবনের প্রতিটি ধাপে কোনো না কোনো শিক্ষক আমার হাত ধরে সামনে এগিয়ে দিয়েছেন। কেউ শিখিয়েছেন কীভাবে ভালো মানুষ হতে হয়, কেউ শিখিয়েছেন কীভাবে কঠিন সময়ে হাল না ছেড়ে এগিয়ে যেতে হয়, আবার কেউ আমার ওপর বিশ্বাস রেখে আমাকে নিজের ওপর বিশ্বাস করতে শিখিয়েছেন। আজ আমি যে পরিচয়ে পরিচিত, তার পেছনে আমার বাবা-মায়ের পাশাপাশি আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের অবদান অনস্বীকার্য। তাদের দেওয়া শিক্ষা, শাসন, স্নেহ, ভালোবাসা ও অনুপ্রেরণা আমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদগুলোর একটি। আমার জীবনের পথচলায় যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে শিক্ষক হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন, তাদের প্রত্যেকের প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও অশেষ কৃতজ্ঞতা। শিক্ষক শুধু একটি পেশার নাম নয়; একজন শিক্ষক একটি জীবন বদলে দিতে পারেন। আর জীবনের এই দীর্ঘ পথে কিছু মানুষ শিক্ষক না হয়েও আমাদের অনেক কিছু শিখিয়ে যান। তাই এই মহান দিবসে আমার শিক্ষকদেরসহ বিশ্বের সকল শিক্ষকের প্রতি জানাই কৃতজ্ঞতা। শুভ শিক্ষক দিবস। আবুবকর সম্পদ জবি সংবাদদাতা, আরটিভি আহ্বায়ক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটি আরটিভি/এমএইচজে
শিক্ষক থেকে পথপ্রদর্শক: যাদের কাছে ঋণী আমি
চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার আগে দ্বিতীয় মতামত কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত একটি পরিবারের জন্য বড় সিদ্ধান্ত। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে অর্থ, সময়, মানসিক চাপ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—চিকিৎসা নিয়ে প্রত্যাশা। তাই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আমার কাছে একটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়—দ্বিতীয় মতামত নেওয়া। দ্বিতীয় মতামত মানে প্রথম চিকিৎসককে অবিশ্বাস করা নয়। বরং গুরুত্বপূর্ণ কোনো চিকিৎসা সিদ্ধান্তের আগে আরেকজন যোগ্য বিশেষজ্ঞের মতামত জানা। এতে রোগী ও পরিবার রোগের অবস্থা, চিকিৎসার বিকল্প, সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং দেশে বা বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পেতে পারেন। আমাদের দেশে কোনো জটিল রোগ ধরা পড়লেই অনেক পরিবার প্রথমে বিদেশে যাওয়ার কথা ভাবেন। আবার কেউ পরিচিত কারও অভিজ্ঞতাকে নিজের চিকিৎসার সিদ্ধান্তের ভিত্তি করেন। কিন্তু একই রোগ হলেও প্রতিটি রোগীর অবস্থা, চিকিৎসার প্রয়োজন এবং ঝুঁকি এক নয়। তাই একজনের ভালো অভিজ্ঞতা অন্যজনের জন্য একই ফল নিশ্চিত করে না। আমার দৃষ্টিতে, বিদেশে যাওয়ার আগে প্রথম প্রশ্ন হওয়া উচিত—“আমার চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়া কি সত্যিই প্রয়োজন?” এর উত্তর পেতে কয়েকটি বিষয় জানা দরকার। রোগটি ঠিক কী? চিকিৎসার উদ্দেশ্য কী? দেশে এই চিকিৎসার উপযুক্ত সক্ষমতা আছে কি না? বিদেশে গেলে অতিরিক্ত কী সুবিধা পাওয়া যাবে? সম্ভাব্য খরচ কত? আর চিকিৎসার পরবর্তী পর্যায়ের চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ কীভাবে হবে? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও রোগীর চিকিৎসা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে অংশগ্রহণ এবং চিকিৎসক ও রোগীর যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরে। চিকিৎসার মান শুধু একটি নির্দিষ্ট চিকিৎসাপদ্ধতির ওপর নির্ভর করে না; নিরাপত্তা, রোগীকেন্দ্রিকতা, সময়োপযোগিতা এবং চিকিৎসার ধারাবাহিকতাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে জটিল বা দীর্ঘমেয়াদি রোগের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশে গিয়ে একটি চিকিৎসা করিয়ে দেশে ফিরে আসার পর পরবর্তী চিকিৎসা কোথায় হবে, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা কোথায় হবে এবং চিকিৎসার তথ্য স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে কীভাবে পৌঁছাবে—এসবও সিদ্ধান্তের অংশ হওয়া উচিত। কারণ চিকিৎসা একটি দিনের ঘটনা নয়; এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। তবে দ্বিতীয় মতামত নেওয়া মানেই চিকিৎসা পরিবর্তন করতে হবে—এমন নয়। অনেক সময় দ্বিতীয় বিশেষজ্ঞের মতামত প্রথম চিকিৎসা পরিকল্পনাকেই আরও পরিষ্কার করে। আবার কখনো নতুন কোনো বিকল্প সামনে আসতে পারে। মূল বিষয় হলো—রোগী যেন নিজের চিকিৎসা সম্পর্কে বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়া ভুল—এমন কথা বলা যেমন ঠিক নয়, তেমনি বিদেশে গেলেই ভালো চিকিৎসা পাওয়া যাবে—এমন ধারণাও সব ক্ষেত্রে সঠিক নয়। কিছু বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাওয়া প্রয়োজন হতে পারে। আবার অনেক চিকিৎসার জন্য দেশের মধ্যেই উপযুক্ত সক্ষমতা থাকতে পারে। তাই আমার কাছে বিদেশে চিকিৎসার প্রশ্নটি “দেশ না বিদেশ”—এভাবে দেখার চেয়ে “প্রয়োজনের জন্য সঠিক জায়গা কোথায়?”—এই প্রশ্নে দেখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একটি ভালো স্বাস্থ্যব্যবস্থা রোগীকে কোনো একটি সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দেয় না। বরং তাকে সঠিক তথ্য, প্রয়োজনীয় বিকল্প এবং যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ দেয়। শেষ পর্যন্ত রোগী বিদেশে যাবেন, নাকি দেশে চিকিৎসা নেবেন—সিদ্ধান্তটি তার। আমাদের দায়িত্ব হলো সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তাকে যথেষ্ট তথ্য ও আস্থার সুযোগ দেওয়া। কারণ চিকিৎসার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে কখনো কখনো আরেকজন বিশেষজ্ঞের মতামত শুধু একটি অতিরিক্ত পরামর্শ নয়— এটি হতে পারে আরও সচেতন সিদ্ধান্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। লেখক: মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন মামুন হেড অব ডিজিটাল, ব্র্যান্ড অ্যান্ড পিআর এভারকেয়ার হাসপাতাল চট্টগ্রাম। আরটিভি/ এসকেডি
চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার আগে দ্বিতীয় মতামত কেন গুরুত্বপূর্ণ?
আঞ্চলিক লজিস্টিকস ও শিল্পের হাব হতে পারে বাংলাদেশ: জেট্রো
ভৌগোলিক অবস্থান ও বিপুল জনসংখ্যার কারণে দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে আঞ্চলিক লজিস্টিকস ও শিল্পের কেন্দ্রে (হাব) পরিণত হওয়ার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশের।
আঞ্চলিক লজিস্টিকস ও শিল্পের হাব হতে পারে বাংলাদেশ: জেট্রো
আরও পড়ুন
আমি যাকে ভোট দিই, সেই জেতে: মিষ্টি জান্নাত
ভোট দিলেন মামুনুল হক
বিরল প্রজাতির হিমালয়ান গৃধিনী শকুন উদ্ধার
জাতীয় সংসদ নির্বাচন: প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ চলছে