ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

এত সচেতনতা সত্ত্বেও কেন থামল না আতশবাজি?

মোনছেফা তৃপ্তি

প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:১৩ পিএম
মোনছেফা তৃপ্তি। ছবি: ফাইল

প্রতি বছর নতুন বছরের প্রাক্কালে একই দৃশ্য— নিষেধাজ্ঞা, সচেতনতামূলক প্রচারণা, সংবাদ প্রতিবেদন আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ; তবু রাত নামলেই ঢাকার আকাশ আলো–শব্দে ফেটে পড়ে। প্রশ্নটা কি শুধু আইন বা ব্যবস্থাপনার, নাকি প্রশ্নটা মানুষের ভেতরের মনস্তাত্ত্বিক চালচিত্রের—সে বিষয়ে আমাদের নিজস্ব বোঝাপড়া জরুরি। আমরা অনেকেই আতশবাজির ক্ষতিকর দিক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছি, আবার ঠিক মধ্যরাতেই এই আতশবাজির উন্মাদনায় গা ভাসিয়েছি। আমরা জানি আতশবাজি ক্ষতিকর—তবু করি। এই ‘জানা–করা’র ফাঁকটাই আসলে সমস্যার কেন্দ্রে।

মানুষের আচরণবিজ্ঞানে একে বলা হয় কগনিটিভ ডিসোন্যান্স— মনে বিশ্বাস আর কাজে আচরণের দ্বন্দ্ব। আমরা বিশ্বাস করি পরিবেশ রক্ষা জরুরি, আবার উৎসবের রাতে নিজেকে বলি, ‘একটু হলে কী হয়!’ এই একটু–ই পরে সমষ্টিগত বিপর্যয় হয়। এরসঙ্গে যোগ হয় সামাজিক অনুকরণ। একজন শুরু করলে পাশেরজন থামতে চায় না। আনন্দ যেন ব্যক্তিগত নয়, প্রতিযোগিতামূলক— কে বেশি শব্দ করবে, কে বেশি আলো জ্বালাবে। এই প্রতিযোগিতার ভেতর লুকিয়ে থাকে আরেকটি মনস্তাত্ত্বিক ভয়— আমি বাদ পড়ে যাব না তো? তাই সচেতনতা থাকা সত্ত্বেও আচরণ বদলায় না।

এখানে আনন্দের একটি বিকৃত ধারণাও কাজ করে। আমাদের সংস্কৃতিতে আনন্দকে নীরব, দায়িত্বশীল বা সংযতভাবে উদযাপনের চর্চা দুর্বল। শব্দ যত বেশি, আনন্দ তত বড়— এই সমীকরণ বহুদিন ধরে মাথায় গেঁথে গেছে। ফলে আইন বা অনুরোধকে মানুষ আনন্দের ‘শত্রু’ ভাবতে শেখে। এ কারণে নিষেধাজ্ঞা অনেক সময় উল্টো প্রতিক্রিয়া তৈরি করে—নিয়ম ভাঙাটাই যেন রোমাঞ্চ।

আমাদের এই নিয়মভাঙ্গা রোমাঞ্চের সরাসরি প্রভাব পড়ে ঢাকার বাতাসে। নতুন বছরের রাতে ঢাকায় অতি সূক্ষ্ম বস্তুকণা হঠাৎ বেড়ে যায়। বিভিন্ন পরিবেশবিষয়ক পর্যবেক্ষণ ও সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ওই রাতে ঢাকার বায়ুদূষণ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৩০–৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। আতশবাজির ধোঁয়ায় সালফার, নাইট্রেট ও ভারী ধাতুর কণা বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে, যা শ্বাসতন্ত্রের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। শিশু, বয়স্ক, অ্যাজমা ও হৃদরোগীদের জন্য এই কয়েক ঘণ্টার ‘আনন্দ’ পরিণত হয় কয়েক সপ্তাহের শারীরিক ভোগান্তিতে।

শব্দদূষণও একইভাবে বেড়ে যায়। স্বাভাবিক মাত্রার তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশের বেশি, যা মানসিক চাপ ও ঘুমের সমস্যাকে বাড়িয়ে দেয়।
মানুষের পাশাপাশি সবচেয়ে নীরব ভুক্তভোগী হলো পাখি। বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণ ও বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বর্ষবরণের রাতেই ঢাকায় শতাধিক পাখির মৃত্যু হয়েছে। শব্দের তীব্রতায় পাখিরা দিশেহারা হয়ে পড়ে। অনেকে উড়ে গিয়ে বৈদ্যুতিক তারে আঘাত পায়, অনেকে ভবনের কাচে ধাক্কা খায়, আবার অনেকে ধোঁয়ার কারণে শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়। বিশেষ করে চড়ুই, কাক ও শহরে বসবাসকারী ছোট পাখিরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুধু মৃত্যু নয়— অনেক পাখি তাদের বাসা ছেড়ে এলাকা বদলাতে বাধ্য হয়েছে, যা নগরের জীববৈচিত্র্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি।

এই ক্ষতির সঙ্গে যোগ হয় অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি। প্রতিবছরই দেখা যায়, ফানুস ও আতশবাজি থেকে আগুন লাগার ঘটনা। নতুন বছরের রাত ও পরবর্তী সময়ে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ফানুস থেকে ছাদে বা ঝোপে আগুন লাগার একাধিক ঘটনা ঘটে বলে সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স বারবার সতর্ক করলেও বাস্তবে তা পুরোপুরি মানা হয় না। অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা এড়ানো গেলেও ঝুঁকিটা থেকেই যায়—ঘনবসতিপূর্ণ ঢাকায় যা যে কোনো সময় ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

তাহলে প্রশ্ন— আইন থাকলেও কেন কাজ করে না? কারণ আইন প্রয়োগের দৃশ্যমানতা কম। মানুষ নিয়ম মানে তখনই, যখন নিয়ম ভাঙার পরিণতি চোখে পড়ে। পাশাপাশি রয়েছে বাণিজ্যিক স্বার্থ। উৎসব এলেই আতশবাজির অবৈধ বা অর্ধ-আইনি বাজার সক্রিয় হয়। এই বাজার নিয়ন্ত্রণ না করলে শুধু সচেতনতা দিয়ে পরিস্থিতি বদলানো যায় না।

সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি আসলে নৈতিক—কার আনন্দ, কার কষ্টের বিনিময়ে? যে শিশু শব্দে কেঁপে ওঠে, যে বয়স্ক মানুষ আতঙ্কে রাত কাটায়, যে অসুস্থ মানুষ নিশ্বাস নিতে লড়াই করে, কিংবা যে পাখি আকাশ থেকে ঝরে পড়ে—তারা আমাদের আনন্দের গল্পে জায়গা পায় না। এই অদৃশ্য মানুষ ও প্রাণীদের আমরা নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করতে পারিনি বলেই আমাদের ভেতরে দায়বদ্ধতাও জন্ম নেয় না। যে আনন্দে সবার ভাগ থাকে না, যে আনন্দ কারও জন্য আতঙ্ক, কারও জন্য ক্ষতি আর কারও জন্য মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়— তা কীভাবে একজন মানবিক মানুষের আনন্দ হতে পারে? প্রকৃত আনন্দ তো কাউকে বাদ দিয়ে, কাউকে কষ্ট দিয়ে জন্ম নিতে পারে না। নিজের সুখ যদি অন্যের ক্ষতির ওপর দাঁড়িয়ে থাকে, তবে সেই সুখে কোনো নৈতিক সৌন্দর্য নেই। প্রকৃতি, প্রাণ ও মানুষের সঙ্গে সহমর্মিতা না থাকলে উৎসবের আলোও অন্ধকার হয়ে ওঠে। সত্যিকারের আনন্দ সেখানে, যেখানে উদযাপন মানে জীবনের প্রতি সম্মান—ধ্বংসের উল্লাস নয়।

শেষ পর্যন্ত সত্যিটা কঠিন হলেও সরল সচেতনতা ছিল, আছে। কিন্তু মনস্তাত্ত্বিক দায়বদ্ধতা ও সমষ্টিগত দায়িত্ববোধ না থাকলে সচেতনতা আচরণে রূপ নেয় না। ঢাকার আকাশে শব্দ ও ধোঁয়া থামাতে হলে, আগে আমাদের মাথার ভেতরের এই ভুল আনন্দের ধারণাটাই বদলাতে হবে। সমাধান তাই একমাত্রিক নয়। প্রয়োজন বহুমুখী উদ্যোগ, আনন্দের ধারণা বদলানো, নীরব ও পরিবেশবান্ধব উদযাপনকে সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য করা, নিয়মিত ও দৃশ্যমান আইন প্রয়োগ, অবৈধ বাজার বন্ধ করা এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—মানুষের ভেতরে সহানুভূতির বোধ জাগানো।

পরিবেশ ও মানবিক উপায়ে নতুন বছর উদযাপন করা সম্ভব—যেখানে আনন্দ থাকবে, কিন্তু কোনো প্রাণ বা প্রকৃতির ক্ষতি হবে না। আতশবাজির বদলে পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে নীরব আলোর আয়োজন করা যেতে পারে— মোমবাতি, প্রদীপ বা সৌরশক্তিচালিত লাইট ব্যবহার করে। মধ্যরাতে শব্দহীন কাউন্টডাউন, কবিতা পাঠ, গান বা আড্ডা হতে পারে আনন্দের কেন্দ্র। পাড়াভিত্তিকভাবে গাছ লাগানো, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, বা দুস্থ মানুষের জন্য খাবার ও শীতবস্ত্র বিতরণ নতুন বছরের প্রথম কাজ হতে পারে। শিশুদের নিয়ে প্রকৃতি–বান্ধব খেলাধুলা, বই পড়া বা চিত্রাঙ্কনের আয়োজন করা যায়। ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রার্থনা, ধ্যান ও আত্মসমালোচনার সময় রাখা যেতে পারে—যাতে নতুন বছরটি কেবল উদযাপনের নয়, বরং মানবিক ও দায়িত্বশীল হওয়ার অঙ্গীকারের সূচনা হয়। আনন্দ তখন শব্দে নয়, সহমর্মিতা, মানবিক মূল্যবোধ ও সচেতনতায় প্রকাশ পাবে—এটাই হতে পারে নতুন বছরের সবচেয়ে সুন্দর উদযাপন।

লেখক: পরিবেশ ও নারী অধিকারকর্মী

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সন্ধিক্ষণ...
মহালয়া আসলে কোনো নির্দিষ্ট দিনের নাম নয়, মানুষের অস্তিত্বের ভেতরে বারবার ফিরে আসা এক সন্ধিক্ষণের নাম।
সন্ধিক্ষণ...
মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের শঙ্কায় ট্রাম্প
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শঙ্কায় আছেন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয় ও নিয়ন্ত্রণ হারানোর। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের চার বছর মেয়াদী কার্যকালের দুই বছর পর ঠিক মাঝপথে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে বলা হয় মধ্যবর্তী নির্বাচন।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের শঙ্কায় ট্রাম্প
শিক্ষক থেকে পথপ্রদর্শক: যাদের কাছে ঋণী আমি
আজ মহান শিক্ষক দিবস। জীবনের এই বিশেষ দিনে সবার আগে গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই আমার জীবনের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ শিক্ষক—আমার আম্মুকে। আমার জীবনের প্রতিটি ভালো অর্জনের পেছনে তার অবদান সবচেয়ে বেশি। তার ভালোবাসা, শাসন, ত্যাগ ও নিরন্তর অনুপ্রেরণাই আমাকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। তার কাছে আমার কৃতজ্ঞতার কোনো শেষ নেই। এরপর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি আমার স্কুলজীবনের প্রিয় ও শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের—প্রধান শিক্ষক দীন ইসলাম স্যার, ফরিদা ইয়াসমিন (আমার চাচি), নিপা মেম, হেলানা মেম ও ফাতেমা মেমকে। তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা ও স্নেহেই চতুর্থ শ্রেণিতে আমার জীবনের মোড় ঘুরতে শুরু করেছিল। তাদের শেখানো অনেক কথাই আজও আমার পথচলার অনুপ্রেরণা। প্রাথমিকের গণ্ডি পেরিয়ে যখন মাধ্যমিক জীবনে পা রাখলাম, তখন নতুন করে কিছু মানুষ আমার সামনে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন। তাদের স্নেহ, শাসন ও অনুপ্রেরণায় পেয়েছি নতুন পথের সন্ধান। তাদের মধ্যে প্রধান শিক্ষক রেহানা মেম, শিলা মেম, তানিয়া মেম, দোলা মেম, হুজুর স্যার ও রাসেল স্যার অন্যতম। তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকেই পেয়েছি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা, যা শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ ছিল না। এরপর এলো কলেজজীবন। জীবনের এই অধ্যায়েও কিছু মানুষ আমার স্বপ্নকে আরও বড় করে তুলেছেন। রাবেয়া মেম, দীপ্তি মেম, শামীম স্যার, দেলোয়ার স্যার ও আবুবকর স্যার—তাদের নাম আমি কখনোই ভুলতে পারব না। তারা আমাকে শুধু পড়াননি; বরং স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছেন, সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস দিয়েছেন এবং বিশ্বাস করিয়েছেন—‘আমি পারব।’ তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা, উৎসাহ ও অনুপ্রেরণার ফলেই আজ আমি দেশের অন্যতম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের একজন শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে তাদের অনুপ্রেরণায়ই ঢাবিতে (কলা অনুষদের নরমাল সাবজেক্টে), রাবি ও চবিতে ভর্তির সুযোগ হয়েছিল। আমার জীবনের সেই সময়ে তাদের উৎসাহ ও বিশ্বাস আমাকে ভীষণভাবে প্রভাবিত করেছিল। বর্তমানে আমার বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের পথচলায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের অবদানও আমি কখনো ভুলব না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়েও শিক্ষার্থীদের প্রতি তাদের যে স্নেহ, আন্তরিকতা ও ভালোবাসা—তা সত্যিই ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তাদের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত শুধু একাডেমিক শিক্ষা নয়, বরং জীবনকে কীভাবে আরও সুন্দরভাবে এগিয়ে নিতে হয়, সেটিও শেখার সুযোগ পাচ্ছি। শিক্ষাজীবনের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষকদের বাইরেও আমার জীবনে শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে আমার চাচাতো বড় বোন মিম আপুর। ছোটবেলা থেকেই তিনি আমাকে অনেক অঙ্ক অনুশীলন করিয়েছেন। তার সেই পরিশ্রম ও সময় দেওয়ার সুফল আমি আজও পাচ্ছি। অনেক সময় একজন শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে থাকেন না, কিন্তু তার শেখানোটা সারাজীবন আমাদের সঙ্গে থেকে যায়—মিম আপু আমার জন্য তেমনই একজন। এর পাশাপাশি ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা আমার শেখার জগৎকে আরও বিস্তৃত করেছে। সাংবাদিকতা করার সুবাদে আরটিভির অনলাইন ইনচার্জ আজাদ ভাই এবং শিফট ইনচার্জ ইমতিয়াজ ভাইয়ের কাছ থেকেও প্রতিনিয়ত অনেক কিছু শেখার সুযোগ পাচ্ছি। সংবাদকে কীভাবে দেখতে হয়, তথ্য যাচাই, দায়িত্বশীলতা, পেশাদারিত্ব এবং কাজের প্রতি আন্তরিকতা— এসব বিষয়ে তাদের কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষা আমার ভবিষ্যৎ পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাদের প্রতিও রইল আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আজ পেছনে ফিরে তাকালে বুঝতে পারি, আমার জীবনের প্রতিটি ধাপে কোনো না কোনো শিক্ষক আমার হাত ধরে সামনে এগিয়ে দিয়েছেন। কেউ শিখিয়েছেন কীভাবে ভালো মানুষ হতে হয়, কেউ শিখিয়েছেন কীভাবে কঠিন সময়ে হাল না ছেড়ে এগিয়ে যেতে হয়, আবার কেউ আমার ওপর বিশ্বাস রেখে আমাকে নিজের ওপর বিশ্বাস করতে শিখিয়েছেন। আজ আমি যে পরিচয়ে পরিচিত, তার পেছনে আমার বাবা-মায়ের পাশাপাশি আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের অবদান অনস্বীকার্য। তাদের দেওয়া শিক্ষা, শাসন, স্নেহ, ভালোবাসা ও অনুপ্রেরণা আমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদগুলোর একটি। আমার জীবনের পথচলায় যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে শিক্ষক হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন, তাদের প্রত্যেকের প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও অশেষ কৃতজ্ঞতা। শিক্ষক শুধু একটি পেশার নাম নয়; একজন শিক্ষক একটি জীবন বদলে দিতে পারেন। আর জীবনের এই দীর্ঘ পথে কিছু মানুষ শিক্ষক না হয়েও আমাদের অনেক কিছু শিখিয়ে যান। তাই এই মহান দিবসে আমার শিক্ষকদেরসহ বিশ্বের সকল শিক্ষকের প্রতি জানাই কৃতজ্ঞতা। শুভ শিক্ষক দিবস। আবুবকর সম্পদ জবি সংবাদদাতা, আরটিভি আহ্বায়ক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটি আরটিভি/এমএইচজে
শিক্ষক থেকে পথপ্রদর্শক: যাদের কাছে ঋণী আমি
চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার আগে দ্বিতীয় মতামত কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত একটি পরিবারের জন্য বড় সিদ্ধান্ত। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে অর্থ, সময়, মানসিক চাপ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—চিকিৎসা নিয়ে প্রত্যাশা। তাই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আমার কাছে একটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়—দ্বিতীয় মতামত নেওয়া। দ্বিতীয় মতামত মানে প্রথম চিকিৎসককে অবিশ্বাস করা নয়। বরং গুরুত্বপূর্ণ কোনো চিকিৎসা সিদ্ধান্তের আগে আরেকজন যোগ্য বিশেষজ্ঞের মতামত জানা। এতে রোগী ও পরিবার রোগের অবস্থা, চিকিৎসার বিকল্প, সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং দেশে বা বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পেতে পারেন। আমাদের দেশে কোনো জটিল রোগ ধরা পড়লেই অনেক পরিবার প্রথমে বিদেশে যাওয়ার কথা ভাবেন। আবার কেউ পরিচিত কারও অভিজ্ঞতাকে নিজের চিকিৎসার সিদ্ধান্তের ভিত্তি করেন। কিন্তু একই রোগ হলেও প্রতিটি রোগীর অবস্থা, চিকিৎসার প্রয়োজন এবং ঝুঁকি এক নয়। তাই একজনের ভালো অভিজ্ঞতা অন্যজনের জন্য একই ফল নিশ্চিত করে না। আমার দৃষ্টিতে, বিদেশে যাওয়ার আগে প্রথম প্রশ্ন হওয়া উচিত—“আমার চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়া কি সত্যিই প্রয়োজন?” এর উত্তর পেতে কয়েকটি বিষয় জানা দরকার। রোগটি ঠিক কী? চিকিৎসার উদ্দেশ্য কী? দেশে এই চিকিৎসার উপযুক্ত সক্ষমতা আছে কি না? বিদেশে গেলে অতিরিক্ত কী সুবিধা পাওয়া যাবে? সম্ভাব্য খরচ কত? আর চিকিৎসার পরবর্তী পর্যায়ের চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ কীভাবে হবে? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও রোগীর চিকিৎসা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে অংশগ্রহণ এবং চিকিৎসক ও রোগীর যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরে। চিকিৎসার মান শুধু একটি নির্দিষ্ট চিকিৎসাপদ্ধতির ওপর নির্ভর করে না; নিরাপত্তা, রোগীকেন্দ্রিকতা, সময়োপযোগিতা এবং চিকিৎসার ধারাবাহিকতাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে জটিল বা দীর্ঘমেয়াদি রোগের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশে গিয়ে একটি চিকিৎসা করিয়ে দেশে ফিরে আসার পর পরবর্তী চিকিৎসা কোথায় হবে, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা কোথায় হবে এবং চিকিৎসার তথ্য স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে কীভাবে পৌঁছাবে—এসবও সিদ্ধান্তের অংশ হওয়া উচিত। কারণ চিকিৎসা একটি দিনের ঘটনা নয়; এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। তবে দ্বিতীয় মতামত নেওয়া মানেই চিকিৎসা পরিবর্তন করতে হবে—এমন নয়। অনেক সময় দ্বিতীয় বিশেষজ্ঞের মতামত প্রথম চিকিৎসা পরিকল্পনাকেই আরও পরিষ্কার করে। আবার কখনো নতুন কোনো বিকল্প সামনে আসতে পারে। মূল বিষয় হলো—রোগী যেন নিজের চিকিৎসা সম্পর্কে বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়া ভুল—এমন কথা বলা যেমন ঠিক নয়, তেমনি বিদেশে গেলেই ভালো চিকিৎসা পাওয়া যাবে—এমন ধারণাও সব ক্ষেত্রে সঠিক নয়। কিছু বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাওয়া প্রয়োজন হতে পারে। আবার অনেক চিকিৎসার জন্য দেশের মধ্যেই উপযুক্ত সক্ষমতা থাকতে পারে। তাই আমার কাছে বিদেশে চিকিৎসার প্রশ্নটি “দেশ না বিদেশ”—এভাবে দেখার চেয়ে “প্রয়োজনের জন্য সঠিক জায়গা কোথায়?”—এই প্রশ্নে দেখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একটি ভালো স্বাস্থ্যব্যবস্থা রোগীকে কোনো একটি সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দেয় না। বরং তাকে সঠিক তথ্য, প্রয়োজনীয় বিকল্প এবং যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ দেয়। শেষ পর্যন্ত রোগী বিদেশে যাবেন, নাকি দেশে চিকিৎসা নেবেন—সিদ্ধান্তটি তার। আমাদের দায়িত্ব হলো সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তাকে যথেষ্ট তথ্য ও আস্থার সুযোগ দেওয়া। কারণ চিকিৎসার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে কখনো কখনো আরেকজন বিশেষজ্ঞের মতামত শুধু একটি অতিরিক্ত পরামর্শ নয়— এটি হতে পারে আরও সচেতন সিদ্ধান্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। লেখক: মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন মামুন হেড অব ডিজিটাল, ব্র্যান্ড অ্যান্ড পিআর এভারকেয়ার হাসপাতাল চট্টগ্রাম। আরটিভি/ এসকেডি
চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার আগে দ্বিতীয় মতামত কেন গুরুত্বপূর্ণ?
আঞ্চলিক লজিস্টিকস ও শিল্পের হাব হতে পারে বাংলাদেশ: জেট্রো
ভৌগোলিক অবস্থান ও বিপুল জনসংখ্যার কারণে দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে আঞ্চলিক লজিস্টিকস ও শিল্পের কেন্দ্রে (হাব) পরিণত হওয়ার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশের।
আঞ্চলিক লজিস্টিকস ও শিল্পের হাব হতে পারে বাংলাদেশ: জেট্রো
আরও পড়ুন
মিরপুরে আতশবাজি বিস্ফোরণে দগ্ধ ৪ 
চীনের আতশবাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ২১
ভারতে আতশবাজি কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত অন্তত ২০
চীনে আতশবাজির দোকানে বিস্ফোরণ, নিহত ১২