ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

‘ভোটের মাঠে আমার দেখা যত ধরনের কারচুপি’

খন্দকার ইসমাইল

প্রকাশ : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩৩ পিএম
প্রতীকী ছবি

নির্বাচনকে প্রভাবিত করার জন্য নানা কৌশলে কারচুপির চেষ্টা করা হচ্ছে, এমন অভিযোগ সামনে আসছে। বিভিন্ন এলাকায় একটি পক্ষ বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, বিকাশ নম্বর ও ঠিকানা সংগ্রহ করছে। অভিযোগ রয়েছে, যেসব ভোটার মারা গেছেন, প্রবাসে আছেন বা ভোট দিতে বাড়ি আসবেন না-তাদের আলাদা করে চিহ্নিত করা হচ্ছে। পরে এসব তথ্য ব্যবহার করে ভুয়া পরিচয়পত্র তৈরি করে জাল ভোট দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। জাল ভোটে ব্যবহারের জন্য নারী-পুরুষকে বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য মুখস্থ করেছে যেন জিজ্ঞাসাবাদেও ধরা না পড়ে।

ভোটাদের প্রভাবিত করতে অর্থ লেনদেনের নতুন কৌশলও ব্যবহৃত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিম্ন আয়ের ভোটারদের ভোটের আগের দিন বিকাশে টাকা পাঠানো হবে। আবার যারা সন্মানিত ব্যাক্তি সরাসরি টাকা দেওয়া কঠিন, তাদের মোবাইল নম্বরে হ্যান্ডসাম আ্যামাউন্ট পাঠিয়ে দেওয়া হবে, যা ফেরত দেওয়ার সুযোগ থাকবেনা। এতে সামাজিক ও মানসিক চাপে পড়ে অনেকেই দুর্বল অবস্থানে চলে যাবেন । ভোটের দিন এসব ভোটারকে ফোন করে বা বাহন পাঠিয়ে কেন্দ্রে আনার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।

ভোটকেন্দ্রের ভেতরেও ভোটের হার কমানো-বাড়ানোর কৌশল নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিরোধী দলের শক্ত ঘাঁটিতে ভোটারদের নানা প্রশ্ন করে সময় নষ্ট করা হয়, ফলে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ বিরক্ত হয়ে চলে যায়। কোথাও কৃত্রিম ঝগড়া বা বিশৃঙ্খলা তৈরি করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ডাকা হয়, এতে ভয় পেয়ে অনেক সাধারণ ভোটার কেন্দ্র ত্যাগ করেন। ফলে যেখানে স্বাভাবিকভাবে ৭০ শতাংশ ভোট পড়ার কথা, সেখানে ভোট নেমে আসে অনেক কমে। অন্যদিকে নিজেদের সমর্থিত কেন্দ্রে দ্রুত ব্যালট দিয়ে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ভোট গ্রহণ করা হয়।

ভোটার স্থানান্তর নিয়েও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। যেসব আসনে একটি দলের জয়ের সম্ভাবনা কম, সেসব এলাকা থেকে ভোটারদের কাগজপত্র ছাড়াই অন্য আসনে স্থানান্তর করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে রাজধানী ও গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোতে এ ধরনের ভোটার ট্রান্সফার বেশি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে নির্বাচনের স্বাভাবিক প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

ভোট গণনার সময় কারচুপির আশঙ্কাও প্রকাশ করা হচ্ছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ব্যালট বাছাইয়ের সময় ইচ্ছাকৃতভাবে কম ভোটকে বেশি দেখানো বা বান্ডেল গঠনে গরমিল করা হতে পারে। মোট কাস্ট ভোটের সংখ্যা ও গণনাকৃত ব্যালটের মধ্যে অমিল থাকলেও তা ঢেকে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তাই ভোট শেষ হওয়ার পর গণনার প্রতিটি ধাপে কঠোর নজরদারির প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

পোলিং এজেন্ট নিয়োগ নিয়েও সতর্কতার কথা বলা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া এজেন্টরা দায়িত্বে উদাসীন থাকেন বা প্রয়োজনে পক্ষ বদলান। ফলে ফলাফল ঘোষণার সময় কেন্দ্র থেকে প্রিসাইডিং অফিসারের স্বাক্ষর ও সিলসহ ফলাফলের কপি সংগ্রহ না করলে পরে রিটার্নিং অফিসে গিয়ে ফল পরিবর্তনের ঝুঁকি থেকে যায়।

এদিকে প্রবাসী ভোট ব্যবস্থাও বিতর্কের মধ্যে পড়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর নিবন্ধন প্রক্রিয়ার সুযোগ নিয়ে একটি পক্ষ বিদেশে সংগঠিতভাবে ভোটার নিবন্ধন করিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক দেশে প্রযুক্তিতে দক্ষ কর্মীদের দিয়ে টিম গঠন করে ভোটার বানানো হয়েছে, ফলে প্রবাসী ভোটের বড় অংশ একটি দলের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। অনেক আসনে প্রবাসী ভোটেই জয়-পরাজয় নির্ধারিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নির্বাচনের আগে গ্রেপ্তার ও তল্লাশিও ভোটের পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রচারণার সময় কোনো প্রার্থীর নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার বা বাড়িতে তল্লাশি হলে ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয় এবং ভোটের ফলাফলে তার প্রভাব পড়ে। তাই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ হওয়া থেকে রক্ষা করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করার দাবি।

আরও পড়ুন

"প্রবাসী, কারাবন্দি এবং নির্বাচনের সময়ে ছুটি না পাওয়া ভোটারগণ পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন। কিন্তু স্ব-স্ব এলাকায় ভোটার তালিকায় তাদের নাম থাকবে। একটি পক্ষ তাদের সেই ভোট দেওয়ার পূর্ণ প্রস্তুতি এবং কৌশল নির্ধারণ করে রেখেছে।

দেখা গেল, 'ক' আসনে 'A' দলের জয়ের সম্ভাবনা আছে, কিন্তু পার্শ্ববর্তী 'খ' আসনে কোনোভাবেই জয়ের সম্ভাবনা নেই। এমতাবস্থায় নির্বাচনের দিন 'খ' আসনের নেতা-কর্মীরা 'ক' আসনে এসে প্রভাব বিস্তার করবে।

লেখক: খন্দকার ইসমাইল, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সন্ধিক্ষণ...
মহালয়া আসলে কোনো নির্দিষ্ট দিনের নাম নয়, মানুষের অস্তিত্বের ভেতরে বারবার ফিরে আসা এক সন্ধিক্ষণের নাম।
সন্ধিক্ষণ...
মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের শঙ্কায় ট্রাম্প
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শঙ্কায় আছেন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয় ও নিয়ন্ত্রণ হারানোর। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের চার বছর মেয়াদী কার্যকালের দুই বছর পর ঠিক মাঝপথে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে বলা হয় মধ্যবর্তী নির্বাচন।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের শঙ্কায় ট্রাম্প
শিক্ষক থেকে পথপ্রদর্শক: যাদের কাছে ঋণী আমি
আজ মহান শিক্ষক দিবস। জীবনের এই বিশেষ দিনে সবার আগে গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই আমার জীবনের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ শিক্ষক—আমার আম্মুকে। আমার জীবনের প্রতিটি ভালো অর্জনের পেছনে তার অবদান সবচেয়ে বেশি। তার ভালোবাসা, শাসন, ত্যাগ ও নিরন্তর অনুপ্রেরণাই আমাকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। তার কাছে আমার কৃতজ্ঞতার কোনো শেষ নেই। এরপর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি আমার স্কুলজীবনের প্রিয় ও শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের—প্রধান শিক্ষক দীন ইসলাম স্যার, ফরিদা ইয়াসমিন (আমার চাচি), নিপা মেম, হেলানা মেম ও ফাতেমা মেমকে। তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা ও স্নেহেই চতুর্থ শ্রেণিতে আমার জীবনের মোড় ঘুরতে শুরু করেছিল। তাদের শেখানো অনেক কথাই আজও আমার পথচলার অনুপ্রেরণা। প্রাথমিকের গণ্ডি পেরিয়ে যখন মাধ্যমিক জীবনে পা রাখলাম, তখন নতুন করে কিছু মানুষ আমার সামনে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন। তাদের স্নেহ, শাসন ও অনুপ্রেরণায় পেয়েছি নতুন পথের সন্ধান। তাদের মধ্যে প্রধান শিক্ষক রেহানা মেম, শিলা মেম, তানিয়া মেম, দোলা মেম, হুজুর স্যার ও রাসেল স্যার অন্যতম। তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকেই পেয়েছি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা, যা শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ ছিল না। এরপর এলো কলেজজীবন। জীবনের এই অধ্যায়েও কিছু মানুষ আমার স্বপ্নকে আরও বড় করে তুলেছেন। রাবেয়া মেম, দীপ্তি মেম, শামীম স্যার, দেলোয়ার স্যার ও আবুবকর স্যার—তাদের নাম আমি কখনোই ভুলতে পারব না। তারা আমাকে শুধু পড়াননি; বরং স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছেন, সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস দিয়েছেন এবং বিশ্বাস করিয়েছেন—‘আমি পারব।’ তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা, উৎসাহ ও অনুপ্রেরণার ফলেই আজ আমি দেশের অন্যতম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের একজন শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে তাদের অনুপ্রেরণায়ই ঢাবিতে (কলা অনুষদের নরমাল সাবজেক্টে), রাবি ও চবিতে ভর্তির সুযোগ হয়েছিল। আমার জীবনের সেই সময়ে তাদের উৎসাহ ও বিশ্বাস আমাকে ভীষণভাবে প্রভাবিত করেছিল। বর্তমানে আমার বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের পথচলায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের অবদানও আমি কখনো ভুলব না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়েও শিক্ষার্থীদের প্রতি তাদের যে স্নেহ, আন্তরিকতা ও ভালোবাসা—তা সত্যিই ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তাদের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত শুধু একাডেমিক শিক্ষা নয়, বরং জীবনকে কীভাবে আরও সুন্দরভাবে এগিয়ে নিতে হয়, সেটিও শেখার সুযোগ পাচ্ছি। শিক্ষাজীবনের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষকদের বাইরেও আমার জীবনে শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে আমার চাচাতো বড় বোন মিম আপুর। ছোটবেলা থেকেই তিনি আমাকে অনেক অঙ্ক অনুশীলন করিয়েছেন। তার সেই পরিশ্রম ও সময় দেওয়ার সুফল আমি আজও পাচ্ছি। অনেক সময় একজন শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে থাকেন না, কিন্তু তার শেখানোটা সারাজীবন আমাদের সঙ্গে থেকে যায়—মিম আপু আমার জন্য তেমনই একজন। এর পাশাপাশি ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা আমার শেখার জগৎকে আরও বিস্তৃত করেছে। সাংবাদিকতা করার সুবাদে আরটিভির অনলাইন ইনচার্জ আজাদ ভাই এবং শিফট ইনচার্জ ইমতিয়াজ ভাইয়ের কাছ থেকেও প্রতিনিয়ত অনেক কিছু শেখার সুযোগ পাচ্ছি। সংবাদকে কীভাবে দেখতে হয়, তথ্য যাচাই, দায়িত্বশীলতা, পেশাদারিত্ব এবং কাজের প্রতি আন্তরিকতা— এসব বিষয়ে তাদের কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষা আমার ভবিষ্যৎ পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাদের প্রতিও রইল আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আজ পেছনে ফিরে তাকালে বুঝতে পারি, আমার জীবনের প্রতিটি ধাপে কোনো না কোনো শিক্ষক আমার হাত ধরে সামনে এগিয়ে দিয়েছেন। কেউ শিখিয়েছেন কীভাবে ভালো মানুষ হতে হয়, কেউ শিখিয়েছেন কীভাবে কঠিন সময়ে হাল না ছেড়ে এগিয়ে যেতে হয়, আবার কেউ আমার ওপর বিশ্বাস রেখে আমাকে নিজের ওপর বিশ্বাস করতে শিখিয়েছেন। আজ আমি যে পরিচয়ে পরিচিত, তার পেছনে আমার বাবা-মায়ের পাশাপাশি আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের অবদান অনস্বীকার্য। তাদের দেওয়া শিক্ষা, শাসন, স্নেহ, ভালোবাসা ও অনুপ্রেরণা আমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদগুলোর একটি। আমার জীবনের পথচলায় যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে শিক্ষক হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন, তাদের প্রত্যেকের প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও অশেষ কৃতজ্ঞতা। শিক্ষক শুধু একটি পেশার নাম নয়; একজন শিক্ষক একটি জীবন বদলে দিতে পারেন। আর জীবনের এই দীর্ঘ পথে কিছু মানুষ শিক্ষক না হয়েও আমাদের অনেক কিছু শিখিয়ে যান। তাই এই মহান দিবসে আমার শিক্ষকদেরসহ বিশ্বের সকল শিক্ষকের প্রতি জানাই কৃতজ্ঞতা। শুভ শিক্ষক দিবস। আবুবকর সম্পদ জবি সংবাদদাতা, আরটিভি আহ্বায়ক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটি আরটিভি/এমএইচজে
শিক্ষক থেকে পথপ্রদর্শক: যাদের কাছে ঋণী আমি
চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার আগে দ্বিতীয় মতামত কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত একটি পরিবারের জন্য বড় সিদ্ধান্ত। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে অর্থ, সময়, মানসিক চাপ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—চিকিৎসা নিয়ে প্রত্যাশা। তাই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আমার কাছে একটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়—দ্বিতীয় মতামত নেওয়া। দ্বিতীয় মতামত মানে প্রথম চিকিৎসককে অবিশ্বাস করা নয়। বরং গুরুত্বপূর্ণ কোনো চিকিৎসা সিদ্ধান্তের আগে আরেকজন যোগ্য বিশেষজ্ঞের মতামত জানা। এতে রোগী ও পরিবার রোগের অবস্থা, চিকিৎসার বিকল্প, সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং দেশে বা বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পেতে পারেন। আমাদের দেশে কোনো জটিল রোগ ধরা পড়লেই অনেক পরিবার প্রথমে বিদেশে যাওয়ার কথা ভাবেন। আবার কেউ পরিচিত কারও অভিজ্ঞতাকে নিজের চিকিৎসার সিদ্ধান্তের ভিত্তি করেন। কিন্তু একই রোগ হলেও প্রতিটি রোগীর অবস্থা, চিকিৎসার প্রয়োজন এবং ঝুঁকি এক নয়। তাই একজনের ভালো অভিজ্ঞতা অন্যজনের জন্য একই ফল নিশ্চিত করে না। আমার দৃষ্টিতে, বিদেশে যাওয়ার আগে প্রথম প্রশ্ন হওয়া উচিত—“আমার চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়া কি সত্যিই প্রয়োজন?” এর উত্তর পেতে কয়েকটি বিষয় জানা দরকার। রোগটি ঠিক কী? চিকিৎসার উদ্দেশ্য কী? দেশে এই চিকিৎসার উপযুক্ত সক্ষমতা আছে কি না? বিদেশে গেলে অতিরিক্ত কী সুবিধা পাওয়া যাবে? সম্ভাব্য খরচ কত? আর চিকিৎসার পরবর্তী পর্যায়ের চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ কীভাবে হবে? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও রোগীর চিকিৎসা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে অংশগ্রহণ এবং চিকিৎসক ও রোগীর যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরে। চিকিৎসার মান শুধু একটি নির্দিষ্ট চিকিৎসাপদ্ধতির ওপর নির্ভর করে না; নিরাপত্তা, রোগীকেন্দ্রিকতা, সময়োপযোগিতা এবং চিকিৎসার ধারাবাহিকতাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে জটিল বা দীর্ঘমেয়াদি রোগের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশে গিয়ে একটি চিকিৎসা করিয়ে দেশে ফিরে আসার পর পরবর্তী চিকিৎসা কোথায় হবে, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা কোথায় হবে এবং চিকিৎসার তথ্য স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে কীভাবে পৌঁছাবে—এসবও সিদ্ধান্তের অংশ হওয়া উচিত। কারণ চিকিৎসা একটি দিনের ঘটনা নয়; এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। তবে দ্বিতীয় মতামত নেওয়া মানেই চিকিৎসা পরিবর্তন করতে হবে—এমন নয়। অনেক সময় দ্বিতীয় বিশেষজ্ঞের মতামত প্রথম চিকিৎসা পরিকল্পনাকেই আরও পরিষ্কার করে। আবার কখনো নতুন কোনো বিকল্প সামনে আসতে পারে। মূল বিষয় হলো—রোগী যেন নিজের চিকিৎসা সম্পর্কে বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়া ভুল—এমন কথা বলা যেমন ঠিক নয়, তেমনি বিদেশে গেলেই ভালো চিকিৎসা পাওয়া যাবে—এমন ধারণাও সব ক্ষেত্রে সঠিক নয়। কিছু বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাওয়া প্রয়োজন হতে পারে। আবার অনেক চিকিৎসার জন্য দেশের মধ্যেই উপযুক্ত সক্ষমতা থাকতে পারে। তাই আমার কাছে বিদেশে চিকিৎসার প্রশ্নটি “দেশ না বিদেশ”—এভাবে দেখার চেয়ে “প্রয়োজনের জন্য সঠিক জায়গা কোথায়?”—এই প্রশ্নে দেখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একটি ভালো স্বাস্থ্যব্যবস্থা রোগীকে কোনো একটি সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দেয় না। বরং তাকে সঠিক তথ্য, প্রয়োজনীয় বিকল্প এবং যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ দেয়। শেষ পর্যন্ত রোগী বিদেশে যাবেন, নাকি দেশে চিকিৎসা নেবেন—সিদ্ধান্তটি তার। আমাদের দায়িত্ব হলো সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তাকে যথেষ্ট তথ্য ও আস্থার সুযোগ দেওয়া। কারণ চিকিৎসার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে কখনো কখনো আরেকজন বিশেষজ্ঞের মতামত শুধু একটি অতিরিক্ত পরামর্শ নয়— এটি হতে পারে আরও সচেতন সিদ্ধান্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। লেখক: মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন মামুন হেড অব ডিজিটাল, ব্র্যান্ড অ্যান্ড পিআর এভারকেয়ার হাসপাতাল চট্টগ্রাম। আরটিভি/ এসকেডি
চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার আগে দ্বিতীয় মতামত কেন গুরুত্বপূর্ণ?
আঞ্চলিক লজিস্টিকস ও শিল্পের হাব হতে পারে বাংলাদেশ: জেট্রো
ভৌগোলিক অবস্থান ও বিপুল জনসংখ্যার কারণে দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে আঞ্চলিক লজিস্টিকস ও শিল্পের কেন্দ্রে (হাব) পরিণত হওয়ার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশের।
আঞ্চলিক লজিস্টিকস ও শিল্পের হাব হতে পারে বাংলাদেশ: জেট্রো
আরও পড়ুন
কারচুপির অভিযোগে ভোট পুনর্গণনার দাবি বিএনপি প্রার্থী প্রিন্সের
নির্বাচনে কারচুপির আভাস পাচ্ছি: মাহদী আমিন