ঢাকা বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

‘ভোটের মাঠে আমার দেখা যত ধরনের কারচুপি’

খন্দকার ইসমাইল

প্রকাশ : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩৩ পিএম
প্রতীকী ছবি

নির্বাচনকে প্রভাবিত করার জন্য নানা কৌশলে কারচুপির চেষ্টা করা হচ্ছে, এমন অভিযোগ সামনে আসছে। বিভিন্ন এলাকায় একটি পক্ষ বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, বিকাশ নম্বর ও ঠিকানা সংগ্রহ করছে। অভিযোগ রয়েছে, যেসব ভোটার মারা গেছেন, প্রবাসে আছেন বা ভোট দিতে বাড়ি আসবেন না-তাদের আলাদা করে চিহ্নিত করা হচ্ছে। পরে এসব তথ্য ব্যবহার করে ভুয়া পরিচয়পত্র তৈরি করে জাল ভোট দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। জাল ভোটে ব্যবহারের জন্য নারী-পুরুষকে বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য মুখস্থ করেছে যেন জিজ্ঞাসাবাদেও ধরা না পড়ে।

ভোটাদের প্রভাবিত করতে অর্থ লেনদেনের নতুন কৌশলও ব্যবহৃত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিম্ন আয়ের ভোটারদের ভোটের আগের দিন বিকাশে টাকা পাঠানো হবে। আবার যারা সন্মানিত ব্যাক্তি সরাসরি টাকা দেওয়া কঠিন, তাদের মোবাইল নম্বরে হ্যান্ডসাম আ্যামাউন্ট পাঠিয়ে দেওয়া হবে, যা ফেরত দেওয়ার সুযোগ থাকবেনা। এতে সামাজিক ও মানসিক চাপে পড়ে অনেকেই দুর্বল অবস্থানে চলে যাবেন । ভোটের দিন এসব ভোটারকে ফোন করে বা বাহন পাঠিয়ে কেন্দ্রে আনার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।

ভোটকেন্দ্রের ভেতরেও ভোটের হার কমানো-বাড়ানোর কৌশল নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিরোধী দলের শক্ত ঘাঁটিতে ভোটারদের নানা প্রশ্ন করে সময় নষ্ট করা হয়, ফলে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ বিরক্ত হয়ে চলে যায়। কোথাও কৃত্রিম ঝগড়া বা বিশৃঙ্খলা তৈরি করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ডাকা হয়, এতে ভয় পেয়ে অনেক সাধারণ ভোটার কেন্দ্র ত্যাগ করেন। ফলে যেখানে স্বাভাবিকভাবে ৭০ শতাংশ ভোট পড়ার কথা, সেখানে ভোট নেমে আসে অনেক কমে। অন্যদিকে নিজেদের সমর্থিত কেন্দ্রে দ্রুত ব্যালট দিয়ে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ভোট গ্রহণ করা হয়।

ভোটার স্থানান্তর নিয়েও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। যেসব আসনে একটি দলের জয়ের সম্ভাবনা কম, সেসব এলাকা থেকে ভোটারদের কাগজপত্র ছাড়াই অন্য আসনে স্থানান্তর করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে রাজধানী ও গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোতে এ ধরনের ভোটার ট্রান্সফার বেশি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে নির্বাচনের স্বাভাবিক প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

ভোট গণনার সময় কারচুপির আশঙ্কাও প্রকাশ করা হচ্ছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ব্যালট বাছাইয়ের সময় ইচ্ছাকৃতভাবে কম ভোটকে বেশি দেখানো বা বান্ডেল গঠনে গরমিল করা হতে পারে। মোট কাস্ট ভোটের সংখ্যা ও গণনাকৃত ব্যালটের মধ্যে অমিল থাকলেও তা ঢেকে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তাই ভোট শেষ হওয়ার পর গণনার প্রতিটি ধাপে কঠোর নজরদারির প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

পোলিং এজেন্ট নিয়োগ নিয়েও সতর্কতার কথা বলা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া এজেন্টরা দায়িত্বে উদাসীন থাকেন বা প্রয়োজনে পক্ষ বদলান। ফলে ফলাফল ঘোষণার সময় কেন্দ্র থেকে প্রিসাইডিং অফিসারের স্বাক্ষর ও সিলসহ ফলাফলের কপি সংগ্রহ না করলে পরে রিটার্নিং অফিসে গিয়ে ফল পরিবর্তনের ঝুঁকি থেকে যায়।

এদিকে প্রবাসী ভোট ব্যবস্থাও বিতর্কের মধ্যে পড়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর নিবন্ধন প্রক্রিয়ার সুযোগ নিয়ে একটি পক্ষ বিদেশে সংগঠিতভাবে ভোটার নিবন্ধন করিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক দেশে প্রযুক্তিতে দক্ষ কর্মীদের দিয়ে টিম গঠন করে ভোটার বানানো হয়েছে, ফলে প্রবাসী ভোটের বড় অংশ একটি দলের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। অনেক আসনে প্রবাসী ভোটেই জয়-পরাজয় নির্ধারিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নির্বাচনের আগে গ্রেপ্তার ও তল্লাশিও ভোটের পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রচারণার সময় কোনো প্রার্থীর নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার বা বাড়িতে তল্লাশি হলে ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয় এবং ভোটের ফলাফলে তার প্রভাব পড়ে। তাই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ হওয়া থেকে রক্ষা করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করার দাবি।

আরও পড়ুন

"প্রবাসী, কারাবন্দি এবং নির্বাচনের সময়ে ছুটি না পাওয়া ভোটারগণ পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন। কিন্তু স্ব-স্ব এলাকায় ভোটার তালিকায় তাদের নাম থাকবে। একটি পক্ষ তাদের সেই ভোট দেওয়ার পূর্ণ প্রস্তুতি এবং কৌশল নির্ধারণ করে রেখেছে।

দেখা গেল, 'ক' আসনে 'A' দলের জয়ের সম্ভাবনা আছে, কিন্তু পার্শ্ববর্তী 'খ' আসনে কোনোভাবেই জয়ের সম্ভাবনা নেই। এমতাবস্থায় নির্বাচনের দিন 'খ' আসনের নেতা-কর্মীরা 'ক' আসনে এসে প্রভাব বিস্তার করবে।

লেখক: খন্দকার ইসমাইল, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মৃত ব্যক্তির অধিকার যাদের কাছে নিরাপদ নয়, ক্ষমতায় গেলে জীবিতদের অধিকার কতটুকু নিরাপদ? 
জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কাছে আমাদের স্পষ্ট প্রশ্ন—মানবিক অধিকার কি শুধু নিজেদের রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষের জন্য, নাকি প্রত্যেক নাগরিকের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য?
মৃত ব্যক্তির অধিকার যাদের কাছে নিরাপদ নয়, ক্ষমতায় গেলে জীবিতদের অধিকার কতটুকু নিরাপদ? 
ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জালে, নাকি জেলের জীবনেও?
নদীতে মাছ ধরা বন্ধ থাকলেও জেলের ক্ষুধার জ্বালা বন্ধ হয় না। চুলায় হাড়ি চড়াতে হয়, সন্তানের মুখে খাবার তুলে দিতে হয়, অসুস্থ হলে ওষুধ কিনতে হয়।
ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জালে, নাকি জেলের জীবনেও?
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে দেশের ৫০০ মেরিন ক্যাডেটের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর সুযোগ
বাংলাদেশের মেরিটাইম খাতের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা রয়েছে, যা এখনো আমাদের নীতিনির্ধারণী আলোচনায় যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি।
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে দেশের ৫০০ মেরিন ক্যাডেটের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর সুযোগ
সন্ধিক্ষণ...
মহালয়া আসলে কোনো নির্দিষ্ট দিনের নাম নয়, মানুষের অস্তিত্বের ভেতরে বারবার ফিরে আসা এক সন্ধিক্ষণের নাম।
সন্ধিক্ষণ...
মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের শঙ্কায় ট্রাম্প
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শঙ্কায় আছেন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয় ও নিয়ন্ত্রণ হারানোর। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের চার বছর মেয়াদী কার্যকালের দুই বছর পর ঠিক মাঝপথে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে বলা হয় মধ্যবর্তী নির্বাচন।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের শঙ্কায় ট্রাম্প
আরও পড়ুন
কারচুপির অভিযোগে ভোট পুনর্গণনার দাবি বিএনপি প্রার্থী প্রিন্সের
নির্বাচনে কারচুপির আভাস পাচ্ছি: মাহদী আমিন