ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

নতুন সরকার, নতুন বন্দোবস্ত!

জিয়া আহমদ

প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:১৯ পিএম
জিয়া আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসন পেয়ে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার গঠন করে। প্রধানমন্ত্রী হন তারেক রহমান। এই নির্বাচনটির তাৎপর্য অনেক গভীর। ২০০৬ সালে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচন বিভিন্ন দেশি-বিদেশি শক্তির ষড়যন্ত্রের কবলে পড়ে বানচাল হয়ে যায়। পরবর্তীতে একটি নীলনকশার নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের ডিপস্টেট ও অন্যান্য কুশীলবেরা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা দিয়ে বিদায় নেয় ২০০৯ সালে। তারপর পনেরো বছরের জন্য দেশের কাঁধে জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসে এক ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থা। অবশেষে ২০২৪ সালের এক রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা সরকারের পতন ও পলায়নের মধ্য দিয়ে সবার অংশগ্রহণমূলক নতুন একটি নির্বাচনের পথ উন্মুক্ত হয়। কিন্তু সে পথও রুদ্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয় ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের একক কৃতিত্বের দাবিদার একটি পক্ষের নানান অন্যায় আবদারে। তারা নতুন বন্দোবস্তের নামে দেশে সবচেয়ে প্রাচীন শাসন বাবস্থা চাপিয়ে দিয়ে ঘুষ, দুর্নীতি, পদ-ব্যবসা, চাঁদাবাজির এক মহোৎসবে মেতে উঠে। ফলে দেশের মানুষের নাভিশ্বাস ওঠার উপক্রম হয়। সে প্রেক্ষাপটে বিএনপির নেতৃত্বে দেশের জনগণ একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে একাট্টা হওয়ায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ (১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ঘোষণা করে। নির্বাচন বানচাল ও নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার নানা ষড়যন্ত্রকে অতিক্রম করে অবশেষে একটি উৎসবমুখর পরিবেশে বহুল প্রত্যাশিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

২০২৪-এ স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার পতন ও পলায়নের পর যখন একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রত্যাশিত ছিলো, তখন দেশেরধর্মাশ্রয়ীই রাজনৈতিক দল ও গণ-অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির ছাত্ররা ‘ফ্যাসিবাদের পুনরাবির্ভাব রোধের জন্য বেশ কিছু সংস্কার প্রয়োজন’ শীর্ষক বয়ান নিয়ে মাঠে নামেন এবং নির্বাচনকে পিছিয়ে দেয়। তাদের যুক্তিটা ভালো হলেও তাদের কর্মকাণ্ডের সাথে তাদের দাবি সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিলো না। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সচিবালয়সহ দেশের সব কয়টি গুরুত্বপূর্ণ অফিসে তাদের কর্মী ও অনুসারীদের নিয়োগ ও বদলি করে আনা শুরু করেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিলো সদ্যপ্রাপ্ত ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করা। অন্যদিকে বৈষম্যবিরোধী নাম নিয়ে কিছু তরুণ সচিবালয়সহ সারা দেশে নিয়োগ-বদলি বাণিজ্য এবং চাঁদাবাজি শুরু করেন। কোনকিছু তাদের মনমতো না হলেই তারা মবসৃষ্টিসহ নানা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের নায্য-অনায্য দাবি-দাওয়া আদায় করে নিতে থাকেন। তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে দেশের সুবিধাবাদী নানা পেশাজীবীরাও তাদের অন্যায় দাবি আদায়ে একইপথ অবলম্বন করেন। দুর্বল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এদের এইসব অন্যায় দাবি মেনে পরবর্তী সরকারের ওপর আর্থিক দায় সৃষ্টি করতে বাধ্য হন।

নতুন সরকার শপথ নেওয়ার পর এই ধরনের মব নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে বলে মনে হচ্ছে। কিন্তু যারা এই মবকে ব্যবহার করে অভ্যস্ত হয়ে গেছে, তাদের জন্য এই বাস্তবতাটা মেনে নেওয়া খুবই কষ্টকর। তাদের চাঁদাবাজির ‘নতুন বন্দোবস্ত’ এখন বাতিল হয়ে যাওয়ায় সামনের দিনগুলোতে তাদের টাকা-পয়সা ও সদ্যলব্ধ আরাম-আয়েশের জীবনযাপনের ক্ষেত্রেও সমস্যা দেখা দেবে। কেউ কেউ তো এখনই চাকরি খোঁজার নামে মানুষকে বিভ্রান্ত করা শুরু করেছেন। তাছাড়া নানা উদ্ভট বক্তব্য দিয়ে যারা দেশের মিডিয়াতে সবসময় স্থান দখল করে থাকতেন, তাদের জন্য এখনকার নিস্তরঙ্গ সময়টাকে হজম করা কষ্টকর হয়ে পড়ছে। জামায়াতে ইসলামীর কর্মীরা বাংলাদেশের সামাজিক মাধ্যমে রাজত্ব করেছেন দীর্ঘদিন। তারা বুঝে-না-বুঝে সামাজিক মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে এমন একটা বিভ্রমের সৃষ্টি করেছিলেন যে, তারা তো বটেই, সাধারণ মানুষেরাও বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন যে ভবিষ্যৎ সরকার জামায়াতেরই হয় কিনা, এই ভেবে। তবে এনসিপি ও জামায়াতের ধূর্ত অংশটা, যারা বিএনপির জয়লাভের বিষয়ে শঙ্কিত ছিলেন, তারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ড. আলী রিয়াজের মাধ্যমে আপদকালীন ব্যবস্থা হিসাবে একটা ঝামেলা পাকিয়ে রাখেন, যেটা হলো গণভোট।

519d7a05-bb98-4c51-b995-88b7943cceed

দীর্ঘ ৮ মাসেরও বেশি সময় ধরে তারা প্রায় ৩০টি দলের সাথে আলোচনা করে, তাদের ‘নোট অফ ডিসেন্ট’গুলোকে সন্নিবেশিত করে যে ‘জুলাই সনদ’ চূড়ান্ত করেন, স্বাক্ষরের সময় প্রতারণার মাধ্যমে তাকে বদলে দিয়ে, ‘নোট অফ ডিসেন্ট’গুলোকে নিশ্চিহ্ন করে, ‘জুলাই সনদকে’ চূড়ান্ত করেন। বর্তমানে বিএনপি সরকার গঠন করার পর এটা প্রত্যাশিত যে বিএনপি সরকার তার আপত্তির জায়গাগুলো বাদ দিয়েই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে। জনগণের সরাসরি স্বার্থ সংশ্লিষ্ট না হওয়া সত্ত্বেও এনসিপি ও জামায়াত এই বিষয়টিকে নিয়েই রাজপথে আন্দোলন গড়ে তুলতে চেষ্টা করবে। তাদের সে প্রচেষ্টা সফল হোক বা না হোক, তারা রাজপথ্যকে গরম করার চেষ্টা যে করবে, তা বলা যায় নিঃসন্দেহে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সামনে থাকা তরুণেরা, যারা আন্দোলনের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময়ে ডিবি হারুনের কারাগারে আটক ছিলো, তারা এই গণ-অভ্যুত্থানের ভেতরের সংগঠন ও তার অন্তর্গত টেকনিক্যাল বিষয়গুলো সম্বন্ধে তেমন অবগত নয়। রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম না করা এই ছেলেরা ‘ফোকটে’ নেতা বনে গিয়েছে। রাজপথে আন্দোলনে যারা নেতৃত্ব দিয়েছে, তার সময়ের প্রয়োজনেই নেতৃত্ব তাদের হাতে তুলে নিয়েছিলেন। যেহেতু তারা কোনও ‘স্ট্রাকচার্ড আন্দোলনে’ ছিলেন না, সে কারণেই পরবর্তীতে সুবিধাভোগী বৈষম্যবিরোধীরা বড় কোনো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েননি। তাছাড়া এই গ্রুপটি বর্তমানে বহুধাবিভক্ত হয়ে পড়ার কারণে তাদের ‘ইনস্টিটিউশনাল মেমোরি’ও নাই। ফলে তারা বর্তমান নির্বাচিত বিএনপি সরকারকে সরকার গঠনের প্রথমদিন থেকেই উৎখাতের হুমকি দেওয়া শুরু করলেও তা বাস্তবায়ন করার ক্ষমতা রাখে না।

আরও পড়ুন

একথা বলাই বাহুল্য যে, গত সাড়ে পনেরো বছরের অপশাসন ও শোষণের কারণে সম্পূর্ণ জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল আওয়ামী লীগ; এবং সেই দলের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল বিএনপি, জামায়াতসহ দেশের আপামর জনগণ। ফলে তাদের শেষ রক্ষা হয়নি। কিন্তু সদ্য দেশের ৫০ শতাংশ মানুষের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করা বিএনপির বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করলে বিএনপি সমর্থকসহ দেশের জনগণের পাল্টা ক্ষোভ ঠেকানোর সামর্থ্যই তো এই নব্য আন্দোলনকারীদের নেই। ফলে জুলাই আন্দোলনের সময়কার মুখপাত্র এই রোমান্টিক আন্দোলনকারীদের বিএনপি সরকারকে ক্ষমতাচ‍্যুত করার হুমকি এই মানুষগুলোর নির্বুদ্ধিতা ও অবিমৃষ্যকারিতা ছাড়া আর কিছু না।

বর্তমানে দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী বিএনপি সরকার গঠন করেছে। এ কারণে দেশের বঞ্চিত ও দরিদ্র জনগণের মধ্যে নতুন একটি আশার সঞ্চার হয়েছে। দেশের জনগণ এখন বিএনপির প্রতিশ্রুত ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ নানা প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দেখার জন্য উন্মুখ হয়ে অপেক্ষা করছে। গত দেড় বছরে বিএনপির ওপর চাঁদাবাজির যে তকমা পরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তাও ব্যর্থ হয়েছে। সে পথে আর না আগানোই ভালো হবে। এ সময়ে সদ্য ক্ষমতা ও চাঁদাবাজির ‘নতুন বন্দোবস্ত’ হারানো মানুষেরা যতই দুঃখিত ও হতাশ হোন না কেন, তাদের বিএনপি সরকারের ভুলের জন্য (যদি তারা আদৌ তা করেন!) অপেক্ষা করা ছাড়া গত্যন্তর নাই।

লেখক: নিরাপত্তা ও রাজনীতি বিশ্লেষক

আরটিভি/আইএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সন্ধিক্ষণ...
মহালয়া আসলে কোনো নির্দিষ্ট দিনের নাম নয়, মানুষের অস্তিত্বের ভেতরে বারবার ফিরে আসা এক সন্ধিক্ষণের নাম।
সন্ধিক্ষণ...
মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের শঙ্কায় ট্রাম্প
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শঙ্কায় আছেন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয় ও নিয়ন্ত্রণ হারানোর। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের চার বছর মেয়াদী কার্যকালের দুই বছর পর ঠিক মাঝপথে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে বলা হয় মধ্যবর্তী নির্বাচন।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের শঙ্কায় ট্রাম্প
শিক্ষক থেকে পথপ্রদর্শক: যাদের কাছে ঋণী আমি
আজ মহান শিক্ষক দিবস। জীবনের এই বিশেষ দিনে সবার আগে গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই আমার জীবনের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ শিক্ষক—আমার আম্মুকে। আমার জীবনের প্রতিটি ভালো অর্জনের পেছনে তার অবদান সবচেয়ে বেশি। তার ভালোবাসা, শাসন, ত্যাগ ও নিরন্তর অনুপ্রেরণাই আমাকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। তার কাছে আমার কৃতজ্ঞতার কোনো শেষ নেই। এরপর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি আমার স্কুলজীবনের প্রিয় ও শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের—প্রধান শিক্ষক দীন ইসলাম স্যার, ফরিদা ইয়াসমিন (আমার চাচি), নিপা মেম, হেলানা মেম ও ফাতেমা মেমকে। তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা ও স্নেহেই চতুর্থ শ্রেণিতে আমার জীবনের মোড় ঘুরতে শুরু করেছিল। তাদের শেখানো অনেক কথাই আজও আমার পথচলার অনুপ্রেরণা। প্রাথমিকের গণ্ডি পেরিয়ে যখন মাধ্যমিক জীবনে পা রাখলাম, তখন নতুন করে কিছু মানুষ আমার সামনে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন। তাদের স্নেহ, শাসন ও অনুপ্রেরণায় পেয়েছি নতুন পথের সন্ধান। তাদের মধ্যে প্রধান শিক্ষক রেহানা মেম, শিলা মেম, তানিয়া মেম, দোলা মেম, হুজুর স্যার ও রাসেল স্যার অন্যতম। তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকেই পেয়েছি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা, যা শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ ছিল না। এরপর এলো কলেজজীবন। জীবনের এই অধ্যায়েও কিছু মানুষ আমার স্বপ্নকে আরও বড় করে তুলেছেন। রাবেয়া মেম, দীপ্তি মেম, শামীম স্যার, দেলোয়ার স্যার ও আবুবকর স্যার—তাদের নাম আমি কখনোই ভুলতে পারব না। তারা আমাকে শুধু পড়াননি; বরং স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছেন, সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস দিয়েছেন এবং বিশ্বাস করিয়েছেন—‘আমি পারব।’ তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা, উৎসাহ ও অনুপ্রেরণার ফলেই আজ আমি দেশের অন্যতম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের একজন শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে তাদের অনুপ্রেরণায়ই ঢাবিতে (কলা অনুষদের নরমাল সাবজেক্টে), রাবি ও চবিতে ভর্তির সুযোগ হয়েছিল। আমার জীবনের সেই সময়ে তাদের উৎসাহ ও বিশ্বাস আমাকে ভীষণভাবে প্রভাবিত করেছিল। বর্তমানে আমার বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের পথচলায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের অবদানও আমি কখনো ভুলব না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়েও শিক্ষার্থীদের প্রতি তাদের যে স্নেহ, আন্তরিকতা ও ভালোবাসা—তা সত্যিই ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তাদের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত শুধু একাডেমিক শিক্ষা নয়, বরং জীবনকে কীভাবে আরও সুন্দরভাবে এগিয়ে নিতে হয়, সেটিও শেখার সুযোগ পাচ্ছি। শিক্ষাজীবনের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষকদের বাইরেও আমার জীবনে শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে আমার চাচাতো বড় বোন মিম আপুর। ছোটবেলা থেকেই তিনি আমাকে অনেক অঙ্ক অনুশীলন করিয়েছেন। তার সেই পরিশ্রম ও সময় দেওয়ার সুফল আমি আজও পাচ্ছি। অনেক সময় একজন শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে থাকেন না, কিন্তু তার শেখানোটা সারাজীবন আমাদের সঙ্গে থেকে যায়—মিম আপু আমার জন্য তেমনই একজন। এর পাশাপাশি ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা আমার শেখার জগৎকে আরও বিস্তৃত করেছে। সাংবাদিকতা করার সুবাদে আরটিভির অনলাইন ইনচার্জ আজাদ ভাই এবং শিফট ইনচার্জ ইমতিয়াজ ভাইয়ের কাছ থেকেও প্রতিনিয়ত অনেক কিছু শেখার সুযোগ পাচ্ছি। সংবাদকে কীভাবে দেখতে হয়, তথ্য যাচাই, দায়িত্বশীলতা, পেশাদারিত্ব এবং কাজের প্রতি আন্তরিকতা— এসব বিষয়ে তাদের কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষা আমার ভবিষ্যৎ পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাদের প্রতিও রইল আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আজ পেছনে ফিরে তাকালে বুঝতে পারি, আমার জীবনের প্রতিটি ধাপে কোনো না কোনো শিক্ষক আমার হাত ধরে সামনে এগিয়ে দিয়েছেন। কেউ শিখিয়েছেন কীভাবে ভালো মানুষ হতে হয়, কেউ শিখিয়েছেন কীভাবে কঠিন সময়ে হাল না ছেড়ে এগিয়ে যেতে হয়, আবার কেউ আমার ওপর বিশ্বাস রেখে আমাকে নিজের ওপর বিশ্বাস করতে শিখিয়েছেন। আজ আমি যে পরিচয়ে পরিচিত, তার পেছনে আমার বাবা-মায়ের পাশাপাশি আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের অবদান অনস্বীকার্য। তাদের দেওয়া শিক্ষা, শাসন, স্নেহ, ভালোবাসা ও অনুপ্রেরণা আমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদগুলোর একটি। আমার জীবনের পথচলায় যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে শিক্ষক হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন, তাদের প্রত্যেকের প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও অশেষ কৃতজ্ঞতা। শিক্ষক শুধু একটি পেশার নাম নয়; একজন শিক্ষক একটি জীবন বদলে দিতে পারেন। আর জীবনের এই দীর্ঘ পথে কিছু মানুষ শিক্ষক না হয়েও আমাদের অনেক কিছু শিখিয়ে যান। তাই এই মহান দিবসে আমার শিক্ষকদেরসহ বিশ্বের সকল শিক্ষকের প্রতি জানাই কৃতজ্ঞতা। শুভ শিক্ষক দিবস। আবুবকর সম্পদ জবি সংবাদদাতা, আরটিভি আহ্বায়ক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটি আরটিভি/এমএইচজে
শিক্ষক থেকে পথপ্রদর্শক: যাদের কাছে ঋণী আমি
চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার আগে দ্বিতীয় মতামত কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত একটি পরিবারের জন্য বড় সিদ্ধান্ত। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে অর্থ, সময়, মানসিক চাপ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—চিকিৎসা নিয়ে প্রত্যাশা। তাই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আমার কাছে একটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়—দ্বিতীয় মতামত নেওয়া। দ্বিতীয় মতামত মানে প্রথম চিকিৎসককে অবিশ্বাস করা নয়। বরং গুরুত্বপূর্ণ কোনো চিকিৎসা সিদ্ধান্তের আগে আরেকজন যোগ্য বিশেষজ্ঞের মতামত জানা। এতে রোগী ও পরিবার রোগের অবস্থা, চিকিৎসার বিকল্প, সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং দেশে বা বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পেতে পারেন। আমাদের দেশে কোনো জটিল রোগ ধরা পড়লেই অনেক পরিবার প্রথমে বিদেশে যাওয়ার কথা ভাবেন। আবার কেউ পরিচিত কারও অভিজ্ঞতাকে নিজের চিকিৎসার সিদ্ধান্তের ভিত্তি করেন। কিন্তু একই রোগ হলেও প্রতিটি রোগীর অবস্থা, চিকিৎসার প্রয়োজন এবং ঝুঁকি এক নয়। তাই একজনের ভালো অভিজ্ঞতা অন্যজনের জন্য একই ফল নিশ্চিত করে না। আমার দৃষ্টিতে, বিদেশে যাওয়ার আগে প্রথম প্রশ্ন হওয়া উচিত—“আমার চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়া কি সত্যিই প্রয়োজন?” এর উত্তর পেতে কয়েকটি বিষয় জানা দরকার। রোগটি ঠিক কী? চিকিৎসার উদ্দেশ্য কী? দেশে এই চিকিৎসার উপযুক্ত সক্ষমতা আছে কি না? বিদেশে গেলে অতিরিক্ত কী সুবিধা পাওয়া যাবে? সম্ভাব্য খরচ কত? আর চিকিৎসার পরবর্তী পর্যায়ের চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ কীভাবে হবে? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও রোগীর চিকিৎসা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে অংশগ্রহণ এবং চিকিৎসক ও রোগীর যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরে। চিকিৎসার মান শুধু একটি নির্দিষ্ট চিকিৎসাপদ্ধতির ওপর নির্ভর করে না; নিরাপত্তা, রোগীকেন্দ্রিকতা, সময়োপযোগিতা এবং চিকিৎসার ধারাবাহিকতাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে জটিল বা দীর্ঘমেয়াদি রোগের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশে গিয়ে একটি চিকিৎসা করিয়ে দেশে ফিরে আসার পর পরবর্তী চিকিৎসা কোথায় হবে, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা কোথায় হবে এবং চিকিৎসার তথ্য স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে কীভাবে পৌঁছাবে—এসবও সিদ্ধান্তের অংশ হওয়া উচিত। কারণ চিকিৎসা একটি দিনের ঘটনা নয়; এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। তবে দ্বিতীয় মতামত নেওয়া মানেই চিকিৎসা পরিবর্তন করতে হবে—এমন নয়। অনেক সময় দ্বিতীয় বিশেষজ্ঞের মতামত প্রথম চিকিৎসা পরিকল্পনাকেই আরও পরিষ্কার করে। আবার কখনো নতুন কোনো বিকল্প সামনে আসতে পারে। মূল বিষয় হলো—রোগী যেন নিজের চিকিৎসা সম্পর্কে বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়া ভুল—এমন কথা বলা যেমন ঠিক নয়, তেমনি বিদেশে গেলেই ভালো চিকিৎসা পাওয়া যাবে—এমন ধারণাও সব ক্ষেত্রে সঠিক নয়। কিছু বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাওয়া প্রয়োজন হতে পারে। আবার অনেক চিকিৎসার জন্য দেশের মধ্যেই উপযুক্ত সক্ষমতা থাকতে পারে। তাই আমার কাছে বিদেশে চিকিৎসার প্রশ্নটি “দেশ না বিদেশ”—এভাবে দেখার চেয়ে “প্রয়োজনের জন্য সঠিক জায়গা কোথায়?”—এই প্রশ্নে দেখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একটি ভালো স্বাস্থ্যব্যবস্থা রোগীকে কোনো একটি সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দেয় না। বরং তাকে সঠিক তথ্য, প্রয়োজনীয় বিকল্প এবং যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ দেয়। শেষ পর্যন্ত রোগী বিদেশে যাবেন, নাকি দেশে চিকিৎসা নেবেন—সিদ্ধান্তটি তার। আমাদের দায়িত্ব হলো সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তাকে যথেষ্ট তথ্য ও আস্থার সুযোগ দেওয়া। কারণ চিকিৎসার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে কখনো কখনো আরেকজন বিশেষজ্ঞের মতামত শুধু একটি অতিরিক্ত পরামর্শ নয়— এটি হতে পারে আরও সচেতন সিদ্ধান্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। লেখক: মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন মামুন হেড অব ডিজিটাল, ব্র্যান্ড অ্যান্ড পিআর এভারকেয়ার হাসপাতাল চট্টগ্রাম। আরটিভি/ এসকেডি
চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার আগে দ্বিতীয় মতামত কেন গুরুত্বপূর্ণ?
আঞ্চলিক লজিস্টিকস ও শিল্পের হাব হতে পারে বাংলাদেশ: জেট্রো
ভৌগোলিক অবস্থান ও বিপুল জনসংখ্যার কারণে দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে আঞ্চলিক লজিস্টিকস ও শিল্পের কেন্দ্রে (হাব) পরিণত হওয়ার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশের।
আঞ্চলিক লজিস্টিকস ও শিল্পের হাব হতে পারে বাংলাদেশ: জেট্রো
আরও পড়ুন
নতুন সরকারের বাজেট উপস্থাপন ১১ জুন
‘সোনার বাংলা’র স্বপ্নপূরণে কাজ করবে নতুন সরকার: অমিত শাহ
শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে আনতে কী করবে নতুন সরকার, জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেলেন ১৩ দেশের সরকারপ্রধান