ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

অল্প বৃষ্টিতেই ডুবল ঢাকা: জলাবদ্ধতা আমাদেরই হাতের কামাই

মাহমুদ সোহেল

প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৯ পিএম
মাহমুদ সোহেল : সংগৃহীত

এ বছরের ২১ জানুয়ারি। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ হয় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নেতাদের। তখনো তিনি প্রধানমন্ত্রী হননি, সামনে ছিল নির্বাচন। সেই সাক্ষাতে আমিও ছিলাম। পরিবেশ সাংবাদিক হওয়ায় আমি প্রশ্ন করি— বাস-অযোগ্য ঢাকার পরিবেশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী হলে আপনার পরিকল্পনা কী?

উনার উত্তর থেকে বোঝা গেল, প্রাণহীন ঢাকা নিয়ে উনার যথেষ্ট ধারণা আছে। সেদিন উনি ঢাকা শহর নিয়ে যে পরিকল্পনার কথা আমাদের সামনে তুলে ধরলেন, তাতে আশাবাদী হওয়া যায়। বেশ সময়োপযোগী কিছু পরিকল্পনা আমাদেরকে জানান তিনি। সে বিষয়ে পরে আসছি। তবে তারেক রহমানের মতো এমন অনেক প্রধানমন্ত্রী ইতোপূর্বে ঢাকা নিয়ে নানা রকম গালগল্প শুনিয়েছেন জাতিকে, তবে কেউ পারেননি মৃতপ্রায় এই শহরটিকে মেরামত করতে।

আজকে বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতার ভোগান্তি ছিল বেশ কষ্টদায়ক। তবে পরিবেশ সাংবাদিক হিসেবে আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি, এই ভোগান্তির কথা ভুক্তভোগীরা খুব দ্রুতই ভুলে যাবে। শহরকে সুন্দর রাখার গুরুত্ব এখন যেভাবে অনুধাবন করছে, পানি শুকানোর সঙ্গে সঙ্গে সেই অনুভূতিও হারিয়ে যাবে। সাধারণ মানুষের এই খামখেয়ালির কারণে ঢাকার পরিবেশ আরও খারাপ হচ্ছে। জাতি হিসেবে আমরা বড্ড অসচেতন। বিশেষ করে গণমাধ্যম চরম ব্যর্থ এই ইস্যুতে। ঢাকার পরিবেশ নিয়ে মানুষকে সতর্ক বা সচেতন করতে না পারার দায় গণমাধ্যম এড়াতে পারে না।

pm

অচেনা লেগেছে ঢাকার রাজপথ। চারদিকে খালি পানি আর পানি! সপ্তাহের প্রথম দিন রোববার হওয়ায় অফিসগামী মানুষের ভোগান্তি ছিল চরমে। অথচ বৃষ্টি হয়েছে খুবই সামান্য। সামান্য বলছি এই কারণে— আষাঢ় মাসে এমন বৃষ্টি আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী খুবই সাধারণ। কিন্তু এই সামান্য বৃষ্টিতেই কেন রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো ডুবে গেল?

গত ১৭ বছর ‘উন্নয়নের গণতন্ত্র’ নামক ট্যাবলেট খাইয়ে এ জাতিকে ঘুমিয়ে রেখেছিল স্বৈরাচার হাসিনা। বড় বড় বিল্ডিং আর ফ্লাইওভার বানিয়ে জাতিকে সিঙ্গাপুরের স্বপ্ন দেখিয়েছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে একটি আধুনিক শহরের প্রধান বৈশিষ্ট্য শুধু সুউচ্চ দালানকোঠা হতে পারে না— আমরা পরিবেশবাদী সাংবাদিকরা আজও জাতিকে তা বোঝাতে পারিনি। এবার আমরা একটু খোঁজার চেষ্টা করি সামান্য বৃষ্টিতে কেন ডুবে যায় ঢাকা।

আরও পড়ুন

এখন আষাঢ়ের মাঝামাঝি সময়। প্রকৃতির নিয়মে এখন বাংলাদেশে প্রবল বৃষ্টি হওয়ার কথা। আবহাওয়া দপ্তরের দীর্ঘকালীন গড় হিসাব অনুযায়ী, এই আষাঢ় মাসে (জুন-জুলাই) ঢাকায় স্বাভাবিকভাবেই গড়ে প্রায় ৩৫০ থেকে ৪০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হওয়ার কথা।

রোববারের ডেইলি স্টার বাংলা অনলাইনের তথ্য বলছে, শনিবার রাত ১২টা থেকে রোববার সকাল ৬টা পর্যন্ত ঢাকায় মাত্র ৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। আর তাতেই ঢাকা ডুবে গেল! অবাক হওয়ার মতো তথ্য। আসলে এই শহর যে বাসযোগ্যতা বহু আগে হারিয়েছে, সেই বিষয়টি যেন সবার সামনে পরিষ্কার হলো। কিন্তু কথাটি সরকারের আমলা বা দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা জেনেও স্বীকার করেন না।

এই শহরে শীতকালে শান্তি নেই। সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে তখন পানি ছিটানোর কথা থাকলেও বাস্তবে তা চোখে পড়ে না। ফলে পৃথিবীর সবচেয়ে দূষিত শহর তখন হয়ে ওঠে ঢাকা। দেশি ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তখন এমন শিরোনাম হয় প্রতিনিয়ত।pm2]

অতি গরমেও শান্তি নেই। শান্তির আশায় বৃষ্টি হলে শুরু হয় ভয়াবহ জলজট। অর্থাৎ ঢাকাবাসীর অশান্তি যেন ভাগ্যেই লেখা।

গণমাধ্যম কর্মী হিসেবে নিজ চোখে দেখেছি— মানুষের এমন ভোগান্তি নিয়ে সংবাদের ব্যাপারে অধিকাংশ টেলিভিশন ও পত্রিকার আগ্রহ কম। আমার কাছে মনে হয় গণমাধ্যমের শীর্ষ ব্যক্তিরাই অনেকে পরিবেশ সাংবাদিকতা বোঝেন না। এজন্যই হয়তো তাদের কাছে এটা গুরুত্বহীন।

ঢাকার এই দুর্ভোগের পেছনের কারণ খুঁজতে গেলে বেরিয়ে আসবে নানা অনিয়ম আর দুর্নীতির তথ্য। প্রমাণ হবে, এই জলজট কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, বরং আমাদের নিজেদের হাতের কামাই। নদী আর খালগুলোকে গলা টিপে হত্যা করার পেছনে বেরিয়ে আসবে একেকটি ঐতিহাসিক আত্মহত্যার গল্প।

আরও পড়ুন

পৃথিবীর খুব কম দেশের রাজধানী আছে যা ঢাকার মতো এমন চমৎকার ভৌগোলিক সুবিধা নিয়ে গড়ে উঠেছিল। এই শহরের চারপাশ ঘিরে রেখেছে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু আর শীতলক্ষ্যা নদী। আর শহরের মাঝখান দিয়ে জালের মতো বিছানো ছিল প্রায় ৬৫ থেকে ১০০টি প্রাকৃতিক খাল (সূত্র: জেলা প্রশাসন ও ঢাকা ওয়াসা ঐতিহাসিক রেকর্ড)।

ধোলাইখাল, বেগুনবাড়ি খাল, সেগুনবাগিচা খাল, কল্যাণপুর খালের মতো এই জলপথগুলো ছিল ঢাকার ফুসফুস। বৃষ্টি হলেই খালগুলো দিয়ে পানি নদীতে পড়তো। একই সঙ্গে নদী আর খালগুলো সচল থাকলে ঢাকার যানজটও কমে যেত। মালামাল বহনকারী যানবাহন তখন সড়কে কম চলতো। কারণ নদীপথে মালামাল বহনে খরচ কম, মানুষ সেটাতেই আগ্রহী হতো।

ঢাকার মতো নদী আর খাল বেষ্টিত কোনো শহর যদি পৃথিবীর উন্নত কোনো দেশ পেতো, তাহলে এই ঢাকার চিত্র ভিন্ন হতো। কিন্তু সেই সুন্দর ও প্রাকৃতিক শহরটাকে ধ্বংস করলো কারা? এই উত্তর খুঁজলে দেখা যাবে অতীতের সব সরকার এর জন্য দায়ী।

বনশ্রী আর আফতাবনগরের মাঝ দিয়ে বহমান ছিল নড়াই নদী। অথচ ঘুষ খেয়ে সেই নদীকে আমলারা সরকারি কাগজপত্রে খাল বানিয়ে দিয়েছে। ‘নোঙর’ নামক একটি পরিবেশবাদী সংগঠন প্রতিবছর নড়াই নদী দখল ও হত্যার বিচার চেয়ে কর্মসূচি পালন করে।

বৃষ্টির পানি ভূপৃষ্ঠে পৌঁছাতে পারে না এই শহরে। একটি আধুনিক শহরের জন্য ১৫ শতাংশ জলাধার ও ১৫ শতাংশ জায়গা উন্মুক্ত থাকা উচিত, যেখানে সবুজায়ন থাকবে। ঢাকায় তা পরিমাণে খুবই কম। বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টি হলে ভূপৃষ্ঠে সেই পানি মজুদ থাকবে, যাতে সারা বছর শহরের মানুষ নলকূপের মাধ্যমে সেই পানি তুলতে পারে। কিন্তু এই শহরে সেই পরিমাণ জলাধার না থাকার কারণে একদিকে আমরা জলজটে ভুগছি, অন্যদিকে ভূপৃষ্ঠের পানির স্তর দিন দিন নিচে নেমে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন

পানি গবেষকদের মতে, এভাবে জলাধার কমতে থাকলে আগামী ১০ বছর পর ঢাকা শহরের ভূপৃষ্ঠে পানি পাওয়া যাবে না। পানির হাহাকারে এই শহর ছেড়ে পালাবে মানুষ।

খুব স্পষ্ট করে বললে, ঢাকার এই জলজটের মূল কারণ প্রকৃতির কোনো খামখেয়ালিপনা নয়, এটি সম্পূর্ণ আমাদের ‘হাতের কামাই’। অতীতের প্রায় সব সরকারই উন্নয়নের নামে, আবাসন প্রকল্পের নামে এবং নগরায়ণের খোঁড়া যুক্তিতে ঢাকার এই খালগুলোকে গলা টিপে হত্যা করেছে। বক্স কালভার্ট তৈরি করে খালের ওপর রাস্তা বানানো হয়েছে, বহুতল ভবন তোলা হয়েছে, আর বাকিটা গিলে খেয়েছে ক্ষমতাবান ভূমিদস্যুরা। ওয়াসা এবং রাজউকের কর্মকর্তারা এই দুর্নীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত। ঢাকাবাসীর সামনে ধোলাইখাল আজ ইতিহাসের পাতায় বিলীন। সেগুনবাগিচা খালের ওপর দাঁড়িয়ে আছে বহুতল ভবন ও কালভার্ট রোড। যে খালগুলো পানি নিষ্কাশন করতো, সেগুলোকে বানানো হয়েছে কংক্রিটের বদ্ধ ড্রেন।

নদী ও খাল দখলের কারণেই মূলত অল্প বৃষ্টিতে ঢাকা ডুবে যায়। এই জলজটের জন্য এককভাবে কাউকে দায়ী করা যাবে না। এর জন্য দায়ী বিগত কয়েক দশকের সরকারের ভুল পরিকল্পনা, বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়হীনতা এবং আমাদের নিজেদের চরম অসচেতনতা। একদিকে সরকারের অন্ধ উন্নয়ন নীতি, যেখানে পানি প্রবাহের পথ বন্ধ করে রাস্তা ও বক্স কালভার্ট করা হয়েছে; অন্যদিকে আমাদের নাগরিকদের দায়িত্বহীনতা, যার কারণে অবশিষ্ট ড্রেন ও নালাগুলো পলিথিন আর প্লাস্টিক বর্জ্যে জ্যাম হয়ে পানি আটকে যায়।

ঢাকার এই চিরস্থায়ী অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে হলে সরকারকে এখনই তৎপর হতে হবে। কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ে কঠোর ও সাহসী পদক্ষেপ নিতে হবে। যেমন—

অবিলম্বে খাল পুনরুদ্ধার করতে হবে: ঢাকার মানচিত্র ধরে সিএস ও আরএস রেকর্ড অনুযায়ী সীমানা নির্ধারণ করতে হবে। খালের উপর গড়ে ওঠা সমস্ত অবৈধ ভবন, কালভার্ট ও রাস্তা ভেঙে পানি প্রবাহের পথ উন্মুক্ত করতে হবে। সরকারি দলকে এখানে দলীয়করণ থেকে দূরে থাকতে হবে।

বক্স কালভার্ট প্রথার অবসান ঘটাতে হবে: অতীতে খালের ওপর যে বক্স কালভার্টগুলো তৈরি করা হয়েছিল, সেগুলো ভেঙে উন্মুক্ত লেক বা লেকসাইড করিডোরে রূপান্তর করতে হবে।

সেবা সংস্থাগুলোর একক সমন্বয় দরকার: ঢাকা ওয়াসা, দুই সিটি কর্পোরেশন এবং রাজউকের মধ্যকার ঠেলাঠেলি বন্ধ করতে হবে। ড্রেনেজ ও পানি নিষ্কাশনের পুরো দায়িত্ব একক কোনো কার্যকর কর্তৃপক্ষের হাতে দিতে হবে।

নদী সচল ও ওয়াটার বাস চালু: ঢাকার চারপাশের নদীতে আধুনিক উন্নতমানের ওয়াটার বাস চালু করতে হবে। এই কাজ দলীয় লোককে দেওয়া যাবে না, যোগ্য ও পেশাদারদের দিতে হবে। বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু, শীতলক্ষ্যাকে দখল ও দূষণমুক্ত করতে হবে, যাতে খালের পানি নদীতে সহজে নামতে পারে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন: শহরের প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্য যাতে ড্রেনে গিয়ে না পড়ে, তার জন্য কঠোর আইন ও আধুনিক ট্র্যাশ-ক্যাচিং প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। জনগণের সামনে পলিথিনের বিকল্প হাজির করতে হবে।

আরও পড়ুন

ঢাকা আজ এক মৃতপ্রায় নগরী। শিশুদের খেলার কোন মাঠ নেই, নেই পর্যাপ্ত বিনোদন পার্ক। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শারীরিকভাবে পঙ্গু হয়ে বেড়ে উঠবে। ঢাকার পরিবেশকে বাইরে রেখে কোনোভাবেই আধুনিক শহর করা সম্ভব নয়— সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সেটা বুঝতে হবে।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন লন্ডনের মতো সুন্দর শহরে থেকে এসেছেন। দেশবাসী আশায় বুক বেঁধেছে, এবার হয়তো ঢাকা প্রাণ খুঁজে পাবে। প্রধানমন্ত্রী হয়তো যুগান্তকারী কোনো সিদ্ধান্তে ঢাকার দূষণ কমিয়ে দেবেন। আসলে একা তা সম্ভব নয়। প্রধানমন্ত্রীর কাছে এমন কোনো জাদুর কাঠি নেই যে তিনি রাতারাতি ঢাকাকে বদলে দেবেন। বরং ঢাকাকে বদলাতে হলে সবার আগে আমাদের নিজেদের বদলাতে হবে। এই শহরের প্রাণ ও প্রকৃতি ফেরাতে কাজ করতে হবে। নিজ উদ্যোগে গাছ লাগাতে হবে, শহরটাকে ভালোবাসতে হবে। তা না হলে সরকারের একার পক্ষে পৃথিবীর কোনো শহরই পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব করে গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

তবে তারেক রহমান ঢাকাকে বিকেন্দ্রীকরণ নিয়ে কয়েকটি পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নেতাদের সঙ্গে, যা আশা জাগানোর মতো। তিনি জানান, ঢাকায় মানুষের চাপ কমাতে হবে। সেজন্য আশেপাশের সব জেলার সঙ্গে রেল যোগাযোগ সহজ ও পর্যাপ্ত করতে হবে।

এই একটি কাজ করা গেলে মানুষ বেশি টাকা দিয়ে ঢাকা শহরে বাসা ভাড়া করে থাকবে না বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। তারেক রহমান চান— ঢাকার চারপাশের প্রতিটি জেলার সঙ্গে ২৪ ঘণ্টা ট্রেন যোগাযোগ চালু করতে। তাহলে যানজটসহ পানি, গ্যাস ও বিদ্যুতের উপর চাপ কমবে। বাসযোগ্যতা ধীরে ধীরে ফিরে পাবে ঢাকা।

তবে শেষ করবো হতাশার কথা দিয়ে। কারণ বাংলাদেশে এর আগে বহু যোগ্য পরিবেশমন্ত্রী পেয়েছি আমরা, কিন্তু দিনশেষে ঢাকার দূষণ আরও বেড়েছে। এর লাগাম টানবে কে? কোন দল বা ব্যক্তি পারবে ঢাকা শহরকে বাঁচাতে? সেই মানুষটি নিশ্চয়ই আসমান থেকে আসবে না।

তার মানে আমাদেরকেই এই শহরের হাল ধরতে হবে। সরকার অনেক কিছু করে দেবে এমন আশা করা ভুল। দিনশেষে শহরটা আমাদেরই মেরামত করতে হবে।

প্রতিটা বাড়িতে যতটুকু জায়গা আছে গাছ লাগাতে হবে। ছাদ বাগানে উৎসাহ দিতে হবে। যে বাড়িতে ছাদ বাগান থাকবে, সেই বাড়ির ট্যাক্স কমানোর ঘোষণা আসতে হবে। এমন যুগান্তকারী কিছু উদ্যোগ সরকার নেওয়ার পর আমরা যদি ঢাকাতে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিতে পারি, তবেই এই শহর টিকে থাকবে। নতুবা আগামী এক দশক পর তেল, গ্যাস, পানি অথবা বিদ্যুতের তীব্র সংকট দেখা দেবে। তখন ৪০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই শহর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হবে মানুষ।

লেখক : পরিবেশ বিষয়ক সাংবাদিক

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
প্রধানমন্ত্রীর মানবিক বাংলাদেশ গড়ার পাঠ
একটি শিশু জন্মগ্রহণ করে খালি হাতে। কোনো মূল্যবোধ নিয়ে সে জন্মায় না। বেড়ে ওঠার প্রতিটি ধাপে চারপাশের মানুষ আর পরিবেশের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়ার ভেতর দিয়ে তার মনে জন্ম নেয় সহানুভূতি। জন্ম নেয় দায়িত্ববোধ।
প্রধানমন্ত্রীর মানবিক বাংলাদেশ গড়ার পাঠ
নির্বাচিত সরকার এসেছে, কিন্তু প্রশাসনের পুরোনো বাজার কী বন্ধ হয়েছে
৫ আগস্ট ২০২৪ বাংলাদেশের রাজনীতিতে শুধু একটি সরকারের পতনের দিন ছিল না, সেই দিনটির সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, প্রশাসনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার একটি বড় প্রত্যাশাও তৈরি হয়েছিল।
নির্বাচিত সরকার এসেছে, কিন্তু প্রশাসনের পুরোনো বাজার কী বন্ধ হয়েছে
নতুন বেতন স্কেল: সরকারি কর্মচারীর আয় বাড়ল, সাধারণ মানুষের কী
সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। সর্বশেষ জাতীয় বেতন স্কেল কার্যকর হয়েছিল ২০১৫ সালে। এরপর এক দশকের বেশি সময়ে জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নতুন জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ এ বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং প্রথম গ্রেডের নির্ধারিত মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ সর্বনিম্ন গ্রেডে মূল বেতন বেড়েছে ১৪২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডে ১০০ শতাংশ।
নতুন বেতন স্কেল: সরকারি কর্মচারীর আয় বাড়ল, সাধারণ মানুষের কী
সাক্ষাৎকার / ব্যাপক সংস্কার ও আধুনিকায়নে ঘুরে দাঁড়াতে চায় বিসিক
ব্যাপক সংস্কার ও আধুনিকায়নের পরিকল্পনা নিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে চায় বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)।
ব্যাপক সংস্কার ও আধুনিকায়নে ঘুরে দাঁড়াতে চায় বিসিক
প্রতিবাদই কি কাল হলো
কখনও কখনও একটি হত্যাকাণ্ড শুধু একটি হত্যাকাণ্ড থাকে না। একটি ঘটনা তার তাৎক্ষণিক পরিণতিকে অতিক্রম করে সমাজ, রাষ্ট্র এবং আমাদের সম্মিলিত বিবেকের সামনে এমন কিছু প্রশ্ন রেখে যায়, যেগুলোর উত্তর এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে না। আমিনবাজারের বড়দেশী মদিনা সিটি এলাকায় উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলতাফ হোসেনের নির্মম মৃত্যু তেমনই একটি ঘটনা। ঘটনার শুরু হয়েছিল খুবই তুচ্ছ একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত আটটার দিকে নিজের ছোট কারখানার কাছে অবস্থান করছিলেন আলতাফ হোসেন। তার পাশেই একটি অটোরিকশা গ্যারেজের সামনে এক প্রবীণ গ্যারেজ মালিক কালামকে ঘিরে ধরেছিল কয়েকজন উচ্ছৃঙ্খল যুবক। একটি রিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ির পাশ কাটানোকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বাগ্‌বিতণ্ডা একপর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। একজন বয়স্ক মানুষকে প্রকাশ্যে হেনস্তা হতে দেখে তিনি এগিয়ে গিয়েছিলেন পরিস্থিতি শান্ত করতে। এটাই ছিল তার ‘অপরাধ’। তিনি হয়তো তখন ভাবেননি যে একজন মানুষকে অন্যায়ের হাত থেকে রক্ষা করার চেষ্টা তাকে নিজের জীবন দিয়ে মূল্য দিতে হবে। হামলাকারীদের থামানোর চেষ্টা করলে তারা উল্টো তার ওপর চড়াও হয়। তিনি নিজেকে পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। যে পরিচয় শুনে সাধারণত একজন অপরাধীর থেমে যাওয়ার কথা, সেটিই সেদিন যেন কোনো অর্থ বহন করল না। তাকে চড় মারা হলো। আঘাতে তার কানে রক্তপাত হলো। পরিস্থিতি আরও খারাপ বুঝতে পেরে তিনি নিজের কারখানার ভেতরে চলে গেলেন। কিন্তু হামলাকারীদের ক্ষোভ সেখানে শেষ হয়নি। কিছুক্ষণ পর একটি প্রাইভেট কার এসে কারখানার সামনে থামে। এরপর সেখানে জড়ো হয় আরও বহু মানুষ। কারও হাতে লাঠি, কারও হাতে দেশীয় অস্ত্র। তারা কারখানার দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে। একজন মানুষের ওপর হামলা করতে গিয়ে তারা তার সন্তানকেও রেহাই দেয়নি। আলতাফ হোসেনের ছোট ছেলে আরিফুলকে মেঝেতে ফেলে মারধর করা হয়; মাথায় আঘাত করে তাকে সংজ্ঞাহীন করে দেওয়া হয়। এরপর আলতাফ হোসেনের ওপর নেমে আসে একের পর এক আঘাত। শেষ পর্যন্ত হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার ছেলে এখনো হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। এখানে থেমে গিয়ে আমাদের প্রথম প্রশ্নটি করা উচিত: একটা তুচ্ছ বাগ্‌বিতণ্ডা কীভাবে এত বড় সহিংসতায় পরিণত হলো? এর উত্তর কেবল কয়েকজন উচ্ছৃঙ্খল যুবকের চরিত্রে খুঁজলে ভুল হবে। কারণ ব্যক্তি অপরাধের পেছনে প্রায়ই একটা সামাজিক পরিবেশ কাজ করে। যে পরিবেশে অপরাধ ছোট হতে হতে বড় হয়, প্রতিবাদ ধীরে ধীরে বিপজ্জনক হয়ে ওঠে, আর আইনকে পাশ কাটিয়ে দলবদ্ধ শক্তিকে ‘ক্ষমতা’ বলে মনে করা শুরু হয়। আমরা এমন এক সময়ে দাঁড়িয়ে আছি, যখন তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হামলা, প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন, মাদক সেবন, কিশোর গ্যাং এবং স্থানীয় সন্ত্রাস—এসব আর কেবল বিচ্ছিন্ন খবর নয়। এগুলো অনেক এলাকায় সামাজিক বাস্তবতার অংশ হয়ে উঠছে। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, অপরাধের সঙ্গে যুক্ত অনেক তরুণের মধ্যে অপরাধবোধের জায়গাটি যেন ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। তারা জানে, দলবদ্ধ হলে ভয় তৈরি করা যায়; ভয় তৈরি করতে পারলে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা যায়; আর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারলে আইনকে পাশ কাটানো সম্ভব। এই মানসিকতার সঙ্গে রাষ্ট্রের দুর্বলতার ধারণা যুক্ত হলে পরিস্থিতি আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে। জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে পুলিশ বাহিনী একটি জটিল বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অতীতে রাজনৈতিক ক্ষমতার সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে পক্ষপাতের অভিযোগ এবং আন্দোলন দমনে বাহিনীর কিছু সদস্যের ভূমিকা— এসব কারণে পুলিশের প্রতি মানুষের একাংশের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ক্ষোভের সামাজিক ও রাজনৈতিক ভিত্তি রয়েছে। সেটিকে অস্বীকার করে পুলিশের প্রতি জনআস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। কিন্তু এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমারেখা রয়েছে। পুলিশের অতীত ভূমিকার সমালোচনা করা এক বিষয়, আর সেই ক্ষোভকে ব্যবহার করে পুলিশ সদস্যের ওপর হামলা, কিংবা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়াকে বৈধতা দেওয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। রাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠানই সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়। পুলিশও নয়, বরং পুলিশের ওপর আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে অতীতের ভুল, অপব্যবহার ও জবাবদিহিতার ঘাটতি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা প্রয়োজন। কিন্তু একই সঙ্গে এটিও মনে রাখতে হবে, একটি রাষ্ট্রে আইন প্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়ে পড়লে তার ক্ষতি শেষ পর্যন্ত শুধু পুলিশের হয় না; ক্ষতি হয় সাধারণ মানুষের। কারণ অপরাধীর কাছে একবার যদি এই বার্তা পৌঁছে যায় যে, সংঘবদ্ধ শক্তি দিয়ে আইনকে ভয় দেখানো যায়, তখন সেই শক্তির পরবর্তী লক্ষ্য নির্ধারণের কোনো সীমা থাকে না। আলতাফ হোসেনের মৃত্যু আসলে রাষ্ট্র বনাম আইনহীনতার প্রশ্ন। আর এই জায়গাটিই আমাদের সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়ে বুঝতে হবে। কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পুলিশের কাজ জনগণের ওপর ক্ষমতা প্রয়োগ করা নয়; পুলিশের কাজ হলো আইনের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা এবং নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু সেই দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশকে যেমন জবাবদিহির মধ্যে থাকতে হবে, তেমনি রাষ্ট্রকেও তাদের পেশাগত নিরাপত্তা ও কার্যকর আইন প্রয়োগের সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে। যে পুলিশ সদস্য অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে নিজেই নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েন, সেখানে শুধু পুলিশের দুর্বলতা নয়, রাষ্ট্রের সক্ষমতার প্রশ্নও উঠে আসে। আলতাফ হোসেনের পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, তাদের কারখানার পাশের একটি ফাঁকা জায়গায় প্রায়ই কিছু যুবক এসে আড্ডা দিত এবং মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকত। এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলেই নাকি চাপ ও হুমকির মুখে পড়তে হতো তাদের। অভিযোগগুলো তদন্তে সত্য প্রমাণিত হলে বিষয়টি আরও গভীর উদ্বেগের কারণ হবে। কারণ একটি সমাজে অপরাধের সবচেয়ে বিপজ্জনক পর্যায় তখনই শুরু হয়, যখন মানুষ অপরাধকে শুধু দেখতে পায় না, বরং তার সঙ্গে বসবাস করতে অভ্যস্ত হয়ে যায়। প্রকাশ্য মাদক সেবনকে আমরা ‘ছেলেপেলেদের দুষ্টুমি’ বলে এড়িয়ে যাই। স্থানীয় বখাটেদের উৎপাতকে ‘এলাকার ব্যাপার’ বলে পাশ কাটাই। অস্ত্র প্রদর্শনকে গুরুত্ব দিই না। তারপর একদিন সেই একই শক্তি যখন বড় কোনো অপরাধ করে বসে, তখন আমরা বিস্মিত হই। অথচ অপরাধের বড় বিস্ফোরণের আগে তার ছোট ছোট শব্দগুলো বহুদিন ধরেই শোনা যায়। এখন প্রশ্ন হলো, আমরা কি আবারও কয়েক দিন আলোচনা করে বিষয়টি ভুলে যাব? কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হবে, সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হবে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ ছড়াবে, তারপর ধীরে ধীরে সবকিছু অন্য খবরের নিচে চাপা পড়ে যাবে। যদি এমন হয়, তবে আলতাফ হোসেনের মৃত্যু থেকে আমরা কিছুই শিখলাম না। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার অবশ্যই হতে হবে। কিন্তু বিচার মানে শুধু কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা নয়। হামলায় কারা সরাসরি অংশ নিয়েছে, কারা হামলাকারীদের সংগঠিত করেছে, কারা অস্ত্র সরবরাহ করেছে, কারা পরিকল্পনা বা উসকানির সঙ্গে যুক্ত ছিল—তদন্তের মাধ্যমে প্রতিটি স্তর খুঁজে বের করতে হবে। একই সঙ্গে কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। ন্যায়বিচারের অর্থ প্রতিশোধ নয়; ন্যায়বিচারের অর্থ সত্য উদ্‌ঘাটন এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ। এর পাশাপাশি পুলিশ বাহিনীর সংস্কারও এখন আর ঐচ্ছিক কোনো বিষয় নয়। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, পেশাদার, দক্ষ এবং জবাবদিহিমূলক পুলিশ ব্যবস্থা ছাড়া আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পুলিশকে শুধু শক্তিশালী করলেই হবে না; তাদের বিশ্বাসযোগ্যও হতে হবে। জনগণের প্রতি দায়িত্বশীলতা এবং অপরাধীর বিরুদ্ধে দৃঢ়তা—এই দুইয়ের সমন্বয়েই একটি কার্যকর পুলিশ বাহিনী তৈরি হয়। একইভাবে সমাজকেও নিজের দায়িত্ব নিতে হবে। কিশোর গ্যাং তৈরি হওয়ার পর তাদের দমন করার চেয়ে তারা কেন তৈরি হচ্ছে, সেই প্রশ্নটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারে নজরদারির অভাব, শিক্ষাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, মাদকের বিস্তার, কর্মসংস্থানের সংকট, সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং স্থানীয়ভাবে অপরাধীদের প্রশ্রয়— সবকিছুর সঙ্গে এই সমস্যার যোগসূত্র রয়েছে। তাই সমাধানও হতে হবে বহুমাত্রিক। তরুণদের হাতে যদি আমরা শুধু নিষেধাজ্ঞা তুলে দিই, কিন্তু বিকল্প কোনো স্বপ্ন না দিই, তাহলে শূন্যস্থানটি অন্য কেউ পূরণ করবে। মাদকব্যবসায়ী, অপরাধী গোষ্ঠী কিংবা কিশোর গ্যাং সেই শূন্যস্থান দখল করবে। তাই আইন প্রয়োগের পাশাপাশি তরুণদের জন্য খেলাধুলা, সংস্কৃতি, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের বাস্তব সুযোগ তৈরি করতে হবে। একটি প্রজন্মকে অপরাধ থেকে দূরে রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো তাদের সামনে সম্মানজনক জীবনের পথ খুলে দেওয়া। সবশেষে ফিরে আসি আলতাফ হোসেনের কাছে। তিনি হয়তো কোনো বড় রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না। তার হাতে ছিল না কোনো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা। তিনি ছিলেন একজন পুলিশ কর্মকর্তা, যিনি নিজের চোখের সামনে একজন প্রবীণ মানুষকে হেনস্তা হতে দেখে এগিয়ে গিয়েছিলেন। তার সেই সিদ্ধান্ত হয়তো খুব সাধারণ মনে হতে পারে। কিন্তু একটি সুস্থ সমাজের ভিত্তি গড়ে ওঠে ঠিক এমন ছোট ছোট মানবিক সিদ্ধান্তের ওপর। একজন অন্যায়ের প্রতিবাদ করবেন, এটাই স্বাভাবিক। একজন দুর্বল মানুষকে রক্ষা করতে আরেকজন এগিয়ে আসবেন, এটাই সভ্যতার লক্ষণ। কিন্তু সেই প্রতিবাদ যদি প্রাণের ঝুঁকি হয়ে দাঁড়ায়, তবে বুঝতে হবে সমাজের কোথাও বড় ধরনের অসুখ তৈরি হয়েছে। আলতাফ হোসেনের মৃত্যু সেই অসুখেরই রক্তাক্ত উপসর্গ। আমিনবাজারে যে রক্ত ঝরেছে, সেটি আমাদের রাষ্ট্রের আয়নায় উঠে আসা এক কঠিন প্রতিচ্ছবি। সেই আয়নায় আমরা কী দেখতে চাই— একটি ভীত, বিভক্ত ও আইনহীন সমাজ, নাকি এমন একটি রাষ্ট্র, যেখানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো মানুষ জানেন যে আইন তার পাশে আছে? সিদ্ধান্তটি শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রের, সমাজের এবং আমাদের প্রত্যেকের। লেখক: সাংবাদিক, দি ডেইলি সান আরটিভি/এসএস
প্রতিবাদই কি কাল হলো
আরও পড়ুন
ককটেলের ভয় দেখাবেন না, কামান ফেস করে এসেছি: নয়ন
ঢাকার যেসব এলাকায় আজ মার্কেট বন্ধ থাকবে
অভিনেতা রিফাত চৌধুরীর শারীরিক অবস্থা নিয়ে সবশেষ যা জানা গেল
ঢাকায় বজ্রপাতসহ ভারী বৃষ্টির আভাস