অল্প বৃষ্টিতেই ডুবল ঢাকা: জলাবদ্ধতা আমাদেরই হাতের কামাই

মাহমুদ সোহেল

রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬ , ১০:৫৯ পিএম


অল্প বৃষ্টিতেই ডুবল ঢাকা: জলাবদ্ধতা আমাদেরই হাতের কামাই
মাহমুদ সোহেল : সংগৃহীত

এ বছরের ২১ জানুয়ারি। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ হয় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নেতাদের। তখনো তিনি প্রধানমন্ত্রী হননি, সামনে ছিল নির্বাচন। সেই সাক্ষাতে আমিও ছিলাম। পরিবেশ সাংবাদিক হওয়ায় আমি প্রশ্ন করি— বাস-অযোগ্য ঢাকার পরিবেশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী হলে আপনার পরিকল্পনা কী?

উনার উত্তর থেকে বোঝা গেল, প্রাণহীন ঢাকা নিয়ে উনার যথেষ্ট ধারণা আছে। সেদিন উনি ঢাকা শহর নিয়ে যে পরিকল্পনার কথা আমাদের সামনে তুলে ধরলেন, তাতে আশাবাদী হওয়া যায়। বেশ সময়োপযোগী কিছু পরিকল্পনা আমাদেরকে জানান তিনি। সে বিষয়ে পরে আসছি। তবে তারেক রহমানের মতো এমন অনেক প্রধানমন্ত্রী ইতোপূর্বে ঢাকা নিয়ে নানা রকম গালগল্প শুনিয়েছেন জাতিকে, তবে কেউ পারেননি মৃতপ্রায় এই শহরটিকে মেরামত করতে।

আজকে বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতার ভোগান্তি ছিল বেশ কষ্টদায়ক। তবে পরিবেশ সাংবাদিক হিসেবে আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি, এই ভোগান্তির কথা ভুক্তভোগীরা খুব দ্রুতই ভুলে যাবে। শহরকে সুন্দর রাখার গুরুত্ব এখন যেভাবে অনুধাবন করছে, পানি শুকানোর সঙ্গে সঙ্গে সেই অনুভূতিও হারিয়ে যাবে। সাধারণ মানুষের এই খামখেয়ালির কারণে ঢাকার পরিবেশ আরও খারাপ হচ্ছে। জাতি হিসেবে আমরা বড্ড অসচেতন। বিশেষ করে গণমাধ্যম চরম ব্যর্থ এই ইস্যুতে। ঢাকার পরিবেশ নিয়ে মানুষকে সতর্ক বা সচেতন করতে না পারার দায় গণমাধ্যম এড়াতে পারে না।

pm

অচেনা লেগেছে ঢাকার রাজপথ। চারদিকে খালি পানি আর পানি! সপ্তাহের প্রথম দিন রোববার হওয়ায় অফিসগামী মানুষের ভোগান্তি ছিল চরমে। অথচ বৃষ্টি হয়েছে খুবই সামান্য। সামান্য বলছি এই কারণে— আষাঢ় মাসে এমন বৃষ্টি আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী খুবই সাধারণ। কিন্তু এই সামান্য বৃষ্টিতেই কেন রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো ডুবে গেল?

গত ১৭ বছর ‘উন্নয়নের গণতন্ত্র’ নামক ট্যাবলেট খাইয়ে এ জাতিকে ঘুমিয়ে রেখেছিল স্বৈরাচার হাসিনা। বড় বড় বিল্ডিং আর ফ্লাইওভার বানিয়ে জাতিকে সিঙ্গাপুরের স্বপ্ন দেখিয়েছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে একটি আধুনিক শহরের প্রধান বৈশিষ্ট্য শুধু সুউচ্চ দালানকোঠা হতে পারে না— আমরা পরিবেশবাদী সাংবাদিকরা আজও জাতিকে তা বোঝাতে পারিনি। এবার আমরা একটু খোঁজার চেষ্টা করি সামান্য বৃষ্টিতে কেন ডুবে যায় ঢাকা।

আরও পড়ুন

এখন আষাঢ়ের মাঝামাঝি সময়। প্রকৃতির নিয়মে এখন বাংলাদেশে প্রবল বৃষ্টি হওয়ার কথা। আবহাওয়া দপ্তরের দীর্ঘকালীন গড় হিসাব অনুযায়ী, এই আষাঢ় মাসে (জুন-জুলাই) ঢাকায় স্বাভাবিকভাবেই গড়ে প্রায় ৩৫০ থেকে ৪০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হওয়ার কথা।

রোববারের ডেইলি স্টার বাংলা অনলাইনের তথ্য বলছে, শনিবার রাত ১২টা থেকে রোববার সকাল ৬টা পর্যন্ত ঢাকায় মাত্র ৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। আর তাতেই ঢাকা ডুবে গেল! অবাক হওয়ার মতো তথ্য। আসলে এই শহর যে বাসযোগ্যতা বহু আগে হারিয়েছে, সেই বিষয়টি যেন সবার সামনে পরিষ্কার হলো। কিন্তু কথাটি সরকারের আমলা বা দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা জেনেও স্বীকার করেন না।

এই শহরে শীতকালে শান্তি নেই। সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে তখন পানি ছিটানোর কথা থাকলেও বাস্তবে তা চোখে পড়ে না। ফলে পৃথিবীর সবচেয়ে দূষিত শহর তখন হয়ে ওঠে ঢাকা। দেশি ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তখন এমন শিরোনাম হয় প্রতিনিয়ত।pm2]

অতি গরমেও শান্তি নেই। শান্তির আশায় বৃষ্টি হলে শুরু হয় ভয়াবহ জলজট। অর্থাৎ ঢাকাবাসীর অশান্তি যেন ভাগ্যেই লেখা।

গণমাধ্যম কর্মী হিসেবে নিজ চোখে দেখেছি— মানুষের এমন ভোগান্তি নিয়ে সংবাদের ব্যাপারে অধিকাংশ টেলিভিশন ও পত্রিকার আগ্রহ কম। আমার কাছে মনে হয় গণমাধ্যমের শীর্ষ ব্যক্তিরাই অনেকে পরিবেশ সাংবাদিকতা বোঝেন না। এজন্যই হয়তো তাদের কাছে এটা গুরুত্বহীন।

ঢাকার এই দুর্ভোগের পেছনের কারণ খুঁজতে গেলে বেরিয়ে আসবে নানা অনিয়ম আর দুর্নীতির তথ্য। প্রমাণ হবে, এই জলজট কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, বরং আমাদের নিজেদের হাতের কামাই। নদী আর খালগুলোকে গলা টিপে হত্যা করার পেছনে বেরিয়ে আসবে একেকটি ঐতিহাসিক আত্মহত্যার গল্প। 

আরও পড়ুন

পৃথিবীর খুব কম দেশের রাজধানী আছে যা ঢাকার মতো এমন চমৎকার ভৌগোলিক সুবিধা নিয়ে গড়ে উঠেছিল। এই শহরের চারপাশ ঘিরে রেখেছে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু আর শীতলক্ষ্যা নদী। আর শহরের মাঝখান দিয়ে জালের মতো বিছানো ছিল প্রায় ৬৫ থেকে ১০০টি প্রাকৃতিক খাল (সূত্র: জেলা প্রশাসন ও ঢাকা ওয়াসা ঐতিহাসিক রেকর্ড)।

ধোলাইখাল, বেগুনবাড়ি খাল, সেগুনবাগিচা খাল, কল্যাণপুর খালের মতো এই জলপথগুলো ছিল ঢাকার ফুসফুস। বৃষ্টি হলেই খালগুলো দিয়ে পানি নদীতে পড়তো। একই সঙ্গে নদী আর খালগুলো সচল থাকলে ঢাকার যানজটও কমে যেত। মালামাল বহনকারী যানবাহন তখন সড়কে কম চলতো। কারণ নদীপথে মালামাল বহনে খরচ কম, মানুষ সেটাতেই আগ্রহী হতো।

ঢাকার মতো নদী আর খাল বেষ্টিত কোনো শহর যদি পৃথিবীর উন্নত কোনো দেশ পেতো, তাহলে এই ঢাকার চিত্র ভিন্ন হতো। কিন্তু সেই সুন্দর ও প্রাকৃতিক শহরটাকে ধ্বংস করলো কারা? এই উত্তর খুঁজলে দেখা যাবে অতীতের সব সরকার এর জন্য দায়ী।

বনশ্রী আর আফতাবনগরের মাঝ দিয়ে বহমান ছিল নড়াই নদী। অথচ ঘুষ খেয়ে সেই নদীকে আমলারা সরকারি কাগজপত্রে খাল বানিয়ে দিয়েছে। ‘নোঙর’ নামক একটি পরিবেশবাদী সংগঠন প্রতিবছর নড়াই নদী দখল ও হত্যার বিচার চেয়ে কর্মসূচি পালন করে।

বৃষ্টির পানি ভূপৃষ্ঠে পৌঁছাতে পারে না এই শহরে। একটি আধুনিক শহরের জন্য ১৫ শতাংশ জলাধার ও ১৫ শতাংশ জায়গা উন্মুক্ত থাকা উচিত, যেখানে সবুজায়ন থাকবে। ঢাকায় তা পরিমাণে খুবই কম। বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টি হলে ভূপৃষ্ঠে সেই পানি মজুদ থাকবে, যাতে সারা বছর শহরের মানুষ নলকূপের মাধ্যমে সেই পানি তুলতে পারে। কিন্তু এই শহরে সেই পরিমাণ জলাধার না থাকার কারণে একদিকে আমরা জলজটে ভুগছি, অন্যদিকে ভূপৃষ্ঠের পানির স্তর দিন দিন নিচে নেমে যাচ্ছে। 

আরও পড়ুন

পানি গবেষকদের মতে, এভাবে জলাধার কমতে থাকলে আগামী ১০ বছর পর ঢাকা শহরের ভূপৃষ্ঠে পানি পাওয়া যাবে না। পানির হাহাকারে এই শহর ছেড়ে পালাবে মানুষ।

খুব স্পষ্ট করে বললে, ঢাকার এই জলজটের মূল কারণ প্রকৃতির কোনো খামখেয়ালিপনা নয়, এটি সম্পূর্ণ আমাদের ‘হাতের কামাই’। অতীতের প্রায় সব সরকারই উন্নয়নের নামে, আবাসন প্রকল্পের নামে এবং নগরায়ণের খোঁড়া যুক্তিতে ঢাকার এই খালগুলোকে গলা টিপে হত্যা করেছে। বক্স কালভার্ট তৈরি করে খালের ওপর রাস্তা বানানো হয়েছে, বহুতল ভবন তোলা হয়েছে, আর বাকিটা গিলে খেয়েছে ক্ষমতাবান ভূমিদস্যুরা। ওয়াসা এবং রাজউকের কর্মকর্তারা এই দুর্নীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত। ঢাকাবাসীর সামনে ধোলাইখাল আজ ইতিহাসের পাতায় বিলীন। সেগুনবাগিচা খালের ওপর দাঁড়িয়ে আছে বহুতল ভবন ও কালভার্ট রোড। যে খালগুলো পানি নিষ্কাশন করতো, সেগুলোকে বানানো হয়েছে কংক্রিটের বদ্ধ ড্রেন।

নদী ও খাল দখলের কারণেই মূলত অল্প বৃষ্টিতে ঢাকা ডুবে যায়। এই জলজটের জন্য এককভাবে কাউকে দায়ী করা যাবে না। এর জন্য দায়ী বিগত কয়েক দশকের সরকারের ভুল পরিকল্পনা, বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়হীনতা এবং আমাদের নিজেদের চরম অসচেতনতা। একদিকে সরকারের অন্ধ উন্নয়ন নীতি, যেখানে পানি প্রবাহের পথ বন্ধ করে রাস্তা ও বক্স কালভার্ট করা হয়েছে; অন্যদিকে আমাদের নাগরিকদের দায়িত্বহীনতা, যার কারণে অবশিষ্ট ড্রেন ও নালাগুলো পলিথিন আর প্লাস্টিক বর্জ্যে জ্যাম হয়ে পানি আটকে যায়।

ঢাকার এই চিরস্থায়ী অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে হলে সরকারকে এখনই তৎপর হতে হবে। কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ে কঠোর ও সাহসী পদক্ষেপ নিতে হবে। যেমন—

অবিলম্বে খাল পুনরুদ্ধার করতে হবে: ঢাকার মানচিত্র ধরে সিএস ও আরএস রেকর্ড অনুযায়ী সীমানা নির্ধারণ করতে হবে। খালের উপর গড়ে ওঠা সমস্ত অবৈধ ভবন, কালভার্ট ও রাস্তা ভেঙে পানি প্রবাহের পথ উন্মুক্ত করতে হবে। সরকারি দলকে এখানে দলীয়করণ থেকে দূরে থাকতে হবে।

 

বক্স কালভার্ট প্রথার অবসান ঘটাতে হবে: অতীতে খালের ওপর যে বক্স কালভার্টগুলো তৈরি করা হয়েছিল, সেগুলো ভেঙে উন্মুক্ত লেক বা লেকসাইড করিডোরে রূপান্তর করতে হবে।

সেবা সংস্থাগুলোর একক সমন্বয় দরকার: ঢাকা ওয়াসা, দুই সিটি কর্পোরেশন এবং রাজউকের মধ্যকার ঠেলাঠেলি বন্ধ করতে হবে। ড্রেনেজ ও পানি নিষ্কাশনের পুরো দায়িত্ব একক কোনো কার্যকর কর্তৃপক্ষের হাতে দিতে হবে।

নদী সচল ও ওয়াটার বাস চালু: ঢাকার চারপাশের নদীতে আধুনিক উন্নতমানের ওয়াটার বাস চালু করতে হবে। এই কাজ দলীয় লোককে দেওয়া যাবে না, যোগ্য ও পেশাদারদের দিতে হবে। বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু, শীতলক্ষ্যাকে দখল ও দূষণমুক্ত করতে হবে, যাতে খালের পানি নদীতে সহজে নামতে পারে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন: শহরের প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্য যাতে ড্রেনে গিয়ে না পড়ে, তার জন্য কঠোর আইন ও আধুনিক ট্র্যাশ-ক্যাচিং প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। জনগণের সামনে পলিথিনের বিকল্প হাজির করতে হবে।

আরও পড়ুন

ঢাকা আজ এক মৃতপ্রায় নগরী। শিশুদের খেলার কোন মাঠ নেই, নেই পর্যাপ্ত বিনোদন পার্ক। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শারীরিকভাবে পঙ্গু হয়ে বেড়ে উঠবে। ঢাকার পরিবেশকে বাইরে রেখে কোনোভাবেই আধুনিক শহর করা সম্ভব নয়— সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সেটা বুঝতে হবে।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন লন্ডনের মতো সুন্দর শহরে থেকে এসেছেন। দেশবাসী আশায় বুক বেঁধেছে, এবার হয়তো ঢাকা প্রাণ খুঁজে পাবে। প্রধানমন্ত্রী হয়তো যুগান্তকারী কোনো সিদ্ধান্তে ঢাকার দূষণ কমিয়ে দেবেন। আসলে একা তা সম্ভব নয়। প্রধানমন্ত্রীর কাছে এমন কোনো জাদুর কাঠি নেই যে তিনি রাতারাতি ঢাকাকে বদলে দেবেন। বরং ঢাকাকে বদলাতে হলে সবার আগে আমাদের নিজেদের বদলাতে হবে। এই শহরের প্রাণ ও প্রকৃতি ফেরাতে কাজ করতে হবে। নিজ উদ্যোগে গাছ লাগাতে হবে, শহরটাকে ভালোবাসতে হবে। তা না হলে সরকারের একার পক্ষে পৃথিবীর কোনো শহরই পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব করে গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

তবে তারেক রহমান ঢাকাকে বিকেন্দ্রীকরণ নিয়ে কয়েকটি পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নেতাদের সঙ্গে, যা আশা জাগানোর মতো। তিনি জানান, ঢাকায় মানুষের চাপ কমাতে হবে। সেজন্য আশেপাশের সব জেলার সঙ্গে রেল যোগাযোগ সহজ ও পর্যাপ্ত করতে হবে।

এই একটি কাজ করা গেলে মানুষ বেশি টাকা দিয়ে ঢাকা শহরে বাসা ভাড়া করে থাকবে না বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। তারেক রহমান চান— ঢাকার চারপাশের প্রতিটি জেলার সঙ্গে ২৪ ঘণ্টা ট্রেন যোগাযোগ চালু করতে। তাহলে যানজটসহ পানি, গ্যাস ও বিদ্যুতের উপর চাপ কমবে। বাসযোগ্যতা ধীরে ধীরে ফিরে পাবে ঢাকা।

তবে শেষ করবো হতাশার কথা দিয়ে। কারণ বাংলাদেশে এর আগে বহু যোগ্য পরিবেশমন্ত্রী পেয়েছি আমরা, কিন্তু দিনশেষে ঢাকার দূষণ আরও বেড়েছে। এর লাগাম টানবে কে? কোন দল বা ব্যক্তি পারবে ঢাকা শহরকে বাঁচাতে? সেই মানুষটি নিশ্চয়ই আসমান থেকে আসবে না।

তার মানে আমাদেরকেই এই শহরের হাল ধরতে হবে। সরকার অনেক কিছু করে দেবে এমন আশা করা ভুল। দিনশেষে শহরটা আমাদেরই মেরামত করতে হবে।

প্রতিটা বাড়িতে যতটুকু জায়গা আছে গাছ লাগাতে হবে। ছাদ বাগানে উৎসাহ দিতে হবে। যে বাড়িতে ছাদ বাগান থাকবে, সেই বাড়ির ট্যাক্স কমানোর ঘোষণা আসতে হবে। এমন যুগান্তকারী কিছু উদ্যোগ সরকার নেওয়ার পর আমরা যদি ঢাকাতে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিতে পারি, তবেই এই শহর টিকে থাকবে। নতুবা আগামী এক দশক পর তেল, গ্যাস, পানি অথবা বিদ্যুতের তীব্র সংকট দেখা দেবে। তখন ৪০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই শহর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হবে মানুষ।

লেখক : পরিবেশ বিষয়ক সাংবাদিক

আরটিভি/এমএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission