ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

এইচএসসি ২০২৬: পরীক্ষার কৌশল, পরিমিত পরিকল্পনা ও নিয়মিত অনুশীলন

মোঃ ওবায়দুল্লাহ্ নয়ন

প্রকাশ : ২০ জুন ২০২৬, ০৯:০২ পিএম
অধ্যক্ষ মো. ওবায়দুল্লাহ্ নয়ন। ছবি: সৌজন্য

উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা একজন শিক্ষার্থীর জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এ পরীক্ষার ফলাফল কেবল ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগই তৈরি করে না, বরং শিক্ষার্থীর অধ্যয়নশৈলী, মনোযোগ, বোধশক্তি ও মানসিক দৃঢ়তারও প্রতিফলন ঘটায়। তাই পরীক্ষার প্রস্তুতিতে শুধু উচ্চ নম্বর অর্জনের লক্ষ্য নয়, বরং বিষয়বস্তুর গভীর উপলব্ধির প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন শিক্ষাবিদরা।

আরও পড়ুন

আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষাকে সামনে রেখে শিক্ষার্থীদের সার্বিক প্রস্তুতি বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন ডা. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের অধ্যক্ষ মো. ওবায়দুল্লাহ্ নয়ন। তাঁর পরামর্শগুলো নিচে তুলে ধরা হলো—

পরীক্ষা সন্নিকটে কিন্তু সময় বাকি অল্প সেহেতু পড়াশোনার ধারা পরিবর্তন করা উচিত। শুধুমাত্র বারবার পড়ে মুখস্থ করা বা ‘প্যাসিভ রিডিং’ ফলপ্রসূ হয় না। তাই দুটি আধুনিক পদ্ধতি অবলম্বন করা যেতে পারে:

সক্রিয় স্মৃতিচারণ (Active Recall): কোনো অধ্যায় পড়ার পর বই বন্ধ করে নিজেকে প্রশ্ন করো-“আমি কী পড়লাম?” নিজের ভাষায় উত্তরটি বলার চেষ্টা করো। যদি বলতে না পারো, তবে বই খুলে দেখো। মস্তিস্ককে দিয়ে তথ্য মনে রাখার জন্য কাজ করিয়ে নাও।

বারবার পুনরাবৃত্তি (Repetition): আজ যা পড়েছ, তা পরের ২৪ ঘণ্টা পর, তারপর এক সপ্তাহ পর এবং পরীক্ষার পূর্বে পুনরায় রিভিশন দাও। নির্দিষ্ট ব্যবধানে পড়লে তথ্য দীর্ঘসময় মস্তিষ্কে গেঁথে থাকে।

MCQ-এ দক্ষতা:
২৫-৩০ নম্বরের নিশ্চিত সাফল্য এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনের মূল চাবিকাঠি হলো বহুনির্বাচনী বা এমসিকিউ অংশ। সৃজনশীল প্রশ্নে নম্বর কমে গেলেও এমসিকিউতে পূর্ণ নম্বর পাওয়া গেলে ফলাফল স্বাভাবিকভাবেই ভালো হয়।

MCQ-এ ভালো করতে হলে:
পাঠ্যবইকে প্রধান আস্থায় রাখো। সহায়ক বই বা নোটের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এড়িয়ে চলো। এমসিকিউর বেশিরভাগ প্রশ্ন জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের বইয়ের পাশের ছোট খাতা, ছবির নিচের লেখা এবং প্যারাগ্রাফের শেষ বাক্যগুলো থেকে তৈরি হয়। টেস্ট পেপার থেকে ভালো কলেজগুলির MCQ অনুশীলন করে সমাধান করো।

বিলোপন পদ্ধতি (Elimination Method): পরীক্ষার খাতায় কোনো প্রশ্নের উত্তর না জানলে অন্ধভাবে অনুমান করো না। চারটি অপশনের মধ্যে যেগুলো একদম অসম্ভব বা বিভ্রান্তিকর, সেগুলো আগেই বাদ দিয়ে দাও। অনেক সময় দুটি অপশন একেবারে বিপরীত থাকে, তখন সঠিকটি ধরা সহজ হয়।

নিয়মিত অনুশীলন এবং বিশ্লেষণ: প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক বহুনির্বাচনী প্রশ্নের অনুশীলন করো এবং ভুলগুলো চিহ্নিত করে সংশোধন করো। এতে পরীক্ষার হলে দ্রুত উত্তর দেওয়ার ক্ষমতা বা ‘স্পিড অ্যাক্যুরেসি’ বাড়বে।

প্রতি অধ্যায় শেষে বোর্ড বইয়ের সব MCQ এবং পূর্ববর্তী বছরের প্রশ্ন অনুশীলন করো।

ভুল উত্তরের কারণ বিশ্লেষণ করো।

সায়েন্স: সূত্র, প্রক্রিয়া ও গাণিতিক MCQ-তে জোর দাও।

ব্যাবসায় শিক্ষা: হিসাব, সংজ্ঞা ও প্রয়োগভিত্তিক বিষয়গুলিকে প্রাধান্য দাও।

মানবিক: তথ্য, কারণ-ফলাফল ও সমসাময়িক উদাহরণভিত্তিক তথ্যগুলির উপর গুরুত্ত দাও।

পরীক্ষাকক্ষের তিন ঘণ্টা: কৌশলগত পরিকল্পনা

প্রস্তুতি ভালো থাকলেও অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী পরীক্ষার হলে সময়ের সঠিক ব্যবস্থাপনা করতে না পেরে ব্যর্থ হয়। একজন দক্ষ প্রতিযোগীর মতো এই তিন ঘণ্টা তোমাদেরকে যুদ্ধক্ষেত্রে লড়াই করতে হবে। অভিজ্ঞদের মতে এই তিন ঘণ্টাকে তিনটি সুনির্দিষ্ট ধাপে ভাগ করা উচিত:

প্রথম ধাপ: পর্যবেক্ষণ ও মানসিক মানচিত্র তৈরি (প্রথম ১০ মিনিট):
প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ার সাথে সাথেই লেখা শুরু করো না। প্রথমে পুরো প্রশ্নপত্রটি একবার গভীরভাবে পড়ে নাও। কোন প্রশ্নগুলো তোমার কাছে সহজ মনে হচ্ছে, কোনগুলো মাঝারি এবং কোনগুলো কঠিনÑতা চিহ্নিত করো। মনে মনে একটি ক্রম বা সিকোয়েন্স ঠিক করে নাও কোন প্রশ্নটি আগে এবং কোনটি পরে উত্তর দেবে। এটি তোমার মানসিক প্রস্তুতি শক্ত করবে এবং দুশ্চিন্তা কমাবে। MCQ-এর ক্ষেত্রে 'অনিশ্চিত বা পারা' প্রশ্নে অতিরিক্ত সময় ব্যায় করো না ।

দ্বিতীয় ধাপ:
কার্যকরী লেখন ও বিষয়বস্তু উপস্থাপন (পরবর্তী ২ ঘণ্টা ২০ মিনিট):
সহজ থেকে কঠিনের ধারা: আগে সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও যা তোমার নখদর্পণে অর্থাৎ সবচেয়ে সহজ। এতে তুমি দ্রুত নম্বর নিশ্চিত করবে এবং আত্মবিশ্বাস বাড়বে।
উত্তর না জানা প্রশ্নে করণীয়: কোনো প্রশ্নে আটকে গেলে বেশিক্ষণ সময় নষ্ট করো না। তা ফাঁকা রেখে পরের প্রশ্নে চলে যাও। শেষে সময় পাওয়া গেলে সেগুলোর দিকে ফিরে আসবে।
কাঠামোবদ্ধ উত্তর: উত্তর লেখার সময় ভূমিকা, মূল অংশ এবং উপসংহারÑএই কাঠামো মেনে লিখলে পরীক্ষকের পড়া সহজ হয়। প্রয়োজনে মূল অংশের তথ্যগুলো বিন্দু বা ছোট অনুচ্ছেদে উপস্থাপন করো। পরীক্ষক সহজে বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা তারিখ এবং সূত্র আন্ডারলাইন করে দিতে পারো।

তৃতীয় ধাপ: পর্যালোচনা করা (শেষ ২০ মিনিট):
সবশেষে ৫-১০ মিনিট খাতা দ্রুত চোখ বুলিয়ে দেখে নাও কোনো প্রশ্ন বাদ পড়েছে কি না, এবং বানান বা গাণিতিক ভুল আছে কি না। কোনো প্রশ্নের ক্রমিক নম্বর বা সেট কোড ঠিক আছে কি না তা দেখে নাও। অনেক সময় ছোট ভুলেও অনেক নম্বর কাটা যায়, তাই সতর্কতার সাথে রিভিউ করা অত্যন্ত জরুরি ।

বিশেষ সতর্কতা:

তোমাদের হাতে এখনো যেটুকু সময় রয়েছে, এই সময়টাকে নষ্ট না করে সাজিয়ে নিতে হবে। দিনের শুরুতে মস্তিস্ক সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে, তাই সকালে কঠিন বিষয়গুলো (যেমন অংক বা বিজ্ঞান) এবং শেষের দিকে তুলনামূলক সহজ বিষয়গুলো (যেমন সাহিত্য বা গল্প) পড়ার তালিকায় রাখো। পড়ার ফাঁকে ফাঁকে ছোট ছোট বিরতি নিয়ে মস্তিষ্ককে বিশ্রাম দাও।

মনে রাখবে, পর্যাপ্ত ঘুম এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস তোমাদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য অপরিহার্য। পরীক্ষার চাপে বা উদ্বেগে নিজেকে ভেঙে পড়তে দেবে না। মানসিক চাপ বা উদ্বেগ তোমাদের শক্তি ক্ষয় করে। পরিবারের সদস্য বা শিক্ষকদের সাথে তোমাদের মনের কথা শেয়ার করো। এ সময় পিতা-মাতা-অভিভাবকদের তাদের সন্তানের খাদ্যাভ্যাস, স্বাস্থ্য ও মনোবলের দিকে সচেতন দৃষ্টি রাখতে হবে । শিক্ষার্থীদেরকে পারিবারিক সমস্যা বা দায়িত্ব থেকে দূরে রেখে, যথাযথ পাঠের পরিবেশ নিশ্চিত করে, তাদেরকে মানসিকভাবে ভরসা ও সাহস যোগাতে হবে ।

অসচেতনভাবে একদিন বৃষ্টিতে ভিজেও যদি তোমরা জ্বর-সর্দি বা কাশিতে আক্রান্ত হও, তাহলে মহামূল্যবান কয়েকটি দিনের তোমাদের লেখাপড়া ক্ষতিগ্রস্ত হবে । এছাড়াও ডেঙ্গু, হাম, চিকুনগুনিয়া ইত্যাদি রোগের ব্যাপারে যাবতীয় প্রতিকারমূলক ব্যাবস্থা গ্রহণ ও সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে ।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং মোবাইল গেমস তোমার মূল্যবান সময় এবং মনোযোগ কেড়ে নিতে পারে। এগুলো থেকে নিজেকে দূরে রাখো।

পরীক্ষার খাতায় সেট কোড, রেজিস্ট্রেশান নম্বর বা রোল নম্বর পূরণে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করো ।

পরীক্ষার রুটিন যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে । ভুল তারিখে ভুল বিষয়ের প্রস্তুতি গ্রহণ কিংবা পরীক্ষার সময় নিয়ে যেন কোন বিভ্রান্তি তৈরি না হয়। পরীক্ষার রুটিন অনুযায়ী যে সকল বিষয়ের পূর্বে বিরতি কম, সে সকল বিষয়ের পড়াশুনা পরীক্ষা শুরুর আগেই সম্পন্ন করে রাখতে হবে।

কোন কারণবশত একটি পরীক্ষা আশানুরূপ ভালো না হলে, হতাশ না হয়ে, পূর্ণ মনোবল নিয়ে পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়ে অংশগ্রহণ করতে হবে।

সফলতা অর্জনের পথ কখনো সহজ হয় না, কিন্তু ধৈর্য, অধ্যবসায় এবং সঠিক পরিকল্পনা তোমাদেরকে সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছে দেবে।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সন্ধিক্ষণ...
মহালয়া আসলে কোনো নির্দিষ্ট দিনের নাম নয়, মানুষের অস্তিত্বের ভেতরে বারবার ফিরে আসা এক সন্ধিক্ষণের নাম।
সন্ধিক্ষণ...
মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের শঙ্কায় ট্রাম্প
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শঙ্কায় আছেন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয় ও নিয়ন্ত্রণ হারানোর। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের চার বছর মেয়াদী কার্যকালের দুই বছর পর ঠিক মাঝপথে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে বলা হয় মধ্যবর্তী নির্বাচন।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের শঙ্কায় ট্রাম্প
শিক্ষক থেকে পথপ্রদর্শক: যাদের কাছে ঋণী আমি
আজ মহান শিক্ষক দিবস। জীবনের এই বিশেষ দিনে সবার আগে গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই আমার জীবনের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ শিক্ষক—আমার আম্মুকে। আমার জীবনের প্রতিটি ভালো অর্জনের পেছনে তার অবদান সবচেয়ে বেশি। তার ভালোবাসা, শাসন, ত্যাগ ও নিরন্তর অনুপ্রেরণাই আমাকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। তার কাছে আমার কৃতজ্ঞতার কোনো শেষ নেই। এরপর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি আমার স্কুলজীবনের প্রিয় ও শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের—প্রধান শিক্ষক দীন ইসলাম স্যার, ফরিদা ইয়াসমিন (আমার চাচি), নিপা মেম, হেলানা মেম ও ফাতেমা মেমকে। তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা ও স্নেহেই চতুর্থ শ্রেণিতে আমার জীবনের মোড় ঘুরতে শুরু করেছিল। তাদের শেখানো অনেক কথাই আজও আমার পথচলার অনুপ্রেরণা। প্রাথমিকের গণ্ডি পেরিয়ে যখন মাধ্যমিক জীবনে পা রাখলাম, তখন নতুন করে কিছু মানুষ আমার সামনে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন। তাদের স্নেহ, শাসন ও অনুপ্রেরণায় পেয়েছি নতুন পথের সন্ধান। তাদের মধ্যে প্রধান শিক্ষক রেহানা মেম, শিলা মেম, তানিয়া মেম, দোলা মেম, হুজুর স্যার ও রাসেল স্যার অন্যতম। তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকেই পেয়েছি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা, যা শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ ছিল না। এরপর এলো কলেজজীবন। জীবনের এই অধ্যায়েও কিছু মানুষ আমার স্বপ্নকে আরও বড় করে তুলেছেন। রাবেয়া মেম, দীপ্তি মেম, শামীম স্যার, দেলোয়ার স্যার ও আবুবকর স্যার—তাদের নাম আমি কখনোই ভুলতে পারব না। তারা আমাকে শুধু পড়াননি; বরং স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছেন, সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস দিয়েছেন এবং বিশ্বাস করিয়েছেন—‘আমি পারব।’ তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা, উৎসাহ ও অনুপ্রেরণার ফলেই আজ আমি দেশের অন্যতম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের একজন শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে তাদের অনুপ্রেরণায়ই ঢাবিতে (কলা অনুষদের নরমাল সাবজেক্টে), রাবি ও চবিতে ভর্তির সুযোগ হয়েছিল। আমার জীবনের সেই সময়ে তাদের উৎসাহ ও বিশ্বাস আমাকে ভীষণভাবে প্রভাবিত করেছিল। বর্তমানে আমার বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের পথচলায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের অবদানও আমি কখনো ভুলব না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়েও শিক্ষার্থীদের প্রতি তাদের যে স্নেহ, আন্তরিকতা ও ভালোবাসা—তা সত্যিই ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তাদের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত শুধু একাডেমিক শিক্ষা নয়, বরং জীবনকে কীভাবে আরও সুন্দরভাবে এগিয়ে নিতে হয়, সেটিও শেখার সুযোগ পাচ্ছি। শিক্ষাজীবনের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষকদের বাইরেও আমার জীবনে শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে আমার চাচাতো বড় বোন মিম আপুর। ছোটবেলা থেকেই তিনি আমাকে অনেক অঙ্ক অনুশীলন করিয়েছেন। তার সেই পরিশ্রম ও সময় দেওয়ার সুফল আমি আজও পাচ্ছি। অনেক সময় একজন শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে থাকেন না, কিন্তু তার শেখানোটা সারাজীবন আমাদের সঙ্গে থেকে যায়—মিম আপু আমার জন্য তেমনই একজন। এর পাশাপাশি ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা আমার শেখার জগৎকে আরও বিস্তৃত করেছে। সাংবাদিকতা করার সুবাদে আরটিভির অনলাইন ইনচার্জ আজাদ ভাই এবং শিফট ইনচার্জ ইমতিয়াজ ভাইয়ের কাছ থেকেও প্রতিনিয়ত অনেক কিছু শেখার সুযোগ পাচ্ছি। সংবাদকে কীভাবে দেখতে হয়, তথ্য যাচাই, দায়িত্বশীলতা, পেশাদারিত্ব এবং কাজের প্রতি আন্তরিকতা— এসব বিষয়ে তাদের কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষা আমার ভবিষ্যৎ পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাদের প্রতিও রইল আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আজ পেছনে ফিরে তাকালে বুঝতে পারি, আমার জীবনের প্রতিটি ধাপে কোনো না কোনো শিক্ষক আমার হাত ধরে সামনে এগিয়ে দিয়েছেন। কেউ শিখিয়েছেন কীভাবে ভালো মানুষ হতে হয়, কেউ শিখিয়েছেন কীভাবে কঠিন সময়ে হাল না ছেড়ে এগিয়ে যেতে হয়, আবার কেউ আমার ওপর বিশ্বাস রেখে আমাকে নিজের ওপর বিশ্বাস করতে শিখিয়েছেন। আজ আমি যে পরিচয়ে পরিচিত, তার পেছনে আমার বাবা-মায়ের পাশাপাশি আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের অবদান অনস্বীকার্য। তাদের দেওয়া শিক্ষা, শাসন, স্নেহ, ভালোবাসা ও অনুপ্রেরণা আমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদগুলোর একটি। আমার জীবনের পথচলায় যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে শিক্ষক হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন, তাদের প্রত্যেকের প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও অশেষ কৃতজ্ঞতা। শিক্ষক শুধু একটি পেশার নাম নয়; একজন শিক্ষক একটি জীবন বদলে দিতে পারেন। আর জীবনের এই দীর্ঘ পথে কিছু মানুষ শিক্ষক না হয়েও আমাদের অনেক কিছু শিখিয়ে যান। তাই এই মহান দিবসে আমার শিক্ষকদেরসহ বিশ্বের সকল শিক্ষকের প্রতি জানাই কৃতজ্ঞতা। শুভ শিক্ষক দিবস। আবুবকর সম্পদ জবি সংবাদদাতা, আরটিভি আহ্বায়ক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটি আরটিভি/এমএইচজে
শিক্ষক থেকে পথপ্রদর্শক: যাদের কাছে ঋণী আমি
চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার আগে দ্বিতীয় মতামত কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত একটি পরিবারের জন্য বড় সিদ্ধান্ত। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে অর্থ, সময়, মানসিক চাপ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—চিকিৎসা নিয়ে প্রত্যাশা। তাই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আমার কাছে একটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়—দ্বিতীয় মতামত নেওয়া। দ্বিতীয় মতামত মানে প্রথম চিকিৎসককে অবিশ্বাস করা নয়। বরং গুরুত্বপূর্ণ কোনো চিকিৎসা সিদ্ধান্তের আগে আরেকজন যোগ্য বিশেষজ্ঞের মতামত জানা। এতে রোগী ও পরিবার রোগের অবস্থা, চিকিৎসার বিকল্প, সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং দেশে বা বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পেতে পারেন। আমাদের দেশে কোনো জটিল রোগ ধরা পড়লেই অনেক পরিবার প্রথমে বিদেশে যাওয়ার কথা ভাবেন। আবার কেউ পরিচিত কারও অভিজ্ঞতাকে নিজের চিকিৎসার সিদ্ধান্তের ভিত্তি করেন। কিন্তু একই রোগ হলেও প্রতিটি রোগীর অবস্থা, চিকিৎসার প্রয়োজন এবং ঝুঁকি এক নয়। তাই একজনের ভালো অভিজ্ঞতা অন্যজনের জন্য একই ফল নিশ্চিত করে না। আমার দৃষ্টিতে, বিদেশে যাওয়ার আগে প্রথম প্রশ্ন হওয়া উচিত—“আমার চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়া কি সত্যিই প্রয়োজন?” এর উত্তর পেতে কয়েকটি বিষয় জানা দরকার। রোগটি ঠিক কী? চিকিৎসার উদ্দেশ্য কী? দেশে এই চিকিৎসার উপযুক্ত সক্ষমতা আছে কি না? বিদেশে গেলে অতিরিক্ত কী সুবিধা পাওয়া যাবে? সম্ভাব্য খরচ কত? আর চিকিৎসার পরবর্তী পর্যায়ের চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ কীভাবে হবে? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও রোগীর চিকিৎসা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে অংশগ্রহণ এবং চিকিৎসক ও রোগীর যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরে। চিকিৎসার মান শুধু একটি নির্দিষ্ট চিকিৎসাপদ্ধতির ওপর নির্ভর করে না; নিরাপত্তা, রোগীকেন্দ্রিকতা, সময়োপযোগিতা এবং চিকিৎসার ধারাবাহিকতাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে জটিল বা দীর্ঘমেয়াদি রোগের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশে গিয়ে একটি চিকিৎসা করিয়ে দেশে ফিরে আসার পর পরবর্তী চিকিৎসা কোথায় হবে, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা কোথায় হবে এবং চিকিৎসার তথ্য স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে কীভাবে পৌঁছাবে—এসবও সিদ্ধান্তের অংশ হওয়া উচিত। কারণ চিকিৎসা একটি দিনের ঘটনা নয়; এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। তবে দ্বিতীয় মতামত নেওয়া মানেই চিকিৎসা পরিবর্তন করতে হবে—এমন নয়। অনেক সময় দ্বিতীয় বিশেষজ্ঞের মতামত প্রথম চিকিৎসা পরিকল্পনাকেই আরও পরিষ্কার করে। আবার কখনো নতুন কোনো বিকল্প সামনে আসতে পারে। মূল বিষয় হলো—রোগী যেন নিজের চিকিৎসা সম্পর্কে বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়া ভুল—এমন কথা বলা যেমন ঠিক নয়, তেমনি বিদেশে গেলেই ভালো চিকিৎসা পাওয়া যাবে—এমন ধারণাও সব ক্ষেত্রে সঠিক নয়। কিছু বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাওয়া প্রয়োজন হতে পারে। আবার অনেক চিকিৎসার জন্য দেশের মধ্যেই উপযুক্ত সক্ষমতা থাকতে পারে। তাই আমার কাছে বিদেশে চিকিৎসার প্রশ্নটি “দেশ না বিদেশ”—এভাবে দেখার চেয়ে “প্রয়োজনের জন্য সঠিক জায়গা কোথায়?”—এই প্রশ্নে দেখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একটি ভালো স্বাস্থ্যব্যবস্থা রোগীকে কোনো একটি সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দেয় না। বরং তাকে সঠিক তথ্য, প্রয়োজনীয় বিকল্প এবং যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ দেয়। শেষ পর্যন্ত রোগী বিদেশে যাবেন, নাকি দেশে চিকিৎসা নেবেন—সিদ্ধান্তটি তার। আমাদের দায়িত্ব হলো সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তাকে যথেষ্ট তথ্য ও আস্থার সুযোগ দেওয়া। কারণ চিকিৎসার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে কখনো কখনো আরেকজন বিশেষজ্ঞের মতামত শুধু একটি অতিরিক্ত পরামর্শ নয়— এটি হতে পারে আরও সচেতন সিদ্ধান্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। লেখক: মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন মামুন হেড অব ডিজিটাল, ব্র্যান্ড অ্যান্ড পিআর এভারকেয়ার হাসপাতাল চট্টগ্রাম। আরটিভি/ এসকেডি
চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার আগে দ্বিতীয় মতামত কেন গুরুত্বপূর্ণ?
আঞ্চলিক লজিস্টিকস ও শিল্পের হাব হতে পারে বাংলাদেশ: জেট্রো
ভৌগোলিক অবস্থান ও বিপুল জনসংখ্যার কারণে দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে আঞ্চলিক লজিস্টিকস ও শিল্পের কেন্দ্রে (হাব) পরিণত হওয়ার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশের।
আঞ্চলিক লজিস্টিকস ও শিল্পের হাব হতে পারে বাংলাদেশ: জেট্রো
আরও পড়ুন
জানা গেল এইচএসসির ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ
ঢাবি ভিসির প্রতীকী দায়িত্বে এইচএসসি পড়ুয়া শীতল 
এইচএসসি পাসেই ১৮০ জনকে চাকরি দেবে আড়ং, আবেদন শেষ যেদিন
২০০ জনকে চাকরি দেবে আবুল খায়ের গ্রুপ, এইচএসসি পাসেই আবেদন