ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

উন্নয়নের আলোয় কেন এত অন্ধকার?

স্নিগ্ধা চৌধুরী

প্রকাশ : ২৯ জুন ২০২৬, ১২:৩২ পিএম
মডেল স্নিগ্ধা চৌধুরী। ছবি: সৌজন্য

বাংলাদেশ আজ দৃশ্যমান উন্নয়নের এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে; পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, এক্সপ্রেসওয়ে কিংবা আকাশচুম্বী বহুতল ভবন কী নেই! গত দুই দশকে দেশের অবকাঠামোগত পরিবর্তন এত দ্রুত হয়েছে যে, অনেক ক্ষেত্রেই তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসিত হয়েছে। আধুনিক সড়ক, সেতু, বিদ্যুৎ উৎপাদন, ডিজিটাল সেবা কিংবা নগরায়ণের বিস্তার আমাদের আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। আমরা একটি উন্নয়নশীল ও সম্ভাবনাময় রাষ্ট্র হিসেবে নিজেদের দেখতে চাই। কিন্তু এই ঝলমলে উন্নয়নের আড়ালে এমন কিছু বাস্তবতা আছে, যা আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে।

সম্প্রতি টিআইবির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিএনপি সরকারের প্রথম ১০০ দিনে দেশে ২৯৪টি ছিনতাই, ৬০৫টি খুন, ১৯৬টি অপহরণ এবং ৩,৪৯৬টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। অপরাধের সংখ্যাটা আঁতকে ওঠার মতো। প্রতিদিনের সংবাদপত্র, টেলিভিশন কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চোখ রাখলেই এসব নজরে আসে। আর প্রশ্ন জাগে- আমরা আসলে কোন সমাজের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি? কেন মানুষের জীবনের মূল্য দিন দিন এত কমে যাচ্ছে? কেন একটি শিশু, একটি নারী, এমনকি নিজের পরিবারও অনেক ক্ষেত্রে নিরাপদ নয়? কেন ধর্ষণ, খুন, পারিবারিক সহিংসতা, ছিনতাই কিংবা কিশোর অপরাধের ঘটনা এত ঘন ঘন ঘটছে? উন্নয়নের যে গল্প আমরা বলছি, তার সঙ্গে এই বাস্তবতার ব্যবধান কোথায়?

একটি রাষ্ট্রের উন্নয়ন কেবল অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে পরিমাপ করা যায় না। উন্নয়নের প্রকৃত অর্থ হলো মানুষের জীবনমানের উন্নতি, নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। একটি দেশের মানুষ যদি নিজেদের নিরাপদ মনে না করে, যদি একজন মা সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রতিনিয়ত আতঙ্কে থাকেন, যদি একজন নারী প্রতিদিন ঘর থেকে বের হওয়ার আগে নিরাপত্তার হিসাব কষেন, তাহলে সেই উন্নয়ন কতটা পূর্ণাঙ্গ, সেই প্রশ্ন তোলার অধিকার নাগরিকদের অবশ্যই আছে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, ভয়াবহ অনেক অপরাধ আমাদের কাছে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে উঠছে। প্রতিদিন সকালে নিউজ ফিড স্ক্রল করতে করতে আমরা খুন, ধর্ষণ, নির্যাতন কিংবা আত্মহত্যার খবর দেখি, কিছুক্ষণ আলোচনা করি, তারপর পরবর্তী ঘটনায় চলে যাই। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় এটিকে বলা হয় ‘ডিসেনসিটাইজেশন’ বা সংবেদনশীলতার ক্ষয়। অর্থাৎ কোনো ঘটনা বারবার ঘটতে ঘটতে মানুষের কাছে সেটি আর অস্বাভাবিক মনে হয় না। এটি কোনো সমাজের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক লক্ষণ। কারণ, যখন মানুষ অন্যায়ের প্রতি সংবেদনশীলতা হারাতে শুরু করে, তখন অন্যায় আরও সহজে জায়গা করে নেয়।

সিফাত, রামিসা কিংবা আছিয়ার মতো নামগুলো কেবল কয়েকজনের নাম নয়। এগুলো আজ অসংখ্য পরিবারের কান্না, হারিয়ে যাওয়া স্বপ্ন এবং বিচার প্রত্যাশার প্রতীক। প্রতিটি হত্যাকাণ্ড বা ধর্ষণের পেছনে থাকে একটি পরিবার, একটি ভেঙে পড়া ভবিষ্যৎ, একটি মায়ের নির্ঘুম রাত। কোনো সেতু, কোনো বহুতল ভবন কিংবা কোনো অর্থনৈতিক সূচক সেই ক্ষতি পূরণ করতে পারে না। কারণ একটি রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার মানুষ। মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে অন্য সব অর্জন অনেকটাই অর্থহীন হয়ে পড়ে।

বাস্তবতা হলো, অপরাধ বৃদ্ধির পেছনে নানা জটিল কারণ কাজ করে। এর মধ্যে অন্যতম হলো মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের বিস্তার। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন অভিযান এবং আদালতের নথিপত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অনেক গুরুতর অপরাধের পেছনেই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মাদকের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। কিশোর গ্যাংয়ের উত্থান, ছিনতাই, সহিংসতা, পারিবারিক কলহ কিংবা যৌন অপরাধ ইত্যাদি অনেক ক্ষেত্রেই মাদক পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে।

তাই সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগা অস্বাভাবিক নয় যে, এত সহজে মাদক কীভাবে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যায়? অলিগলি, মহল্লা কিংবা প্রত্যন্ত অঞ্চলেও যখন মাদকের বিস্তার নিয়ে আলোচনা হয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই জবাবদিহিতার প্রশ্ন সামনে আসে। অবশ্যই সমস্যাটি কেবল আইন প্রয়োগের নয়; এর সঙ্গে জড়িত সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতাও। তবে এটাও সত্য যে, রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা এবং কার্যকর নজরদারি ছাড়া এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।

শুধু মাদক নয়, আমাদের সমাজে নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, পারিবারিক বন্ধনের দুর্বলতা, সামাজিক দায়বদ্ধতার অভাব এবং বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতাও অপরাধ বৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রাখছে। অনেক সময় অপরাধীরা দ্রুত শাস্তি না পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়। ফলে আইনের প্রতি আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে আরও বড় সামাজিক সংকট তৈরি করতে পারে।

এ কারণেই আজ আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন মানবিক ও নৈতিক উন্নয়ন। প্রয়োজন এমন একটি সমাজ, যেখানে আইনের শাসন কেবল কাগজে-কলমে নয়, বাস্তবেও দৃশ্যমান হবে। যেখানে অপরাধী তার পরিচয় বা প্রভাবের কারণে ছাড় পাবে না। যেখানে শিক্ষা শুধু পরীক্ষার ফলাফল নয়, মানবিকতা ও দায়িত্ববোধও শেখাবে। যেখানে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম এবং রাষ্ট্র একসঙ্গে কাজ করবে সুস্থ নাগরিক গড়ে তুলতে।

বাংলাদেশের উন্নয়নের যাত্রা অবশ্যই অব্যাহত থাকা উচিত। আরও সেতু হবে, আরও শিল্প হবে, আরও বিনিয়োগ আসবে। কিন্তু সেই সঙ্গে সমান গুরুত্ব দিতে হবে মানুষের নিরাপত্তা, সামাজিক স্থিতি এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাকে। কারণ উন্নয়নের আসল লক্ষ্য কংক্রিটের কাঠামো নয়, মানুষের কল্যাণ।

আমাদের সামনে এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন: আমরা কি শুধু দৃশ্যমান উন্নয়নের পরিসংখ্যান নিয়ে সন্তুষ্ট থাকব, নাকি এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাইব যেখানে মানুষ নিরাপদে বাঁচতে পারে? যেখানে একটি শিশু ভয় নয়, স্বপ্ন নিয়ে বড় হবে; একজন নারী নিরাপত্তাহীনতা নয়, সম্মান ও মর্যাদা নিয়ে চলবে; এবং একজন নাগরিক জানবে, রাষ্ট্র তার জীবন রক্ষার দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত।

উন্নয়নের আলো তখনই সত্যিকারের আলো হয়ে উঠবে, যখন তার ছায়ায় কোনো অন্ধকার লুকিয়ে থাকবে না। আর সেই লক্ষ্য অর্জনের দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, আমাদের সবার। কারণ একটি নিরাপদ, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলাই হতে পারে বাংলাদেশের পরবর্তী এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প।

লেখক : মডেল

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সন্ধিক্ষণ...
মহালয়া আসলে কোনো নির্দিষ্ট দিনের নাম নয়, মানুষের অস্তিত্বের ভেতরে বারবার ফিরে আসা এক সন্ধিক্ষণের নাম।
সন্ধিক্ষণ...
মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের শঙ্কায় ট্রাম্প
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শঙ্কায় আছেন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয় ও নিয়ন্ত্রণ হারানোর। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের চার বছর মেয়াদী কার্যকালের দুই বছর পর ঠিক মাঝপথে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে বলা হয় মধ্যবর্তী নির্বাচন।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের শঙ্কায় ট্রাম্প
শিক্ষক থেকে পথপ্রদর্শক: যাদের কাছে ঋণী আমি
আজ মহান শিক্ষক দিবস। জীবনের এই বিশেষ দিনে সবার আগে গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই আমার জীবনের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ শিক্ষক—আমার আম্মুকে। আমার জীবনের প্রতিটি ভালো অর্জনের পেছনে তার অবদান সবচেয়ে বেশি। তার ভালোবাসা, শাসন, ত্যাগ ও নিরন্তর অনুপ্রেরণাই আমাকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। তার কাছে আমার কৃতজ্ঞতার কোনো শেষ নেই। এরপর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি আমার স্কুলজীবনের প্রিয় ও শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের—প্রধান শিক্ষক দীন ইসলাম স্যার, ফরিদা ইয়াসমিন (আমার চাচি), নিপা মেম, হেলানা মেম ও ফাতেমা মেমকে। তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা ও স্নেহেই চতুর্থ শ্রেণিতে আমার জীবনের মোড় ঘুরতে শুরু করেছিল। তাদের শেখানো অনেক কথাই আজও আমার পথচলার অনুপ্রেরণা। প্রাথমিকের গণ্ডি পেরিয়ে যখন মাধ্যমিক জীবনে পা রাখলাম, তখন নতুন করে কিছু মানুষ আমার সামনে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন। তাদের স্নেহ, শাসন ও অনুপ্রেরণায় পেয়েছি নতুন পথের সন্ধান। তাদের মধ্যে প্রধান শিক্ষক রেহানা মেম, শিলা মেম, তানিয়া মেম, দোলা মেম, হুজুর স্যার ও রাসেল স্যার অন্যতম। তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকেই পেয়েছি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা, যা শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ ছিল না। এরপর এলো কলেজজীবন। জীবনের এই অধ্যায়েও কিছু মানুষ আমার স্বপ্নকে আরও বড় করে তুলেছেন। রাবেয়া মেম, দীপ্তি মেম, শামীম স্যার, দেলোয়ার স্যার ও আবুবকর স্যার—তাদের নাম আমি কখনোই ভুলতে পারব না। তারা আমাকে শুধু পড়াননি; বরং স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছেন, সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস দিয়েছেন এবং বিশ্বাস করিয়েছেন—‘আমি পারব।’ তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা, উৎসাহ ও অনুপ্রেরণার ফলেই আজ আমি দেশের অন্যতম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের একজন শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে তাদের অনুপ্রেরণায়ই ঢাবিতে (কলা অনুষদের নরমাল সাবজেক্টে), রাবি ও চবিতে ভর্তির সুযোগ হয়েছিল। আমার জীবনের সেই সময়ে তাদের উৎসাহ ও বিশ্বাস আমাকে ভীষণভাবে প্রভাবিত করেছিল। বর্তমানে আমার বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের পথচলায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের অবদানও আমি কখনো ভুলব না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়েও শিক্ষার্থীদের প্রতি তাদের যে স্নেহ, আন্তরিকতা ও ভালোবাসা—তা সত্যিই ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তাদের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত শুধু একাডেমিক শিক্ষা নয়, বরং জীবনকে কীভাবে আরও সুন্দরভাবে এগিয়ে নিতে হয়, সেটিও শেখার সুযোগ পাচ্ছি। শিক্ষাজীবনের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষকদের বাইরেও আমার জীবনে শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে আমার চাচাতো বড় বোন মিম আপুর। ছোটবেলা থেকেই তিনি আমাকে অনেক অঙ্ক অনুশীলন করিয়েছেন। তার সেই পরিশ্রম ও সময় দেওয়ার সুফল আমি আজও পাচ্ছি। অনেক সময় একজন শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে থাকেন না, কিন্তু তার শেখানোটা সারাজীবন আমাদের সঙ্গে থেকে যায়—মিম আপু আমার জন্য তেমনই একজন। এর পাশাপাশি ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা আমার শেখার জগৎকে আরও বিস্তৃত করেছে। সাংবাদিকতা করার সুবাদে আরটিভির অনলাইন ইনচার্জ আজাদ ভাই এবং শিফট ইনচার্জ ইমতিয়াজ ভাইয়ের কাছ থেকেও প্রতিনিয়ত অনেক কিছু শেখার সুযোগ পাচ্ছি। সংবাদকে কীভাবে দেখতে হয়, তথ্য যাচাই, দায়িত্বশীলতা, পেশাদারিত্ব এবং কাজের প্রতি আন্তরিকতা— এসব বিষয়ে তাদের কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষা আমার ভবিষ্যৎ পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাদের প্রতিও রইল আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আজ পেছনে ফিরে তাকালে বুঝতে পারি, আমার জীবনের প্রতিটি ধাপে কোনো না কোনো শিক্ষক আমার হাত ধরে সামনে এগিয়ে দিয়েছেন। কেউ শিখিয়েছেন কীভাবে ভালো মানুষ হতে হয়, কেউ শিখিয়েছেন কীভাবে কঠিন সময়ে হাল না ছেড়ে এগিয়ে যেতে হয়, আবার কেউ আমার ওপর বিশ্বাস রেখে আমাকে নিজের ওপর বিশ্বাস করতে শিখিয়েছেন। আজ আমি যে পরিচয়ে পরিচিত, তার পেছনে আমার বাবা-মায়ের পাশাপাশি আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের অবদান অনস্বীকার্য। তাদের দেওয়া শিক্ষা, শাসন, স্নেহ, ভালোবাসা ও অনুপ্রেরণা আমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদগুলোর একটি। আমার জীবনের পথচলায় যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে শিক্ষক হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন, তাদের প্রত্যেকের প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও অশেষ কৃতজ্ঞতা। শিক্ষক শুধু একটি পেশার নাম নয়; একজন শিক্ষক একটি জীবন বদলে দিতে পারেন। আর জীবনের এই দীর্ঘ পথে কিছু মানুষ শিক্ষক না হয়েও আমাদের অনেক কিছু শিখিয়ে যান। তাই এই মহান দিবসে আমার শিক্ষকদেরসহ বিশ্বের সকল শিক্ষকের প্রতি জানাই কৃতজ্ঞতা। শুভ শিক্ষক দিবস। আবুবকর সম্পদ জবি সংবাদদাতা, আরটিভি আহ্বায়ক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটি আরটিভি/এমএইচজে
শিক্ষক থেকে পথপ্রদর্শক: যাদের কাছে ঋণী আমি
চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার আগে দ্বিতীয় মতামত কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত একটি পরিবারের জন্য বড় সিদ্ধান্ত। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে অর্থ, সময়, মানসিক চাপ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—চিকিৎসা নিয়ে প্রত্যাশা। তাই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আমার কাছে একটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়—দ্বিতীয় মতামত নেওয়া। দ্বিতীয় মতামত মানে প্রথম চিকিৎসককে অবিশ্বাস করা নয়। বরং গুরুত্বপূর্ণ কোনো চিকিৎসা সিদ্ধান্তের আগে আরেকজন যোগ্য বিশেষজ্ঞের মতামত জানা। এতে রোগী ও পরিবার রোগের অবস্থা, চিকিৎসার বিকল্প, সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং দেশে বা বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পেতে পারেন। আমাদের দেশে কোনো জটিল রোগ ধরা পড়লেই অনেক পরিবার প্রথমে বিদেশে যাওয়ার কথা ভাবেন। আবার কেউ পরিচিত কারও অভিজ্ঞতাকে নিজের চিকিৎসার সিদ্ধান্তের ভিত্তি করেন। কিন্তু একই রোগ হলেও প্রতিটি রোগীর অবস্থা, চিকিৎসার প্রয়োজন এবং ঝুঁকি এক নয়। তাই একজনের ভালো অভিজ্ঞতা অন্যজনের জন্য একই ফল নিশ্চিত করে না। আমার দৃষ্টিতে, বিদেশে যাওয়ার আগে প্রথম প্রশ্ন হওয়া উচিত—“আমার চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়া কি সত্যিই প্রয়োজন?” এর উত্তর পেতে কয়েকটি বিষয় জানা দরকার। রোগটি ঠিক কী? চিকিৎসার উদ্দেশ্য কী? দেশে এই চিকিৎসার উপযুক্ত সক্ষমতা আছে কি না? বিদেশে গেলে অতিরিক্ত কী সুবিধা পাওয়া যাবে? সম্ভাব্য খরচ কত? আর চিকিৎসার পরবর্তী পর্যায়ের চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ কীভাবে হবে? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও রোগীর চিকিৎসা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে অংশগ্রহণ এবং চিকিৎসক ও রোগীর যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরে। চিকিৎসার মান শুধু একটি নির্দিষ্ট চিকিৎসাপদ্ধতির ওপর নির্ভর করে না; নিরাপত্তা, রোগীকেন্দ্রিকতা, সময়োপযোগিতা এবং চিকিৎসার ধারাবাহিকতাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে জটিল বা দীর্ঘমেয়াদি রোগের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশে গিয়ে একটি চিকিৎসা করিয়ে দেশে ফিরে আসার পর পরবর্তী চিকিৎসা কোথায় হবে, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা কোথায় হবে এবং চিকিৎসার তথ্য স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে কীভাবে পৌঁছাবে—এসবও সিদ্ধান্তের অংশ হওয়া উচিত। কারণ চিকিৎসা একটি দিনের ঘটনা নয়; এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। তবে দ্বিতীয় মতামত নেওয়া মানেই চিকিৎসা পরিবর্তন করতে হবে—এমন নয়। অনেক সময় দ্বিতীয় বিশেষজ্ঞের মতামত প্রথম চিকিৎসা পরিকল্পনাকেই আরও পরিষ্কার করে। আবার কখনো নতুন কোনো বিকল্প সামনে আসতে পারে। মূল বিষয় হলো—রোগী যেন নিজের চিকিৎসা সম্পর্কে বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়া ভুল—এমন কথা বলা যেমন ঠিক নয়, তেমনি বিদেশে গেলেই ভালো চিকিৎসা পাওয়া যাবে—এমন ধারণাও সব ক্ষেত্রে সঠিক নয়। কিছু বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাওয়া প্রয়োজন হতে পারে। আবার অনেক চিকিৎসার জন্য দেশের মধ্যেই উপযুক্ত সক্ষমতা থাকতে পারে। তাই আমার কাছে বিদেশে চিকিৎসার প্রশ্নটি “দেশ না বিদেশ”—এভাবে দেখার চেয়ে “প্রয়োজনের জন্য সঠিক জায়গা কোথায়?”—এই প্রশ্নে দেখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একটি ভালো স্বাস্থ্যব্যবস্থা রোগীকে কোনো একটি সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দেয় না। বরং তাকে সঠিক তথ্য, প্রয়োজনীয় বিকল্প এবং যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ দেয়। শেষ পর্যন্ত রোগী বিদেশে যাবেন, নাকি দেশে চিকিৎসা নেবেন—সিদ্ধান্তটি তার। আমাদের দায়িত্ব হলো সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তাকে যথেষ্ট তথ্য ও আস্থার সুযোগ দেওয়া। কারণ চিকিৎসার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে কখনো কখনো আরেকজন বিশেষজ্ঞের মতামত শুধু একটি অতিরিক্ত পরামর্শ নয়— এটি হতে পারে আরও সচেতন সিদ্ধান্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। লেখক: মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন মামুন হেড অব ডিজিটাল, ব্র্যান্ড অ্যান্ড পিআর এভারকেয়ার হাসপাতাল চট্টগ্রাম। আরটিভি/ এসকেডি
চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার আগে দ্বিতীয় মতামত কেন গুরুত্বপূর্ণ?
আঞ্চলিক লজিস্টিকস ও শিল্পের হাব হতে পারে বাংলাদেশ: জেট্রো
ভৌগোলিক অবস্থান ও বিপুল জনসংখ্যার কারণে দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে আঞ্চলিক লজিস্টিকস ও শিল্পের কেন্দ্রে (হাব) পরিণত হওয়ার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশের।
আঞ্চলিক লজিস্টিকস ও শিল্পের হাব হতে পারে বাংলাদেশ: জেট্রো
আরও পড়ুন
সচিবালয়ে ৬ নম্বর ভবনে আগুন
জার্মান পর্যটকের হারানো ল্যাপটপ হস্তান্তর, পুরস্কৃত দুই পুলিশ
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে যুবদলের দুই দিনব্যাপী কর্মসূচি
১২ দিনে এলো ১৫ হাজার ৮৬৭ কোটি টাকার প্রবাসী আয়