বাংলাদেশে প্রতি ১৩ নারীর একজনের আগাম মেনোপজ, বলছে গবেষণা

আরটিভি নিউজ  

বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬ , ১২:২৭ পিএম


বাংলাদেশে প্রতি ১৩ নারীর একজনের আগাম মেনোপজ, বলছে গবেষণা
বাংলাদেশে প্রতি ১৩ নারীর একজনের আগাম মেনোপজ, গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য । ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে ৩০ থেকে ৪৯ বছর বয়সী প্রতি ১৩ জন নারীর মধ্যে প্রায় একজন অকাল বা আগাম মেনোপজে আক্রান্ত হন। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি)-এর গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত বহুদেশীয় এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি গবেষণা সাময়িকীতে প্রকাশিত এই গবেষণায় ৪৪টি নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশের ৭ লাখ ১৬ হাজার ৬৪৮ জন নারীর স্বাস্থ্যতথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ৩০ থেকে ৪৯ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে গড়ে ৭ দশমিক ১ শতাংশ অকাল বা আগাম মেনোপজে আক্রান্ত। বাংলাদেশে এ হার ৭ দশমিক ৫ শতাংশ, যা সামগ্রিক গড়ের চেয়ে কিছুটা বেশি। দক্ষিণ এশিয়ায় নেপালে এ হার ৭ দশমিক ৯ শতাংশ, ভারতে ৮ শতাংশ এবং পাকিস্তানে ৫ দশমিক ৯ শতাংশ।

আরও পড়ুন

সাধারণত ৪৫ থেকে ৫৫ বছর বয়সের মধ্যে মেনোপজ হয়। তবে ৪০ বছরের আগে হলে তাকে অকাল মেনোপজ এবং ৪০ থেকে ৪৪ বছরের মধ্যে হলে আগাম মেনোপজ বলা হয়।

মেনোপজ হলো নারীর জীবনের এমন একটি স্বাভাবিক পর্যায়, যখন মাসিক স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং স্বাভাবিকভাবে সন্তান ধারণের ক্ষমতা শেষ হয়।

গবেষকদের মতে, অকাল বা আগাম মেনোপজ হলে হৃদ্‌রোগ, হাড় ক্ষয়, বিপাকজনিত রোগ, স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাশক্তি কমে যাওয়া, বিষণ্নতা এবং অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি সারা জীবনের জন্য বেড়ে যায়। পাশাপাশি এটি নারীদের জীবনমান ও দৈনন্দিন কাজেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, গ্রামে বসবাসকারী নারীদের অকাল বা আগাম মেনোপজের ঝুঁকি শহরের নারীদের তুলনায় ১৭ শতাংশ বেশি।

শিক্ষার সঙ্গে এ ঝুঁকিরও স্পষ্ট সম্পর্ক পাওয়া গেছে। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকা নারীদের তুলনায় প্রাথমিক শিক্ষাপ্রাপ্ত নারীদের ঝুঁকি ১১ শতাংশ, মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রাপ্তদের ২৮ শতাংশ এবং উচ্চশিক্ষাপ্রাপ্তদের ৫৮ শতাংশ কম।

এছাড়া ১৮ বছর বা তার পরে বিয়ে করা নারীদের অকাল বা আগাম মেনোপজের সম্ভাবনা কম বয়সে বিয়ে হওয়া নারীদের তুলনায় ৩৪ শতাংশ কম। একইভাবে, ১৮ বছর বা তার পরে প্রথম সন্তান জন্ম দেওয়া নারীদের ঝুঁকিও ২৫ শতাংশ কম।

গবেষণার প্রধান লেখক ও আইসিডিডিআর,বি-এর গবেষক রাইশা বিনতে ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, অকাল বা আগাম মেনোপজ শুধু জৈবিক কারণে হয় না। শিক্ষা, বসবাসের স্থান এবং কম বয়সে বিয়ে বা সন্তান জন্ম দেওয়ার মতো সামাজিক বিষয়গুলোর সঙ্গেও এর সম্পর্ক রয়েছে।

আইসিডিডিআর,বি-এর মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরিচালক আনিসুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, অকাল বা আগাম মেনোপজকে শুধু প্রজনন জীবনের একটি ধাপ হিসেবে নয়, ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যঝুঁকির গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত হিসেবে দেখা উচিত। তার মতে, সময়মতো শনাক্ত করা গেলে হৃদ্‌রোগ, হাড় ক্ষয়, বিষণ্নতা ও স্মৃতিশক্তি হ্রাসের মতো সমস্যার ঝুঁকিতে থাকা নারীদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা সম্ভব হবে।

তবে গবেষকেরা জানিয়েছেন, এটি এককালীন সমীক্ষাভিত্তিক গবেষণা। তাই এতে বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে সম্পর্ক পাওয়া গেলেও কোনটি সরাসরি অকাল বা আগাম মেনোপজের কারণ, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।


আরটিভি/জেএমএ 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission