পুরুষদের প্রজনন সক্ষমতা নিয়ে বড় দুঃসংবাদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ , ০৬:২২ পিএম


পুরুষদের প্রজনন সক্ষমতা নিয়ে বড় দুঃসংবাদ
বিশ্বজুড়ে পুরুষদের প্রজননস্বাস্থ্য একটি বড় সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এআই ছবি

পুরুষের শারীরিক গঠন, প্রজননক্ষমতা ও সামগ্রিক সুস্থতার জন্য টেস্টোস্টেরন হরমোন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও বিশ্বজুড়ে এর উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এসেছে। গত পাঁচ দশকে পুরুষদের শরীরে টেস্টোস্টেরনের গড় মাত্রা অর্ধেকেরও বেশি কমে গেছে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলছেন, এই ধারা অব্যাহত থাকলে মানবসমাজ অদূর ভবিষ্যতে পুরুষদের প্রজননক্ষমতার এক অপূরণীয় সংকটের মুখোমুখি হতে পারে। খবর দ্য গার্ডিয়ানের। 

যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অনুষ্ঠিত ইউরোপিয়ান সোসাইটি অব হিউম্যান রিপ্রোডাকশন অ্যান্ড এমব্রায়োলজির (ইএসএইচআরই) বার্ষিক সভায় এই গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। গবেষকেরা জানান, ১৯৭২ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে পুরুষদের গড় টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমেছে প্রায় ৫৪ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতিবছর গড়ে ১ শতাংশের বেশি হারে এই হরমোন কমেছে, যা কোনো আকস্মিক ঘটনা বা পরিসংখ্যানগত ভুল নয়। টেস্টোস্টেরন পুরুষের বয়ঃসন্ধি, পেশি গঠন, শুক্রাণু উৎপাদন, হাড়ের স্বাস্থ্য এবং যৌন আকাঙ্ক্ষা বজায় রাখতে প্রধান ভূমিকা পালন করে।

ইসরায়েলের হিব্রু ইউনিভার্সিটি-হাডাসা ব্রাউন স্কুল অব পাবলিক হেলথ অ্যান্ড কমিউনিটি মেডিসিনের অধ্যাপক হাগাই লেভিন মনে করেন, বিশ্বজুড়ে পুরুষদের প্রজননস্বাস্থ্য একটি বড় সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অথচ বাস্তবে এই বিষয়টিকে ততটা গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। 

গবেষকদের ধারণা, অতিরিক্ত ওজন, ডায়াবেটিস, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং গৃহস্থালি পণ্যে ব্যবহৃত হরমোন-ব্যাহতকারী (এন্ডোক্রাইন-ডিসরাপ্টিং) রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহার টেস্টোস্টেরন কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ। এর পাশাপাশি বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ও পরিবেশগত বিপর্যয়ও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে।

আরও পড়ুন

উল্লেখ্য, এই গবেষক দলই এর আগে এক গবেষণায় দেখিয়েছিল যে গত ৪০ বছরে বিশ্বজুড়ে নারীদের শুক্রাণুর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। এবারের গবেষণার ফলাফল নিয়ে বিজ্ঞানী মহলে কিছুটা বিতর্ক থাকলেও অনেক প্রখ্যাত বিশেষজ্ঞ এটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। 

ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের রিপ্রোডাক্টিভ এন্ডোক্রাইনোলজি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক চান্না জয়সেনা বলেন, পুরুষের টেস্টোস্টেরন নিয়ে সাম্প্রতিক এই পর্যবেক্ষণকে বাস্তবতার নিরিখে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পুরুষদের প্রজননস্বাস্থ্যের এই অবনতি বেড়েই চলেছে।

টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ধারাবাহিকভাবে কমে যাওয়ার এই গবেষণা পুরুষদের প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে যে উদ্বেগ তৈরি করেছে, তা মোকাবিলায় এখনই উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্থতা নিশ্চিত করতে তারা স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, ওজন নিয়ন্ত্রণ, ডায়াবেটিস প্রতিরোধ এবং পরিবেশগত ক্ষতিকর রাসায়নিকের সংস্পর্শ কমানোর ওপর জোর দিচ্ছেন।

আরটিভি/এআর 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission