ডেঙ্গু মোকাবিলায় লুঙ্গি ও পায়জামা পরার পরামর্শ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

আরটিভি নিউজ 

বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬ , ০৭:৪৩ পিএম


ডেঙ্গু মোকাবিলায় লুঙ্গি ও পায়জামা পরার পরামর্শ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
জাতীয় সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।  ছবি: সংগৃহীত

ডেঙ্গু মোকাবিলায় দেশব্যাপী মানুষকে মশারি টানিয়ে ঘুমানোর পাশাপাশি ফুল হাতা শার্ট, পায়জামা ও লুঙ্গি লম্বা করে পরার পরামর্শ দিয়ে সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।    

বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল ইসলামের দেওয়া জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন নোটিশের জবাবে এ কথা জানান তিনি।   

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এই ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি রাখছি এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার জন্য প্রতিনিয়ত আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমরা স্প্রে করে যাচ্ছি, আমরা লার্ভার ট্যাবলেট ছিটিয়ে যাচ্ছি। দেশব্যাপী মানুষকে মশারি টানিয়ে ঘুমানোর জন্য, ফুল হাতা শার্ট পড়ার জন্য, পায়জামা পরার জন্য বা লুঙ্গি লম্বা করে পরার জন্য আমরা মানুষের অ্যাওয়ারনেস বৃদ্ধি করছি। 

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমরা সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। আমি আরও বলতে চাই যে ডেঙ্গু টেস্ট করার রিএজেন্ট, স্মরণাতীতকালের স্টক আমাদের হাতে আছে, যেটা বিগত সময়ে কোনও সরকার তাদের হাতে রাখতে পারে নাই। ডেঙ্গু টেস্ট করার জন্য সেই কিটের ব্যবস্থা আমরা পর্যাপ্ত পরিমাণে মাঠ লেভেলে দিয়েছি এবং সেন্ট্রাল গোডাউনে আমাদের স্টক আছে।  

আরও পড়ুন

দেশব্যাপী ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালেও ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ১০ শতাংশ বেড সংরক্ষিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, ডেঙ্গু পরীক্ষার ফি কমিয়ে ৫০ টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে এবং পর্যাপ্ত কিট ও স্যালাইন মজুত রাখা হয়েছে।  

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংসদে পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৮ হাজার ৯৭৮ জন এবং মারা গেছেন ২৮ জন। যেখানে গত বছর (২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত হিসেবে) আক্রান্ত ছিলেন ১৫ হাজার ২১০ জন এবং মৃত্যু হয়েছিল ৫৮ জনের।   

তিনি বলেন, পরিসংখ্যান অনুযায়ী গতবারের তুলনায় এবার আক্রান্ত ও মৃত্যু অর্ধেকেরও কম। তবে, আমরা এতে আত্মতুষ্টিতে ভুগছি না, যেহেতু মানুষ এখনও আক্রান্ত হচ্ছে।  

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু এনএসওয়ান পরীক্ষা বিনামূল্যে করা হচ্ছে। এছাড়া আইজিজি ও আইজিএম পরীক্ষার ফি ৩০০ টাকা থেকে কমিয়ে মাত্র ৫০ টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে ১ লাখ ৬ হাজার ৬০০ কিট মজুদ আছে এবং আগামী এক মাসে আরও ৫ লাখ কিট যোগ হবে। পাশাপাশি ১ লাখ অতিরিক্ত স্যালাইন ব্যাগের বিশেষ রিজার্ভ হিসেবে রাখা হয়েছে। 

বেসরকারি হাসপাতালগুলোর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, দেড় মাস আগেই বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন মোট বেডের ১০ শতাংশ ডেঙ্গু রোগীদের জন্য খালি রাখা হয়। একইসঙ্গে সরকারি রেটেই যেন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়, সে ব্যাপারে তারা সম্মতি দিয়েছেন।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি যদি ভয়াবহ আকার ধারণ করে, তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে মোবাইল হসপিটাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনে সেনাবাহিনীকে ব্যবহারের প্রস্তুতিও রয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। 

তিনি আরও জানান, জেলা পর্যায়ে আইসিইউ সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে ১২টি জেলায় ১০ বেডের আইসিইউ চালু হয়েছে এবং আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আরও ৫টি জেলায় তা চালু হবে। 

মশা নিধনে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর অনুরোধ জানান সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, মশা খুব ক্ষুদ্র পতঙ্গ। আমাদের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে যত্রতত্র পানি জমে থাকে। বাড়ির ভেতরে মশক নিধনকর্মীদের ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে হবে।  

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission