শীতের শুরুতেই ঘরে ঘরে শিশুদের মধ্যে বাড়ছে সর্দি-কাশির প্রকোপ। তবে সাধারণ এই সর্দি-কাশি অনেক সময় প্রাণঘাতী নিউমোনিয়ায় রূপ নিতে পারে, যা বাবা-মায়ের জন্য চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ এই নিউমোনিয়া।
প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় সোয়া সাত লাখ শিশু এই রোগে প্রাণ হারায় এবং প্রতি ৩৯ সেকেন্ডে একজন শিশু এই নীরব ঘাতকের শিকার হচ্ছে। শিশুদের এই রোগ থেকে সুরক্ষায় সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিশু গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি অ্যান্ড নিউট্রিশনের সহযোগী অধ্যাপক ডা. কানিজ সুলতানা জানান, নিউমোনিয়া একটি মারাত্মক সংক্রামক রোগ যা দ্রুত শ্বাসকষ্ট, হাইপোক্সিয়া বা রক্তে অক্সিজেনের স্বল্পতা এবং সেপসিসের মতো জটিলতা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে বাংলাদেশসহ নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে এর ঝুঁকি অনেক বেশি।
তিনি বলেন, শীতকালে ঠান্ডা ও শুষ্ক বাতাসের কারণে শ্বাসনালীর প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং রেসপিরেটরি সিনসিটিয়াল ভাইরাসের মতো বিভিন্ন ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যায়, যার ফলে শিশুরা দ্রুত আক্রান্ত হয়।
শিশুর সাধারণ কাশি কখন নিউমোনিয়া হতে পারে, তা বোঝার জন্য অভিভাবকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। এর প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্বরের সঙ্গে কাশি এবং অস্বাভাবিক দ্রুত শ্বাস নেওয়া। শ্বাস নেওয়ার সময় যদি শিশুর বুকের খাঁচার নীচের অংশ ভেতরের দিকে ঢুকে যায় কিংবা অস্বাভাবিক ‘গরগর’ শব্দ হয়, তবে তা বিপদের সংকেত। এ ছাড়া হাম বা ডিপথেরিয়ার মতো সংক্রমণের পর শ্বাসকষ্ট বাড়লে সেটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে।
কিছু জরুরি লক্ষণ দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে শিশুকে হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যদি শিশু কোনো কিছু খেতে না পারে, অতিরিক্ত অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে বা অস্বাভাবিক ঘুমায়, ঠোঁট ও জিহ্বা নীলাভ হয়ে যায় কিংবা কাঁদার শক্তি হারিয়ে ফেলে, তবে বুঝতে হবে পরিস্থিতি গুরুতর।
বিশেষ করে শিশুর বয়স যদি দুই থেকে তিন মাসের কম হয় এবং অক্সিজেন স্যাচুরেশন ৯০ শতাংশের নিচে নেমে যায়, তবে তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা প্রয়োজন। এ ছাড়া খিঁচুনি বা অচেতন হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে কোনোভাবেই বাড়িতে রাখা ঠিক হবে না।
নিউমোনিয়া প্রতিরোধে শীতে শিশুদের ঠান্ডা থেকে সুরক্ষা দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। শিশুদের সুরক্ষায় ভিড় এড়িয়ে চলা, ঘরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা করা এবং হাত ধোয়ার নিয়মিত অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।
সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় এবং সচেতনতাই পারে শিশুদের এই প্রাণঘাতী রোগের হাত থেকে রক্ষা করতে।
আরটিভি/এএইচ





