যুক্তরাষ্ট্রে শিশু ও কিশোরদের অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার নিয়ে নতুন করে বড় ধরনের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সরকারি স্বাস্থ্য দপ্তরের পরামর্শ অনুযায়ী, মোবাইল, ভিডিও গেম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ সময় কাটানো শিশুদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অনেক শিশু এক বছর বয়সের আগেই স্ক্রিনের সংস্পর্শে আসে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ব্যবহার আরও বাড়তে থাকে। কিশোর বয়সে এসে অনেকেই দিনে গড়ে ৪ ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় স্ক্রিনে কাটায়। অনেকেই আবার সময়ের হিসাবই রাখতে পারে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার ঘুমের সমস্যা, পড়াশোনায় মনোযোগ কমে যাওয়া, শারীরিক সক্রিয়তা হ্রাস এবং সামাজিক সম্পর্ক দুর্বল হওয়ার মতো সমস্যার সঙ্গে যুক্ত।
সরকারি নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ছোট শিশুদের জন্য স্ক্রিন ব্যবহার সীমিত রাখা জরুরি। ১৮ মাসের কম বয়সী শিশুদের স্ক্রিন থেকে দূরে রাখা, ৬ বছরের নিচে দিনে এক ঘণ্টার কম এবং ৬ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের জন্য দিনে সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টা স্ক্রিন ব্যবহার সীমিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
শুধু সময় নয়, নির্দেশনায় স্ক্রিন ব্যবহারের ধরন নিয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শিশুদের পড়াশোনা ও অন্যান্য কাজ শেষ করে তবেই স্ক্রিন ব্যবহার করা, পরিবারে নির্দিষ্ট নিয়ম তৈরি করা এবং অভিভাবকদের নিজেরাও ভালো উদাহরণ তৈরি করার কথা বলা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, সব ধরনের স্ক্রিন ব্যবহার ক্ষতিকর নয়। শিক্ষামূলক কনটেন্ট বা সামাজিকভাবে যুক্ত থাকার জন্য কিছু ব্যবহার ইতিবাচকও হতে পারে। তাই শুধু সময় নয়, কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে সেটাও গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন এই সতর্কবার্তায় শিশুদের সুস্থ রাখতে পরিবার, স্কুল, চিকিৎসক ও প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর যৌথ ভূমিকার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিশুদের স্ক্রিন আসক্তি কমাতে নিয়মিত বিরতি নেওয়া, খেলাধুলা ও বাস্তব জীবনের সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আরটিভি/জেএমএ



