মাঝরাতে ফোনে কথা বলছিলেন স্ত্রী। বিষয়টি নজরে আসতেই সন্দেহ হয় স্বামীর। এত রাতে কার সঙ্গে কথা হচ্ছে— প্রশ্ন করেই স্ত্রীর হাত থেকে ছিনিয়ে নিতে যান ফোনটি। কিন্তু, স্ত্রী তার ফোন দিতে রাজি না হওয়ায় মুহূর্তেই ক্ষেপে ওঠেন সন্দেহপ্রবণ স্বামী। শুরু হয় তর্ক-বিতর্ক; এক পর্যায়ে ধস্তাধস্তি। শেষ পর্যন্ত স্বামীর হাতে দম বন্ধ হয়ে প্রাণ যায় স্ত্রীর।
নৃশংস এই ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের গুরগাঁওয়ে। সন্দেহের বশবর্তী হয়ে স্ত্রী কাজল দেবীর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে পালান নরেন্দ্র সিং নামে এক ব্যক্তি। তবে, শুক্রবার (৫ জুন) পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন তিনি।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মানেসরের আইএমটি এলাকার বানস আলিয়ার গ্রামে স্ত্রী কাজল দেবী এবং চার সন্তানকে নিয়ে বসবাস করতেন ৩৭ বছর বয়সী নরেন্দ্র সিং। স্বামী-স্ত্রী দুজনই কাজ করতেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক হিসেবে। ঘটনার সময় তাদের চার সন্তান বাড়ির ছাদে ঘুমিয়ে ছিল।
তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, কাজল দেবী প্রতিদিন রাত ৮টার দিকে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফিরতেন, আর তার স্বামী মধ্যরাতে বাড়ি আসতেন। বুধবার রাতে বাড়ি ফিরে নরেন্দ্র সিং তার স্ত্রীকে মোবাইল ফোনে কারও সঙ্গে কথা বলতে দেখেন।
এ সময় ক্ষুব্ধ হয়ে স্ত্রী কার সঙ্গে কথা বলছিলেন তা জানতে চান নরেন্দ্র সিং এবং তার মোবাইল ফোন দেখতে চান। কিন্তু কাজল দেবী ফোন দিতে অস্বীকৃতি জানালে দুজনের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়।
পুলিশ জানায়, স্ত্রী অন্য কোনো পুরুষের সঙ্গে কথা বলছেন বলে সন্দেহ করতেন নরেন্দ্র সিং। একপর্যায়ে ক্ষোভ ও সন্দেহের বশবর্তী হয়ে তিনি ওড়না দিয়ে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। এরপর সেখান থেকে পালিয়ে যান অভিযুক্ত।
নিহতের বোনের অভিযোগের ভিত্তিতে মানেসর আইএমটি থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গুরগাঁও পুলিশের এক মুখপাত্র বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ওড়নাটি উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার বিষয়ে আরও তদন্ত চলছে।’
আরটিভি/এসএইচএম




