ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

পুনরায় পরীক্ষা দেয়ার সাহস নেই লিখে ছাত্রীর আত্মহত্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৪ জুন ২০২৬, ০৬:৪৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা (নিট-ইউজি) বাতিল হওয়ার ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন ১৮ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী। মৃত্যুর আগে পরিবারের উদ্দেশে লেখা একটি চিরকুটে তিনি লিখেছেন, পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সাহস নেই, আমাকে ক্ষমা করে দিও।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, মৃত শিক্ষার্থীর নাম আকাঙ্ক্ষা চতুর্বেদী। বুধবার (৩ মে) অনুষ্ঠিত নিট-ইউজি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি। পরীক্ষায় ভালো ফল করার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন আকাঙ্ক্ষা। তবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষা বাতিল এবং আগামী ২১ জুন পুনঃপরীক্ষার ঘোষণা তাকে গভীরভাবে হতাশ করে তোলে।

মৃত্যুর দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় পর তার কক্ষ থেকে উদ্ধার হওয়া একটি হাতে লেখা চিঠিতে আকাঙ্ক্ষা লেখেন, মা-বাবা, তোমরা বিশ্বাস করেছিলে তোমাদের মেয়ে কঠোর পরিশ্রম করে ডাক্তার হবে। কিন্তু আবার নিট পরীক্ষা দেওয়ার আমার আর সাহস নেই। প্রথমবারেই আমি ভালো নম্বর পেতাম, কিন্তু এখন আর কোনো নিশ্চয়তা নেই। আমি সব কিছু নষ্ট করে ফেলেছি, আমাকে ক্ষমা করে দিও।

আকাঙ্ক্ষার বাবা কৃষ্ণ কুমার চতুর্বেদী জানান, নাগপুরে কোচিং করা তার মেয়ে পরীক্ষার পর অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। তিনি বলেন, পরীক্ষা দিয়ে ফোন করে সে খুব খুশি ছিল। কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষা বাতিলের খবর শোনার পর পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। তার মনে হয়েছিল, এত দিনের সব পরিশ্রম বৃথা হয়ে গেল।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, আর্থিক সংকটের মধ্যেও মেয়ের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পূরণে কৃষ্ণ কুমার প্রায় ৩ লাখ রুপি ঋণ নিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে নাগপুরে রাঁধুনির কাজ করা এই বাবা বলেন, আমার মেয়ে খুব মেধাবী ছিল। আমরা ঋণ নিয়ে তার পড়াশোনার খরচ চালিয়েছি। পরীক্ষার পর সে নিশ্চিত ছিল যে নির্বাচিত হবে।

আকাঙ্ক্ষার চাচা দাদ্দি প্রসাদ চতুর্বেদী জানান, পরীক্ষা বাতিলের পর থেকে সে ধীরে ধীরে নিজেকে সবার কাছ থেকে গুটিয়ে নিতে শুরু করে। ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করত না, কারও সঙ্গে কথা বলত না। তার আশঙ্কা ছিল, এবার সুযোগ হারালে পরিবার আরেকবার কোচিং ও পরীক্ষার ব্যয় বহন করতে পারবে না।

পরিবারের দাবি, আকাঙ্ক্ষার পড়াশোনার খরচ চালাতে কৃষক ঋণ (কিষাণ ক্রেডিট কার্ড) নেওয়ার পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকেও ধার করতে হয়েছিল।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ মে দুপুরে পরিবারের সদস্যরা খাবার খেলেও আকাঙ্ক্ষা পরে খাবে বলে নিজের ঘরে চলে যায়। বিকেলে মা নীলম চতুর্বেদী তাকে ডাকতে গেলে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে ঘরে গিয়ে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন

ঘটনার সময় কোনো সুইসাইড নোট পাওয়া না গেলেও পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা তার জিনিসপত্র গোছানোর সময় হাতে লেখা চিঠিটি উদ্ধার করেন।

আকাঙ্ক্ষার বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে নাগপুরের আম্বাজরি থানায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, নিট পরীক্ষা বাতিল হওয়ার ঘটনায় শিক্ষার্থীটি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন বলে পরিবার জানিয়েছে।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ইয়েমেনের রাজধানী সানায় ফের বিকট বিস্ফোরণ
ইয়েমেনের রাজধানী সানায় টানা দ্বিতীয়দিনের মতো বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সেখানকার একটি তেল স্থাপনায় হামলা চালায় সৌদি আরবের নেতৃত্বধীন জোট। এরপর হুথিরা পাল্টা হামলা চালায়।
ইয়েমেনের রাজধানী সানায় ফের বিকট বিস্ফোরণ
‘শাশুড়ি চায় বেতন, শ্বশুর ফ্ল্যাট’, ভয়ংকর সিদ্ধান্ত নিলেন নারী প্রযুক্তিবিদ
ভারতের মহারাষ্ট্রের পুনেতে যৌতুকের দাবিতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে তৃষ্ণা রাহুল সাকপাল (৩৩) নামে এক আইটি ইঞ্জিনিয়ারের আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় নিহতের বাবার দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তার স্বামী ও পরিবারের চার সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।
‘শাশুড়ি চায় বেতন, শ্বশুর ফ্ল্যাট’, ভয়ংকর সিদ্ধান্ত নিলেন নারী প্রযুক্তিবিদ
কিশোরীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে রোবট জব্দ
জার্মানির কোলোন শহরে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে যৌন হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে একটি রোবটের বিরুদ্ধে। পুলিশের সন্দেহ, রোবটটির ১৬ বছর বয়সী মালিক ও তার ১৯ বছর বয়সী এক সঙ্গী সেটি নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন এবং ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করেছিলেন।  পুলিশ রোবট ও দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করে তদন্ত করছে। তবে ঘটনার সময় রোবটটি ইচ্ছাকৃতভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।  পুলিশের অভিযোগ, শনিবার স্থানীয় সময় মধ্যরাতের কাছাকাছি সময়ে (ব্রিটিশ গ্রীষ্মকালীন সময় রাত ১১টা) শহরের কেন্দ্রের কাছে একটি ফাস্টফুডের দোকানের সামনে রোবটটি কিশোরীর পেছন দিক থেকে এগিয়ে যায়। একপর্যায়ে সেটি কিশোরীর নিতম্বে হাত দেয় এবং শরীরের সঙ্গে ধাক্কা দেওয়ার মতো নড়াচড়া করে। এতে আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার করে সরে যায় মেয়েটি। নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়া পুলিশের ফেসবুক পোস্ট অনুযায়ী, রোবটটির উচ্চতা প্রায় ১২০ সেন্টিমিটার। ঘটনার সময় কিশোরীটি বন্ধুদের সঙ্গে ছিল। পরে জরুরি সেবায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে এক ব্লক দূরে রোবটটির মালিক ও তার ১৯ বছর বয়সী সঙ্গীকে খুঁজে পায়। পুলিশের ভাষ্য, রোবটটির মালিক ও তার সঙ্গী ঘটনার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ সময় তারা ঘটনাটি নিয়ে মন্তব্যও করছিলেন। পুলিশ জানায়, ওই কিশোর রোবটটিকে একটি গাড়ির পেছনে রেখেছিলেন। সেখান থেকে সেটি উদ্ধার করা হয়। রোবটটির গায়ে কালো গোঁফ, সোনালি রঙের চেইন ও সাদা ভেস্ট ছিল বলে পুলিশের প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে। ঘটনার তদন্তের অংশ হিসেবে রোবটটির পাশাপাশি অভিযুক্ত দুজনের দুটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে। ঘটনার সময় তারা ইচ্ছাকৃতভাবে রোবটটির নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণ করছিলেন কি না এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা কী ছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এদিকে, ঘটনার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা কিছু মন্তব্য নিয়ে সতর্ক করেছে পুলিশ। পরবর্তী এক ফেসবুক পোস্টে সংস্থাটি জানায়, এসব মন্তব্যের কিছু ‘সীমা লঙ্ঘন’ করতে পারে এবং গুরুতর ক্ষেত্রে তা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে। আরটিভি/এসআর
কিশোরীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে রোবট জব্দ
স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া এড়াতে পালানোর চেষ্টা যুবকের, অতঃপর...
ভারতের গ্রেটার নয়ডায় স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া এড়াতে ফ্ল্যাটের বারান্দা দিয়ে নিচে নামার চেষ্টাকালে ২১ তলা থেকে নিচে পড়ে ৩১ বছর বয়সী এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে গ্রেটার নয়ডার ‘সেনচুরিয়ান পার্ক ট্রপিক্যাল গার্ডেন সোসাইটি’তে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া এড়াতে পালানোর চেষ্টা যুবকের, অতঃপর...
একসঙ্গে ৫ সরকারি চাকরি, শেষ রক্ষা হলো না কর্মকর্তার
করোনা মহামারীর পর চালু হওয়া ‘ঘর থেকে কাজ করা’ বা ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ সংস্কৃতির সুযোগ নিয়ে এক অভিনব জালিয়াতির ঘটনা ফাঁস হয়েছে যুক্তরাজ্যে। লন্ডন কাউন্সিলের এক সরকারি কর্মকর্তা একই সময়ে অন্তত পাঁচটি পূর্ণকালীন সরকারি চাকরি করে প্রায় সাড়ে তিন লাখ পাউন্ড হাতিয়ে নিয়েছেন বলে আদালতে অভিযোগ উঠেছে। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের। 
একসঙ্গে ৫ সরকারি চাকরি, শেষ রক্ষা হলো না কর্মকর্তার