পুনরায় পরীক্ষা দেয়ার সাহস নেই লিখে ছাত্রীর আত্মহত্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ 

বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬ , ০৬:৪৪ পিএম


পুনরায় পরীক্ষা দেয়ার সাহস নেই লিখে ছাত্রীর আত্মহত্যা
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা (নিট-ইউজি) বাতিল হওয়ার ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন ১৮ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী। মৃত্যুর আগে পরিবারের উদ্দেশে লেখা একটি চিরকুটে তিনি লিখেছেন, পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সাহস নেই, আমাকে ক্ষমা করে দিও। 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, মৃত শিক্ষার্থীর নাম আকাঙ্ক্ষা চতুর্বেদী। বুধবার (৩ মে) অনুষ্ঠিত নিট-ইউজি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি। পরীক্ষায় ভালো ফল করার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন আকাঙ্ক্ষা। তবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষা বাতিল এবং আগামী ২১ জুন পুনঃপরীক্ষার ঘোষণা তাকে গভীরভাবে হতাশ করে তোলে।

মৃত্যুর দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় পর তার কক্ষ থেকে উদ্ধার হওয়া একটি হাতে লেখা চিঠিতে আকাঙ্ক্ষা লেখেন, মা-বাবা, তোমরা বিশ্বাস করেছিলে তোমাদের মেয়ে কঠোর পরিশ্রম করে ডাক্তার হবে। কিন্তু আবার নিট পরীক্ষা দেওয়ার আমার আর সাহস নেই। প্রথমবারেই আমি ভালো নম্বর পেতাম, কিন্তু এখন আর কোনো নিশ্চয়তা নেই। আমি সব কিছু নষ্ট করে ফেলেছি, আমাকে ক্ষমা করে দিও।

আকাঙ্ক্ষার বাবা কৃষ্ণ কুমার চতুর্বেদী জানান, নাগপুরে কোচিং করা তার মেয়ে পরীক্ষার পর অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। তিনি বলেন, পরীক্ষা দিয়ে ফোন করে সে খুব খুশি ছিল। কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষা বাতিলের খবর শোনার পর পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। তার মনে হয়েছিল, এত দিনের সব পরিশ্রম বৃথা হয়ে গেল।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, আর্থিক সংকটের মধ্যেও মেয়ের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পূরণে কৃষ্ণ কুমার প্রায় ৩ লাখ রুপি ঋণ নিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে নাগপুরে রাঁধুনির কাজ করা এই বাবা বলেন, আমার মেয়ে খুব মেধাবী ছিল। আমরা ঋণ নিয়ে তার পড়াশোনার খরচ চালিয়েছি। পরীক্ষার পর সে নিশ্চিত ছিল যে নির্বাচিত হবে।

আকাঙ্ক্ষার চাচা দাদ্দি প্রসাদ চতুর্বেদী জানান, পরীক্ষা বাতিলের পর থেকে সে ধীরে ধীরে নিজেকে সবার কাছ থেকে গুটিয়ে নিতে শুরু করে। ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করত না, কারও সঙ্গে কথা বলত না। তার আশঙ্কা ছিল, এবার সুযোগ হারালে পরিবার আরেকবার কোচিং ও পরীক্ষার ব্যয় বহন করতে পারবে না।

পরিবারের দাবি, আকাঙ্ক্ষার পড়াশোনার খরচ চালাতে কৃষক ঋণ (কিষাণ ক্রেডিট কার্ড) নেওয়ার পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকেও ধার করতে হয়েছিল।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ মে দুপুরে পরিবারের সদস্যরা খাবার খেলেও আকাঙ্ক্ষা পরে খাবে বলে নিজের ঘরে চলে যায়। বিকেলে মা নীলম চতুর্বেদী তাকে ডাকতে গেলে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে ঘরে গিয়ে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন

ঘটনার সময় কোনো সুইসাইড নোট পাওয়া না গেলেও পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা তার জিনিসপত্র গোছানোর সময় হাতে লেখা চিঠিটি উদ্ধার করেন।

আকাঙ্ক্ষার বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে নাগপুরের আম্বাজরি থানায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, নিট পরীক্ষা বাতিল হওয়ার ঘটনায় শিক্ষার্থীটি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন বলে পরিবার জানিয়েছে।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission