হিন্দু কিংবা মুসলিম, যে যেই ধর্মের অনুসারীই হোন না কেন আসল পরিচয় সবাই মানুষ। আর তাই ধর্ম-বর্ণের উর্ধ্বে থেকে মনুষ্যত্বের পরিচয় দেয়াই মানুষের আসল কাজ। এবার তেমনই মনুষ্যত্বের পরিচয় দেয়া এক মুসলিম বিধায়কের খবর এলো সামনে।
খবর অনুযায়ী, ভারতের কর্ণাটক রাজ্যে চলতি মাসেই করোনায় মৃত্যু হয় সাবিত্রী বিশ্বনাথন নামে এক ব্যাহ্মণ অধ্যাপিকার। কিন্তু তার পরিবারের কেউই সেখানে না থাকায় শেষকৃত্য করার জন্য এগিয়ে আসেনি কেউই।
এরপরই তার শেষকৃত্যের জন্য এগিয়ে আসেন কর্নাটকের কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ সায়েদ নাসির হুসেন। নিজে মুসলিম হয়েও ওই ব্রাহ্মণ অধ্যাপকের শেষকৃত্য করার জন্য দু’বার ভাবেননি তিনি।
মৃত সাবিত্রী বিশ্বনাথন ছিলেন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের চৈনিক ও জাপানিজ শিক্ষা বিভাগের প্রধান। সম্প্রতি সাবিত্রী বিশ্বনাথন ও তার বোন দু’জনেই করোনায় আক্রান্ত হন।
ব্যাঙ্গালুরুর একটি হাসপাতালে চিকিৎসা চলছিল ওই অধ্যাপিকার। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। করোনার কাছে জীবন যুদ্ধে হেরে যান তিনি। কিন্তু তখনও হাসপাতালেই ভর্তি ছিলেন তার বোন।
আর পরিবারের বাকি সদস্যদের কেউ বিদেশে আবার কেউ নিজেদের আসল বাসস্থান তামিলনাড়ুতে। ফলে তার শেষকৃত্য করা নিয়ে তৈরি হয় সমস্যা। কোনো হিন্দুই এগিয়ে আসেননি ওই অধ্যাপিকার শেষকৃত করতে।
আর সেই সময়ই ত্রাতা হয়ে এগিয়ে আসেন হুসেন। পরিবারের অনুপস্থিতিতে সমস্ত রীতি-নীতি মেনে মন্ত্র পড়ে যথাযথ ভাবে তিনি চিরবিদায় জানান সাবিত্রীকে। সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস
টিএস




