অর্থায়ন বিল নিয়ে সমঝোতার অভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কার্যক্রম আংশিকভাবে শাটডাউন (বন্ধ) থাকায় বৈশ্বিক বাজারগুলোতে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বুধবার (১ অক্টোবর) এই অচলাবস্থার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাজারে—নিরাপদ বিনিয়োগের উৎস হিসেবে সোনার দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে, অন্যদিকে শেয়ার বাজার নিম্নমুখী হয়েছে।
রয়টার্সের সূত্র অনুযায়ী, শাটডাউনের প্রেক্ষিতে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন। ফলে, সোনার দাম আউন্স প্রতি তিন হাজার ৮৭৫ ডলারে পৌঁছেছে, যা টানা তৃতীয় সেশনের জন্য একটি রেকর্ড সর্বোচ্চ মূল্য।
অন্যদিকে, ওয়াল স্ট্রিটের ভবিষ্যৎ সূচকগুলো পতন দেখিয়েছে। বুধবার এস অ্যান্ড পি (S&P) ৫০০ ফিউচার এবং নাসডক ফিউচার উভয়েরই দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। তবে ইউরোপীয় ফিউচারের দামে খুব বেশি পরিবর্তন দেখা যায়নি।
বহু ফেডারেল কর্মী সাময়িক ছুটিতে যাওয়ায় এবং সরকারি দপ্তরগুলো বন্ধ থাকায় এই অচলাবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার কোনো স্পষ্ট পথ এখনো দেখা যাচ্ছে না। ২০২৫ অর্থবছরের মেয়াদ শেষে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টা ১ মিনিটে অর্থায়নের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় এই শাটডাউন শুরু হয়।
ক্যাপিটাল ডটকমের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক কাইল রোদ্দা মনে করেন, সাধারণত বাজার বন্ধ থাকার অর্থনৈতিক প্রভাব খুব তাৎপর্যপূর্ণ হয় না। তিনি ২০১৮-২০১৯ সালের এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা শাটডাউনের উদাহরণ টেনে বলেন, সেই সময়ে ওয়াল স্ট্রিটে বরং উত্থান দেখা গিয়েছিল।
তবে রোদ্দা সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান শাটডাউনের কারণে দুটি প্রধান সমস্যা তৈরি হতে পারে। প্রথমত, অ-কৃষি খাতে বেতনের মতো গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশে বিলম্ব হতে পারে। দ্বিতীয়ত, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পক্ষ থেকে স্থায়ীভাবে কর্মীদের ছাঁটাই করার হুমকি শ্রম বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে।
উল্লেখ্য, শাটডাউন চলাকালীন অপ্রয়োজনীয় খাতের কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও সেনাবাহিনী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারদের মতো জরুরি খাতগুলোর কাজ চালু থাকবে। তবে এই কর্মীরা আপাতত কোনো বেতন পাচ্ছেন না।
আরটিভি/এসএআর/এসকে




