যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় উদ্ধার হওয়া দ্বিতীয় মরদেহটি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার (১ মে) এক হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় বিষয়টি জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজা।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে নিখোঁজ বাংলাদেশি দুই শিক্ষার্থীর রহস্যজনক ও হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ড নতুন মোড় নিয়েছে। মাছ ধরতে গিয়ে স্থানীয় কায়াক আরোহীর কাকতালীয় আবিষ্কারে উদ্ধার হয়েছে নিখোঁজ শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টির মরদেহ, যা পুরো ঘটনাকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।
হিলসবরো কাউন্টির শেরিফ চাদ ক্রোনিস্টার শুক্রবার (১ মে) নিশ্চিত করেন, সেন্ট পিটার্সবার্গের উপকূলবর্তী এলাকায় একটি কালো প্লাস্টিক ব্যাগে পাওয়া মানবদেহের অংশ আসলে ২৭ বছর বয়সী বৃষ্টির। গত রোববার উত্তর সেন্ট পিটার্সবার্গের উপকূলে মাছ ধরছিলেন এক ব্যক্তি। তার ফিশিং লাইন একটি কালো ব্যাগে আটকে গেলে সেটি ছাড়াতে তিনি ম্যানগ্রোভ বনের ভেতরে যান। সেখানে গিয়ে তিনি তীব্র দুর্গন্ধ অনুভব করেন।
শেরিফের ভাষায়, ব্যাগটি খোলা ছিল, তাতে লবণাক্ত পানি ঢুকেছিল। ভেতরে কী আছে বোঝা যাচ্ছিল না, তবে দেখতে মানবদেহের মতো লাগছিল। পরে নিশ্চিত করা হয়-এটি নিখোঁজ শিক্ষার্থী বৃষ্টির মরদেহ।
মরদেহটি তীব্র পচনশীল অবস্থায় থাকায় ডিএনএ ও দাঁতের রেকর্ডের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করতে হয়েছে। বৃষ্টির পরনের পোশাকও তার নিখোঁজ হওয়ার সময়কার পোশাকের সঙ্গে মিলে গেছে।
এর আগে, একই ঘটনায় বৃষ্টির বন্ধু ও সহপাঠী জামিল লিমনের মরদেহও উদ্ধার করা হয়। তিনিও ২৭ বছর বয়সী এবং বাংলাদেশ থেকে শিক্ষার্থী ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে গিয়েছিলেন।
এই দ্বৈত হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার হয়েছেন তাদেরই রুমমেট হিশাম আবুঘারবিয়েহ, যার বিরুদ্ধে প্রথম-ডিগ্রি হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
১৬ এপ্রিল বৃষ্টিকে সর্বশেষ দেখা যায়। ১৭ এপ্রিল তাকে নিখোঁজ হিসেবে রিপোর্ট করা হয়। পরদিন নিখোঁজ হন লিমন।
শেরিফ বলেন, তারা দায়িত্বশীল ও নিবেদিত শিক্ষার্থী ছিল। হঠাৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় বন্ধুরা দ্রুত বুঝতে পারে কিছু একটা ভয়ংকর ঘটেছে। যা শুরু হয়েছিল নিখোঁজের ঘটনা হিসেবে, তা শেষ হয় এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের মধ্যে দিয়ে।
সূত্র: টাম্পা বে নিউজ
আরটিভি/এমএ




