যুদ্ধের ক্ষতচিহ্নে ভরা সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলের শহর আলেপ্পো। এই শহরের একটি খোলা উঠানে বসে কিছু তরুণ কারিগর মনোযোগ দিয়ে মেরামত করছেন শতবর্ষী পুরোনো সব কার্পেট। প্রায় সাত শতাব্দীর পুরোনো হাতে বোনা এই কার্পেট শিল্প সিরিয়ার এক বিলীয়মান ঐতিহ্য, যা কিছু মানুষ এখনো টিকিয়ে রেখেছেন ঐতিহ্যকে ভালবেসে।
একসময় আলেপ্পো ছিল এই শিল্পের প্রাণকেন্দ্র। রাজপ্রাসাদ, মসজিদ, কিংবা সাধারণ ঘর—সবখানেই বিছানো থাকত হাতে বোনা কার্পেট। কিন্তু গৃহযুদ্ধের আগুন, ভেঙে পড়া অর্থনীতি ও পর্যটন শিল্পের পতনে সেই ঐতিহ্য প্রায় হারিয়ে গেছে। এখন পুরো সিরিয়ায় হাতে গোনা সাত-আটজন কারিগরই আছেন, যারা এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রেখেছেন।
তাদেরই একজন ওমর রাওয়াস। ধুলোমাখা কারখানার এক কোণে বসে তিনি বুনে চলেছেন সূতা, নকশা আর যেন ইতিহাসকে। তার হাতের ছোঁয়ায় শতবর্ষী পুরোনো কার্পেট ফিরে পাচ্ছে নতুন জীবন। রাওয়াস বলেন, এই কার্পেট কেবল সাজসজ্জার অংশ নয়—এটি তাদের পারিবারিক উত্তরাধিকার, এক জীবন্ত ইতিহাস, যা পরের প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বও তার।
তিনি মনে করেন, এই ঐতিহ্যই তার পরিচয়। তার স্বপ্ন—একদিন আলেপ্পো দুর্গের পাশে খুলবেন নিজের দোকান, যেখানে দেশি-বিদেশি মানুষ এসে দেখবে সিরিয়ার এই শিল্পের জাদু। তার মতে, যেমন মানুষ সিরিয়ার দুর্গ বা পুরোনো সভ্যতা দেখতে আসে, তেমনি হাতে বোনা এই কার্পেটও সিরিয়ার আত্মপরিচয়েরই অংশ।
তার হাতে পুনরুজ্জীবিত হয়েছে একসময়কার দুর্লভ ‘ফ্রেঞ্চ এডিসন’ কার্পেট—সেই বিশেষ নকশা, যা ১৮ ও ১৯ শতকের রাজপ্রাসাদে ব্যবহৃত হতো। সাত শতাব্দী পেরিয়েও টিকে থাকা এই শিল্প প্রমাণ করে—দেশটির ইতিহাস কেবল পাথরে নয়, টিকে আছে সূতো দিয়ে বোনা ভালোবাসায়।
আরটিভি/এআর




