২০২৪ সালে দেশটিতে ৩৪৫ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে—যা গত কয়েক বছরের তুলনায় দ্বিগুণ। ফাঁসি হওয়া ব্যক্তিদের একটি বড় অংশই ছিলেন বিদেশি শ্রমিক।
বার্লিনভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ‘ইএসওএইচআর’ এবং সৌদি গণমাধ্যমের খবর পর্যালোচনা করা সংগঠন ‘রিপ্রাইভ’ এ তথ্য জানায়।
‘রিপ্রাইভ’ বলছে, বিশেষ করে—মিশরীয়, সোমালি ও ইথিওপিয়ার নাগরিক। জীবিকার সন্ধানে তারা সৌদি আরবে গিয়েছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে দেশটির কঠোর বিচার ব্যবস্থায় আটকে পড়েন।
জানা গেছে, ২৮ বছর বয়সী মোহাম্মদ সাদ একজন মিশরীয় মৎস্যজীবী। প্রতিবারের মতোই শর্ম আল-শেখ উপকূলে গিয়েছিলেন মাছ ধরতে। কিন্তু তিনি আর ফিরে আসেননি। তার পরিবার মাসের পর মাস খোঁজ করেও কোনো তথ্য পায়নি। এক বছর পর জানা যায়, সাদ সৌদি আরবের উত্তরাঞ্চলীয় তাবুক কারাগারে আটক। তার বিরুদ্ধে আনা হয় মাদক পাচারের অভিযোগ অভিযোগ।
আট বছর বন্দী থাকার পর গত ২১ অক্টোবর সাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তবে এই বিষয়ে তার পরিবারকে কিছুই জানানো হয়নি। পরিবারের লোকেরা খবরটি জানতে পেরেছে সাদের সঙ্গে কারাগারে থাকা এক ব্যক্তির কাছ থেকে। শুধু তাই নয়, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর সাদকে কোথায় কবর দেওয়া হয়েছে—সেই বিষয়েও কোনো তথ্য নেই তার পরিবারের কাছে।
রোববার (১৭ অক্টোবর) সিএনএন জানিয়েছে, সাদ ছিলেন সৌদি আরবে চলতি বছরে ফাঁসি হওয়া কয়েক শ মানুষের একজন। এর মধ্যে বেশির ভাগের বিরুদ্ধেই প্রাণঘাতী নয় এমন মাদক-সম্পর্কিত অভিযোগ ছিল।
জানা গেছে, বর্তমানে সৌদি আরবের তাবুক কারাগারে আরও বেশ কয়েকজন বিদেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অপেক্ষায় আছেন। তাদের একজন এসসাম আল-শাজলি। ২৭ বছর বয়সী শাজলি মিশরের একজন মৎস্যজীবী। তার বিরুদ্ধে অ্যামফেটামাইন ও অল্প পরিমাণে ‘হেরোইন সদৃশ’ পদার্থ বহনের অভিযোগ আনা হয়েছিল। তবে তার পরিবার দাবি করেছে, নৌকায় কী ছিল সেই শাজলি কিছুই জানতেন না।
সৌদি সরকার বিনা দোষে মৃত্যুদণ্ডের অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছে। জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধিদের পাঠানো এক চিঠির জবাবে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে—কোনো গোপনীয়তা নেই, তিন ধাপের বিচার প্রক্রিয়া মানা হয়, বিদেশিদের কনস্যুলার সহায়তাও দেওয়া হয় এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর দণ্ডপ্রাপ্তদের দেহ নিজ দেশের দূতাবাসে হস্তান্তর করা হয়।
তবে বহু পরিবার ও অধিকারকর্মীর দাবি করেছেন—বিচারের ক্ষেত্রে অনেক সময় আইনজীবীর সহায়তা নিতে দেওয়া হয় না। আর দেওয়া হলেও বিচারের ফল বদলায় না। তাবুক কারাগার থেকে পাওয়া বিবরণে বলা হয়েছে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দীরা প্রতিদিন সকালে আশঙ্কায় থাকেন—সেদিন তাদের নাম ডাকা হবে কি না।
রিপ্রাইভ-এর মধ্যপ্রাচ্যে মৃত্যুদণ্ড নিয়ে কাজ করা একটি দলের প্রধান জীদ বায়সিউনি বলেছেন, ‘এটি মিথ্যা ও নির্মমতার এক ব্যবস্থা। ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত সবকিছুই গোপন ও নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়। তাই ভুক্তভোগীর পরিবারের জন্য অপেক্ষা আর আতঙ্ক ছাড়া কোনো পথই খোলা নেই।’
এদিকে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস) তার দেশকে আধুনিকায়নের প্রচারণা চালাচ্ছেন। নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতি, ধর্মীয় নীতি-পুলিশের কার্যক্রম সীমিত করা, সাংস্কৃতিক উৎসব, বিশ্বকাপ আয়োজন ইত্যাদির মাধ্যমে বিশ্ব জুড়ে সৌদি আরবের ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে চাইছেন তিনি। চলতি সপ্তাহেই তিনি সাত বছর পর প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র সফরে গেছেন। সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে বৈঠক হবে।
আরটিভি/এফএ




