সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ফিড স্ক্রল করতে গিয়ে কি প্রায়শই কারণ-অকারণে রেগে যাচ্ছেন? যদি এমনটা হয়ে থাকে, তবে সম্ভবত আপনি এই মুহূর্তের সবচেয়ে আলোচিত ডিজিটাল ফাঁদ ‘রেজ বেইট’-এর (Rage bait) শিকার। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস (ওইউপি) ২০২৫ সালের জন্য এই শব্দটিকে ‘ওয়ার্ড অব দ্য ইয়ার’ বা বর্ষসেরা শব্দ হিসেবে বেছে নিয়েছে। অভিধান প্রকাশনা সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ মাসে এই শব্দটির ব্যবহার প্রায় তিনগুণ বেড়েছে, যা এর তাৎক্ষণিক গুরুত্ব তুলে ধরে।
সাধারণভাবে ‘রেজ বেইট’ বলতে এমন অনলাইন কনটেন্ট বোঝানো হয়, যা মানুষকে ইচ্ছাকৃতভাবে হতাশ, উত্তেজিত বা ক্ষুব্ধ করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য নেতিবাচক আবেগকে ব্যবহার করে ওয়েবসাইটের ট্রাফিক বা সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের পরিচিতি বহুগুণে বাড়িয়ে দেওয়া। এটি অনেকটা পরিচিত ‘ক্লিকবেট’-এর মতোই একটি কৌশল, তবে এর বিশেষত্ব হলো, এটি পাঠকদের কৌতূহলী করার চেয়ে রাগান্বিত করার ওপরই বেশি জোর দেয়। মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ ও ‘এনগেজমেন্ট’ বাড়ানোর এই কৌশলটিই তাই চলতি বছরকে সংজ্ঞায়িত করছে। বর্ষসেরা হওয়ার দৌড়ে এটি ‘অরা ফার্মিং’ এবং ‘বায়োহ্যাক’ এর মতো গুরুত্বপূর্ণ শব্দগুলোকে পেছনে ফেলেছে।
অক্সফোর্ড ল্যাঙ্গুয়েজের প্রেসিডেন্ট ক্যাসপার গ্রাথওহল এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘রেজ বেইট শব্দটির অস্তিত্ব এবং এর ব্যবহারের নাটকীয় বৃদ্ধি প্রমাণ করে যে, আমরা অনলাইনের কারসাজি বা ম্যানিপুলেশন সম্পর্কে ক্রমশ সচেতন হচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগে ইন্টারনেটের লক্ষ্য ছিল কেবল কৌতূহল জাগিয়ে ক্লিক আদায় করা। কিন্তু এখন তা আবেগকে পুরোপুরি হাইজ্যাক করা এবং প্রভাবিত করার দিকে মোড় নিয়েছে।’ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই শব্দটি প্রযুক্তি-নির্ভর বিশ্বে আমাদের মানসিক অবস্থান এবং অনলাইন সংস্কৃতির চরম পর্যায় নিয়ে চলমান আলোচনার এক শক্তিশালী অংশ।
এই শব্দের উত্থান কিন্তু একা নয়। এর আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালের বর্ষসেরা শব্দ ছিল ‘ব্রেইন রট’, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবিরাম স্ক্রল করার ফলে সৃষ্ট মানসিক ক্লান্তিকে নির্দেশ করত।
গ্রাথওহল মনে করেন, এই দুটি বিজয়ী শব্দ মিলে এমন এক শক্তিশালী চক্র তৈরি করে যেখানে ক্ষোভ এনগেজমেন্ট বাড়ায়, অ্যালগরিদম তা ছড়িয়ে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত ব্যবহারকারী মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। এর আগে অক্সফোর্ডের বর্ষসেরা শব্দগুলোর মধ্যে ছিল সেলফি, গবলিন মোড এবং রিজ-এর মতো শব্দগুলো।
উল্লেখ্য, জনগণের ভোট এবং অক্সফোর্ডের ভাষা বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে এই শব্দ নির্বাচন করা হয়। রেজ বেইটের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা অন্য দুটি শব্দ ছিল-
অরা ফার্মিং: নিজের ভাবমূর্তি এমনভাবে উপস্থাপন করা, যাতে অন্যদের কাছে নিজেকে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী, আকর্ষণীয় বা রহস্যময় মনে হয়।
বায়োহ্যাক: খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম বা জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এনে কিংবা ওষুধ ও প্রযুক্তির সহায়তায় নিজের শারীরিক বা মানসিক কর্মক্ষমতা এবং আয়ু বাড়ানোর প্রচেষ্টা।
অন্যদিকে, অন্যান্য অভিধানও সমসাময়িক অনলাইন সংস্কৃতিকেই গুরুত্ব দিয়েছে। কেমব্রিজ ডিকশনারি ২০২৫ সালের জন্য ‘প্যারাসোশাল’ শব্দটিকে বেছে নিয়েছে, যা এমন একতরফা আত্মিক টানকে বোঝায় যেখানে ভক্তরা কোনো বিখ্যাত ব্যক্তির সঙ্গে সংযোগ অনুভব করেন। কলিন্স ডিকশনারি বেছে নিয়েছে 'ভাইব কোডিং', অর্থাৎ নিজে প্রোগ্রামিং কোড না লিখে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-কে বর্ণনা দিয়ে অ্যাপ বা ওয়েবসাইট তৈরি করার প্রক্রিয়া।
আরটিভি/এআর





