কয়েক সপ্তাহ ধরে শারীরিক অবস্থা নিয়ে চলা তীব্র গুঞ্জনের পর অবশেষে পাকিস্তানের কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি পেয়েছে তার পরিবার। টানা ২৫ দিন ধরে কারাবন্দী এই নেতার সঙ্গে কারও সাক্ষাতের অনুমতি না মেলায় তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তবে মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) তার বোন ডা. উজমা খানকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি দিয়েছে দেশটির সরকার।
ইমরান খানের রাজনৈতিক দল পাকিস্তান-তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতাদের বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যম ডন এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। দীর্ঘদিনের এই নীরবতার কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইমরান খান কারাগারে মারা গেছেন বলেও গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল। মূলত গত মাসে ইমরান খানের তিন বোন সাক্ষাতের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের হাতে লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগ করার পর থেকেই তার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে। উল্লেখ্য, এই গুজব ছড়ানোর পেছনে আফগানিস্তানভিত্তিক কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টের হাত ছিল বলেও জানা যায়।
সরকার ও কারা কর্তৃপক্ষের ওপর তুমুল চাপ তৈরি হওয়ার পরই এই সাক্ষাতের অনুমতি মিলল। যদিও কারা কর্তৃপক্ষ প্রথম থেকেই দাবি করে আসছিল, ৭২ বছর বয়সী সাবেক এই কিংবদন্তি ক্রিকেটার সুস্থ আছেন এবং তাকে কারাগারে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এর আগে পিটিআই নেতাকর্মীরা ইসলামাবাদ হাইকোর্টের সামনে ন্যায়বিচার ও রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভও করেন।
সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা চলছে, যার সব কটিকেই তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। রাষ্ট্রীয় কোষাগার তোশাখানা থেকে সরকারি উপহার বেআইনিভাবে বিক্রির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে প্রথম সাজা ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীকালে কূটনৈতিক নথি ফাঁসের অভিযোগে ১০ বছর এবং আল-কাদির ট্রাস্ট সংক্রান্ত পৃথক দুর্নীতির মামলায় ১৪ বছরের দীর্ঘ সাজা যুক্ত হয়েছে। পিটিআইয়ের অভিযোগ, এসব মামলা তাকে রাজনীতি ও নির্বাচন থেকে দূরে রাখার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।
এদিকে, গত রোববার পিটিআইয়ের সিনেটর খুররম জিশান অভিযোগ করেন, ইমরান খানকে কারাগারের একক কক্ষে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আটকে রেখে তাকে দেশ ত্যাগে বাধ্য করার জন্য সরকার চাপ প্রয়োগ করছে। তিনি আরও বলেন, সরকার ইমরান খানের ব্যাপক জনপ্রিয়তাকে ভয় পায়, যে কারণে তার কোনো ছবি কিংবা ভিডিও প্রকাশ করছে না।
আরটিভি/এআর





