অবিশ্বাস্য সৌভাগ্য, কাজের ফাঁকে টিকিট চেক করতেই জানলেন মিলিয়নিয়ার!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬ , ০৮:৩৮ পিএম


অবিশ্বাস্য সৌভাগ্য, কাজের ফাঁকে টিকিট চেক করতেই জানলেন মিলিয়নিয়ার!
পাউন্ড ও লটারি জেতা পরিবার। ছবি: সংগৃহীত

লটারিতে একবার জেতাকেই অনেকে পরম সৌভাগ্য মনে করেন, কিন্তু রিচার্ড ডেভিস যা করে দেখিয়েছেন তা রূপকথাকেও হার মানায়। একই লটারিতে লটারি জিতেছেন দুই-দুইবার! অবিশ্বাস্য এই ঘটনার মধ্য দিয়ে রাতারাতি কয়েক মিলিয়ন পাউন্ডের মালিক বনে গেছেন তিনি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান সম্প্রতি রিচার্ডের এই বিরল লটারি জয়ের রোমাঞ্চকর গল্পটি প্রকাশ করেছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।  

রিচার্ড জানান, লটারি খেলার নেশা তার আজকের নয়। মাত্র ১৮ বছর বয়স থেকে তিনি নিয়মিত লটারির টিকিট কাটেন। দীর্ঘ সময়ের এই পথচলায় তার মনে সবসময় একটি দৃঢ় বিশ্বাস ছিল যে, একদিন বড় কোনো জয় আসবেই। একপর্যায়ে তিনি তার সন্তানদের জন্মদিন এবং জন্মের সময়কার ওজনের সংখ্যাগুলোকে মিলিয়ে কিছু বিশেষ নম্বর বেছে নেন। সেই লাকি নম্বরগুলোই শেষ পর্যন্ত তাকে এনে দেয় কাঙ্ক্ষিত সাফল্য।

আরও পড়ুন

ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৮ সালের জুন মাসে। রিচার্ড তখন মিড-ওয়েলসের টালগার্থে নিজের হেয়ার সেলুনে এক গ্রাহকের চুলে রং করার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। রঙের প্রলেপ বসতে যেটুকু সময় লাগে, সেই অবসরেই তিনি পাশের একটি দোকানে নিজের টিকিটটি পরীক্ষা করতে যান।

দোকানের সেই মুহূর্তটি বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ছোট শহর হওয়ায় লাইনে দাঁড়ানো সবার সাথে আমি গল্প করছিলাম। টিকিট চেক করার পর কাউন্টারের নারী কর্মী যখন বললেন যে তিনি আমাকে জেতা টাকা দিতে পারছেন না, তখন কিছুটা অবাক হই। এরপর পোস্ট অফিস কাউন্টারের কর্মীর সাহায্য নেওয়া হলে জানা যায়, জয়ের পরিমাণ ৫০ হাজার পাউন্ডের অনেক বেশি। 

বর্তমানে রিচার্ড এই বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরিকল্পনাও সেরে ফেলেছেন। লটারির এই জয় কেবল তার ভাগ্যই বদলে দেয়নি, বরং দীর্ঘ ১৮ বছরের অপেক্ষার এক সার্থক সমাপ্তি ঘটিয়েছে।

তিনি জানান, আমি তখনও কিছু জানতাম না। তিনি বলেছিলেন আমি র‍্যাফেল প্রাইজ জিতেছি, কিন্তু সেটা কী তা আমি জানি না। আমি আবার সেলুনে ফিরে গিয়ে অনলাইনে দেখলাম। তখনই দেখি আমি ১ মিলিয়ন পাউন্ড জিতেছি।

এ ঘটনার পর আমি আমার পার্টনার ফে-কে ফোন করলাম। সে তখন নাইট শিফটে কাজ করছিল, ঘুম ভাঙিয়ে দেওয়ায় খুব খুশি হয়নি। সে বলল, তুমি কি নিশ্চিত আমরা এক মিলিয়ন জিতেছি? তারপর বলল, হেল্পলাইনে ফোন করতে।

আমি ফোন করলাম, তারা নিশ্চিত করল যে আমি ১ মিলিয়ন পাউন্ড জিতেছি এবং পরবর্তী ধাপগুলো বুঝিয়ে দিচ্ছিল। কিন্তু তখনই আমার ক্লায়েন্টের চুলের টাইমার বেজে উঠল, আমাকে কাজে ফিরে যেতে হলো। এত বড় খবর পেয়েও আবার চুল কাটায় ফিরে যাওয়াটা অদ্ভুত লাগছিল। তবে এতে আমি স্থির থাকতে পেরেছিলাম।

রিচার্ড জানান, ক্লায়েন্টদের কাজের ফাঁকে ফাঁকে নানা চিন্তায় আমার মাথা ঘুরছিল। কাজ শেষে আবার ফোন করে নিশ্চিত হলাম। আমি অভিভূত হয়ে গিয়েছিলাম। সবাই ভাবে, এক মিলিয়ন পেলে এটা করব, ওটা করব। কিন্তু সত্যি জেতার পর ব্যাপারটা একেবারেই আলাদা। অনেক দিন পর্যন্ত এটা বাস্তব মনে হয়নি।

তিনি জানান, আমি অনেক দিন টাকায় হাত দিইনি। খরচ করতে ভয় লাগত। প্রথমে আমাদের চার সন্তানকে কিছু টাকা দিলাম। তারপর আমরা যে বাড়িটা ভাড়া নিয়ে থাকতাম সেটা কিনলাম, নতুন গাড়ি কিনলাম, আর কুকুরদের জন্য দৌড়ানোর মাঠ নিলাম। এরপর বিয়ে করলাম। ১০ বছর একসঙ্গে থেকেও আমরা কখনও কোথাও ঘুরতে যাইনি। তাই প্রথমে দুবাই গেলাম, তারপর মধুচন্দ্রিমায় মালদ্বীপ গিয়েছিলাম। স্থানীয় রাগবি ক্লাবের জন্য একটা মিনিবাস কিনে দিলাম, আর বন্ধু-পরিবারকে কিছু গাড়ি উপহার দিলাম।

জেতার পরও আমি লটারি খেলা চালিয়ে গিয়েছিলাম। দোকান থেকে টিকিট কেনার বদলে অ্যাপ ব্যবহার শুরু করি, যেন কেউ প্রশ্ন না করে। আমার মনে হতো আমার নম্বরগুলো ভাগ্যবান, তাই সেগুলোই রাখতাম। অদ্ভুত শোনাতে পারে, কিন্তু সব সময়ই মনে হতো আমি আবারও জিতব। 

গত বছরের নভেম্বর মাসে অ্যাপে মেসেজ চেক করলাম। সেখানে দেখি আমি আবারও ১ মিলিয়ন পাউন্ড জিতেছি। তখন ভোর সাড়ে ৬টা, আধো ঘুমে ছিলাম। ফে-কে জাগিয়ে বললাম, আমাকে একটু চিমটি কাটো তো, আমি জেগে আছি কি না দেখি। আমরা বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না।

রিচার্ড জানান, তখন আমি ডেলিভারি ড্রাইভার হিসেবে কাজ শুরু করেছি। কাজে যাওয়ার সময় হয়ে গিয়েছিল। অনেকেই বলে, লটারি জিতলে প্রথমেই চাকরি ছাড়বে। কিন্তু প্রথমবার জেতার পরও আমি হেয়ারড্রেসিং চালিয়ে গিয়েছিলাম। আমার ব্যবসা নিয়ে গর্ব ছিল, গ্রাহকদের প্রতিও দায়িত্ববোধ ছিল। পরে ২০২৩ সালে সেলুন বন্ধ করি এবং এক বছর ধরে একটা ক্যাম্পার ভ্যান ঠিকঠাক করি।

কাজ না করা আমার মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ভালো ছিল না। এক বছর বিরতির পর এক বন্ধু আমাকে কুরিয়ারে চাকরি দেয়। সেদিন সকালে ট্রাকে মাল তুলছিলাম, আর নিজের মনে হাসছিলাম। দুপুরে হেল্পলাইনে ফোন করলাম। প্রথমবার জেতার সময় যে লোকটির সঙ্গে কথা হয়েছিল, তার সঙ্গেই আবার কথা হলো। সে যেমন অবাক, আমরাও তেমনই।

দ্বিতীয়বার জেতার পরও প্রথমেই আমরা আমাদের সন্তানদের টাকা দিলাম। তারপর আমাদের স্বপ্নের বাড়ি কিনলাম। বাকি টাকার জন্য এখনো কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই। আমরা ছোট একটি কমিউনিটি থেকে এসেছি। সবাই আমাদের চেনে, এবং সবাই আমাদের জন্য খুশি। 

সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, দুইবার লটারি জেতার সম্ভাবনা বলা হয় প্রায় ২৪ ট্রিলিয়নে একজনের। যদিও সব সময় মনে হতো আবার জিতব। বাস্তবেও এটি সত্যি হয়েছে। যদিও এখনও বিশ্বাস করা কঠিন। 

আরটিভি/এমআই
 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission