মধ্যবিত্ত অভিবাসী অধ্যুষিত কুইন্সের অ্যাস্টোরিয়ার এক সাধারণ ভাড়াটে অ্যাপার্টমেন্ট থেকে নিউইয়র্কের ইস্ট নদীর ধারে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী প্রাসাদে—নিউইয়র্ক সিটির নির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি তার নতুন জীবন শুরু করতে চলেছেন। তার নির্বাচনী প্রচারণার প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল ভাড়া না বাড়ানো, আর এবার সেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ছোট অ্যাপার্টমেন্টটি ছেড়ে তিনি প্রবেশ করছেন এক ভিন্ন দুনিয়ায়, যেটির নাম ‘গ্রেসি ম্যানশন’। খবর বিবিসির।

৩৪ বছর বয়সী জোহরান মামদানি যখন প্রচারণায় ভাড়া নিয়ন্ত্রণ ও সাশ্রয়ী আবাসনকে মুখ্য এজেন্ডা করেছিলেন, তখন তার নিজের আবাসন পরিস্থিতিই তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। রেকর্ড অনুযায়ী, তিনি তার বর্তমান অ্যাপার্টমেন্টের জন্য মাসে প্রায় ২ হাজার ৩০০ ডলার ভাড়া দিতেন, যেখানে নিউইয়র্ক সিটিতে এক শয়নকক্ষের গড় ভাড়া ৩ হাজার ৫০০ ডলার। তার প্রতিদ্বন্দ্বী, বিশেষ করে সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুওমো সমালোচনা করে বলেছিলেন, মামদানি কম ভাড়ায় একটি অ্যাপার্টমেন্ট ‘দখল’ করে আছেন।
চলচ্চিত্র নির্মাতা মীরা নায়ার এবং কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাহমুদ মামদানির সন্তান মামদানি অবশ্য তার পরিবার ও নিরাপত্তার কারণকেই প্রাসাদটিতে যাওয়ার মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এই সিদ্ধান্ত মূলত আমাদের পরিবারের নিরাপত্তা এবং নিউইয়র্কবাসী যে সাশ্রয়ী আবাসনের এজেন্ডায় ভোট দিয়েছে, তা বাস্তবায়নে আমার সম্পূর্ণ মনোযোগ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়েছে।” সোমবার (৮ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে তিনি এই কথা জানান।
ম্যানহাটনে অবস্থিত এই গ্রেসি ম্যানশনটি ১৭৯৯ সালে নির্মিত হয়েছিল এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে এটি নিউইয়র্ক সিটির বেশির ভাগ মেয়রের ঐতিহ্যবাহী বাসস্থান। মাখনের মতো হলুদ রঙের এই সুন্দর প্রাসাদটির জানালা সবুজ এবং রেলিংগুলো সাদা।
জোহরান মামদানি ১ জানুয়ারি শপথের পর এই পাঁচ শয়নকক্ষের প্রাসাদে উঠবেন, তখন তিনি শুধু ছোট অ্যাপার্টমেন্টের চেয়ে ভিন্ন পরিবেশেই থাকবেন না, বরং তার সঙ্গী হতে পারে কিছু অলৌকিক ঘটনা। এই প্রাসাদের কিছু বাসিন্দা অভিযোগ করেছেন, এখানে প্রায়ই অতিপ্রাকৃত ঘটনা ঘটে।

সাবেক মেয়র বিল ডি ব্লাসিওর স্ত্রী চিরলেন ম্যাকক্রে সাংবাদিকদের বলেছেন, দরজা মাঝে মাঝে নিজে নিজেই খোলে এবং বন্ধ হয়ে যায়। এমনকি মেঝের বোর্ডগুলোও ভয়ংকরভাবে শব্দ করে। বিদায়ি মেয়র এরিক অ্যাডামস তো ২০২২ সালে ঘোষণা করেছিলেন, “ওখানে ভূত আছে।”
মামদানি কুইন্সের অ্যাস্টোরিয়া এলাকায় থাকতেন, যা মধ্যবিত্ত পরিবার, অভিবাসী কমিউনিটি এবং বৈচিত্র্যময় বৈশ্বিক খাবারের জন্য বিখ্যাত। প্রাসাদটিতে ওঠার আগে তিনি ইনস্টাগ্রামে জানান, “গত সপ্তাহে নিউইয়র্ক বোটানিক্যাল গার্ডেনের ট্রেন শোতে গিয়ে আমাদের নতুন বাড়ি দেখলাম। আমি এবং আমার স্ত্রী রামা সিদ্ধান্ত নিয়েছি জানুয়ারিতে সেখানে উঠব।”
অ্যাস্টোরিয়ার স্মৃতিচারণ করে বিদায়বেলায় তিনি বলেন, “অ্যাস্টোরিয়া: আমাদের নিউইয়র্ক সিটির সেরা রূপটি দেখানোর জন্য ধন্যবাদ। যদিও আমি আর অ্যাস্টোরিয়ায় থাকব না, অ্যাস্টোরিয়া সব সময় আমার ভেতরে এবং আমার কাজের মধ্যে বেঁচে থাকবে।”
আরটিভি/এআর





