বাবাকে হত্যার পর ছেলের মন্তব্য, এটা আমার ধর্মীয় কর্তব্য ছিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ , ০৬:১৫ পিএম


বাবাকে হত্যার পর ছেলের মন্তব্য, এটা আমার ধর্মীয় কর্তব্য ছিল
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে এক হৃদয়বিদারক পারিবারিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত যুবক অভিজিৎ প্যাটেল (২৮)-এর বিরুদ্ধে ফার্স্ট ডিগ্রি মার্ডার-এর অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি নিজ বাড়িতে স্লেজহ্যামার দিয়ে তার বাবা অনুপম প্যাটেলকে (৬৭) নৃশংসভাবে হত্যা করেন।

বিজ্ঞাপন

মার্কিন গণমাধ্যমের বরাতে এনডিটিভি জানায়, থ্যাঙ্কসগিভিং সপ্তাহান্তে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। ঘটনার সময় অভিজিৎ প্যাটেলের বিরুদ্ধে পরিবারের পক্ষ থেকে জারি করা একটি ‘অর্ডার অব প্রোটেকশন’ কার্যকর থাকলেও তিনি ওই বাড়িতেই বসবাস করছিলেন।

কুক কাউন্টি প্রসিকিউটরদের তথ্যমতে, গত ২৯ নভেম্বর সকাল ১১টার দিকে অনুপম প্যাটেলের স্ত্রী তাকে ঘরের ভেতর রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। এর আগে ভোর ৫টা ৪২ মিনিটে তিনি কাজে বেরিয়ে যান। সে সময় বাড়িতে শুধু বাবা ও ছেলে উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত অনুপম প্যাটেল নিয়মিত তার স্ত্রীকে সকাল ৮টার দিকে ফোন করে রক্তে শর্করার মাত্রা জানাতেন। তবে ঘটনার দিন তিনি ফোন করেননি। গ্লুকোজ মনিটরে ব্লাড সুগার বিপজ্জনকভাবে কমতে দেখে স্ত্রী উদ্বিগ্ন হয়ে স্বামী ও ছেলেকে একাধিকবার ফোন করেন, কিন্তু কোনো সাড়া পাননি।

পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাড়িতে ফিরে তিনি গ্যারেজের দরজা খোলা দেখতে পান। তখন অভিজিৎ প্যাটেল তাকে জানান যে তিনি ‘বাবার দেখভাল করেছেন’ এবং তাকে ঘরের ভেতরে যেতে বলেন। ঘরে ঢুকে তিনি দেখেন, অনুপম প্যাটেল রক্তাক্ত অবস্থায় বিছানায় পড়ে আছেন। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অনুপম প্যাটেলকে মৃত ঘোষণা করে এবং একটি হাতুড়ি উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তে জানা যায়, নিহতের মাথায় অন্তত দুইবার প্রচণ্ড আঘাত করা হয়েছিল, যার ফলে তার খুলি ফেটে যায় এবং নাক ভেঙে যায়।

পুলিশ পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই অভিজিৎ প্যাটেল আত্মসমর্পণ করেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দাবি করেন, ছোটবেলায় বাবার দ্বারা নির্যাতনের শিকার হওয়ায় তাকে হত্যা করা ছিল তার ‘ধর্মীয় কর্তব্য’। তবে তিনি স্বীকার করেন যে তিনি মানসিক চিকিৎসার আওতায় ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

চিকিৎসকদের মতে, অভিজিৎ প্যাটেলের অভিযোগগুলো ভ্রম বা বিভ্রমজনিত। নথি অনুযায়ী, তিনি সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত এবং আগেও একাধিকবার মানসিক চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।

প্রসঙ্গত, এর আগেও অভিজিৎ প্যাটেল তার বাবাকে হত্যার হুমকি দেওয়ায় আদালত তার বাবার সঙ্গে যোগাযোগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। ওই সুরক্ষা আদেশটি ২০২৭ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা ছিল। তবুও মানবিক কারণে তার বাবা-মা তাকে বাড়িতে থাকতে দিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন

বর্তমানে অভিজিৎ প্যাটেলকে বিনা জামিনে আটক রাখা হয়েছে এবং তার মায়ের সঙ্গেও যোগাযোগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে ১৯ ডিসেম্বর।
 
সূত্র: এনডিটিভি

আরটিভি/এসকে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission