সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্য নারীদের ছবিতে বারবার ‘লাইক’ দেওয়া দাম্পত্য সম্পর্কে বিশ্বাসভঙ্গের শামিল এমনই এক চাঞ্চল্যকর রায় দিয়েছেন তুরস্কের একটি আদালত। আদালতের মতে, অনলাইনে এই ধরনের আচরণ বৈবাহিক আনুগত্যের পরিপন্থী এবং তা বিবাহবিচ্ছেদের বৈধ কারণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
মধ্য তুরস্কের কায়সেরি শহরের একটি মামলায় এই সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম হাবারলার–এর বরাত দিয়ে হংকং থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মামলার বাদী এইচবি নামের এক নারী অভিযোগ করেন, তাঁর স্বামী এসবি তাঁকে মৌখিকভাবে অপমান করতেন এবং নিয়মিত ভরণপোষণ দিতেন না। পাশাপাশি তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করতেন এবং সেখানে নিয়মিত অন্য নারীদের এমনকি প্রলুব্ধকর ছবিতেও ‘লাইক’ দিতেন। কিছু ক্ষেত্রে তিনি ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যও করতেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এইচবি আদালতে দাবি করেন, স্বামীর এই আচরণ তাঁর দাম্পত্য বিশ্বাস ও মানসিক নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন করেছে। এ কারণে তিনি বিবাহবিচ্ছেদের পাশাপাশি খোরপোশ ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত স্বামী এসবি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি পাল্টা বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করে দাবি করেন, তাঁর স্ত্রী অতিরিক্ত ঈর্ষাপরায়ণ এবং তাঁর বাবাকে অপমান করেছেন। এসব অভিযোগ তাঁর সামাজিক সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে বলেও তিনি আদালতে উল্লেখ করেন।
দুই পক্ষের বক্তব্য ও প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত স্বামীকেই অধিক দোষী সাব্যস্ত করেন। রায়ে তাঁকে প্রতি মাসে ৭৫০ তুর্কি লিরা (প্রায় ২০ মার্কিন ডলার) খোরপোশ এবং এককালীন ৮০ হাজার লিরা (প্রায় ২ হাজার মার্কিন ডলার) ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলেও উচ্চ আদালত তা খারিজ করে দেন।
রায়ে বিচারকেরা উল্লেখ করেন, অন্য নারীদের ছবিতে নিয়মিত ‘লাইক’ দেওয়ার মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তি বৈবাহিক বিশ্বাস ভঙ্গ করেছেন। তাদের মতে, অনলাইনে আপাতদৃষ্টিতে নিরীহ এই ধরনের মিথস্ক্রিয়া মানসিক নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করে এবং দাম্পত্য সম্পর্কের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।
তুরস্কের আইনজীবী ইমামোগ্লু স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, এই রায় ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। তার ভাষায়, এখন থেকে স্ক্রিনশট, বার্তা ও অন্যান্য ডিজিটাল কার্যক্রম বিবাহবিচ্ছেদের মামলায় শক্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নাগরিকদের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
এই রায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। এক নেটিজেন মন্তব্য করেন, একটি লাইক যদি সম্পর্ক ভেঙে দেয়, তবে সেই বিয়ের ভিত কখনোই মজবুত ছিল না।
আরেকজন ব্যঙ্গ করে লেখেন, এবার হয়তো গোপনে লাইক দেওয়ার ফিচার চালু করার সময় এসেছে। তবে অনেকে ভিন্নমত পোষণ করে বলেন, অনলাইনের প্রতিটি লাইক বা ভিউকে অবিশ্বস্ততার সঙ্গে তুলনা করলে মানুষ সারাক্ষণ মানসিক চাপে থাকবে।
উল্লেখ্য, তুরস্কের আদালতে অদ্ভুত কারণে বিবাহবিচ্ছেদের নজির নতুন নয়। এর আগে এক মামলায় একজন পুরুষকে তার সাবেক স্ত্রীর ফোন নম্বর কন্টাক্ট লিস্টে ‘মোটু’ নামে সংরক্ষণ করায় তা অসম্মানজনক বিবেচনায় ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
আরটিভি/এসকে





