ঢাকা বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

‘গোপনীয় তথ্য’ আদান-প্রদান ভারত ও পাকিস্তানের, ঘটনা কী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:৫৬ পিএম
ফাইল ছবি

দক্ষিণ এশিয়ায় চরম উত্তেজনার মাঝেও পারমাণবিক নিরাপত্তার প্রশ্নে বিরল এক ঐক্যের ছবি দেখাল দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ভারত ও পাকিস্তান। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) এক বিশেষ দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আওতায় দেশ দুটি তাদের নিজেদের দখলে থাকা পারমাণবিক স্থাপনা ও সক্ষমতার পূর্ণাঙ্গ তালিকা বিনিময় করেছে। পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা রোধ এবং সম্ভাব্য বিপর্যয় এড়াতে প্রতি বছরের শুরুতে এই গোপনীয় তথ্য আদান-প্রদান করে নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদ।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির হুসেইন আন্দ্রাবি ইসলামাবাদে এক সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ১৯৮৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত ‘পারমাণবিক স্থাপনা ও সুবিধার ওপর হামলা নিষিদ্ধকরণ চুক্তি’ অনুযায়ী এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এর মাধ্যমে পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের স্পর্শকাতর স্থাপনার তালিকা ভারতীয় হাইকমিশনের প্রতিনিধির হাতে তুলে দিয়েছে।

আরও পড়ুন

চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি বছর ১ জানুয়ারি দুই দেশ একে অপরের পারমাণবিক অবস্থান সম্পর্কে অবগত হয়, যাতে কোনো যুদ্ধের পরিস্থিতিতে ভুলবশত এই স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানা না হয়। জিও নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একই সময়ে নয়াদিল্লিতে অবস্থিত পাকিস্তান হাইকমিশনের মাধ্যমে ভারত সরকারও তাদের সক্ষমতার তালিকা পাকিস্তানের কাছে হস্তান্তর করেছে। ১৯৯২ সাল থেকে টানা তিন দশক ধরে এই রীতি চলে আসছে, যা দেশ দুটির মধ্যে পারমাণবিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার একটি অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি।

পারমাণবিক তথ্যের পাশাপাশি দুই দেশ একই দিনে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে একে অপরের হেফাজতে থাকা বন্দিদের তালিকাও বিনিময় করেছে। আন্দ্রাবি জানান, দুই দেশের কারাগারে থাকা নাগরিক ও মৎস্যজীবীদের বিস্তারিত তথ্য আদান-প্রদান করা হয়েছে যাতে আইনি প্রক্রিয়া ও মুক্তি সহজতর হয়। সীমান্তে ও কাশ্মীর ইস্যুতে রাজনৈতিক সংঘাত চরমে থাকলেও পারমাণবিক ও মানবিক এই বিনিময় দুই দেশের কূটনীতিতে একটি অপরিহার্য অংশ হিসেবে টিকে আছে।

আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি হুমকির মাঝেও এই তালিকা বিনিময় প্রমাণ করে যে, পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের ভয়াবহতা সম্পর্কে উভয় পক্ষই সচেতন। যুদ্ধের মেঘ যতই ঘনীভূত হোক না কেন, এই ‘হটলাইন’ কূটনীতিই দক্ষিণ এশিয়াকে সম্ভাব্য পারমাণবিক ধ্বংসযজ্ঞ থেকে রক্ষা করে আসছে।

আরটিভি/এআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয় পেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দুই রাজনীতিক
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাজনীতিকদের মধ্যে জর্জিয়ার স্টেট সিনেটর শেখ রহমান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। কানেকটিকাটের স্টেট সিনেটর এমডি মাসুদুর রহমানও পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রাথমিক ফলাফলে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয় পেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দুই রাজনীতিক
১৭৮ বছরের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ গভর্নর পেল উইসকনসিন
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে উইসকনসিনের পরবর্তী গভর্নর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ডেভিড ক্রাউলি। এর মধ্য দিয়ে অঙ্গরাজ্যটির ১৭৮ বছরের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ গভর্নর হতে যাচ্ছেন তিনি। 
১৭৮ বছরের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ গভর্নর পেল উইসকনসিন
ছয় মাসের চাকরি, আকাশেই কেটে গেল ৬৩ বছর!
মাত্র ছয় মাসের জন্য বিমানসেবিকার চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন ক্যারল ফেয়ার। পরিকল্পনা ছিল, এরপর বিয়ে করে সংসার শুরু করবেন।
ছয় মাসের চাকরি, আকাশেই কেটে গেল ৬৩ বছর!
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর আবদুল এল-সায়েদ
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ইতিহাস গড়েছেন মিশরীয় বংশোদ্ভূত রাজনীতিক আবদুল এল-সায়েদ। দেশটির মিশিগান অঙ্গরাজ্য থেকে সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির এই প্রার্থী। তার বিজয়ের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন মুসলিম ব্যক্তি নির্বাচিত সিনেটর হতে যাচ্ছেন। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্সকে পরাজিত করেন তিনি। বুধবার (৪ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত নির্বাচনী ফলাফল ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) পূর্বাভাসে তার বিজয় নিশ্চিত করা হয়। মিশিগানের বিদায়ী ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্সের ছেড়ে দেওয়া আসনে জয় পেয়েছেন তিনি। মিশরীয় পরিবারে জন্ম, বেড়ে ওঠা যুক্তরাষ্ট্রে আবদুল এল-সায়েদের পূর্ণ নাম আবদুলরহমান মোহাম্মদ এল-সায়েদ। ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের রচেস্টার হিলসে তার জন্ম। তার বাবা-মা দুজনই মিশরীয় বংশোদ্ভূত অভিবাসী। তার বাবা মোহাম্মদ এল-সায়েদের জন্ম ও বেড়ে ওঠা মিশরের আলেকজান্দ্রিয়ায়। উচ্চশিক্ষা অর্জনের উদ্দেশ্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান এবং ডেট্রয়েটের ওয়েইন স্টেট ইউনিভার্সিটিতে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনা করেন। তার মা ফাতেন এল-কোমি পেশায় একজন নার্স প্র্যাকটিশনার এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যে কর্মরত। শৈশব ও কৈশোর কেটেছে মিশিগানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে। স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা শেষে তিনি ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানে ভর্তি হন। সেখানে জীববিজ্ঞান ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন। পরে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জনস্বাস্থ্য বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। এ সময় তিনি মর্যাদাপূর্ণ রোডস স্কলারশিপ লাভ করেন। পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে এমডি ডিগ্রিও অর্জন করেন। জনস্বাস্থ্য থেকে রাজনীতির মাঠে পেশাগত জীবনে আবদুল এল-সায়েদ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, মহামারিবিদ ও প্রশাসক হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেন। তিনি কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব পাবলিক হেলথে শিক্ষকতা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০১৫ সালে মাত্র ৩০ বছর বয়সে ডেট্রয়েট শহরের স্বাস্থ্য বিভাগের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। শহরটির আর্থিক সংকটের পর স্বাস্থ্য বিভাগ পুনর্গঠন এবং নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে কাজ করে তিনি পরিচিতি পান। পরবর্তী সময়ে ওয়েইন কাউন্টির স্বাস্থ্য, মানবসেবা ও ভেটেরানস সার্ভিসেস বিভাগের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালে মিশিগানের গভর্নর পদে ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়ন পেতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও সে নির্বাচনে জয়ী হতে পারেননি। তবে রাজনীতিতে তার সক্রিয়তা অব্যাহত থাকে। ২০২৬ সালের ৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাইমারিতে কংগ্রেস সদস্য হ্যালি স্টিভেনসকে পরাজিত করে দলীয় মনোনয়ন লাভ করেন তিনি। এরপর সাধারণ নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে হারিয়ে সিনেটের আসনটি নিজের করে নেন। নীতিগত অবস্থান ও ঐতিহাসিক বিজয় নির্বাচনী প্রচারে আবদুল এল-সায়েদের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার ছিল সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, স্বাস্থ্যসেবাকে সবার জন্য সহজলভ্য করা এবং রাজনীতিতে করপোরেট অর্থ ও প্রভাব সীমিত করা। তিনি সবার জন্য সরকারি অর্থায়নে স্বাস্থ্যসেবা বা ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ কর্মসূচির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, অর্থনৈতিক বৈষম্য ও সাধারণ মানুষের অধিকার নিয়ে তার বক্তব্য তরুণ ও প্রগতিশীল ভোটারদের মধ্যে সাড়া ফেলে। তার এই বিজয় শুধু মিশিগানের রাজনীতিতেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর মুসলিম ও অভিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এর মধ্য দিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে প্রথমবারের মতো একজন মুসলিম নির্বাচিত প্রতিনিধি যুক্ত হতে যাচ্ছেন। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের প্রতিটি অঙ্গরাজ্য থেকে দুজন করে মোট ১০০ জন সদস্য নির্বাচিত হন। নির্বাচিত আবদুল এল-সায়েদের দায়িত্ব গ্রহণের কথা ২০২৭ সালের ৩ জানুয়ারি। মিশরীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সদস্য নির্বাচিত হওয়া আবদুল এল-সায়েদের এই অর্জন অভিবাসী পরিবারগুলোর নতুন প্রজন্মের জন্যও একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আরটিভি/টিআর
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর আবদুল এল-সায়েদ
ওহাইওর প্রথম নারী গভর্নর নির্বাচিত হলেন অ্যামি অ্যাক্টন
ওহাইওর পরবর্তী গভর্নর হওয়ার লড়াইয়ে রিপাবলিকান প্রার্থী বিবেক রামাস্বামীকে পরাজিত করেছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ড. অ্যামি অ্যাক্টন। তিনি বর্তমান রিপাবলিকান গভর্নর মাইক ডিওয়াইনের স্থলাভিষিক্ত হবেন, যিনি টানা দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ওহাইওর প্রথম নারী গভর্নর নির্বাচিত হলেন অ্যামি অ্যাক্টন
আরও পড়ুন
হার্ভার্ডে ভর্তির স্বপ্ন, প্রতারণার ফাঁদে প্রাণ গেল পাকিস্তানি তরুণীর
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের এমবিবিএস-বিডিএসে ভর্তির সুযোগ দিচ্ছে পাকিস্তান
স্পিকারের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তান হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ
এলপিজির তীব্র সংকট পাকিস্তানে