ইরানের গোপন সামরিক স্থাপনার তথ্য ইসরায়েলের কাছে পাচারের অভিযোগে আলী আরদেস্তানি নামের এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে তেহরান। বুধবার(৭ জানুয়ারি) দেশটির বিচার বিভাগ পরিচালিত গণমাধ্যম মিজান এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আরদেস্তানি মোসাদের হয়ে সরাসরি গুপ্তচরবৃত্তি করেছেন এবং এর বিনিময়ে ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে মোটা অঙ্কের অর্থ গ্রহণ করেছেন। গত জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের সরাসরি যুদ্ধের পর থেকে এই ধরনের গাদ্দার বা চরদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে ইরান।
দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, আলী আরদেস্তানি ইরানের স্পর্শকাতর বিভিন্ন স্থানের ছবি ও ভিডিও সরাসরি মোসাদকে সরবরাহ করেছিলেন। গত বছরের জুনে ইসরায়েলি বাহিনীর নিখুঁত হামলায় ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্র ও ব্যালিস্টিক মিসাইল সাইটগুলো যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, তার পেছনে এই ধরনের চরদেরই হাত রয়েছে বলে মনে করছে তেহরান। সেই হামলায় ইরানের একাধিক উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হওয়ায় পর থেকেই সন্দেহভাজন এজেন্টদের খুঁজে বের করতে সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়।
বর্তমানে ইরানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে জনবিক্ষোভ চলছে, ঠিক এমন সময়েই এই ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সরকারবিরোধী আন্দোলনের মাঝে বিদেশি শক্তির হয়ে কাজ করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এটি একটি কঠোর হুঁশিয়ারি। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ সত্ত্বেও ইরান সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। বিশেষ করে মোসাদ যখন সরাসরি বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছে, তখন অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষায় ইরান আরও কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।
ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ তাদের সাম্প্রতিক এক বিবৃতিতে ইরানি নাগরিকদের বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তেহরানের অভিযোগ, মোসাদ এবং সিআইএ সম্মিলিতভাবে ইরানের জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট করার চেষ্টা করছে। গত জুনের যুদ্ধের পর থেকে এ পর্যন্ত ১২ জন তথাকথিত ইসরায়েলি এজেন্টকে ফাঁসি দিয়েছে ইরান।
আরটিভি/এআর



