পাকিস্তান ও চীনের যৌথ প্রযুক্তিতে তৈরি অত্যাধুনিক জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান কিনতে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরাক। শনিবার(১০ জানুয়ারি) পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। বাগদাদে ইরাকি বিমান বাহিনীর সদর দফতরে পাকিস্তান বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমেদ বাবর সিধুর সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই প্রস্তাব দেন ইরাকি বিমান বাহিনীর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহানাদ গালিব আল-আসাদি। খবর ডনের।
বর্তমানে জেএফ-১৭ থান্ডার পাকিস্তান বিমান বাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষার মূল ভিত্তি। এটি আকাশে লড়াই, ভূমিতে নিখুঁত হামলা এবং নজরদারিসহ বহুমুখী মিশনে অত্যন্ত কার্যকর। সাশ্রয়ী মূল্য এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর কাছে এই যুদ্ধবিমানটি এখন অন্যতম প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। ইরাক কেবল জেএফ-১৭ নয়, পাকিস্তানের তৈরি সুপার মুশশাক প্রশিক্ষক বিমানের প্রতিও বিশেষ আগ্রহ দেখিয়েছে।
বৈঠকে পাকিস্তান ও ইরাকের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা, যৌথ প্রশিক্ষণ এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে জেএফ-১৭ থান্ডারের চাহিদা বাড়ার পেছনে রয়েছে এর সাম্প্রতিক রণনৈপুণ্য। বিশেষ করে ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের সঙ্গে আকাশ যুদ্ধে ফ্রান্সের তৈরি শক্তিশালী রাফাল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে আসে এই মাল্টিরোল বিমানটি। ২০১৯ সালেও ভারতের বিরুদ্ধে সফল অভিযানে এর কার্যকরিতা প্রমাণিত হয়েছিল। এই ধারাবাহিক সাফল্যে মিয়ানমার, নাইজেরিয়া ও আজারবাইজানের পর এখন বিশ্বের অনেক দেশই পাকিস্তানের এই আকাশ সক্ষমতার ওপর আস্থা রাখছে।
জেএফ-১৭ থান্ডার ক্রয়ের দৌড়ে সম্প্রতি নতুন মাত্রা যোগ করেছে বাংলাদেশ। গত সপ্তাহে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান পাকিস্তান সফরকালে এই যুদ্ধবিমান ক্রয়ের সম্ভাবনা ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
আরটিভি/এআর




